📄 আমার সন্তানের বিবাহ
সন্তানের উপযুক্ত বয়স হলে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব ভাল দ্বীনদার ছেলে বা মেয়ে দেখে বিয়ের ব্যবস্থা করা উচিত। ছেলেমেয়েদের স্টুডেন্ট লাইফেও বিয়ের কথা চিন্তা করা যেতে পারে, তবে তা দেশের আইন অনুযায়ী হতে হবে। যদি স্টুডেন্ট লাইফে বিয়ে দিতেই হয়ে তাহলে এ ব্যাপারে মা-বাবাদের কয়েকটি বিষয়ে যথেষ্ট খেয়াল রাখতে হবে যেমন: ১) বিয়ের পর তাদের সংসার চলবে কিভাবে? ২) তাদের পড়াশোনা চলবে কিভাবে? ৩) সন্তান-সন্ততি হলে তা দেখাশোনা করতে পারবে কিনা ইত্যাদি।
যদি এই সকল বিষয়ে মা-বাবা তাদেরকে সহযোগিতা করতে পারেন তাহলে স্টুডেন্ট লাইফে বিয়ের ব্যাপারে অনেক সুবিধা। পাত্র বা পাত্রীর শুধু ক্যারিয়ার বা একাডেমিক কোয়ালিফিকেশন বা শুধু টাকা-পয়সা বা বংশ-গৌরব দেখা ঠিক নয়। সর্বপ্রথম দেখতে হবে পাত্র বা পাত্রী দ্বীনদার কিনা, যদি পাত্র বা পাত্রী দ্বীনদার না হয় তাহলে ছেলে বা মেয়েকে এই আধুনিককালে জীবন চালাতে খুব হিমসিম খেতে হবে। তাই রসূল বলেছেন:
মেয়েদেরকে সাধারণতঃ চারটি বিষয় দেখে বিয়ে করা হয়। তার সম্পদ দেখে, বংশ মর্যাদা দেখে, রূপ সৌন্দর্য দেখে এবং তার দ্বীনদারী দেখে। তবে তোমরা দ্বীনদারী মেয়ে লাভ করার চেষ্টা কর, তোমাদের কল্যাণ হবে। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)。
দ্বীনের জ্ঞান থাকা আর দ্বীন পালন করাই হচ্ছে পাত্র বা পাত্রীর সবচেয়ে বড় কোয়ালিফিকেশন। আর এই ধরনের কোয়ালিফাইড পাত্র-পাত্রী জীবনে সুখী হতে বাধ্য, ইনশাআল্লাহ। একই বিষয় ছেলে অর্থাৎ পাত্র দেখার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। পাত্রের শুধু নাম-জস, টাকা-পয়সা, বাড়ি-গাড়ি, ভাল চাকুরী বা ব্যবসা দেখলে চলবে না। পাত্র দ্বীনদারী কিনা সেদিকেই বেশী জোড় দিতে হবে, পাত্র পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় করে কিনা, পাত্রের ইসলামের উপর সহীহ জ্ঞান আছে কিনা এবং সেই অনুযায়ী সে জীবন পরিচালনা করে কিনা ইত্যাদি।
কন্যা সন্তানের প্রতি দায়িত্ব
সন্তান ছেলে বা মেয়ে যাই হোক সন্তান সন্তানই। সে হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ামত। এতে কোন মানুষের হাত নেই। তবু যারা কন্যা হলে মন খারাপ করেন, ভ্রূ কুঞ্চিত করেন, স্ত্রীকে বকাবকি করেন তারা একটু লক্ষ্য করি, যাদের সন্তান নেই, যাদের মা-বাবা হওয়ার মত ভাগ্য আল্লাহ তা'আলা দেননি অথবা দিয়েছিলেন আবার নিয়েও গেছেন সেই সকল মানুষগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখি। তারা সন্তান-সন্তান বলে কী না করছে! যদি আপনজনদের মধ্যে এমন কেউ থাকেন তাহলে বুঝতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কাজেই আল্লাহ তা'আলা তাঁর ইচ্ছাতেই আমাদেরকে একের পর দুই, দুয়ের পর তিন এভাবে কয়েকজন কন্যা সন্তান দান করেছেন। এতে কন্যার বাবাদের মন খারাপ হলেও আমাদের প্রিয় নাবী মুহাম্মাদ কিন্তু ঘোষণা করে দিয়েছেন, "কারো তিনজন কন্যা সন্তান থাকলে এবং সে তাদের ব্যাপারে ধৈর্যধারণ করলে, যথাসাধ্য তাদের পানাহার করালে ও পোশাক-আশাক দিলে, তারা কিয়ামাতের দিন তার জন্য জাহান্নাম থেকে অন্তরায় হবে।” (ইবনে মাজাহ)
ভাল পাত্রের নিকট মেয়েকে বিয়ে দেয়া
সন্তানদের একটা বয়স পর্যন্ত সব রকমের অধিকার আদায়ের পরও কন্যাদের প্রতি আরো কয়েকটি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়; এগুলোর অন্যতম হলো মেয়েকে উপযুক্ত পাত্রের সাথে বিয়ে দেয়া। নাবী মুহাম্মাদ বলেন: “যার দ্বীনদারী ও নৈতিক চরিত্র সম্পর্কে তোমরা সন্তুষ্ট সে যদি তোমাদের কাছে বিবাহের প্রস্তাব দেয় তবে তার সাথে বিয়ে দাও। যদি তা না কর তবে পৃথিবীতে ফিতনা-ফাসাদ ও চরম বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।” (আত-তিরমিযী)
আমাদের দেখা এমন অনেক ঘটনা আছে যে, ছেলে খুবই ভাল এবং এডুকেটেড কিন্তু দ্বীন ইসলামের জ্ঞান নেই এবং প্র্যাকটিস নেই, তাই বেশীরভাগ সংসার টিকেনি, যেগুলো টিকে আছে সেই সংসারে রয়েছে শুধু অশান্তি। একইভাবে মেয়ে খুবই ভাল কিন্তু দ্বীনদার না অর্থাৎ দ্বীন ইসলামের জ্ঞান নেই এবং দ্বীন ইসলাম ঠিক মতো পালনও করে না। সেই সংসারও টিকেনি, আর যেগুলো দেখে মনে হচ্ছে টিকে আছে সেখানেও প্রকৃত শান্তি নেই। এই পাত্র-পাত্রীরা নিজেরাও জানে না কেন এই অশান্তি, এর মূলে কিসের অভাব। অতএব সব বাবা-মার দায়িত্ব সন্তানকে ঈমানদার মুসলিম পাত্র বা পাত্রীর সাথে বিবাহ দেয়া যাতে সন্তানের জন্য একটা সফল সুন্দর সংসার জীবন আশা করা যেতে পারে, ইনশাআল্লাহ।