📄 মেয়ে হলে অসন্তুষ্ট হওয়া ঠিক না
আমাদের সমাজে প্রকৃত শিক্ষার অভাবে অনেক মা-বাবারাই মেয়ে সন্তান হলে অসন্তষ্ট হয়। বিশেষ করে শাশুড়ীরা তো আরো বেশী। শিশুর মা সাধারণত ছেলে বা মেয়ে যাই হোক তাতেই খুশি কিন্তু শশুর বাড়ীর কথা শুনতে হবে বা স্বামীর কথা শুনতে হবে এই ভয়ে মেয়ে সন্তান হলে অখুশি হয়। মা-বাবা আর শাশুড়ী যেই হোক না কেন, মেয়ে সন্তান দেখে বিরক্ত বা অসন্তষ্ট হলে আল্লাহ নারাজ হবেন। এবং ইসলামের দৃষ্টিতে এই ধরনের মনোভাব খুবই নিকৃষ্টতম। ছেলে বা মেয়ে মহান আল্লাহর কাছে দুই-ই সমান, দু’জনই আল্লাহর বান্দা, কাউকে ছোট করে দেখা যাবে না।
আমরা সকলেই জানি যে, যদি কারো ৪টি (অপর বর্ণনায় ৩টি ও ২টি) কন্যা সন্তান থাকে এবং তাদেরকে সঠিকভাগে গড়ে তোলে তাহলে তিনি নাবী ﷺ এর সাথে জান্নাতে পাশাপাশি থাকবেন।
ছেলে হলে গর্ব বোধ করা ঠিক না
মেয়ে শিশুর ঠিক উল্টো চিত্রও আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে। যাদের ছেলে সন্তান হয় তারা গর্ব বোধ করে যে আমি ছেলের বাবা বা ছেলের মা এবং শাশুড়ী তো আরো এক ডিগ্রি বেশী। যার ছেলের পর ছেলে অর্থাৎ কয়েকটা ছেলে হয় তারাও এই ধরনের মনোভাব পোষণ করেন। যাহোক, এই ধরনের গর্ব বোধ করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষেধ। মেয়ে সন্তান যিনি দেন ছেলে সন্তানও তিনিই দেন। তাই আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে কোন প্রকার দম্ভ বা আফসোস করা যাবে না। মহান আল্লাহ যা দিয়েছেন তার জন্য শুকরিয়া আদায় করতে হবে।
📄 প্রতিবন্ধী (Mental Disability) সন্তান
আল্লাহর পরীক্ষা : প্রতিবন্ধী সন্তান আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে একটি বড় পরীক্ষা। এই পরীক্ষা যে কত বড় পরীক্ষা তা বলে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। কোন কোন বাবা-মা মনে করেন যে তাদের পূর্বের কোন পাপের ফল হয়তো এটি। আসলে ইসলামের দৃষ্টিতে এটি মোটেও ঠিক নয় এবং এরকম মনে করার কোন কারণও নেই। কোন কোন বাবা-মাকে আল্লাহ সুস্থ সন্তান দিয়ে পরীক্ষা করেন আবার কোন কোন বাবা-মাকে প্রতিবন্ধী সন্তান দিয়ে পরীক্ষা করেন আবার কোন কোন বাবা-মাকে নিঃসন্তান করে পরীক্ষা করেন। এখানে পরীক্ষাটা হচ্ছে ধৈর্যের। এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে ধৈর্যহারা না হয়ে বরং কে কত মহান আল্লাহ তা'আলার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেন সেটিই প্রধান বিষয়। সন্তান প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে কখনো মহান আল্লাহ তা'আলার উপর নারাজ হওয়া যাবে না, বিরক্ত হওয়া যাবে না। এই পরীক্ষার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা হয়তো ঐ পরিবারের জন্য অন্য কোনদিক দিয়ে মঙ্গল রেখেছেন।
ধৈর্যধারণ : যদিও ধৈর্যধারণের কথা মুখে বলা সহজ কিন্তু বাস্তবে অনেক কঠিন। তারপরও সমাধান একটিই আর তা হচ্ছে ধৈর্যধারণ করা এবং যিনি সন্তান দিয়েছেন তার কাছে সাহায্য চাওয়া। তিনি যেন সব কিছু সহজ করে দেন, কবুল করেন। অনেক সময় প্রতিবন্ধী সন্তানের পিতা-মাতারা একপ্রকার হিনমন্যতায় ভুগেন। তারা হয়তো নিজেদেরকে ছোট মনে করেন, নিজ সন্তানকে অন্যের সামনে প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করেন। এটি সত্যি, কিন্তু সকল সন্তানই মহান আল্লাহ তা'আলার দান এবং আমানত। তাই এই বিশেষ আমানত রক্ষার জন্য মনোবল বাড়াতে হবে, সব সময় মনে করতে হবে আল্লাহ আমাকে পরীক্ষা করে আরো ভাল কিছু দিবেন, এই পৃথিবীতে না দিলেও আখিরাতে অবশ্যই দিবেন বা উভয় স্থানেই দিবেন। প্রতিবন্ধী বাবা-মাকে বিশেষ ধৈর্যের সাথে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
বিশেষ অনুরোধ: সুস্থ সন্তানের বাবা-মায়েরা যেন কখনোই মনে না করেন যে এটি ঐ পরিবারের পাপের প্রাশ্চিত্য। আর আমরা পূন্যবান লোক তাই আমাদের সব সন্তান সুস্থ-সবল, আমাদের কোন দুঃখ নেই। এই ধরণের ধারণা করা মোটেও ঠিক নয়। প্রতিবন্ধী সন্তান যেমন উক্ত মা-বাবার জন্য পরীক্ষা, তেমনি একজন প্রতিবন্ধী মানুষকে আমি কী দৃষ্টিতে দেখছি সেটাও আমার জন্য পরীক্ষা। প্রতিবন্ধী সন্তানের বাবা-মায়ের সাথে কোন প্রকার অস্বাভাবিক আচরণ করা যাবে না যাতে তারা মনে বিন্দু পরিমাণ কষ্ট পান। কোন কোন প্রতিবন্ধী সন্তান হয়তো সারাদিন নানা রকম ঝামেলার মধ্য দিয়ে বাবা-মাকে কষ্ট দিয়ে থাকে। এজন্য তার উপর কখনো বিরক্ত হওয়া ঠিক নয়, তাকে ঝামেলা মনে করা ঠিক নয়, তার গায়ে হাত তোলা ঠিক নয়, কারণ সে তো অবুঝ। বরং তার প্রতি আরো বেশী সহানুভতি বাড়ানো উচিত। এই বইয়ের অন্যত্র বলা হয়েছে মনে করিয়ে দিচ্ছি যে, একাধিক সন্তানদের মাঝে তারতম্য করা যাবে না। অনেক পরিবারে দেখা যায় প্রতিবন্ধী সন্তানের পোশাক, খাবার, থাকার জায়গা অবহেলা করে কিন্তু অপ্রতিবন্ধী সন্তানদের বেলায় তা করে না। অথচ নাবী ﷺ বলেছেন: আল্লাহকে ভয় কর, আর তোমাদের সন্তানদের বেলায় ইনসাফ কর।
কিছু পরামর্শ: অনেক বাবা-মা প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে সাধারণত কোথাও বেড়াতে যান না, বেশীরভাগ সময় তাকে নিয়ে বাসায় থাকেন। এটি ঠিক নয়। তাকে নিয়মিত বাইরে নেয়া উচিত, অন্যান্য ছেলেমেয়েদের সাথে খেলা-ধুলা করতে দেয়া উচিত। প্রতিবন্ধীদের যে বিশেষ স্কুল রয়েছে সেখানে তাকে ভর্তি করে দেয়া উচিত। এই স্কুলগুলো বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং বিশেষ আধুনিক শিক্ষা সরঞ্জামে সমৃদ্ধ। সেখান থেকে তারা অনেক কিছু শিখবে, এতে তার শারীরিক ও মানসিক ডেভেলপমেন্ট হবে, যা হয়তো বাসায় কিছুতেই সম্ভব নয়। যাদের সন্তান সুস্থ এবং কোন প্রতিবেশীর বা কোন আত্মীয়ের সন্তান যদি প্রতিবন্ধী হয় তাকে অবহেলা না করে নিজ সন্তানদেরকে তাদের সাথে খেলা-ধুলা করার সুযোগ করে দেয়া উচিত। মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে সহযোগিতা করুন।
📄 সন্তানদের প্রতি করণীয়
সন্তান-সন্ততি আল্লাহর পক্ষ হতে আমানত। এ আমানতের খিয়ানত করা যাবে না। সকল খিয়ানতকারীর বিরুদ্ধে ইসলামে কঠোর হুঁশিয়ারী রয়েছে।
খুব ছোট অবস্থা হতে সন্তানদের প্রতি কর্তব্য পালনে সচেষ্ট হতে হবে। তাদের জাগতিক উন্নতির পাশাপাশি নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্যেও আমি দায়িত্বশীল। কেবল ভাল স্কুলে ভর্তির স্বপ্ন দেখবো আর ভাল রেজাল্ট করার জন্য এ আমানত আমাকে দেয়া হয়নি। আমার উপর আমার সন্তানের অধিকারের মধ্যে তার নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির বিষয়টিও সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি সন্তানের ভুল শিক্ষার জন্য মা-বাবার দায়-দায়িত্ব এড়ানোর কোন উপায় নেই।
একজন বাবা বা মা তার সন্তানকে যে মূল্যবোধে বড় করেন সন্তান সেভাবেই গড়ে উঠে। সন্তানের মানসিকতা, পছন্দ, অপছন্দ, ত্যাগের শিক্ষা, অন্যদের প্রতি মমত্ববোধ, সততা, আল্লাহকে চেনা, পরকালের ধারণা ইত্যাদি সকল ব্যাপারে মা-বাবার করণীয় অবশ্যম্ভাবী। এ থেকে তাদের মুক্তি নেই। সম্পূর্ণ অসহায় একটি শিশুকে এর স্রষ্টা এমন দু'জন মানব-মানবীর নিকট আমানত হিসেবে পাঠান যারা সামর্থবান, যাদের সহায়-সম্বল দেয়া হয়েছে, যাদের বিবেক-বুদ্ধি দেয়া হয়েছে, যাদের ভালমন্দের জ্ঞান আছে। শিশু ভূমিষ্ট হবার পর তার সকল দায়-দায়িত্ব মা-বাবার উপর বর্তায়। এবার চিন্তা করি আমার এ শিশুকে কী শিক্ষা দেয়া উচিত? কোন ভাবাদর্শে আমি তাকে গড়ে তুলবো? এ শিশুর জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি হবে? তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কি হবে? কোন মৌলিক উপাদান দিয়ে তার চিন্তা-চেতনাকে গড়ে তুলবো?
আমি যেখানেই থাকি না কেন ইসলামী মূল্যবোধ আজকাল সর্বত্রই অনুপস্থিত। সকলে কেবল একটি মূল্যবোধে উজ্জীবিত, সেটি হলো কৃত্রিম Status-এর মূল্যবোধ। ঢাকা শহর বলি আর গ্রাম-গঞ্জ বলি মৌলিক বোধ আজ সবখানেই এক এবং একাকার হয়ে গেছে। সুতরাং আমি কোথায় আছি তাতে তেমন কোন কিছু যায় আসে না।
সর্বপ্রথম জেনে নেয়া উচিত যে, আমার সন্তান একটি স্বতন্ত্র সত্তা। বড় হয়ে সে তার নিজের হিসাব নিজে দেবে। মৃত্যুর পর শেষ বিচারের দিন আমাদের পারস্পরিক বন্ধন কোন ইতিবাচক কাজে আসবে না বরং নেতিবাচক কাজে আসার সম্ভাবনা বেশী। অর্থাৎ যে সন্তানকে আল্লাহর হুকুম বিরোধী কাজকর্মে নিয়োজিত করেছি সে সন্তানই আমার বিরুদ্ধে কথা বলবে। আখিরাতের আদালতে আমি স্তম্ভিত হয়ে যাবো, দিশা হারিয়ে ফেলবো যখন দেখবো আমাদেরই প্রিয় সন্তান আমাদের অন্যায় কাজগুলি প্রমাণসহ দেখিয়ে দিয়ে আল্লাহর নিকট বিহিতের ফরিয়াদ করছে। আল্লাহ তাঁর কুরআনে জানাচ্ছেন:
“সর্বশেষে যখন সে কান-বধিরকারী ধ্বনি উচ্চারিত হবে (অর্থাৎ কিয়ামত হাজির হবে), সে দিন মানুষ নিজের ভাই, নিজের মা ও বাবা এবং স্ত্রী ও সন্তানাদি হতে পালাবে। তাদের মধ্যে প্রত্যেক ব্যক্তির উপর সেদিন এমন সময় এসে পড়বে যে, নিজের ছাড়া আর কারো প্রতি লক্ষ্য করার মত অবস্থা থাকতে না।” (সূরা আবাসা : ৩৩-৩৭)
উত্তম উপদেশ প্রদান
সন্তানের জীবদ্দশায় সৎচরিত্র গঠন, আদর্শ শিক্ষা অর্জন, দ্বীনী হুকুম-আহকাম ভিত্তিক অভ্যাস গঠনের লক্ষ্যে উত্তম নসীহত প্রাপ্তি সন্তানের অধিকার। আসলে এমন অধিকার জগতের প্রত্যেক মা-বাবাই আদায় করতে চেষ্টা করেন।
অনেক সময় সন্তানরা মা-বাবার আদেশ নিষেধ ভুলে গেলে বা পালন করতে দেরী করলে মা-বাবারা রাগ করেন, নতুন করে জানতে চাইলে বলেন- এখন আর বলতে পারব না। এত বলতে হবে কেন? এখন বয়স হয়েছে না, বড় হয়েছে না, নিজে বুঝে না অথবা বকা দিয়ে বলে বেয়াদব, বদমায়েশ, অসভ্য, যা এখান থেকে বেরিয়ে যা, আমার চোখের সামনে থেকে যা, আর আসবি না, তুই মর, জান্নামে যা ইত্যাদি। এখানে এ কথাগুলো পবিত্র কুরআন এর একটি দৃষ্টান্ত থেকে উলেখ করা যাক:
কুরআনে আল্লাহ সলাত কায়েম করার কথা ৮০ বারেরও বেশী বলেছেন। একবার দু'বার নয়। যদি আল্লাহ একবার দু'বার বলে রাগ করতেন, আর না বলতেন বা আমাদের মত বকাবকি করতেন তাহলে না হয় ভাবতাম আমাদের নীতি ঠিক আছে; কিন্তু আল্লাহ তো বলেছেন অনেক বার। তবু রাগ করেননি। তারপরও যখন আমরা ঠিকমত সলাত আদায় করি না তবুও তো তিনি বকা দেন না, এ দুনিয়া থেকে বের হয়ে যেতে তো বলেন না, আলো-বাতাস থেকে আমাদেরকে এক সেকেন্ডের জন্যও বঞ্চিত করেন না।
📄 উত্তম ব্যবহার শিক্ষা দান
রসূল বলেছেন: কোন বাবা তার সন্তানদের উত্তম আচার-ব্যবহারের চেয়ে অধিক ভাল কোন জিনিস উপহার দিতে পারে না। (তিরমিযী)
সন্তানদেরকে উত্তম আচার-ব্যবহার শিক্ষাদান একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেমন: অনেক ছেলেমেয়েরাই ফোন রিসিভ করে সালাম দেয় না। মা-বাবার বন্ধুদের সাথে ভদ্রভাবে কথা বলে না। মা-বাবা বা বড় ভাই-বোনের সাথে ঝগড়া বা তর্ক করে, রুঢ় ভাবে কথা বলে ইত্যাদি ইত্যাদি। আমরা যেন মনে না করি যে তারা আদব-কায়দা ক্লাসের বই পড়ে শিখবে বা স্কুল টিচাররা শেখাবেন। মনে রাখা উচিত এখনকার অধিকাংশ স্কুলগুলোতে শিক্ষার এমন কোন ব্যবস্থা নেই যে যেখানে আদব কায়দা শেখানো হয়। বরং আজকাল টিভি দেখে সন্তানরা এমন আচরণ শিখছে যা আমাদের ইসলামিক কালচারের সম্পূর্ণ বিপরীত। তাই আমার সন্তানকে আদব-কায়দা আমাকেই সুন্দরভাবে শিক্ষা দিতে হবে। বাস্তবে দেখা গেছে যে অনেক পরিবার ইসলামিক মাইন্ডের কিন্তু সন্তানেরা আদব-কায়দা জানে না কারণ তাদের সেটা শেখানো হয়নি। আমাদের প্রিয় নাবী বলেছেন: কারো সাথে হাসি মুখে কথা বলাও একটা সদাকা।
একটি সুন্দর প্ল্যান করে বুদ্ধিমত্তা, অধ্যবসায় ও ধৈর্যের সাথে শিশুদেরকে শিষ্টাচার শিক্ষা দিতে হবে। খানা-পিনা, উঠা-বসা, ঘুম ও জাগরণের আদব শিক্ষা দিতে হবে। শিক্ষা ও শিক্ষকের প্রতি আদব, মসজিদ-স্কুলের আদবের কথা তাদের বলতে হবে। পাক-পবিত্রতার আদব, স্বাস্থ্য ও পবিত্রতার আদব, চলাফেরা এবং সাথী-সঙ্গীদের সাথে উঠা-বসার আদব, গৃহের এবং নিজের জিনিসসমূহকে সুন্দর ও সুশৃংখলভাবে ব্যবহারের নিয়ম শিক্ষা দিতে হবে এবং একটি সভ্য ও পবিত্র জীবন পরিচালনার জন্য অব্যাহতভাবে আমাকে তার অভিভাবকত্ব করতে হবে। একবার শুধু কোনো ভালো জিনিসের প্রতি দৃষ্টি আর্কষণই যথেষ্ট নয় বরং প্রশিক্ষণের দাবী হলো যে, আমি সে ব্যাপারে অব্যাহতভাবে দৃষ্টি রাখবো এবং বারবার ভুল সত্ত্বেও বিরক্ত হবো না। ধৈর্য ও সবরের সাথে এবং অন্তর দিয়ে তাদেরকে শুধরে দিতে থাকবো এবং সামান্যতম ভুলকেও তুচ্ছ মনে করবো না।
দুষ্টামী আর বেয়াদবী এক নয়
শিশুরা দুষ্টামী করবে এটিই স্বাভাবিক অর্থাৎ প্রাকৃতিক। তারা দৌড়াদৌড়ি করবে, ছুটাছুটি করবে, খেলবে, লাফাবে, বল ছুড়ে মারবে, হৈচৈ করবে, দেয়ালে দাগাবে, ফ্লোর নষ্ট করবে, পানি দিয়ে খেলবে, রং দিয়ে খেলবে, কিচেনের হাড়ি-পতিল এনে খেলবে, মা-বাবার জামা-কাপড় পড়ে খেলবে, মা- বাবা সলাতে সিজদায় গেলে তাদের ঘাড়ের উপরে উঠবে ইত্যাদি। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কোন কোন শিশু এই বিষয়গুলোতে বেশী একটিভ আবার কোন কোন শিশু কম একটিভ। শিশুদের এই কাজগুলোতে বাধা দেয়া ঠিক না, এতে তার প্রতিভা প্রকাশে ব্যাঘাত ঘটে। যে সকল শিশু এই কাজগুলোতে বেশী একটিভ তাকে ভুল বুঝে বেয়াদব মনে করা যাবে না, তাকে চর-থাপ্পর দেয়া যাবে না। কারণ বেয়াদবী আর দুষ্টামী এক জিনিস নয়।