📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 সন্তানদের প্রতি করণীয়

📄 সন্তানদের প্রতি করণীয়


সন্তান-সন্ততি আল্লাহর পক্ষ হতে আমানত। এ আমানতের খিয়ানত করা যাবে না। সকল খিয়ানতকারীর বিরুদ্ধে ইসলামে কঠোর হুঁশিয়ারী রয়েছে।

খুব ছোট অবস্থা হতে সন্তানদের প্রতি কর্তব্য পালনে সচেষ্ট হতে হবে। তাদের জাগতিক উন্নতির পাশাপাশি নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্যেও আমি দায়িত্বশীল। কেবল ভাল স্কুলে ভর্তির স্বপ্ন দেখবো আর ভাল রেজাল্ট করার জন্য এ আমানত আমাকে দেয়া হয়নি। আমার উপর আমার সন্তানের অধিকারের মধ্যে তার নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির বিষয়টিও সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি সন্তানের ভুল শিক্ষার জন্য মা-বাবার দায়-দায়িত্ব এড়ানোর কোন উপায় নেই।

একজন বাবা বা মা তার সন্তানকে যে মূল্যবোধে বড় করেন সন্তান সেভাবেই গড়ে উঠে। সন্তানের মানসিকতা, পছন্দ, অপছন্দ, ত্যাগের শিক্ষা, অন্যদের প্রতি মমত্ববোধ, সততা, আল্লাহকে চেনা, পরকালের ধারণা ইত্যাদি সকল ব্যাপারে মা-বাবার করণীয় অবশ্যম্ভাবী। এ থেকে তাদের মুক্তি নেই। সম্পূর্ণ অসহায় একটি শিশুকে এর স্রষ্টা এমন দু'জন মানব-মানবীর নিকট আমানত হিসেবে পাঠান যারা সামর্থবান, যাদের সহায়-সম্বল দেয়া হয়েছে, যাদের বিবেক-বুদ্ধি দেয়া হয়েছে, যাদের ভালমন্দের জ্ঞান আছে। শিশু ভূমিষ্ট হবার পর তার সকল দায়-দায়িত্ব মা-বাবার উপর বর্তায়। এবার চিন্তা করি আমার এ শিশুকে কী শিক্ষা দেয়া উচিত? কোন ভাবাদর্শে আমি তাকে গড়ে তুলবো? এ শিশুর জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি হবে? তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কি হবে? কোন মৌলিক উপাদান দিয়ে তার চিন্তা-চেতনাকে গড়ে তুলবো?

আমি যেখানেই থাকি না কেন ইসলামী মূল্যবোধ আজকাল সর্বত্রই অনুপস্থিত। সকলে কেবল একটি মূল্যবোধে উজ্জীবিত, সেটি হলো কৃত্রিম Status-এর মূল্যবোধ। ঢাকা শহর বলি আর গ্রাম-গঞ্জ বলি মৌলিক বোধ আজ সবখানেই এক এবং একাকার হয়ে গেছে। সুতরাং আমি কোথায় আছি তাতে তেমন কোন কিছু যায় আসে না।

সর্বপ্রথম জেনে নেয়া উচিত যে, আমার সন্তান একটি স্বতন্ত্র সত্তা। বড় হয়ে সে তার নিজের হিসাব নিজে দেবে। মৃত্যুর পর শেষ বিচারের দিন আমাদের পারস্পরিক বন্ধন কোন ইতিবাচক কাজে আসবে না বরং নেতিবাচক কাজে আসার সম্ভাবনা বেশী। অর্থাৎ যে সন্তানকে আল্লাহর হুকুম বিরোধী কাজকর্মে নিয়োজিত করেছি সে সন্তানই আমার বিরুদ্ধে কথা বলবে। আখিরাতের আদালতে আমি স্তম্ভিত হয়ে যাবো, দিশা হারিয়ে ফেলবো যখন দেখবো আমাদেরই প্রিয় সন্তান আমাদের অন্যায় কাজগুলি প্রমাণসহ দেখিয়ে দিয়ে আল্লাহর নিকট বিহিতের ফরিয়াদ করছে। আল্লাহ তাঁর কুরআনে জানাচ্ছেন:
“সর্বশেষে যখন সে কান-বধিরকারী ধ্বনি উচ্চারিত হবে (অর্থাৎ কিয়ামত হাজির হবে), সে দিন মানুষ নিজের ভাই, নিজের মা ও বাবা এবং স্ত্রী ও সন্তানাদি হতে পালাবে। তাদের মধ্যে প্রত্যেক ব্যক্তির উপর সেদিন এমন সময় এসে পড়বে যে, নিজের ছাড়া আর কারো প্রতি লক্ষ্য করার মত অবস্থা থাকতে না।” (সূরা আবাসা : ৩৩-৩৭)

উত্তম উপদেশ প্রদান
সন্তানের জীবদ্দশায় সৎচরিত্র গঠন, আদর্শ শিক্ষা অর্জন, দ্বীনী হুকুম-আহকাম ভিত্তিক অভ্যাস গঠনের লক্ষ্যে উত্তম নসীহত প্রাপ্তি সন্তানের অধিকার। আসলে এমন অধিকার জগতের প্রত্যেক মা-বাবাই আদায় করতে চেষ্টা করেন।

অনেক সময় সন্তানরা মা-বাবার আদেশ নিষেধ ভুলে গেলে বা পালন করতে দেরী করলে মা-বাবারা রাগ করেন, নতুন করে জানতে চাইলে বলেন- এখন আর বলতে পারব না। এত বলতে হবে কেন? এখন বয়স হয়েছে না, বড় হয়েছে না, নিজে বুঝে না অথবা বকা দিয়ে বলে বেয়াদব, বদমায়েশ, অসভ্য, যা এখান থেকে বেরিয়ে যা, আমার চোখের সামনে থেকে যা, আর আসবি না, তুই মর, জান্নামে যা ইত্যাদি। এখানে এ কথাগুলো পবিত্র কুরআন এর একটি দৃষ্টান্ত থেকে উলেখ করা যাক:

কুরআনে আল্লাহ সলাত কায়েম করার কথা ৮০ বারেরও বেশী বলেছেন। একবার দু'বার নয়। যদি আল্লাহ একবার দু'বার বলে রাগ করতেন, আর না বলতেন বা আমাদের মত বকাবকি করতেন তাহলে না হয় ভাবতাম আমাদের নীতি ঠিক আছে; কিন্তু আল্লাহ তো বলেছেন অনেক বার। তবু রাগ করেননি। তারপরও যখন আমরা ঠিকমত সলাত আদায় করি না তবুও তো তিনি বকা দেন না, এ দুনিয়া থেকে বের হয়ে যেতে তো বলেন না, আলো-বাতাস থেকে আমাদেরকে এক সেকেন্ডের জন্যও বঞ্চিত করেন না।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 উত্তম ব্যবহার শিক্ষা দান

📄 উত্তম ব্যবহার শিক্ষা দান


রসূল বলেছেন: কোন বাবা তার সন্তানদের উত্তম আচার-ব্যবহারের চেয়ে অধিক ভাল কোন জিনিস উপহার দিতে পারে না। (তিরমিযী)

সন্তানদেরকে উত্তম আচার-ব্যবহার শিক্ষাদান একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেমন: অনেক ছেলেমেয়েরাই ফোন রিসিভ করে সালাম দেয় না। মা-বাবার বন্ধুদের সাথে ভদ্রভাবে কথা বলে না। মা-বাবা বা বড় ভাই-বোনের সাথে ঝগড়া বা তর্ক করে, রুঢ় ভাবে কথা বলে ইত্যাদি ইত্যাদি। আমরা যেন মনে না করি যে তারা আদব-কায়দা ক্লাসের বই পড়ে শিখবে বা স্কুল টিচাররা শেখাবেন। মনে রাখা উচিত এখনকার অধিকাংশ স্কুলগুলোতে শিক্ষার এমন কোন ব্যবস্থা নেই যে যেখানে আদব কায়দা শেখানো হয়। বরং আজকাল টিভি দেখে সন্তানরা এমন আচরণ শিখছে যা আমাদের ইসলামিক কালচারের সম্পূর্ণ বিপরীত। তাই আমার সন্তানকে আদব-কায়দা আমাকেই সুন্দরভাবে শিক্ষা দিতে হবে। বাস্তবে দেখা গেছে যে অনেক পরিবার ইসলামিক মাইন্ডের কিন্তু সন্তানেরা আদব-কায়দা জানে না কারণ তাদের সেটা শেখানো হয়নি। আমাদের প্রিয় নাবী বলেছেন: কারো সাথে হাসি মুখে কথা বলাও একটা সদাকা।

একটি সুন্দর প্ল্যান করে বুদ্ধিমত্তা, অধ্যবসায় ও ধৈর্যের সাথে শিশুদেরকে শিষ্টাচার শিক্ষা দিতে হবে। খানা-পিনা, উঠা-বসা, ঘুম ও জাগরণের আদব শিক্ষা দিতে হবে। শিক্ষা ও শিক্ষকের প্রতি আদব, মসজিদ-স্কুলের আদবের কথা তাদের বলতে হবে। পাক-পবিত্রতার আদব, স্বাস্থ্য ও পবিত্রতার আদব, চলাফেরা এবং সাথী-সঙ্গীদের সাথে উঠা-বসার আদব, গৃহের এবং নিজের জিনিসসমূহকে সুন্দর ও সুশৃংখলভাবে ব্যবহারের নিয়ম শিক্ষা দিতে হবে এবং একটি সভ্য ও পবিত্র জীবন পরিচালনার জন্য অব্যাহতভাবে আমাকে তার অভিভাবকত্ব করতে হবে। একবার শুধু কোনো ভালো জিনিসের প্রতি দৃষ্টি আর্কষণই যথেষ্ট নয় বরং প্রশিক্ষণের দাবী হলো যে, আমি সে ব্যাপারে অব্যাহতভাবে দৃষ্টি রাখবো এবং বারবার ভুল সত্ত্বেও বিরক্ত হবো না। ধৈর্য ও সবরের সাথে এবং অন্তর দিয়ে তাদেরকে শুধরে দিতে থাকবো এবং সামান্যতম ভুলকেও তুচ্ছ মনে করবো না।

দুষ্টামী আর বেয়াদবী এক নয়
শিশুরা দুষ্টামী করবে এটিই স্বাভাবিক অর্থাৎ প্রাকৃতিক। তারা দৌড়াদৌড়ি করবে, ছুটাছুটি করবে, খেলবে, লাফাবে, বল ছুড়ে মারবে, হৈচৈ করবে, দেয়ালে দাগাবে, ফ্লোর নষ্ট করবে, পানি দিয়ে খেলবে, রং দিয়ে খেলবে, কিচেনের হাড়ি-পতিল এনে খেলবে, মা-বাবার জামা-কাপড় পড়ে খেলবে, মা- বাবা সলাতে সিজদায় গেলে তাদের ঘাড়ের উপরে উঠবে ইত্যাদি। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কোন কোন শিশু এই বিষয়গুলোতে বেশী একটিভ আবার কোন কোন শিশু কম একটিভ। শিশুদের এই কাজগুলোতে বাধা দেয়া ঠিক না, এতে তার প্রতিভা প্রকাশে ব্যাঘাত ঘটে। যে সকল শিশু এই কাজগুলোতে বেশী একটিভ তাকে ভুল বুঝে বেয়াদব মনে করা যাবে না, তাকে চর-থাপ্পর দেয়া যাবে না। কারণ বেয়াদবী আর দুষ্টামী এক জিনিস নয়।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 সন্তানদেরকে ঘরের কাজকর্মে অভ্যস্ত করা

📄 সন্তানদেরকে ঘরের কাজকর্মে অভ্যস্ত করা


আমরা আমাদের সন্তানদেরকে খুবই ভালবাসি। এই ভালবাসার নমুনাস্বরূপ তাদেরকে অনেক সময় অকর্মণ্য করে ফেলি। অনেক পরিবারে ছোটবেলা হতে সন্তানদেরকে নিজ হাতে এক গ্লাস পানি ঢেলেও খেতে অভ্যস্ত করেন না। মেয়ে হাই-স্কুলে বা ইউনিভার্সিটিতে পড়ে কিন্তু একটি ডিমও ভেজে খেতে পারে না। সন্তানদের সব ধরনের কাজ করার অভ্যাস এবং অভিজ্ঞতা থাকা দরকার। যেন বলতে না হয়, "আমার বাচ্চারা তো কিছু পারে না!" এটা ঠিক না, তাদেরকে চেষ্টা করতে দিতে হবে, প্রথমে ভুল করবে, কিছু জিনিস নষ্ট করবে, খুব বেশী সুন্দর হয়ত হবে না- তারপর একসময় ঠিকই পারবে ইনশাআল্লাহ। আসুন এ বিষয়ে সতর্ক হই, সন্তানদেরকে ছোট হতে ঘরের কাজে ট্রেইনআপ করি। শিক্ষণীয় হিসেবে দু'টি বাস্তব উদাহরণ দেয়া যাক।

চিত্র এক: ২০০৭ সালে আমরা সপরিবারে লন্ডন গিয়েছিলাম ইষ্ট লন্ডন ইসলামিক সেন্টার পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে। ইষ্ট লন্ডন ইসলামিক সেন্টারের প্রেসিডেন্টের বাসায় আমাদের দুপুরে লাঞ্চের দাওয়াত ছিল। যা হোক আমরা প্রেসিডেন্ট সাহেবের বাসায় যে দৃশ্য দেখলাম তা হলো, প্রেসিডেন্ট সাহেবের হাই স্কুল পড়ুয়া ছেলেটা রান্না ঘরে হাড়ি-পাতিল-প্লেট-গ্লাস ধুচ্ছে, ঘর ঝাড়ু দিচ্ছে এবং বাথরুম পরিষ্কার করছে।

চিত্র দুই: NICAS Canada-র এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টরের বড় ছেলে টরন্টো ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। আমাদের ক্যানাডিয়ান লাইফে এতো ভদ্র ছেলে আমরা কখনও দেখিনি। কী তার অমায়িক ব্যবহার! এছাড়াও সে অসুস্থ বাবার মাথায় পানি ঢালা থেকে শুরু করে মার সাথে ঘরের অন্যান্য কাজকর্মও করে থাকে।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 ভারসাম্যপূর্ণ অভ্যাস তৈরী করা

📄 ভারসাম্যপূর্ণ অভ্যাস তৈরী করা


মা-বাবারা সন্তানদের প্রায় সকল সহনীয় দাবী দাওয়া মেনে নিতে চান। এতে আপাতঃ দৃষ্টিতে কোন ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না। তবে কিছু কিছু বিষয়ে সতর্ক ব্যবস্থা ও ভারসাম্যপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ সন্তানদের ভবিষ্যৎ জীবনকে সহজ করে তুলবে। আমার সন্তান যদি চা পানে অভ্যস্ত হয় তাতে কোন দোষ নেই, কিন্তু চা পান না করলে তার স্কুলের হোমওয়ার্ক হবে না বা কফি না খেলে তার পড়া হয় না- এ জাতীয় অভ্যাসকে যতদূর সম্ভব এড়িয়ে চলা নিরাপদ। ঠিক তদ্রূপ মাংস ছাড়া আর কিছু তার পছন্দ নয়, বা একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের কাপড় ছাড়া সে অন্য কিছু ব্যবহারে অভ্যস্ত নয়, ইত্যাদি কোন কিছুতে যেন তার দিগন্ত সীমিত হয়ে না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখা দরকার। এতে আমাদের সন্তান ফ্লেক্সিবল হয়ে গড়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ।

যদি সন্তানের ব্যক্তিত্বকে এভাবে গড়ে তোলা যায় তা হলে সে পৃথিবীর যে কোন প্রান্তেই নিজেকে সামলিয়ে চলতে পারবে। অনেক ছেলেমেয়েদেরকে দেখা যায় মাছ খায় না কাঁটার ভয়ে, শাক খান না কারণ ছোটবেলা হতে শাক খাওয়ায় অনভ্যস্ত। এধরনের অভ্যাস যেন না হয় সেদিকে বাবা-মায়েদের খেয়াল রাখা প্রয়োজন। সন্তানদেকে তার নিজের ফর্ম নিজে ফিলাপ করতে দেয়া উচিত। আমার যে কটি গাড়ীই থাক না কেন সন্তানদের মাঝে মধ্যে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে চলতে ফিরতে অভ্যস্ত করা উচিত। যাতে প্রয়োজনে তারা বিনাদ্বিধায় যেখানে সেখানে যাতায়াত করতে পারে। তবে যদি সন্তানের নিরাপত্তা হারাবার আশঙ্কা থাকে তাহলে ভিন্ন কথা। এ উদাহরণগুলো দেয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো আমার সন্তান যেন বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে না উঠে।

আমরা মা-বাবারা বাচ্চাদের প্রয়োজনীয় অপ্রয়োজনীয় সব জিনিসই দেই। কিন্তু একটা বাচ্চা কিছু চাইলে তার সাথে আলাপ করা দরকার সে এটা কেন চায়, এটা দিয়ে সে কি করবে, এর উপকারীতা ও অপকারীতাগুলো কি কি? জিনিসটি আদৌ তার প্রয়োজন আছে কি'না এবং এই টাকায় সে আর কি করতে পারে? এতে করে ওরা স্বার্থপর হবার পরিবর্তে needs এবং wants এর মধ্যে তফাত করতে শিখবে, অন্যের প্রয়োজনকে নিজের প্রয়োজনের উপর অগ্রাধিকার দিতে শিখবে।

সবচেয়ে বড় যুলুম
আমরা আমাদের সন্তানদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় যুলুম যেটা করছি তা হচ্ছে আমরা ভুলে গেছি যে আমাদের সন্তানদের দু'টি জিনিস (১) দেহ ও (২) আত্মা নিয়েই তাদের গোটা অস্তিত্ব। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে তাদের দেহের প্রতি এতো বেশী যত্ন নেয়া হয়েছে যে আত্মার দিকে নজরই দেয়া হয়নি। যার কারণে দেহের অত্যধিক যত্ন নিয়ে আধ্যাত্মিকতার চরম অবজ্ঞা করে মন ও আত্মাকে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px