📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 তারা যেন মিথ্যা না বলে

📄 তারা যেন মিথ্যা না বলে


কোন কোন শিশু কথায় কথায় মিথ্যা বলে, যে কথাটি না বললেই নয় তাও হয়তো বলে। এভাবে এটি একটি বদঅভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। তারা যেন মিথ্যা না বলে সেদিকে বাবা-মাকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে, মা-বাবাকে এই বিষয়ে স্পেশাল মনোযোগ দিতে হবে। পরিস্থিতি যাই হোক নিজ সন্তানকে সর্বদা প্রকৃত সত্যটি তুলে ধরার অভ্যাস রপ্ত করাতে হবে। স্কুলের কোন ঘটনা, বন্ধুদের সাথে অপ্রীতিকর কিছু, প্রতিবেশীর সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত কোন ঘটনা ইত্যাদি সকল বিষয়ে সে যেন কেবল সত্য কথাটি উপস্থাপন করে তা ভাল করে শিখিয়ে দিতে হবে। সত্য কথা বলার জন্য তাকে কিছু গিফ্ট দেয়ার প্রচলন করা যেতে পারে। সে যদি অন্যায় করে, তা না লুকিয়ে যথাযথভাবে তুলে ধরে, সতর্কতার সাথে তাকে সংশোধন করতে হবে। তাকে এ হিসাব করতে দেয়া যাবে না যে সত্য বললেই বিপদ। বরং সত্য বলার কারণে সে যেন সবসময় কিছু না কিছু উপহার পায়। সত্য বলার পরেও যদি মা-বাবা বকা দেন, গায়ে হাত তুলেন, চিৎকার করে কথা বলেন, তা হলে শিশু সন্তানরা ভবিষ্যতে মিথ্যা বলা শুরু করে। আর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকেও সন্তানের সামনে মিথ্যা বলা পরিহার করতে হবে।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 আমার সন্তানদেরকে স্পষ্টভাষী হতে সাহায্য করি

📄 আমার সন্তানদেরকে স্পষ্টভাষী হতে সাহায্য করি


رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي
"রব্বিশ রহলি সদ্রি, ওয়াইয়াসসিরলি আমরি, ওয়াহলুল ওকদাতাম মিললিসানি, ইয়াফকুহু কুউলি।”

হে আমার মালিক, তুমি আমার জন্যে আমার বক্ষকে প্রশস্ত করে দাও, আমার কাজকে আমার জন্যে সহজ করে দাও, যাতে করে ওরা আমার কথা বুঝতে পারে। (সূরা ত্ব-হা ২০ : ২৫-২৮)

মহান আল্লাহ তা'আলা মুসা -কে এই দু'আ শিখিয়ে দিয়েছিলেন যেন তাঁর মুখের জড়তা দূর হয়ে যায় এবং তিনি স্পষ্টভাবে মানুষের নিকট দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছাতে পারেন। আমার সন্তান যেন মিনমিনে স্বভাবের না হয়। সে যা বলবে তা যেন সকলের নিকট স্পষ্ট রূপে প্রকাশ পায়। আর সে যেন সবসময় সত্যের পথে থাকে এবং সত্য কথা বলতে দ্বিধাবোধ না করে। কারণ একজন মুসলিমকে হক কথা (সত্য কথা) সবসময় বলতেই হবে এটা আল্লাহ তা'আলার আদেশ। যেমন তাকে দিয়ে কেউ যেন কোন অন্যায় কাজ করাতে না পারে। তাকে কেউ অন্যায় কাজ করতে বললে সে বলে দিবে তার দ্বারা এই কাজ করা সম্ভব নয়। তার সামনে কেউ কোন অন্যায় করলে সে তাকে বুঝিয়ে বলতে পারে যে কাজটি করা ঠিক নয়, এটি অন্যায়, ইত্যাদি।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 ইসলামী আদব শিক্ষা দান

📄 ইসলামী আদব শিক্ষা দান


ইসলাম শুধুমাত্র একটি ইবাদতসর্বস্ব ধর্মই নয়, ইসলাম একটি সম্পূর্ণ জীবনপদ্ধতিও (complete code of life) বটে যাতে আধ্যাত্মিক, ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় আচার-আচরণেরও সুস্পষ্ট নির্দেশ বর্তমান। উত্তম আদব (good manners/etiquette) ইসলাম ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাই ইসলাম জীবনের সর্বক্ষেত্রে আদবের উপর খুব জোর দিয়েছে। আল্লাহর কুরআন ও রসূলের হাদীসে আদবের নানাদিক বর্ণনা করা হয়েছে এবং নারীপুরুষ নির্বিশেষে সকল মুসলিমকে তা পালন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বুখারী ও আহমাদে দেখা যায় যে রসূল বলেছেন, উত্তম আদব (noble manners) প্রতিষ্ঠা করার জন্যেই আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন। এবং তিনি আরো বলেছেন যে মু'মিনদের মাঝে তারাই উত্তম যাদের আদব অতি উত্তম শ্রেণীর। (তিরমিযী, আবু দাউদ, আহমাদ)

তার দৈনন্দিন জীবনে কুরআন-হাদীস নির্দেশিত আদবগুলো মেনে চলার চেষ্টা যত বেশী করবে, একজন মুসলিম তত বেশী আল্লাহর প্রিয়পাত্র হতে পারবে। অন্যদিকে আদবকে অবহেলা করলে সে ইসলামের মূল শিক্ষা হতে দূরে সরে যাবে, ফলে আল্লাহর প্রিয় সে হতে পারবে না। এটা একটা সুস্পষ্ট ক্ষতি বটে।

আমরা বড়রাও ইসলামী আদবের অনেক কিছুই জানি না। হয়তো দেখা যায় কেউ কেউ বাম হতে পানি খাচ্ছেন! ফোন ধরে শুধু বলছেন হ্যালো! কোথায় ইনশাআল্লাহ আর কোথায় আলহামদুলিল্লাহ বলতে হবে তা জানি না! আমরাই যদি সঠিকভাবে না জানি তাহলে সন্তানদের কীভাবে শেখাবো? তাই ইসলামী আদবের বিষয়ে আমাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সন্তানদের সঠিক ইসলামী আদব শেখানোর জন্য কেজী থেকে ক্লাস সিক্স পর্যন্ত আমাদের প্রকাশিত ইসলামিক এডুকেশন সিরিজ জোগাড় করা যেতে পারে। আর ক্লাস সেভেন থেকে ইউনিভার্সিটি পর্যন্ত ছেলেমেয়েদের জন্য ফ্যামিলি ডেভেলপমেন্ট প্যাকেজের ৮নং বই “ছাত্র-ছাত্রীরা জীবনে কীভাবে উন্নতি করবে?” এই বইটি সংগ্রহ করা যেতে পারে।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 সন্তানদের সালামের অভ্যাস করানো

📄 সন্তানদের সালামের অভ্যাস করানো


আমাদের সন্তানদের সর্বত্র সালামের ব্যবহার শেখাতে হবে। সবাইকে সালাম দেয়ার অভ্যাস করতে হবে, হতে পারে সে ছোট বা বড়। বাসায় ঢুকেই বাসার সকলকে সালাম দিতে হবে। খালি বাসায় ঢুকেও সালাম দিতে হবে, কারণ ঘরে রহমতের ফিরিশতা থাকে। ফোন আসলে প্রথমে ফোন ধরেই আগে সালাম দিতে হবে। কোথাও ফোন করলে সর্বপ্রথমে সালাম দিয়ে শুরু করতে হবে। সালামকে বিকৃত করা যাবে না অর্থাৎ “স্লামুয়ালাইকুম” বলা যাবে না, কারণ এই বিকৃত সালামের কোন অর্থ হয় না। সন্তানদেরকে বলতে হবে সম্পূর্ণ সালাম পরিষ্কারভাবে দিতে "আস্সালামু আলাইকুম”।

সন্তান হয়তো কখনো কখনো সালাম দিতে ভুলে যেতে পারে। এটা প্র্যাকটিসের বিষয়, কোন কোন পরিবারে সালামের প্রচলন ব্যপকভাবে নেই বলে সন্তানরাও ঐভাবে গড়ে উঠে না। সন্তানকে কখনই বলার দরকার নেই 'আংকেলকে সালাম দাও, দাও দাও সালাম দাও।' 'দাদাকে সালাম দাও, আন্টিকে সালাম দাও ইত্যাদি বলার দরকার নেই। বরং বড়রা যদি প্রতিদিনের জীবনে ছোট-বড় সবাইকে সালাম দেয় তাহলেই ঐ বাসার প্রতিটি শিশু সন্তানরা সালাম দেয়া ও সালামের জবাব দেয়া শিখবে।

আমরা আরো একটি ভুল সবসময় করি, আসলে এটা আমাদের দেশের কালচার। বড়রা সবসময় ছোটদের থেকে সালাম আশা করেন! এটা মোটেও ঠিক না। আমাদের দেশে অধিকাংশ মা-বাবারা নিজ সন্তানদের সালাম দেন না। সালাম একটি উৎকৃষ্ট দু'আ এর অর্থ 'তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক'। কিন্তু এই দু'আ মা-বাবারা সন্তানদের জন্য করতে লজ্জাবোধ করেন। শুধু সন্তানদের থেকে নিজেদের জন্য এই দু'আ আশা করেন কিন্তু সন্তানের শান্তির জন্য দু'আ করেন না।

আমাদের সমাজে শুধু মা-বাবারা নন। অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষিকারা ছাত্র- ছাত্রীদের সালাম দেন না, ইমাম সাহেব রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় সাধারণ লোকদের সালাম দেন না, অফিসে বস কর্মচারীদের সালাম দেন না, সাহেব গাড়িতে উঠে ড্রাইভারকে সালাম দেন না। কেউ রিক্সায় বা সিএনজিতে উঠে কখনোই কোন রিক্সাওয়ালা বা সিএনজিওয়ালকে সালাম দেন না।

আমরা আসলে সালামের প্রকৃত অর্থ বুঝি না বলে একে অপরের জন্য দু'আ করি না। যেমন বস যখন গাড়িতে উঠে বসেন তখন সালাম কার জন্য বেশী প্রয়োজন? বসের না ড্রাইভারের? আসলে বসের চেয়ে সালামের বেশী প্রয়োজন ড্রাইভারের। কারণ ড্রাইভার যখন গাড়ি চালাবে তখন তার বেশী শান্তিতে থাকা প্রয়োজন যেন কোন দুর্ঘটনা না ঘটে। ঠিক একইভাবে সন্তান যখন স্কুলে যায় তখন শান্তি বেশী প্রয়োজন মায়ের চেয়ে সন্তানের কারণ সে স্কুলে যাওয়ার পথে নানা রকম দুর্ঘটনায় পরতে পারে, তাই বাসা থেকে বিদায় নেয়ার কালে মায়ের উচিত সন্তানকে সালাম দেয়া।

ফন্ট সাইজ
15px
17px