📄 উত্তম ব্যবহার শিক্ষা দান
রসূল বলেছেন: কোন বাবা তার সন্তানদের উত্তম আচার-ব্যবহারের চেয়ে অধিক ভাল কোন জিনিস উপহার দিতে পারে না। (তিরমিযী)
সন্তানদেরকে উত্তম আচার-ব্যবহার শিক্ষাদান একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেমন: অনেক ছেলেমেয়েরাই ফোন রিসিভ করে সালাম দেয় না। মা-বাবার বন্ধুদের সাথে ভদ্রভাবে কথা বলে না। মা-বাবা বা বড় ভাই-বোনের সাথে ঝগড়া বা তর্ক করে, রুঢ় ভাবে কথা বলে ইত্যাদি ইত্যাদি। আমরা যেন মনে না করি যে তারা আদব-কায়দা ক্লাসের বই পড়ে শিখবে বা স্কুল টিচাররা শেখাবেন। মনে রাখা উচিত এখনকার অধিকাংশ স্কুলগুলোতে শিক্ষার এমন কোন ব্যবস্থা নেই যে যেখানে আদব কায়দা শেখানো হয়। বরং আজকাল টিভি দেখে সন্তানরা এমন আচরণ শিখছে যা আমাদের ইসলামিক কালচারের সম্পূর্ণ বিপরীত। তাই আমার সন্তানকে আদব-কায়দা আমাকেই সুন্দরভাবে শিক্ষা দিতে হবে। বাস্তবে দেখা গেছে যে অনেক পরিবার ইসলামিক মাইন্ডের কিন্তু সন্তানেরা আদব-কায়দা জানে না কারণ তাদের সেটা শেখানো হয়নি। আমাদের প্রিয় নাবী বলেছেন: কারো সাথে হাসি মুখে কথা বলাও একটা সদাকা।
একটি সুন্দর প্ল্যান করে বুদ্ধিমত্তা, অধ্যবসায় ও ধৈর্যের সাথে শিশুদেরকে শিষ্টাচার শিক্ষা দিতে হবে। খানা-পিনা, উঠা-বসা, ঘুম ও জাগরণের আদব শিক্ষা দিতে হবে। শিক্ষা ও শিক্ষকের প্রতি আদব, মসজিদ-স্কুলের আদবের কথা তাদের বলতে হবে। পাক-পবিত্রতার আদব, স্বাস্থ্য ও পবিত্রতার আদব, চলাফেরা এবং সাথী-সঙ্গীদের সাথে উঠা-বসার আদব, গৃহের এবং নিজের জিনিসসমূহকে সুন্দর ও সুশৃংখলভাবে ব্যবহারের নিয়ম শিক্ষা দিতে হবে এবং একটি সভ্য ও পবিত্র জীবন পরিচালনার জন্য অব্যাহতভাবে আমাকে তার অভিভাবকত্ব করতে হবে। একবার শুধু কোনো ভালো জিনিসের প্রতি দৃষ্টি আর্কষণই যথেষ্ট নয় বরং প্রশিক্ষণের দাবী হলো যে, আমি সে ব্যাপারে অব্যাহতভাবে দৃষ্টি রাখবো এবং বারবার ভুল সত্ত্বেও বিরক্ত হবো না। ধৈর্য ও সবরের সাথে এবং অন্তর দিয়ে তাদেরকে শুধরে দিতে থাকবো এবং সামান্যতম ভুলকেও তুচ্ছ মনে করবো না।
দুষ্টামী আর বেয়াদবী এক নয়
শিশুরা দুষ্টামী করবে এটিই স্বাভাবিক অর্থাৎ প্রাকৃতিক। তারা দৌড়াদৌড়ি করবে, ছুটাছুটি করবে, খেলবে, লাফাবে, বল ছুড়ে মারবে, হৈচৈ করবে, দেয়ালে দাগাবে, ফ্লোর নষ্ট করবে, পানি দিয়ে খেলবে, রং দিয়ে খেলবে, কিচেনের হাড়ি-পতিল এনে খেলবে, মা-বাবার জামা-কাপড় পড়ে খেলবে, মা- বাবা সলাতে সিজদায় গেলে তাদের ঘাড়ের উপরে উঠবে ইত্যাদি। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কোন কোন শিশু এই বিষয়গুলোতে বেশী একটিভ আবার কোন কোন শিশু কম একটিভ। শিশুদের এই কাজগুলোতে বাধা দেয়া ঠিক না, এতে তার প্রতিভা প্রকাশে ব্যাঘাত ঘটে। যে সকল শিশু এই কাজগুলোতে বেশী একটিভ তাকে ভুল বুঝে বেয়াদব মনে করা যাবে না, তাকে চর-থাপ্পর দেয়া যাবে না। কারণ বেয়াদবী আর দুষ্টামী এক জিনিস নয়।
📄 সন্তানদেরকে ঘরের কাজকর্মে অভ্যস্ত করা
আমরা আমাদের সন্তানদেরকে খুবই ভালবাসি। এই ভালবাসার নমুনাস্বরূপ তাদেরকে অনেক সময় অকর্মণ্য করে ফেলি। অনেক পরিবারে ছোটবেলা হতে সন্তানদেরকে নিজ হাতে এক গ্লাস পানি ঢেলেও খেতে অভ্যস্ত করেন না। মেয়ে হাই-স্কুলে বা ইউনিভার্সিটিতে পড়ে কিন্তু একটি ডিমও ভেজে খেতে পারে না। সন্তানদের সব ধরনের কাজ করার অভ্যাস এবং অভিজ্ঞতা থাকা দরকার। যেন বলতে না হয়, "আমার বাচ্চারা তো কিছু পারে না!" এটা ঠিক না, তাদেরকে চেষ্টা করতে দিতে হবে, প্রথমে ভুল করবে, কিছু জিনিস নষ্ট করবে, খুব বেশী সুন্দর হয়ত হবে না- তারপর একসময় ঠিকই পারবে ইনশাআল্লাহ। আসুন এ বিষয়ে সতর্ক হই, সন্তানদেরকে ছোট হতে ঘরের কাজে ট্রেইনআপ করি। শিক্ষণীয় হিসেবে দু'টি বাস্তব উদাহরণ দেয়া যাক।
চিত্র এক: ২০০৭ সালে আমরা সপরিবারে লন্ডন গিয়েছিলাম ইষ্ট লন্ডন ইসলামিক সেন্টার পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে। ইষ্ট লন্ডন ইসলামিক সেন্টারের প্রেসিডেন্টের বাসায় আমাদের দুপুরে লাঞ্চের দাওয়াত ছিল। যা হোক আমরা প্রেসিডেন্ট সাহেবের বাসায় যে দৃশ্য দেখলাম তা হলো, প্রেসিডেন্ট সাহেবের হাই স্কুল পড়ুয়া ছেলেটা রান্না ঘরে হাড়ি-পাতিল-প্লেট-গ্লাস ধুচ্ছে, ঘর ঝাড়ু দিচ্ছে এবং বাথরুম পরিষ্কার করছে।
চিত্র দুই: NICAS Canada-র এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টরের বড় ছেলে টরন্টো ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। আমাদের ক্যানাডিয়ান লাইফে এতো ভদ্র ছেলে আমরা কখনও দেখিনি। কী তার অমায়িক ব্যবহার! এছাড়াও সে অসুস্থ বাবার মাথায় পানি ঢালা থেকে শুরু করে মার সাথে ঘরের অন্যান্য কাজকর্মও করে থাকে।
📄 ভারসাম্যপূর্ণ অভ্যাস তৈরী করা
মা-বাবারা সন্তানদের প্রায় সকল সহনীয় দাবী দাওয়া মেনে নিতে চান। এতে আপাতঃ দৃষ্টিতে কোন ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না। তবে কিছু কিছু বিষয়ে সতর্ক ব্যবস্থা ও ভারসাম্যপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ সন্তানদের ভবিষ্যৎ জীবনকে সহজ করে তুলবে। আমার সন্তান যদি চা পানে অভ্যস্ত হয় তাতে কোন দোষ নেই, কিন্তু চা পান না করলে তার স্কুলের হোমওয়ার্ক হবে না বা কফি না খেলে তার পড়া হয় না- এ জাতীয় অভ্যাসকে যতদূর সম্ভব এড়িয়ে চলা নিরাপদ। ঠিক তদ্রূপ মাংস ছাড়া আর কিছু তার পছন্দ নয়, বা একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের কাপড় ছাড়া সে অন্য কিছু ব্যবহারে অভ্যস্ত নয়, ইত্যাদি কোন কিছুতে যেন তার দিগন্ত সীমিত হয়ে না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখা দরকার। এতে আমাদের সন্তান ফ্লেক্সিবল হয়ে গড়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ।
যদি সন্তানের ব্যক্তিত্বকে এভাবে গড়ে তোলা যায় তা হলে সে পৃথিবীর যে কোন প্রান্তেই নিজেকে সামলিয়ে চলতে পারবে। অনেক ছেলেমেয়েদেরকে দেখা যায় মাছ খায় না কাঁটার ভয়ে, শাক খান না কারণ ছোটবেলা হতে শাক খাওয়ায় অনভ্যস্ত। এধরনের অভ্যাস যেন না হয় সেদিকে বাবা-মায়েদের খেয়াল রাখা প্রয়োজন। সন্তানদেকে তার নিজের ফর্ম নিজে ফিলাপ করতে দেয়া উচিত। আমার যে কটি গাড়ীই থাক না কেন সন্তানদের মাঝে মধ্যে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে চলতে ফিরতে অভ্যস্ত করা উচিত। যাতে প্রয়োজনে তারা বিনাদ্বিধায় যেখানে সেখানে যাতায়াত করতে পারে। তবে যদি সন্তানের নিরাপত্তা হারাবার আশঙ্কা থাকে তাহলে ভিন্ন কথা। এ উদাহরণগুলো দেয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো আমার সন্তান যেন বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে না উঠে।
আমরা মা-বাবারা বাচ্চাদের প্রয়োজনীয় অপ্রয়োজনীয় সব জিনিসই দেই। কিন্তু একটা বাচ্চা কিছু চাইলে তার সাথে আলাপ করা দরকার সে এটা কেন চায়, এটা দিয়ে সে কি করবে, এর উপকারীতা ও অপকারীতাগুলো কি কি? জিনিসটি আদৌ তার প্রয়োজন আছে কি'না এবং এই টাকায় সে আর কি করতে পারে? এতে করে ওরা স্বার্থপর হবার পরিবর্তে needs এবং wants এর মধ্যে তফাত করতে শিখবে, অন্যের প্রয়োজনকে নিজের প্রয়োজনের উপর অগ্রাধিকার দিতে শিখবে।
সবচেয়ে বড় যুলুম
আমরা আমাদের সন্তানদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় যুলুম যেটা করছি তা হচ্ছে আমরা ভুলে গেছি যে আমাদের সন্তানদের দু'টি জিনিস (১) দেহ ও (২) আত্মা নিয়েই তাদের গোটা অস্তিত্ব। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে তাদের দেহের প্রতি এতো বেশী যত্ন নেয়া হয়েছে যে আত্মার দিকে নজরই দেয়া হয়নি। যার কারণে দেহের অত্যধিক যত্ন নিয়ে আধ্যাত্মিকতার চরম অবজ্ঞা করে মন ও আত্মাকে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে।
📄 সন্তানকে অভিশাপ না দেয়া
মা তার সন্তানকে অবর্ণনীয় কষ্টে গর্ভেধারণ করেন। অমানুষিক কষ্টে পৃথিবীর আলো-বাতাসে আনেন। তারপর নিজের ভালবাসা আর ত্যাগের সবটুকু উজাড় করে অসহায় একটি শিশুকে যথাক্রমে সুস্থ, সবল, সজ্ঞান ও স্বাবলম্বী করে তোলেন। সন্তান মানুষ করতে গিয়ে মা-বাবাকে যে কতটুকু কষ্ট সহ্য করতে হয় তা শুধু মা-বাবারাই জানেন। বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতে এ কষ্ট আরও বেশি। এখানে রোজ দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে লড়াই করে মানুষকে টিকে থাকতে হয়।
অভাবের কারণে একজন নবীন মাকেও একহাতে সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব আর অপরহাতে বুকের ধন সন্তানটিকে আগলে রাখতে হয়। অনেক মা আছেন যারা সময়মত বাচ্চার খাবারটিও যোগাতে পারেন না রুচিমত। বিশেষত যেসব বাচ্চা জন্মের পর মায়ের বুকের দুধ পায় না। দরিদ্র পরিবারে এসব শিশুকে যে কত কষ্টে মা জননী বড় করে তোলেন তা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। এ সময় মায়েদের অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার প্রয়োজন হয়।
অথচ অনেক মা'কে এ সময় ধৈর্যহারাও হতে দেখা যায়। অনেক মা সন্তানের উপর বিরক্ত হয়ে তাকে অবলীলায় অভিশাপ দিয়ে বসেন। স্নেহময়ী জননী হয়তো তার জীবনের বিনিময়ে হলেও সন্তানের যে কোনো অনিষ্ট রোধ করতে চাইবেন। কিন্তু তিনিই আবার রাগের মাথায় অবচেতনে আদরের সন্তানটির অনিষ্ট কামনা করে বসেন। প্রায়ই দেখা যায় সন্তানদের দুষ্টুমিতে অতিষ্ট হয়ে কোন কোন মা সরাসরি সন্তানের নানা রকম অনিষ্ট কামনা করে বসেন। যেমনঃ
• তুই মরিস না কেন, তুই মরলে ফকিরকে একবেলা ভরপেট খাওয়াতাম!
• আল্লাহ, আমি আর পারিনা, এর জ্বালা থেকে আমাকে নিস্তার দাও!
• তুই ধ্বংস হ!
• তুই জাহান্নামে যা!
• তুই যদি এরকম আবার করিস তাহলে আমার মরা মুখ দেখবি!
এ জাতীয় বাক্য আমরা অহরহই শুনতে পাই। গর্ভধারিণী মা কখনোই তার সন্তানের অমঙ্গল কামনা করেন না। কিন্তু অসচেতনভাবে কামনা করা দুর্ঘটনাও কখনো সত্য হয়ে দেখা দিতে পারে। তাই এ সময় মাকে অনেক বেশি ত্যাগ ও ধৈর্যের পরাকাষ্ঠা দেখাতে হয়। ইসলাম কখনো কারো বিরুদ্ধে অভিশাপ দেয়া বা বদদু'আ করাকে সমর্থন করে না। আপন সন্তানকে তো দূরের কথা জীবজন্তু এমনকি জড় পদার্থকে অভিশাপ দেয়াও সমর্থন করে না। জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
বাতনে বুওয়াত যুদ্ধের সফরে রসূলুল্লাহ -এর সঙ্গে পথ চলছিলাম। তিনি মাজদী ইবন 'আমর জুহানীকে খুঁজছিলেন। পানি বহনকারী উটগুলোর পেছনে আমাদের মধ্য থেকে পাঁচজন, ছয়জন ও সাতজন করে পথ চলছিল। উকবা নামক এক আনসারী ব্যক্তি তাঁর উটের পাশ দিয়ে চক্কর দিল এবং তাকে থামাল। তারপর তার পিঠে উঠে আবার তাকে চলতে নির্দেশ দিল। উটটি তখন একেবারে নিশ্চল হয়ে গেল। তিনি তখন বললেন ধুত্তুরি। তোর উপর আল্লাহর অভিশাপ। এ শুনে রসূলুল্লাহ বললেন, নিজের উটকে অভিশাপদাতা এই ব্যক্তিটি কে? তিনি বললেন, আমি হে আল্লাহর রসূল। তিনি (রসূলুল্লাহ ) বললেন, 'তুমি এর পিঠ থেকে নামো। তুমি আমাদের কোনো অভিশপ্তের সঙ্গী করো না। তোমরা নিজেদের বিরুদ্ধে, তোমাদের সন্তান-সন্ততির এবং তোমাদের সম্পদের বিরুদ্ধে দু'আ করো না। তোমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন মুহূর্তের জ্ঞানপ্রাপ্ত নও, যখন যা কিছুই চাওয়া হয় তিনি তোমাদের তা দিয়ে দেবেন।' (সহীহ মুসলিম)
হাদীসের ব্যাখ্যায় মোল্লা আলী কারী রহ. বলেন, অর্থাৎ তোমরা কোনো মুহূর্তেই নিজের বিরুদ্ধে, নিজের সন্তান বা সম্পদের বিরুদ্ধে বদদু'আ করো না। কারণ, হতে পারে যে সময় তুমি দু'আ করছো, তা দিনের মধ্যে ওই সময় যখন যা-ই দু'আ করা হোক না কেন তা কবুল করা হয়। তোমরা তো এ সময় সম্পর্কে আল্লাহর পক্ষ থেকে জ্ঞান প্রাপ্ত নও। (মুবারকপুরী, মিরআতুল মাফাতীহ)
'হাদীসটি রাগের মাথায় মানুষের তার পরিবার ও সম্পদের বিরুদ্ধে দু'আ করার নিষিদ্ধতা প্রমাণ করে। হাদীসটিতে এর কারণও তুলে ধরা হয়েছে। আর তা হলো, দু'আ কবুলের কিছু বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে এবং তা ঠিক ঐ মুহূর্তে পড়ে যেতে পারে। ফলে সেই মুহূর্তে মানুষের সবই কবুল হয়ে যায় চাই তা ভালো হোক বা মন্দ হোক, যা সে তার পরিবার বা সম্পদের ক্ষেত্রে প্রত্যাশা করে না।' (আবদুল মুহসিন, শারহু সুনান আবী দাউদ)
নিজের সন্তানের বিরুদ্ধে দু'আ করার অর্থ তো নিজেই নিজেকে হত্যার তথা ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া। আর এ সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'আর তোমরা নিজ হাতে নিজদেরকে ধ্বংস নিক্ষেপ করো না।' (সূরা বাকারা ২: ১৯৫)
অতএব প্রতিটি মাকে ভেবে দেখতে হবে, আমার রাগের মাথায় উচ্চারণ করা বাক্য যদি সত্যে পরিণত হয় তাহলে কেমন লাগবে? আমি কি তা সহ্য করতে পারব? এ জন্য রাগের মাথায়ও কখনো সন্তানের অমঙ্গল কামনা করা যাবে না। প্রসঙ্গত বলা দরকার যে শুধু মায়েদেরই নয়, আমাদের সবারই উচিত নিজের, নিজের সন্তান ও সম্পদের বিরুদ্ধে বদদু'আ করা থেকে সংযত হওয়া। রাগের সময় সংযম ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দেয়া।