📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 সন্তানের চরিত্র গঠনের উপায়

📄 সন্তানের চরিত্র গঠনের উপায়


১. বাসায় সুন্দর ইসলামী পরিবেশ তৈরী করি।
২. সন্তানদের নিকট ইসলামকে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করি।
৩. আল্লাহর সাথে সন্তানের সম্পর্ক তৈরী করি।
৪. সন্তানের ধারণ ক্ষমতা বুঝে ধীরে ধীরে এগুতে থাকি।
৫. জোর না করি, সব আদেশ-নিষেধ একসাথে চাপিয়ে না দেই।
৬. সন্তান যেন দ্বীন ইসলামকে ভালবেসে গ্রহণ করে, শাস্তির ভয়ে নয়।
৭. Islam should be fun as well as compulsory.
৮. রসূল ﷺ ও সাহাবাদের জীবনের ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরি।
৯. মা-বাবার জীবনযাপন পদ্ধতি সন্তানের সামনে অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে তুলে ধরি। রোল মডেল হই সন্তানদের চোখে।
১০. তাকে শুধু ভাল হওয়ার থিওরী শিক্ষা না দিয়ে সাথে প্রাকটিক্যালও করাই।
১১. উদাহরণ সৃষ্টি করি। নিজে একটি ভাল কাজ করি এবং তাকে উপলব্ধি করার সুযোগ দেই।
১২. সন্তান ও স্ত্রী বা স্বামীকে সব সময় সালাম দেই। এছাড়া খালি বাসায় ঢুকেও যেন সালাম দেই কারণ ঘরে রহমতের ফিরিশতা থাকে।
১৩. সবাই মিলে একসাথে নিয়মিত ইসলামিক ডিভিডি দেখি। এবং ঘরে একটি লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করি।
১৪. সব সময় সপরিবারে ইসলামিক টিভি দেখার চেষ্টা করি।
১৫. সন্তানকে সাথে নিয়ে নিয়মিত মসজিদে যাই এবং জামাতের সাথে সলাত আদায় করি।
১৬. তাদেরকে যথেষ্ট সময় দেয়ার চেষ্টা করি।
১৭. প্রতি সপ্তাহে সপরিবারে নিজ ঘরে কুরআনের তাফসীর ও সহীহ হাদীস নিয়ে পারিবারিক বৈঠক করি।
১৮. তাওহীদ ও শিরক এবং সুন্নাত ও বিদ'আত সম্পর্কে বই সংগ্রহ করি এবং তাদেরকে এ সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেই।
১৯. সবসময় খোঁজ-খবর রাখি কোথায় কোন ইসলামিক কনফারেন্স হচ্ছে এবং সপরিবারে সেখানে যোগদান করি।
২০. বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ইসলামিক সেন্টারে ইসলামের নানা বিষয়ের উপর কম্পিটিশন হয়, সন্তানদের এই সকল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য সহযোগিতা করি।
২১. আমার সন্তান যদি ইসলামিক স্কুলে পড়ে না থাকে তাহলে তাদেরকে Weekend Islamic School-এ ভর্তি করে দিতে পারি যেখানে তারা Islamic Studies শিখবে, নীতি-নৈতিকতা শিখবে।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 রসূল ﷺ -এর চরিত্রকে মডেল হিসেবে তুলে ধরি

📄 রসূল ﷺ -এর চরিত্রকে মডেল হিসেবে তুলে ধরি


একবার কিছু সাহাবা আয়িশা -র কাছে আসলেন এবং বললেন রসূল - এর চরিত্র সম্পর্কে আমাদেরকে কিছু বলুন। আয়িশা তাদেরকে বললেন, তোমাদের কাছে কি কুরআন আছে? গোটা কুরআনটাইতো আমার রসূলের চরিত্র, তিনি যখন হেঁটে যেতেন তখন মনে হতো জীবন্ত কুরআন হেঁটে যাচ্ছে।

তাই একজন মু'মিনের চরিত্র কেমন হবে তা কুরআনই বলে দিচ্ছে স্পষ্টভাবে। এজন্য আমরা কুরআন থেকে সূরা মু'মিনুনের তাফসীর পড়তে পারি এবং সন্তানদেরকে শিক্ষা দিতে পারি।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 অন্যায়কে সুস্পষ্ট করি

📄 অন্যায়কে সুস্পষ্ট করি


আমার সন্তানকে ছোট বয়স হতেই ন্যায়-অন্যায়ের বিষয়টি বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করি। বড়দের সম্মান করার বিষয়টি তুলে ধরি। সে কোন অন্যায় কাজ করলে ঠান্ডা মাথায়, ধীরে সুস্থে, অনুচ্চ কন্ঠে বলা উচিত যে বিষয়টি অন্যায় এবং সে যেন এটি আর কখনো না করে। ভাল কাজ করতে উৎসাহিত করি। সে কোন ভাল কাজ করলে তাকে পুরস্কৃত করি। আমার সন্তান যদি কোন আপত্তিকর কথা বলে ফেলে তাহলে সর্বপ্রথম আমাকে বুঝতে হবে যে শিশুটি না বুঝেই খারাপ শব্দটি উচ্চারণ করেছে। এখনই তাকে বুঝানোর সময়। সুন্দর করে বলে দিতে হবে, যে শব্দ সে ব্যবহার করেছে সেটি ভাল নয়।

দাদা-দাদী ও নানা-নানীর সাথে সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। তারা যদি দূরে থাকেন তাহলে অন্তত সন্তানদের জানতে দিতে হবে যে তার দাদা-দাদী ও নানা-নানী আছেন। তারা তাকে খুব ভালবাসেন। সেও যেন তাদের ভালবাসে। এ ছাড়া ফুফু, খালা, চাচা, মামা তাদের সাথেও পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। ব্যাপারটি যেন কখনো এমন না হয় যে আমার সন্তান আদৌ জানে না যে তার একটি ফুফু বা চাচা আছে!

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 সন্তানদের ছোটবেলা হতে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য শেখাতে চেষ্টা করি

📄 সন্তানদের ছোটবেলা হতে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য শেখাতে চেষ্টা করি


আমার কাছে যদি সত্য-মিথ্যার বিষয়টি স্পর্শকাতর হয়ে থাকে, যদি আমি নীতি নৈতিকতার ব্যাপারে আপোষহীন হয়ে থাকি, যদি আমার সন্তানের উচ্চ ডিগ্রি অর্জনের আকাঙ্ক্ষার সাথে উচ্চ নৈতিকতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে তাহলে কোমর বেঁধে নামতে হবে। প্রস্তুতি নিতে হবে, নিজেকে তৈরী করতে হবে। কারণ শ্রেণীকক্ষে কেবল স্বাদহীন কিছু মালমশলা দেয়া হয়। আর ছাত্র-ছাত্রীরা ভাল রেজাল্ট করার আশায় সেগুলি মুখস্থ করে পরীক্ষার হলে তা উগরে দেয়া পর্যন্তই তা সীমাবদ্ধ থাকে। শ্রেণীকক্ষের পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি আমাকেই সন্তানের আত্মিক উন্নয়ন, নৈতিক চরিত্র গঠন ও ঈমানের নূর প্রবেশ করাবার জন্য বিশেষ কর্মসূচী হাতে নিতে হবে। এ ব্যাপারে যদি আমার আর্থিক কিছু খরচ হয় তার জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে।

সন্তানদের অতি ছোটবেলা হতে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য শিখানোর চেষ্টা করতে হবে। সত্য উজ্জ্বল, মিথ্যা অন্ধকারাচ্ছন্ন। এটি বিভিন্ন কাজ, কথা ও উদাহরণের সাহায্যে বুঝিয়ে দিতে হবে। তাকে বলতে হবে যে, দু'জন ফিরিশতা বা লেখক আমাদের দুই কাঁধে বসে নিদ্রাহীন ও বিরতিহীনভাবে আমাদের সকল কাজ রেকর্ড করে রাখছেন। একদিন আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ সে খাতা খুলে দেখাবেন আমরা কি কি কাজ করেছি। আরো বলতে হবে যে লেখকগণ সম্মানিত ও সৎ। বাড়িয়ে বা কমিয়ে কিছু লেখার ক্ষমতা তাদের নেই। অতএব আমরা যা কিছুই করি না কেন ন্যায়-অন্যায়ের বিষয়টি যাচাই করে দেখা উচিত, অন্যায় হতে বিরত থাকা উচিত।

ফন্ট সাইজ
15px
17px