📄 গান, কবিতা, গল্প-উপন্যাস, নাটক, সিনেমা এবং বাঙালী কালচারের নামে নানা রকম শিরক!
১. আমরা কি কখনো চিন্তা করে দেখেছি যে আমাদের সন্তানদের মনে বাঙালী কালচার আর ফ্যাশনের নামে আল্লাহ-বিরোধী বিশ্বাস ঢুকছে?
২. আমরা কি কখনো গভীরভাবে খেয়াল করেছি যে আমি এবং আমার সন্তানেরা কী ধরনের বই বা গল্প-উপন্যাস-কবিতা পড়ছি? এবং এই ধরনের গল্প-উপন্যাস বা কবিতার মাধ্যমে স্লো-পয়জনিং-এ আমরা নানা রকম শিরকে আক্রান্ত হচ্ছি?
৩. আমরা কি কখনো চিন্তা করে দেখেছি যে আমি এবং আমার সন্তানেরা সাধারণত কি ধরনের গান শুনে থাকি? রবীন্দ্র সঙ্গীত বলি, আর পল্লীগীতি বলি, আর মারফতি বলি, আর দেশাত্মবোধক বলি, আর লালনগীতি বলি, আর ব্যান্ড সঙ্গীত বলি এই ধরনের গানের অনেক কথাতেই রয়েছে শিরক! মনে রাখতে হবে যে শিরকের গুনাহ আল্লাহ কখনোই ক্ষমা করবেন না।
৪. আমি কি কখনো চিন্তা করেছি যে আমি এবং আমার পরিবারের সবাই মিলে নিয়মিত কী ধরনের নাটক-সিনেমা দেখছি? এই ধরনের নাটক-সিনেমা, হিন্দি সিরিয়াল, হিন্দি মুভি আমাদেরকে কুরআনের পথ থেকে আস্তে আস্তে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অনেক হিন্দি মুভির মধ্যেই থাকে হিন্দুদের পূজা যা আমি দেখছি এবং শিরকের প্রশ্রয় দিচ্ছি। আবার হিন্দি মুভি যখন শুরু হয় তখন দেব-দেবীর নামে তা শুরু করা হয়। আসুন একটিবার গভীরভাবে ভেবে দেখি আমার ঘরে আমি এই টেকনোলজির মাধ্যমে আধুনিক উপায়ে হিন্দুদের মূর্তি পূজার আশ্রয় দিচ্ছি।
৫. আজকাল আমাদের সন্তানদের রক সঙ্গীত খুব ভালবাসে। আমি কি জানি আজকালকার রক সঙ্গীত (Rock music)-এর অনেক গায়করাই রীতিমতো ইবলিসের (শয়তানের) পূজা করে থাকে? এবং তাদের গানের কথাগুলো হচ্ছে ঐ শয়তানের ইবাদত? যেমন: এ ধরনের একটি গানের লাইন “হে আমার প্রভু শয়তান ...... আমাকে টানতে টানতে হেলে (জাহান্নামে) নিয়ে যাও ....."। সন্তানের মা-বাবা হিসেবে আমি কি একটিবার চিন্তা করে দেখেছি যে আমার সন্তানেরা কি ধরনের গান শুনছে? তাদের কানের মধ্যে যে সারাক্ষণ হেডফোন লাগানো থাকে তাতে তারা কি শুনছে আর কি অর্জন করছে?
📄 সন্তানদেরকে আল্লাহর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া
লুকমান ছিলেন একজন 'হাকিম' অর্থাৎ প্রাজ্ঞ ব্যক্তি। প্রজ্ঞা হলো জ্ঞানের ন্যায়সংগত প্রয়োগের সর্বোচ্চ স্তর। সূরা লুকমান আল কুরআনের ৩১ নম্বর সূরা। এই লুকমান কোন নাবী ছিলেন না, মহান আল্লাহ তাকে খুব পছন্দ করতেন। কারণ তিনি জ্ঞান চর্চা করতেন এবং তার সন্তানদেরকে মহান প্রভুর সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তাই আল্লাহ নিদর্শনস্বরূপ তার নামে একটি সূরা নাযিল করেছেন। বিস্তারিত জানার জন্য সূরা লুকমানের তাফসীর পড়তে পারি এবং আমাদের সন্তানদের সামনে তা শিক্ষণীয় হিসেবে তুলে ধরতে পারি।
📄 সন্তানদের নিকট মুহাম্মাদ ﷺ -এর পরিচয় তুলে ধরি
সন্তানদের পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষটির সাথে বিস্তারিতভাবে পরিচিত করিয়ে দেই। তিনি যে আল্লাহর নাবী ও মানবতার শেষ নাবী তা বুঝিয়ে দেই। সন্তানকে বুঝিয়ে বলি তিনি ছিলেন সবচাইতে সুন্দর চরিত্রের অধিকারী। তিনি ছোটদেরও বন্ধু ছিলেন। ছোটরা রসূল ﷺ-কে খুব ভালবাসতো, তিনিও ছোটদের ভালবাসতেন। আমার সন্তানকে বলি যে রসূল ﷺ শ্রেষ্ঠ মানবদরদী ছিলেন, তিনি সর্বোত্তম মানুষ ছিলেন, সফল রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন, উত্তম স্বামী ছিলেন, আদর্শ বাবা ছিলেন, আল্লাহর সকল সীমার সংরক্ষণকারী ছিলেন, মানবতাবাদী সেনাপতি ছিলেন (সর্বনিম্ন লোক ক্ষয়ে তিনি যুদ্ধ শেষ করতেন, শত্রুপক্ষের আহত লোকদের সেবা করতেন। নারী, বৃদ্ধ, শিশু, পাদ্রী, ধর্মশালা, ফলবতী গাছ, ফসল ইত্যাদি তিনি যুদ্ধের আওতার বাইরে রাখতেন অর্থাৎ এদের আক্রমণ করতেন না)। এ বিষয়গুলির পেছনে যে ইতিহাস আছে তা গল্পাকারে শুনিয়ে দেই। বলি আমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ হলেন শেষ নাবী মুহাম্মাদ ﷺ। রসূল ﷺ -এর জীবনের উপর লেখা বই খুবই সহজলভ্য, এসব বই এবং তার জীবনের উপর ভিত্তি করে তৈরী করা মুভি ও কার্টুন সংগ্রহ করি এবং পরিবারের সকলে মিলে জ্ঞান অর্জনের লক্ষে উপভোগ করি।