📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 কুরআন অর্থ ও ব্যাখ্যাসহ বুঝে পড়া

📄 কুরআন অর্থ ও ব্যাখ্যাসহ বুঝে পড়া


আল-কুরআন নামক সর্বশেষ কিতাব জীবন পরিচালনার জন্য একটি পরিপূর্ণ গাইডলাইন। এর পরিপূর্ণ ব্যবহারই প্রকৃত সুফলের নিশ্চয়তা বিধান করে। এর আংশিক অনুসরণ ইহকালীন লাঞ্ছনা ও পরকালীন আযাবের সুসংবাদ প্রদান করে। এ ব্যাপারে আল্লাহ মানুষকে আগেই সতর্ক করে দিয়েছেন এই বলে যে-

"তোমরা কি কিতাবের কিছু অংশ মানবে আর কিছু অংশ অস্বীকার করবে? জেনে রাখ, তোমাদের মধ্যে যাদেরই এরূপ আচরণ হবে তাদের এছাড়া আর কি শাস্তি হতে পারে যে তারা পার্থিব জীবনে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হতে থাকবে এবং পরকালে তাদেরকে কঠোরতম শাস্তির দিকে নিক্ষেপ করা হবে? তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ অবগত আছেন।” (সূরা আল বাকারা ২:৮৫)

এ ধরনের সুস্পষ্ট কঠোর হুঁশিয়ারী সত্ত্বেও শুধু না জানার কারণে আমরা ক্রমাগত আল্লার কিতাবের প্রতি হাস্যকর আচরণ করেই যাচ্ছি। এ কিতাবকে সবিনা খতম আর সূরা ইয়াসীন পাঠ করার জন্য ব্যবহার করে যাচ্ছি। যে কিতাব আমাদের যাবতীয় আসমানী ও জমিনী সফলতায় শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদায় ভূষিত করতে পারত সেটির কাছ হতে আমরা শুধু সামান্য সওয়াব আদায়ের জন্য আর মৃতের কুলখানির জন্য ব্যবহার করছি। অথচ এটি বিস্তারিত অর্থসহ পড়ে আমাদের জেনে নেয়া উচিত কিভাবে আমরা একটি সোনালী সমৃদ্ধিশালী জীবন গড়তে পারি যা আমাদের ইহকালীন ও পরকালীন জীবনের সুস্পষ্ট সফলতার গ্যারান্টি দিতে পারে। আল্লাহ তাঁর নাবীকে বলেছিলেন:

“(হে নাবী!) আমি আপনার উপর এ কুরআন এ জন্য নাযিল করিনি যে, আপনি মুসীবতে পড়ে যান।” (সূরা ত্ব-হা ২০:২)

আসুন আমরা আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত আল কুরআন বুঝে পড়ার চেষ্টা করি, রসূলুল্লাহ ﷺ -এর সুন্নাত বিস্তারিত পড়ে জেনে নিই – কিভাবে একটি উন্নত নৈতিকতাসম্পন্ন সুখী-সমৃদ্ধ পরিবার ও সমাজ গড়তে পারি। আল্লাহ আমাদের তার দ্বীনকে পরিপূর্ণভাবে জেনে এর পূর্ণ অনুসরণের তৌফিক দিন। ইহকালীন লাঞ্ছনা ও পরকালীন আযাব হতে পরিত্রাণ দিন।

যথেষ্ট পরিমাণ অধ্যয়নের পর সওয়াবের উদ্দেশ্যে বা কুরআনের মর্মবাণী হতে ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে, কুরআনের প্রতি শ্রদ্ধা ও এর মর্যাদা উপলব্ধি করে যদি তিলাওয়াত করতে চাই তা হলে কোন দোষ নেই। অসুস্থ হওয়ার পর ডাক্তার যে প্রেসক্রিপশন দেন তা দশ হাজার বার পড়লেও (অর্থাৎ তিলাওয়াত করলে) কি আমার অসুখ সারবে? মোটেও না। আমাকে ঐ ঔষধগুলি কিনে ব্যবহার করতে হবে। তা হলেই কেবল আমি রোগমুক্তির আশা করতে পারি। আল কুরআন হলো জীবনের সকল সমস্যার প্রেসক্রিপশন। এটা অধ্যয়ন করে অনুধাবন করে এর শিক্ষা কাজে লাগানোর জন্য কুরআন পাঠানো হয়েছে। আমি যদি অর্থ ছাড়া কেবল রিডিং পড়ে যাই তা হলে কুরআন পাঠানোর মূল লক্ষ্য ব্যর্থ করে দেবে। তাই আজই অর্থসহ কুরআনের তাফসীর সংগ্রহ করি এবং প্রতিদিন ১৫ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা নিয়মিত অধ্যয়ন করি এবং কুরআনের আলোকে জীবনকে গড়ে তুলি।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 আমার সন্তানের সঠিক আকীদা

📄 আমার সন্তানের সঠিক আকীদা


আকীদা হলো ইসলামের ভিত্তি ও মূল। "আকীদা” শব্দটির পারিভাষিক অর্থ হলো: বিশ্বাসকে মনে এমনভাবে ধারণ করা যাতে এর মাঝে কোন সন্দেহের অবকাশ না থাকে। কারণ ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত মানুষের জন্য জীবনবিধান। তাই তাঁর জীবনবিধান মানতে হলে সর্বাগ্রে তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আকীদা হলো আমল কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত। কেননা আকীদা যদি বিশুদ্ধ না হয়, তাহলে যাবতীয় কথা ও কাজ আল্লাহর নিকট বাতিল বলে গণ্য হয়। আল্লাহ বলেন:

"কেউ ঈমান (ইসলাম) প্রত্যাখ্যান করলে তার কর্ম নিষ্ফল হবে এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (সূরা আলে ইমরান ৩ঃ ৮৫)

তৃতীয়ত, আখিরাতে নাযাত লাভের জন্যে আকীদা বিশুদ্ধ হওয়া অত্যাবশ্যক। উপরোল্লিখিত আয়াত দ্বারা আমরা তাই বুঝতে পারি। চতুর্থত, যুগে যুগে নাবী- রসূলগণের দাওয়াতের মূল বিষয়বস্তু ছিল আকীদা। প্রত্যেক নাবী প্রথমে আকীদার দাওয়াত দিতেন। মহা নাবী এজন্যেই মক্কায় সর্বপ্রথম আকীদা সংশোধনের জন্যে প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। মুসলিম মাত্রই ইসলামী আকীদায় বিশ্বাসী হতে হবে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর প্রেরিত রসূলে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাঁর বিধিনিষেধ মেনে চলে সে মুসলিম এবং যে এর ব্যতিক্রম করে সে ইসলামের দৃষ্টিতে কাফির বা অবিশ্বাসী। আর মুখে যে ব্যক্তি ইসলামের কথা ঘোষণা করে কিন্তু অন্তরে বিশ্বাস করে না, সেই ব্যক্তি হলো মুনাফিক। মুনাফিক কাফির হতেও নিকৃষ্টতর ও মারাত্মক। এই জন্যে আল্লাহ তা'আলা বলেন:

“নিশ্চয় মুনাফিকরা জাহান্নামের সবচেয়ে নিচের স্তরে থাকবে এবং তুমি তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী পাবে না।” (সূরা আন নিসা ৪ : ১৪৫)

মানব জীবনে আকীদার প্রভাব : আকীদা মানব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আকীদা ছাড়া মানব জীবন কল্পনা করা যায় না। আমাদের সন্তানদেরকে শিক্ষা দিতে হবে তারা যেন কোন মাযারে না যায়। মাযারের প্রতি ভক্তি প্রদর্শন না করে। মাযারে টাকা-পয়সা না দেয়। কোন কিছু পাওয়ার জন্য পীর বা ওলীর কাছে না যায়। কোন হুজরকে ক্ষতি বা উপকারের মালিক মনে না করে। কোন পীর-দরবেশ গায়েব জানে এই বিশ্বাস না রাখে। কোথাও গিয়ে পানি পড়া, চাল পড়া না আনে। কোন পীরের মুরিদ না হয়। এসবই ইসলামী আকীদার অন্তর্ভুক্ত। ইসলামী আকীদা সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে আমাদের প্রকাশিত The Way is One বইটি সংগ্রহ করার অনুরোধ রইল।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 গান, কবিতা, গল্প-উপন্যাস, নাটক, সিনেমা এবং বাঙালী কালচারের নামে নানা রকম শিরক!

📄 গান, কবিতা, গল্প-উপন্যাস, নাটক, সিনেমা এবং বাঙালী কালচারের নামে নানা রকম শিরক!


১. আমরা কি কখনো চিন্তা করে দেখেছি যে আমাদের সন্তানদের মনে বাঙালী কালচার আর ফ্যাশনের নামে আল্লাহ-বিরোধী বিশ্বাস ঢুকছে?
২. আমরা কি কখনো গভীরভাবে খেয়াল করেছি যে আমি এবং আমার সন্তানেরা কী ধরনের বই বা গল্প-উপন্যাস-কবিতা পড়ছি? এবং এই ধরনের গল্প-উপন্যাস বা কবিতার মাধ্যমে স্লো-পয়জনিং-এ আমরা নানা রকম শিরকে আক্রান্ত হচ্ছি?
৩. আমরা কি কখনো চিন্তা করে দেখেছি যে আমি এবং আমার সন্তানেরা সাধারণত কি ধরনের গান শুনে থাকি? রবীন্দ্র সঙ্গীত বলি, আর পল্লীগীতি বলি, আর মারফতি বলি, আর দেশাত্মবোধক বলি, আর লালনগীতি বলি, আর ব্যান্ড সঙ্গীত বলি এই ধরনের গানের অনেক কথাতেই রয়েছে শিরক! মনে রাখতে হবে যে শিরকের গুনাহ আল্লাহ কখনোই ক্ষমা করবেন না।
৪. আমি কি কখনো চিন্তা করেছি যে আমি এবং আমার পরিবারের সবাই মিলে নিয়মিত কী ধরনের নাটক-সিনেমা দেখছি? এই ধরনের নাটক-সিনেমা, হিন্দি সিরিয়াল, হিন্দি মুভি আমাদেরকে কুরআনের পথ থেকে আস্তে আস্তে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অনেক হিন্দি মুভির মধ্যেই থাকে হিন্দুদের পূজা যা আমি দেখছি এবং শিরকের প্রশ্রয় দিচ্ছি। আবার হিন্দি মুভি যখন শুরু হয় তখন দেব-দেবীর নামে তা শুরু করা হয়। আসুন একটিবার গভীরভাবে ভেবে দেখি আমার ঘরে আমি এই টেকনোলজির মাধ্যমে আধুনিক উপায়ে হিন্দুদের মূর্তি পূজার আশ্রয় দিচ্ছি।
৫. আজকাল আমাদের সন্তানদের রক সঙ্গীত খুব ভালবাসে। আমি কি জানি আজকালকার রক সঙ্গীত (Rock music)-এর অনেক গায়করাই রীতিমতো ইবলিসের (শয়তানের) পূজা করে থাকে? এবং তাদের গানের কথাগুলো হচ্ছে ঐ শয়তানের ইবাদত? যেমন: এ ধরনের একটি গানের লাইন “হে আমার প্রভু শয়তান ...... আমাকে টানতে টানতে হেলে (জাহান্নামে) নিয়ে যাও ....."। সন্তানের মা-বাবা হিসেবে আমি কি একটিবার চিন্তা করে দেখেছি যে আমার সন্তানেরা কি ধরনের গান শুনছে? তাদের কানের মধ্যে যে সারাক্ষণ হেডফোন লাগানো থাকে তাতে তারা কি শুনছে আর কি অর্জন করছে?

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 সন্তানদেরকে আল্লাহর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া

📄 সন্তানদেরকে আল্লাহর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া


লুকমান ছিলেন একজন 'হাকিম' অর্থাৎ প্রাজ্ঞ ব্যক্তি। প্রজ্ঞা হলো জ্ঞানের ন্যায়সংগত প্রয়োগের সর্বোচ্চ স্তর। সূরা লুকমান আল কুরআনের ৩১ নম্বর সূরা। এই লুকমান কোন নাবী ছিলেন না, মহান আল্লাহ তাকে খুব পছন্দ করতেন। কারণ তিনি জ্ঞান চর্চা করতেন এবং তার সন্তানদেরকে মহান প্রভুর সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তাই আল্লাহ নিদর্শনস্বরূপ তার নামে একটি সূরা নাযিল করেছেন। বিস্তারিত জানার জন্য সূরা লুকমানের তাফসীর পড়তে পারি এবং আমাদের সন্তানদের সামনে তা শিক্ষণীয় হিসেবে তুলে ধরতে পারি।

ফন্ট সাইজ
15px
17px