📄 মেয়েকে পর্দা/হিজাব করার অভ্যাস করানো
ইসলামে নামায-রোযা (সলাত-সিয়াম) যেমন ফরয তেমনি মেয়েদের পর্দা করাও ফরয। আল কুরআনে যতোগুলো ফরয হুকুম আছে তার মধ্যে পর্দাও একটি। সূরা আহযাব এবং সূরা নূরে তা বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। প্রতিটি মুসলিম মা-বাবাকেই মেয়ের পর্দার বিষয়ে সিরিয়াস হতে হবে। মেয়ে যদি বালেগ হওয়ার পর থেকে পর্দা না করে তাহলে আখিরাতে ময়দানে এজন্য সর্বপ্রথমে মা-বাবাকেই ধরা হবে তারপর মেয়েকে, তখন নিজ মেয়েও এই জন্য মা-বাবাকে দোষারোপ করবে।
একটি মেয়ের ১২-১৩ বছর বয়স থেকেই পর্দা ফরয হয়ে যায়। আবার কোন কোন মেয়ের ৯-১০ বছর থেকেই পর্দা ফরয হয়ে যায়। তাই যে সকল মেয়েদের শারীরিক বৃদ্ধি তাড়াতাড়ি হয় তাদের এই বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। পর্দা হচ্ছে একটি মেয়ের নিরাপত্তা, কোনভাবেই যেন মেয়ের রুপ-সৌন্দর্য এবং শারীরিক গঠন প্রণালী অন্যের নিকট প্রকাশ পায়। তাই অবহেলা না করে খুব ছোট বয়স থেকেই মেয়ের পর্দার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত এতে বড় হলে আর পর্দা করতে কোন অসুবিধা হবে না।
এ বিষয়ে সর্বপ্রথম মাকে এগিয়ে আসতে হবে। সন্তানের মায়ের অবশ্যই তার নিজের পর্দার ব্যাপারে কোন প্রকার শিথিলতা করা চলবে না। সন্তান যদি দেখে মা নিজেই ঠিকমত পর্দা করেন না তাহলে ছোট বয়স থেকেই সন্তানের মনের মধ্যে ঢুকে যাবে যে এটা ততোটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। কারণ প্রতিটি সন্তান বাবা-মাকে অনুসরণ করে থাকে।
📄 ফরয ইবাদতের গুরুত্ব
আল্লাহর ফরয ইবাদতের বিষয়টি একটি উদাহরণের মাধ্যমে আরো ভালোভাবে অনুধাবন করা যাক। আমরা সবাই আমাদের সন্তানদের খুব ভালোবাসি, নিজের জীবনের চেয়ে অধিক ভালোবাসি। যেমন আমার সন্তানের একদিন খুব জ্বর হলো এবং ডাক্তার ঔষধ দিয়েছে জ্বর সারানোর জন্য। কিন্তু সে ঔষধ খেতে চাচ্ছে না তিতা বলে। তিতা ঔষুধ খেতে তার কষ্ট হয়। এখন আমি যদি তার প্রতি ভালোবাসা দেখিয়ে তার কষ্টের কথা মনে করে তাকে ঔষধ খেতে না দেই তাহলে কী হবে? আবার যেমন জ্বর খুব বেশী হওয়ার কারণে শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। এখন তার তাপমাত্রা কমানোর জন্য ঠান্ডা পানি দিয়ে তার শরীর মুছে দেয়া প্রয়োজন কিন্তু আমার সন্তান এই কাজটিও পছন্দ করছে না, কারণ শরীর মুছার সময়ও তার কষ্ট হয়। এবার আমি যদি তার কষ্টের কথা চিন্তা করে তার প্রতি ভালবাসা প্রদর্শন করে তার শরীর মুছে না দেই তাহলে কী হবে? ঔষধ না খাওয়ার কারণে এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে হয়তো তার জীবনে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে এমনকি মারাও যেতে পারে।
ঠিক উপরের উদাহরণের মতো সন্তানের প্রতি ভালবাসা প্রদর্শন করে ভোরে উঠতে কষ্ট হবে বলে যদি তাকে ফজরের সলাতে না ডাকি, রমাদান মাসে কষ্ট হবে বলে যদি তাকে সিয়াম পালনে গুরুত্ব না দেই, পর্দা করার বিষয়ে গুরুত্ব না দেই তাহলে আদরের সন্তানদের নিয়ে আখিরাতে একই ঘটনা ঘটবে।
📄 সন্তানদেরকে ত্যাগের শিক্ষা দেয়া
সন্তানকে ত্যাগের শিক্ষা দিতে হবে। নিজের পকেট মানি হতে একটি বিশেষ ব্যাঙ্কে অল্প অল্প করে কিছু অর্থ জমা করার উৎসাহ দেয়া উচিত। বছর শেষে জমা অর্থ কোন গরীব আত্মীয়ের প্রয়োজন পূরণে ব্যবহার করতে পারি। কেবল আমি, আমার, এটা চাই, ওটা চাই ইত্যাদি স্লোগান হতে ওদের যতদূর সম্ভব দূরে রাখতে হবে। তাদেরকে শিক্ষা দিতে হবে ভোগে শান্তি নয়। তারা যেন অল্পে তুষ্ট থাকে। যা পায় সেটাতেই সন্তুষ্ট থাকে।
যেমন : কোথাও কোন প্রোগ্রামে রিফ্রেশমেন্টের ব্যবস্থা রয়েছে এবং সেল্ফ সার্ভিস। এখন এখানে আইটেম নেয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে অন্যেরাও যেন তা পায়। খুব টেষ্টি মনে করে একই আইটেম অনেকগুলো খেয়ে ফেলা অনুচিত। তাহলে অন্যেরা নাও পেতে পারে। কারণ এই খাবারে সবার হক রয়েছে, সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। আবার সবগুলোর মধ্য থেকে ভালটা বেছে বেছে নেয়া ঠিক নয় বা বেছে বেছে বড়টাও নেয়া ঠিক নয়।
📄 ধনী-গরীব সকল আত্মীয়দের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া
অনেকেই সন্তানদেরকে গরীব আত্মীয়-স্বজনদের সাথে পরিচয় করাতে চান না, গরীব আত্মীয়-স্বজন যে আছে তা হয়তো কেউ কেউ স্বীকারও করতে চান না, সন্তানদেরকে তাদের থেকে দূরে রাখেন। ইসলামের দৃষ্টিতে এই কাজটি মোটেও ঠিক না। আল্লাহ কাউকে গরীব বানান আবার কাউকে ধনী বানান, এটি তার পরীক্ষা। তিনি দেখেন কে কী করে? অনেকেরই গ্রামে গরীব আত্মীয় থাকে, সন্তানদেরকে সেখানে নিয়ে আত্মীদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া উচিত। সন্তানদের সামনে তাদেরকে সাহায্য সহযোগীতা করা উচিত। এতে সন্তান শিখবে কীভাবে গরীব আত্মীয়দের সম্মান করতে হয়, কীভাবে তাদের পাশে দাঁড়াতে হয়। আবার কেউ কেউ ধনী আত্মীয় থেকেও হীনম্মন্যতার কারণে দূরে থাকেন। আমাদের উচিত তাদের সাথেও সন্তানদের পরিচয় করিয়ে দেয়া এবং সুসম্পর্ক বজায় রাখা।
আমরা এবার (২০১৫ সালে) আমাদের মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে গিয়েছিলাম। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল তাকে বাংলাদেশের কালচার দেখানো এবং গরীব আত্মীয়-স্বজনদের সাথে পরিচয় করানো। আলহামদুলিল্লাহ তাকে গরীব আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দেখা করিয়েছি এবং ঢাকার বস্তিতেও নিয়ে গিয়েছি দেখাতে যে বস্তিতে কত কষ্টে মানুষ বসবাস করে, কত কষ্টে জীবনযাপন করে। আমাদের মেয়ের দু'টি মাটির ব্যাংক আছে, একটি মধ্যপ্রাচ্যে গাজার শিশুদের জন্য এবং অপরটি বাংলাদেশের শিশুদের জন্য। সে ঐ ব্যাংক দু'টিতে পয়সা ফেলে এবং ব্যাংক দু'টি একসময় ভরে গেলে তা দিয়ে গাজা এবং বাংলাদেশের অসহায় শিশুদের সাহায্য করবে।