📄 পরিবারের সাথে সলাত আদায়
সলাত এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত যা দ্বীনের সাথে মানুষকে সম্পর্কযুক্ত রাখে। সলাত দ্বীনকে হিফাযতও করে। আবার দ্বীনের প্রতি আর্কষণও বাড়িয়ে থাকে। দ্বীনদার জীবন অতিবাহিত করার জন্য মানুষকে প্রস্তুতও করে। শুরু থেকেই শিশুদেরকে নিয়মিত সলাত আদায় করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তার এ ব্যাপারে অহেতুক স্নেহ-প্রীতি এবং অতিরিক্ত নরম মনোভাব প্রদর্শন খুবই ক্ষতিকারক। বাবা বা মা যখনই সলাত আদায়ের জন্য দাঁড়াবেন তখন অবশ্যই বাচ্চাদেরকে সাথে নিয়ে দাঁড়াবেন। এতে বাচ্চা ছোটবেলা থেকেই সলাতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে। আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ হলো:
"নিজের পরিবার-পরিজনকে সলাতের তাকিদ (আদেশ) দাও এবং নিজেও তা দৃঢ়তার সাথে পালন করতে থাক।” (সূরা ত্বহা : ১৩২)
'ইশার সলাত আদায় করা ব্যতিরেকে শিশুদেরকে শুতে যেন না দেই। শুয়ে পড়লেও উঠিয়ে সলাত আদায় করাই। ফজরের সলাতের জন্য প্রথম ওয়াক্তে তাদেরকে ঘুম থেকে জাগাই এবং সকালে উঠার অভ্যাস করাই। ছেলেমেয়েরা যদি অনেক রাতে ঘুমাতে যায় তাহলে তাদের ভোরে উঠতে খুব কষ্ট হয় এবং ফজর সলাত আদায় করাও কষ্টকর হয়, তাই তাদের সকাল সকাল ঘুমিয়ে পরার অভ্যাস করাতে হবে। যদি কখনো বাসায় সলাত আদায় করা হয় তখন পরিবারের প্রধান হিসেবে বাবা সলাতের ইমামতি করবেন। পেছনে স্ত্রী, সন্তান ও মা-বাবা (থাকলে) সকলেই সলাত আদায় করবেন।
📄 সন্তানদের সিয়াম (রোযা) পালনের অভ্যাস করানো
অনেক মা-বাবারাই সন্তানের এই বিষয়টাতে গুরুত্ব দেন না। মনে রাখতে হবে ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে সিয়াম বা রোযা চতুর্থতম। ইসলামের কোন ফরয হুকুম এবং ইবাদতের কোন মাফ নেই। যার উপর যেটা ফরয তাকে তা পালন করতেই হবে। অতি দুঃখের বিষয় অনেক মা-বাবারাই সন্তানদেরকে এই ফরয ইবাদত করতে বাধা দেন। তারা বলেন তোমার এখন সামনে পরীক্ষা এখন রোযা রাখার প্রয়োজন নেই বা তুমি এখন ছোট, স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যাবে, সারাদিন না খেয়ে থাকতে পারবে না ইত্যাদি নানা রকম অজুহাত। বাস্তবে দেখা গেছে যে মা-বাবার গাফিলতির কারণে অনেক ছেলেমেয়েরা বড় হয়েও সিয়াম পালন করতে পারে না।
একটি ছেলে বা মেয়ের উপর ১২-১৩ বছর বয়স থেকেই সিয়াম ফরয হয়ে যায়। তবে তাকে আরো ছোটবেলা থেকেই সিয়াম পালনের প্রাকটিস করাতে হবে তাহলে বালেগ হলে আর নিয়মিত ৩০টি সিয়াম পালন করতে কষ্ট হবে না। প্রথমদিকে ছেলেমেয়েদেরকে অর্ধ বেলা পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকার অভ্যাস করানো। পরবর্তী বছরে ১টি বা ২টি পূর্ণ সিয়াম পালনে উৎসাহিত করা। এভাবে প্রতিবছর একটু একটু করে সিয়ামের দিনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা। সেই সাথে তাদেরকে রমাদান মাস ও সিয়ামের গুরুত্ব এবং তার শিক্ষাগুলো এক এক করে ব্রেইনে ঢুকিয়ে দিতে হবে যেন তারা বুঝে সিয়াম পালন করতে উৎসাহিত হয়, মা-বাবার ভয়ে নয়।
📄 মেয়েকে পর্দা/হিজাব করার অভ্যাস করানো
ইসলামে নামায-রোযা (সলাত-সিয়াম) যেমন ফরয তেমনি মেয়েদের পর্দা করাও ফরয। আল কুরআনে যতোগুলো ফরয হুকুম আছে তার মধ্যে পর্দাও একটি। সূরা আহযাব এবং সূরা নূরে তা বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। প্রতিটি মুসলিম মা-বাবাকেই মেয়ের পর্দার বিষয়ে সিরিয়াস হতে হবে। মেয়ে যদি বালেগ হওয়ার পর থেকে পর্দা না করে তাহলে আখিরাতে ময়দানে এজন্য সর্বপ্রথমে মা-বাবাকেই ধরা হবে তারপর মেয়েকে, তখন নিজ মেয়েও এই জন্য মা-বাবাকে দোষারোপ করবে।
একটি মেয়ের ১২-১৩ বছর বয়স থেকেই পর্দা ফরয হয়ে যায়। আবার কোন কোন মেয়ের ৯-১০ বছর থেকেই পর্দা ফরয হয়ে যায়। তাই যে সকল মেয়েদের শারীরিক বৃদ্ধি তাড়াতাড়ি হয় তাদের এই বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। পর্দা হচ্ছে একটি মেয়ের নিরাপত্তা, কোনভাবেই যেন মেয়ের রুপ-সৌন্দর্য এবং শারীরিক গঠন প্রণালী অন্যের নিকট প্রকাশ পায়। তাই অবহেলা না করে খুব ছোট বয়স থেকেই মেয়ের পর্দার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত এতে বড় হলে আর পর্দা করতে কোন অসুবিধা হবে না।
এ বিষয়ে সর্বপ্রথম মাকে এগিয়ে আসতে হবে। সন্তানের মায়ের অবশ্যই তার নিজের পর্দার ব্যাপারে কোন প্রকার শিথিলতা করা চলবে না। সন্তান যদি দেখে মা নিজেই ঠিকমত পর্দা করেন না তাহলে ছোট বয়স থেকেই সন্তানের মনের মধ্যে ঢুকে যাবে যে এটা ততোটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। কারণ প্রতিটি সন্তান বাবা-মাকে অনুসরণ করে থাকে।
📄 ফরয ইবাদতের গুরুত্ব
আল্লাহর ফরয ইবাদতের বিষয়টি একটি উদাহরণের মাধ্যমে আরো ভালোভাবে অনুধাবন করা যাক। আমরা সবাই আমাদের সন্তানদের খুব ভালোবাসি, নিজের জীবনের চেয়ে অধিক ভালোবাসি। যেমন আমার সন্তানের একদিন খুব জ্বর হলো এবং ডাক্তার ঔষধ দিয়েছে জ্বর সারানোর জন্য। কিন্তু সে ঔষধ খেতে চাচ্ছে না তিতা বলে। তিতা ঔষুধ খেতে তার কষ্ট হয়। এখন আমি যদি তার প্রতি ভালোবাসা দেখিয়ে তার কষ্টের কথা মনে করে তাকে ঔষধ খেতে না দেই তাহলে কী হবে? আবার যেমন জ্বর খুব বেশী হওয়ার কারণে শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। এখন তার তাপমাত্রা কমানোর জন্য ঠান্ডা পানি দিয়ে তার শরীর মুছে দেয়া প্রয়োজন কিন্তু আমার সন্তান এই কাজটিও পছন্দ করছে না, কারণ শরীর মুছার সময়ও তার কষ্ট হয়। এবার আমি যদি তার কষ্টের কথা চিন্তা করে তার প্রতি ভালবাসা প্রদর্শন করে তার শরীর মুছে না দেই তাহলে কী হবে? ঔষধ না খাওয়ার কারণে এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে হয়তো তার জীবনে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে এমনকি মারাও যেতে পারে।
ঠিক উপরের উদাহরণের মতো সন্তানের প্রতি ভালবাসা প্রদর্শন করে ভোরে উঠতে কষ্ট হবে বলে যদি তাকে ফজরের সলাতে না ডাকি, রমাদান মাসে কষ্ট হবে বলে যদি তাকে সিয়াম পালনে গুরুত্ব না দেই, পর্দা করার বিষয়ে গুরুত্ব না দেই তাহলে আদরের সন্তানদের নিয়ে আখিরাতে একই ঘটনা ঘটবে।