📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 বাবা-মায়ের জ্ঞান অর্জন করা জরুরী

📄 বাবা-মায়ের জ্ঞান অর্জন করা জরুরী


"আমি অনেক জানি" এটা নিজের উন্নতি এবং পারিবারিক শিক্ষার জন্য একটা বড় সমস্যা, বড় বাধা। বিশেষ করে ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু জানি তাকেই অনেক জানি মনে করা এবং তর্ক করা। আমরা যেন ভুল না বুঝি, এখানে সবার কথা বলা হচ্ছে না, এটা আমাদের মুসলিম সমাজের একটা সাধারণ চিত্র। আমি সব জানি বা মোটামুটি ভালই জানি এই মনোভাব যদি মনের মধ্যে রাখি তাহলে আমি নিজেই নিজের জ্ঞানের দরজা বন্ধ করে দিলাম।

তাই আমাদের মনোভাব এমন হওয়া উচিত যে অন্যরা আমার চেয়ে বেশী জানে। যেমন একটা প্রোগ্রামে গেলাম, সেখান থেকে সবচেয়ে বেশী উপকৃত হওয়ার উপায় হচ্ছে না-জানার ভান করে বসে বসে শিক্ষাগ্রহণ করা এবং ঐ প্রোগ্রামে আমিই সবচেয়ে কম জানি এটা মনের মধ্যে রাখা। তাহলে এক সময় দেখা যাবে যে আমি যে সকল বিষয়গুলো জানতাম না তা অনেকখানি জেনে গেছি। আর ঐ প্রোগ্রামে যদি আমি নিজেকে জাহির করতে চাই অর্থাৎ নিজে অনেক জানি এটা প্রকাশেই ব্যস্ত থাকি তাহলে বেশী দূর এগুতে পারবো না। আবার প্রশ্ন-উত্তরের মাধ্যমে অনেক কিছুই জানা যায় এবং পরিষ্কারও হওয়া যায়। কিন্তু প্রশ্ন করার উদ্দেশ্য এমন হওয়া যাবে না যে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আবার আমি আমার পান্ডিত্যকে প্রকাশ করতে চাচ্ছি। অথবা প্রশ্নের উদ্দেশ্য হবে না যে বক্তাকে বা অন্যদেরকে আটকানো বা নাজেহাল করা। তাই আমাদেরকে সত্যিকার অর্থে জানার জন্য জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আমি জানি এই মনে করে বসে থাকলে হবে না। আমাদেরকে সব সময় জানার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, জানার কোন শেষ নেই।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 ভুল শিক্ষা থেকে সাবধানতা

📄 ভুল শিক্ষা থেকে সাবধানতা


ইসলামের উপর বাজারে অনেক বই-ই পাওয়া যায় যাতে মানুষের মধ্যে আবেগ (জজবা) সৃষ্টির জন্য এমন সব কথা তুলে ধরা হয়েছে যা সত্য নয়, যা কুরআন-হাদীসের আলোকে গ্রহণযোগ্য নয়। অসত্য দিয়ে মানুষকে সত্যের পথে আহবান করা যায় না। তাই সরাসরি কুরআন ও সহীহ্ হাদীসের রেফারেন্স ছাড়া কোন ওলী, বুজুর্গ বা মুরুব্বীর বানানো কেচ্ছা-কাহিনী মেনে নেয়া ঠিক নয়। যুগ পরিবর্তন হয়ে গেছে, মানুষের জ্ঞানের পরিধি বেড়েছে। সহীহ্ হাদীস, জাল হাদীস, দুর্বল হাদীসের বই বাজারে পাওয়া যায়, তা যাচাই-বাছাই করে আমাদের পড়াশোনা করা উচিৎ।

ইবলিস শয়তানের পলিসি থেকে সাবধানতা অবলম্বন
ইবলিস শয়তানের পলিসি হচ্ছে মুসলিমদেরকে কুরআনের সঠিক শিক্ষা থেকে দূরে সরিয়ে রাখা, কুরআনের সঠিক ব্যাখ্যা বুঝতে না দেয়া। কারণ আমি যদি কুরআন বুঝে সেই অনুযায়ী আমার জীবন চালাতে থাকি তাহলে সেখানেই ইবলিস শয়তানের ব্যর্থতা। তাই শয়তান সুকৌশলে মানুষকে বোকা বানানোর জন্য বেছে নিয়েছে কুরআনকেই কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে। যেমন: খুব সহজে কিভাবে কিছু দু'আ-দুরূদ পরে জান্নাত লাভ করা যাবে, কোন দু'আ কত হাজার বার পড়লে কি হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। এই ধরনের আমলের কোন সহীহ দলিল কুরআন বা সহীহ হাদীসে নেই। বাজারে এই ধরনের অনেক বই-ই পাওয়া যায়, যেমন : মক্কছুদুল মোমিনীন, বেহেশতের পথ, নেয়ামুল কুরআন, ফাজায়েলে আমল, আমলে নাজাত, আমালে কুরআন, বেহেস্তি জেওর, সোলেমানী খাবনামা, নূরানী মজমুয়ায়ে পাঞ্জেগানা অজিফা ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই এই ধরনের ভিত্তিহীন বই-পত্র, অজিফা এবং মানুষের বানানো দুরূদ হতে খুব সাবধান থাকতে হবে।

ইবলিস শয়তান আমাদের অনেক প্রকার সওয়াবের লোভ দেখায়, জান্নাতে যাওয়ার সহজ পথ দেখায়। সে বলে এই দু'আ ৪০ বার পড়লে ৮০ বৎসরের গুনাহ মাফ হয়ে যাবে, ঐ দুরূদ এতোবার পড়লে ১ লক্ষ ফিরিশতা কিয়ামত পর্যন্ত দু'আ করতে থাকে। এ কথা শুনে আমরা বলি 'সুবহানাল্লাহ', এর ফজিলত এতো! এর মাধ্যমে প্রকারান্তরে গুনাহের প্রতি মানুষের ভয় কমিয়ে দেয়া হচ্ছে, অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে। তখন মানুষ মনে করে ২-৫টা গুনাহ করলে কি আর ক্ষতি হবে? অমুক দু'আ পড়লে তো ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হয়েই যাবে। এভাবে শয়তান অসচেতন লোকদেরকে লক্ষ লক্ষ সওয়াবের লোভ দেখিয়ে ইসলামের মূল শিক্ষা থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।

মনে রাখতে হবে, আমি আমার জীবনে ইবাদত মনে করে যা কিছু করবো তা অবশ্যই কুরআন অথবা সহীহ হাদীসে থাকতে হবে। কেউ যদি আমাকে কোন স্পেশাল দু'আ-দুরূদ বা কোন মহাপূণ্যের আমলও শিখিয়ে দেয় তাহলে অবশ্যই তার authentic দলিল চাইবো অথবা আমি নিজে কুরআন ও সহীহ হাদীস ঘেঁটে তা অবশ্যই যাচাই করে নেবো।

সন্তানদের সঠিক শব্দ শিক্ষা দেয়া
আমাদের দেশে কুরআন হাদীসের অনেক সঠিক শব্দ পরিবর্তন হয়ে ফার্সি বা উর্দু হয়ে গেছে। যার মাধ্যমে আসলে আল্লাহ বা তার রসুল ﷺ যা বলেছেন তা সঠিকভাবে প্রকাশ পায় না। তাই আমাদের সন্তানদের ছোট বয়স থেকেই এই ইসলামী শব্দগুলোর সঠিক শিক্ষা দেয়া উচিত। যাদের সন্তান বড় হয়ে গেছে তাদেরও এই শব্দগুলো সংশোধন করে নেয়া উচিত। যেমন: নামায = সলাত, রোযা = সিয়াম, রমজান = রমাদান, বন্দেগী = ইবাদত, বেহেশত = জান্নাত, দোযখ = জাহান্নাম ইত্যাদি।

এছাড়া আরো কিছু শব্দ আমাদের মধ্যে খুব প্রচলিত যার পরিবর্তন প্রয়োজন এবং এই শব্দগুলো ইসলামী পরিভাষা হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। যেমন, নাবী মুহাম্মাদ ﷺ এবং অন্যান্য নাবী ও সাহাবাদের নামের আগে হযরত বলা ঠিক নয়। হযরত শব্দটি আরবী নয় এটি ফার্সি, এর অর্থ মিষ্টার। আল্লাহ তার কুরআনে কোথাও কোন নাবীর নামের আগে এই হযরত শব্দটি ব্যবহার করেননি এবং হাদীসেও কোথাও কোন নাবীর নামের আগে এই হযরত শব্দটি নেই। আসলে হযরত শব্দটি সাধারণত আমাদের এই উপমহাদেশেই ব্যবহার হয়। আবার নাবী মুহাম্মাদ ﷺ তার কোন সাহাবীকে হযরত উপাধী দেননি এবং কোন সাহাবী অন্য কোন সাহাবীকেও এই উপাধী দেননি, এছাড়া হাদীসের কোথাও এই শব্দটি নেই। তাই আমাদের কথা-বার্তা ও লেখা-লেখি থেকে এই শব্দটি বাদ দেয়া উচিত। মহান আল্লাহ তার নাবীদের ও সাহাবাদের যে মর্যাদা দিয়েছেন সেটুকুই যথেষ্ট, আমরা আবার তাদের নামের আগে অতিরিক্ত কোন কিছু লাগিয়ে তার মর্যাদা বাড়াতে পারবো না বরং মর্যাদা ক্ষুন্ন হতে পারে।

আরো একটি শব্দ আমাদের মধ্যে খুব প্রচলিত যা জানার সাথে সাথে পরিহার করা উচিত আর তা হচ্ছে নাবী মুহাম্মাদ ﷺ এর নামের সাথে হুজুর বা হুজুর পাক শব্দ ব্যবহার করা। এই দু'টি শব্দও কুরআন ও হাদীসের পরিভাষা নয়। হুজুর মানে হাজির, অর্থাৎ তিনি বেঁচে আছেন বা আমাদের সামনে উপস্থিত আছেন (নাউযুবিল্লাহ)। এই শব্দটি মারাত্মক আপক্তিজনক যার মধ্যে শিরকের গন্ধ রয়েছে। তাই এই শব্দটি আমাদের নিজেদের এবং সন্তানদের ব্যবহার করা ঠিক নয়। এরপর পাক শব্দটি মূলতঃ এসেছে খৃষ্টানদের থেকে, তারা তাদের নাবীর নামের আগে এবং তাদের ধর্ম গ্রন্থের আগে হলি (পাক) শব্দটি ব্যবহার করে থাকে যেমন, হলি প্রফেট, হলি জেসাস, হলি বাইবেল, হলি বুক ইত্যাদি। তাই এই শব্দটিও আমাদের নাবী মুহাম্মাদ-এর নামের আগে এবং আমাদের আল-কুরআনের আগে ব্যবহার করা ঠিক নয়।

এছাড়া আরো একটি শব্দ আমাদের মধ্যে খুব প্রচলিত যেমন মক্কা শরীফ, মদীনা শরীফ, কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ ইত্যাদি। এই শরিফ শব্দটিও হাদীস বা কুরআনের পরিভাষা নয়। তাই এই নামগুলোর আগের শরিফ শব্দটি ব্যবহার করা ঠিক নয়। যেমন সঠিক শব্দগুলো হচ্ছে: আল কুরআন বা কুরআন মাজিদ, মক্কা মুকাররমা, মদীনা মুনাওয়ারা।

আবার কবরকে মাযার বলা বা রসূল ﷺ এর কবরকে রওজা বলা ঠিক নয়। মাযারও ফার্সি শব্দ। সঠিক ইসলামী পরিভাষা হচ্ছে যে কোন কবরকে কবর বলা সে নবী হোক বা কোন আউলিয়া হোক বা অন্য কোন বিশিষ্ট ব্যক্তি হোক। হাদীসে আল্লাহর রসূল যেভাবে যার নামকরণ করে গেছেন সেই শব্দ ব্যবহার করাই উচিত এতেই প্রকৃত সম্মান বজায় থাকবে। আমরা আমাদের নিজেদের থেকে নাম পরিবর্তন করে বা আরো অতিরিক্ত কিছু লাগিয়ে তার সম্মান বাড়াতে পারবো না।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 কুরআন অর্থ ও ব্যাখ্যাসহ বুঝে পড়া

📄 কুরআন অর্থ ও ব্যাখ্যাসহ বুঝে পড়া


আল-কুরআন নামক সর্বশেষ কিতাব জীবন পরিচালনার জন্য একটি পরিপূর্ণ গাইডলাইন। এর পরিপূর্ণ ব্যবহারই প্রকৃত সুফলের নিশ্চয়তা বিধান করে। এর আংশিক অনুসরণ ইহকালীন লাঞ্ছনা ও পরকালীন আযাবের সুসংবাদ প্রদান করে। এ ব্যাপারে আল্লাহ মানুষকে আগেই সতর্ক করে দিয়েছেন এই বলে যে-

"তোমরা কি কিতাবের কিছু অংশ মানবে আর কিছু অংশ অস্বীকার করবে? জেনে রাখ, তোমাদের মধ্যে যাদেরই এরূপ আচরণ হবে তাদের এছাড়া আর কি শাস্তি হতে পারে যে তারা পার্থিব জীবনে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হতে থাকবে এবং পরকালে তাদেরকে কঠোরতম শাস্তির দিকে নিক্ষেপ করা হবে? তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ অবগত আছেন।” (সূরা আল বাকারা ২:৮৫)

এ ধরনের সুস্পষ্ট কঠোর হুঁশিয়ারী সত্ত্বেও শুধু না জানার কারণে আমরা ক্রমাগত আল্লার কিতাবের প্রতি হাস্যকর আচরণ করেই যাচ্ছি। এ কিতাবকে সবিনা খতম আর সূরা ইয়াসীন পাঠ করার জন্য ব্যবহার করে যাচ্ছি। যে কিতাব আমাদের যাবতীয় আসমানী ও জমিনী সফলতায় শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদায় ভূষিত করতে পারত সেটির কাছ হতে আমরা শুধু সামান্য সওয়াব আদায়ের জন্য আর মৃতের কুলখানির জন্য ব্যবহার করছি। অথচ এটি বিস্তারিত অর্থসহ পড়ে আমাদের জেনে নেয়া উচিত কিভাবে আমরা একটি সোনালী সমৃদ্ধিশালী জীবন গড়তে পারি যা আমাদের ইহকালীন ও পরকালীন জীবনের সুস্পষ্ট সফলতার গ্যারান্টি দিতে পারে। আল্লাহ তাঁর নাবীকে বলেছিলেন:

“(হে নাবী!) আমি আপনার উপর এ কুরআন এ জন্য নাযিল করিনি যে, আপনি মুসীবতে পড়ে যান।” (সূরা ত্ব-হা ২০:২)

আসুন আমরা আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত আল কুরআন বুঝে পড়ার চেষ্টা করি, রসূলুল্লাহ ﷺ -এর সুন্নাত বিস্তারিত পড়ে জেনে নিই – কিভাবে একটি উন্নত নৈতিকতাসম্পন্ন সুখী-সমৃদ্ধ পরিবার ও সমাজ গড়তে পারি। আল্লাহ আমাদের তার দ্বীনকে পরিপূর্ণভাবে জেনে এর পূর্ণ অনুসরণের তৌফিক দিন। ইহকালীন লাঞ্ছনা ও পরকালীন আযাব হতে পরিত্রাণ দিন।

যথেষ্ট পরিমাণ অধ্যয়নের পর সওয়াবের উদ্দেশ্যে বা কুরআনের মর্মবাণী হতে ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে, কুরআনের প্রতি শ্রদ্ধা ও এর মর্যাদা উপলব্ধি করে যদি তিলাওয়াত করতে চাই তা হলে কোন দোষ নেই। অসুস্থ হওয়ার পর ডাক্তার যে প্রেসক্রিপশন দেন তা দশ হাজার বার পড়লেও (অর্থাৎ তিলাওয়াত করলে) কি আমার অসুখ সারবে? মোটেও না। আমাকে ঐ ঔষধগুলি কিনে ব্যবহার করতে হবে। তা হলেই কেবল আমি রোগমুক্তির আশা করতে পারি। আল কুরআন হলো জীবনের সকল সমস্যার প্রেসক্রিপশন। এটা অধ্যয়ন করে অনুধাবন করে এর শিক্ষা কাজে লাগানোর জন্য কুরআন পাঠানো হয়েছে। আমি যদি অর্থ ছাড়া কেবল রিডিং পড়ে যাই তা হলে কুরআন পাঠানোর মূল লক্ষ্য ব্যর্থ করে দেবে। তাই আজই অর্থসহ কুরআনের তাফসীর সংগ্রহ করি এবং প্রতিদিন ১৫ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা নিয়মিত অধ্যয়ন করি এবং কুরআনের আলোকে জীবনকে গড়ে তুলি।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 আমার সন্তানের সঠিক আকীদা

📄 আমার সন্তানের সঠিক আকীদা


আকীদা হলো ইসলামের ভিত্তি ও মূল। "আকীদা” শব্দটির পারিভাষিক অর্থ হলো: বিশ্বাসকে মনে এমনভাবে ধারণ করা যাতে এর মাঝে কোন সন্দেহের অবকাশ না থাকে। কারণ ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত মানুষের জন্য জীবনবিধান। তাই তাঁর জীবনবিধান মানতে হলে সর্বাগ্রে তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আকীদা হলো আমল কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত। কেননা আকীদা যদি বিশুদ্ধ না হয়, তাহলে যাবতীয় কথা ও কাজ আল্লাহর নিকট বাতিল বলে গণ্য হয়। আল্লাহ বলেন:

"কেউ ঈমান (ইসলাম) প্রত্যাখ্যান করলে তার কর্ম নিষ্ফল হবে এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (সূরা আলে ইমরান ৩ঃ ৮৫)

তৃতীয়ত, আখিরাতে নাযাত লাভের জন্যে আকীদা বিশুদ্ধ হওয়া অত্যাবশ্যক। উপরোল্লিখিত আয়াত দ্বারা আমরা তাই বুঝতে পারি। চতুর্থত, যুগে যুগে নাবী- রসূলগণের দাওয়াতের মূল বিষয়বস্তু ছিল আকীদা। প্রত্যেক নাবী প্রথমে আকীদার দাওয়াত দিতেন। মহা নাবী এজন্যেই মক্কায় সর্বপ্রথম আকীদা সংশোধনের জন্যে প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। মুসলিম মাত্রই ইসলামী আকীদায় বিশ্বাসী হতে হবে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর প্রেরিত রসূলে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাঁর বিধিনিষেধ মেনে চলে সে মুসলিম এবং যে এর ব্যতিক্রম করে সে ইসলামের দৃষ্টিতে কাফির বা অবিশ্বাসী। আর মুখে যে ব্যক্তি ইসলামের কথা ঘোষণা করে কিন্তু অন্তরে বিশ্বাস করে না, সেই ব্যক্তি হলো মুনাফিক। মুনাফিক কাফির হতেও নিকৃষ্টতর ও মারাত্মক। এই জন্যে আল্লাহ তা'আলা বলেন:

“নিশ্চয় মুনাফিকরা জাহান্নামের সবচেয়ে নিচের স্তরে থাকবে এবং তুমি তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী পাবে না।” (সূরা আন নিসা ৪ : ১৪৫)

মানব জীবনে আকীদার প্রভাব : আকীদা মানব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আকীদা ছাড়া মানব জীবন কল্পনা করা যায় না। আমাদের সন্তানদেরকে শিক্ষা দিতে হবে তারা যেন কোন মাযারে না যায়। মাযারের প্রতি ভক্তি প্রদর্শন না করে। মাযারে টাকা-পয়সা না দেয়। কোন কিছু পাওয়ার জন্য পীর বা ওলীর কাছে না যায়। কোন হুজরকে ক্ষতি বা উপকারের মালিক মনে না করে। কোন পীর-দরবেশ গায়েব জানে এই বিশ্বাস না রাখে। কোথাও গিয়ে পানি পড়া, চাল পড়া না আনে। কোন পীরের মুরিদ না হয়। এসবই ইসলামী আকীদার অন্তর্ভুক্ত। ইসলামী আকীদা সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে আমাদের প্রকাশিত The Way is One বইটি সংগ্রহ করার অনুরোধ রইল।

ফন্ট সাইজ
15px
17px