📄 অন্যায়কে সুস্পষ্ট করি
আমার সন্তানকে ছোট বয়স হতেই ন্যায়-অন্যায়ের বিষয়টি বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করি। বড়দের সম্মান করার বিষয়টি তুলে ধরি। সে কোন অন্যায় কাজ করলে ঠান্ডা মাথায়, ধীরে সুস্থে, অনুচ্চ কন্ঠে বলা উচিত যে বিষয়টি অন্যায় এবং সে যেন এটি আর কখনো না করে। ভাল কাজ করতে উৎসাহিত করি। সে কোন ভাল কাজ করলে তাকে পুরস্কৃত করি। আমার সন্তান যদি কোন আপত্তিকর কথা বলে ফেলে তাহলে সর্বপ্রথম আমাকে বুঝতে হবে যে শিশুটি না বুঝেই খারাপ শব্দটি উচ্চারণ করেছে। এখনই তাকে বুঝানোর সময়। সুন্দর করে বলে দিতে হবে, যে শব্দ সে ব্যবহার করেছে সেটি ভাল নয়।
দাদা-দাদী ও নানা-নানীর সাথে সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। তারা যদি দূরে থাকেন তাহলে অন্তত সন্তানদের জানতে দিতে হবে যে তার দাদা-দাদী ও নানা-নানী আছেন। তারা তাকে খুব ভালবাসেন। সেও যেন তাদের ভালবাসে। এ ছাড়া ফুফু, খালা, চাচা, মামা তাদের সাথেও পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। ব্যাপারটি যেন কখনো এমন না হয় যে আমার সন্তান আদৌ জানে না যে তার একটি ফুফু বা চাচা আছে!
📄 সন্তানদের ছোটবেলা হতে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য শেখাতে চেষ্টা করি
আমার কাছে যদি সত্য-মিথ্যার বিষয়টি স্পর্শকাতর হয়ে থাকে, যদি আমি নীতি নৈতিকতার ব্যাপারে আপোষহীন হয়ে থাকি, যদি আমার সন্তানের উচ্চ ডিগ্রি অর্জনের আকাঙ্ক্ষার সাথে উচ্চ নৈতিকতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে তাহলে কোমর বেঁধে নামতে হবে। প্রস্তুতি নিতে হবে, নিজেকে তৈরী করতে হবে। কারণ শ্রেণীকক্ষে কেবল স্বাদহীন কিছু মালমশলা দেয়া হয়। আর ছাত্র-ছাত্রীরা ভাল রেজাল্ট করার আশায় সেগুলি মুখস্থ করে পরীক্ষার হলে তা উগরে দেয়া পর্যন্তই তা সীমাবদ্ধ থাকে। শ্রেণীকক্ষের পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি আমাকেই সন্তানের আত্মিক উন্নয়ন, নৈতিক চরিত্র গঠন ও ঈমানের নূর প্রবেশ করাবার জন্য বিশেষ কর্মসূচী হাতে নিতে হবে। এ ব্যাপারে যদি আমার আর্থিক কিছু খরচ হয় তার জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে।
সন্তানদের অতি ছোটবেলা হতে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য শিখানোর চেষ্টা করতে হবে। সত্য উজ্জ্বল, মিথ্যা অন্ধকারাচ্ছন্ন। এটি বিভিন্ন কাজ, কথা ও উদাহরণের সাহায্যে বুঝিয়ে দিতে হবে। তাকে বলতে হবে যে, দু'জন ফিরিশতা বা লেখক আমাদের দুই কাঁধে বসে নিদ্রাহীন ও বিরতিহীনভাবে আমাদের সকল কাজ রেকর্ড করে রাখছেন। একদিন আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ সে খাতা খুলে দেখাবেন আমরা কি কি কাজ করেছি। আরো বলতে হবে যে লেখকগণ সম্মানিত ও সৎ। বাড়িয়ে বা কমিয়ে কিছু লেখার ক্ষমতা তাদের নেই। অতএব আমরা যা কিছুই করি না কেন ন্যায়-অন্যায়ের বিষয়টি যাচাই করে দেখা উচিত, অন্যায় হতে বিরত থাকা উচিত।
📄 তারা যেন মিথ্যা না বলে
কোন কোন শিশু কথায় কথায় মিথ্যা বলে, যে কথাটি না বললেই নয় তাও হয়তো বলে। এভাবে এটি একটি বদঅভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। তারা যেন মিথ্যা না বলে সেদিকে বাবা-মাকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে, মা-বাবাকে এই বিষয়ে স্পেশাল মনোযোগ দিতে হবে। পরিস্থিতি যাই হোক নিজ সন্তানকে সর্বদা প্রকৃত সত্যটি তুলে ধরার অভ্যাস রপ্ত করাতে হবে। স্কুলের কোন ঘটনা, বন্ধুদের সাথে অপ্রীতিকর কিছু, প্রতিবেশীর সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত কোন ঘটনা ইত্যাদি সকল বিষয়ে সে যেন কেবল সত্য কথাটি উপস্থাপন করে তা ভাল করে শিখিয়ে দিতে হবে। সত্য কথা বলার জন্য তাকে কিছু গিফ্ট দেয়ার প্রচলন করা যেতে পারে। সে যদি অন্যায় করে, তা না লুকিয়ে যথাযথভাবে তুলে ধরে, সতর্কতার সাথে তাকে সংশোধন করতে হবে। তাকে এ হিসাব করতে দেয়া যাবে না যে সত্য বললেই বিপদ। বরং সত্য বলার কারণে সে যেন সবসময় কিছু না কিছু উপহার পায়। সত্য বলার পরেও যদি মা-বাবা বকা দেন, গায়ে হাত তুলেন, চিৎকার করে কথা বলেন, তা হলে শিশু সন্তানরা ভবিষ্যতে মিথ্যা বলা শুরু করে। আর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকেও সন্তানের সামনে মিথ্যা বলা পরিহার করতে হবে।
📄 আমার সন্তানদেরকে স্পষ্টভাষী হতে সাহায্য করি
رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي
"রব্বিশ রহলি সদ্রি, ওয়াইয়াসসিরলি আমরি, ওয়াহলুল ওকদাতাম মিললিসানি, ইয়াফকুহু কুউলি।”
হে আমার মালিক, তুমি আমার জন্যে আমার বক্ষকে প্রশস্ত করে দাও, আমার কাজকে আমার জন্যে সহজ করে দাও, যাতে করে ওরা আমার কথা বুঝতে পারে। (সূরা ত্ব-হা ২০ : ২৫-২৮)
মহান আল্লাহ তা'আলা মুসা -কে এই দু'আ শিখিয়ে দিয়েছিলেন যেন তাঁর মুখের জড়তা দূর হয়ে যায় এবং তিনি স্পষ্টভাবে মানুষের নিকট দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছাতে পারেন। আমার সন্তান যেন মিনমিনে স্বভাবের না হয়। সে যা বলবে তা যেন সকলের নিকট স্পষ্ট রূপে প্রকাশ পায়। আর সে যেন সবসময় সত্যের পথে থাকে এবং সত্য কথা বলতে দ্বিধাবোধ না করে। কারণ একজন মুসলিমকে হক কথা (সত্য কথা) সবসময় বলতেই হবে এটা আল্লাহ তা'আলার আদেশ। যেমন তাকে দিয়ে কেউ যেন কোন অন্যায় কাজ করাতে না পারে। তাকে কেউ অন্যায় কাজ করতে বললে সে বলে দিবে তার দ্বারা এই কাজ করা সম্ভব নয়। তার সামনে কেউ কোন অন্যায় করলে সে তাকে বুঝিয়ে বলতে পারে যে কাজটি করা ঠিক নয়, এটি অন্যায়, ইত্যাদি।