📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 কিছু পারিবারিক নিয়ম থাকা উচিত

📄 কিছু পারিবারিক নিয়ম থাকা উচিত


ভুক্তভোগী মা-বাবারা নিজেদের বিষয়গুলির ব্যাপারে যতটা আপোস করেন তার চাইতে বেশী আপোস করেন সন্তানদের বিষয়াদিতে। আর খারাপ কাহিনীর শুরু এখান হতে। প্রাত্যহিক জীবনের চাহিদা পূরণে আপোস, পারিবারিক মূল্যবোধ ধরে রাখার ক্ষেত্রে অবহেলা, সন্তানদের বন্ধুবান্ধব নির্বাচনে একেবারে লাগামহীন স্বাধীনতা দান, করণীয়সমূহের লিষ্টে ধর্মীয় শিক্ষাদানকে সবকিছুর পেছনে রাখা, মা-বাবাদের একান্ত নিজস্ব বিষয়গুলির প্রতি উদাসীন থাকা, সন্তানদের আলাদা সত্তার স্বীকৃতি না দেয়া, সন্তানদের অন্যায় আবদার মেনে নেয়া ইত্যাদি হলো পরিবার নামক দেহে ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ।

প্রত্যেকটি পরিবারের কিছু অলিখিত মূল্যবোধ বা ঐতিহ্য রয়েছে। পরিবারের কর্তাগণ যদি সে মূল্যবোধগুলির ব্যাপারে মনোযোগী হন তাহলেই একটা বড় ধরনের লক্ষ্য অর্জিত হয়ে যায়। যেমন কোন কোন পরিবারে এ নিয়ম রয়েছে যে স্কুল পড়ুয়া সন্তানগণ কোন অবস্থাতেই অনুমতি ছাড়া মাগরিবের পর ঘরের বাইরে থাকতে পারবে না। এটিও কম নয়। এ বিষয়টিও এমন যে আমেরিকার সরকার কোন কোন অঙ্গরাজ্যে কার্ফিউ জারী করে স্কুল পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের ঘরের ভেতর থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। আর এ সংক্রান্ত গবেষণায় ৫৩৪টি আমেরিকান শহরে সান্ধ্যকালীন কারফিউ সম্পর্কে জনতার যে মতামত পাওয়া গেছে তা এই : শতকরা ৯৭ ভাগ শহরবাসী বলেছেন কারফিউর ফলে শিশু অপরাধ অনেক কমেছে; ৯৬ ভাগ বলেছেন কারফিউর কারণে ফাঁকিবাজী কমেছে; ৮৮ ভাগ বলেছে কারফিউ মাস্তানি কমিয়েছে; কারফিউর ফলে ৫৬ ভাগ শহরে বড় ধরনের অপরাধ কমেছে। অতএব আমার পরিবারে যদি এ ধরনের কোন ঐতিহ্য থেকে থাকে তাহলে তা শিথিল যেন না করি। বরং আরো কড়াকড়িভাবে সন্তানদের এ নিয়ম পালনে উৎসাহিত করি। তারা যদি এ নিয়ম পালন করে তাহলে পুরস্কৃত করতে পারি।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 পারিবারিক সিটিং বা বৈঠক

📄 পারিবারিক সিটিং বা বৈঠক


পারিবারিক শিক্ষা একজন মানুষের ভিত তৈরী করে। এ শিক্ষা এত শক্তিশালী যা একজন ব্যক্তির সারাজীবনের জন্য দিক নির্দেশনার কাজ করে। সাপ্তাহিক বন্ধের দিন সকালে নাস্তার টেবিলে সম্ভব হলে দুই ঘন্টা সময় নিয়ে বসা উচিত। সাথে পরিবারের সকল সদস্য। স্ত্রী, সন্তান ও অন্য কেউ যদি থেকে থাকে। সকলকে নিয়ে সুন্দর আনন্দঘন পরিবেশে নাস্তা শুরু করা যেতে পারে। পারিবারিক বিষয় আলোচনা করা যেতে পারে। খোলামনে, আন্তরিকতার সাথে। পরস্পরকে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে কোন সমস্যা আছে কিনা। সন্তানদের একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা যেতে পারে।

এরপর কুরআনের তাফসীর নিয়ে বসা যেতে পারে। সূরা ফাতিহা দিয়ে শুরু। সূরা ফাতিহার সরল অর্থ সবাইকে শুনানোর পর এর তাফসীর শুরু করতে হবে। সকলকে প্রতিটি আয়াতের অর্থ ও এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা এক এক করে শুনানো যেতে পারে। জিজ্ঞেস করতে হবে কারো কোন কিছু যোগ করার আছে কিনা। সকলকেই বলার সুযোগ দিতে হবে। তারপর সূরা ফাতিহার শিক্ষা বাস্তব জীবনের আলোকে মিলানোর চেষ্টা করতে হবে। এ কাজটি প্রতি সপ্তাহে করতে হবে। একেক সপ্তাহে একেক সূরা নিয়ে আলোচনা হবে। পারিবারিক বৈঠকের উদ্দেশ্য থাকবে পরস্পর সম্পর্ক বৃদ্ধি ও আদর্শ পরিবার গঠন।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 বাসায় সন্তানদের জন্য লাইব্রেরী করে দেয়া

📄 বাসায় সন্তানদের জন্য লাইব্রেরী করে দেয়া


মুম্বাইতে ডা. জাকির নায়েক-এর একটি কোয়ালিটি সম্পন্ন ইসলামিক স্কুল আছে। ডা. জাকির নায়েক তার একটি প্রোগ্রামে বলেছিলেন যে, এই স্কুল থেকে তার চেয়েও আরো উন্নতমানের শতশত জাকির নায়েক বের হবে ইনশাআল্লাহ। এই স্কুলে সন্তান ভর্তি করার পূর্বশর্ত হচ্ছে "বাড়ি থেকে ডিশ এন্টেনার লাইন আগে কাটতে হবে”। সন্তানের চরিত্র গঠনে একটি ভারসাম্যপূর্ণ স্ট্রাটেজীর অংশ হিসেবে হলিউড, বলিউডের কুখাদ্যের বিপরীতে যে সামান্য কিছু নৈতিকতার উপকার আমরা পেতে পারি তার মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ হলো একটি “ফ্যামিলি লাইব্রেরী” প্রতিষ্ঠা। এছাড়া ইসলামিক টিভি চ্যানেলগুলোর মেম্বার হতে পারি। ইন্টারনেট থেকেও নিয়মিত ফ্রী Peace TV দেখতে পারি।

ছোটদের উপযোগী ইসলামিক ডিভিডি, ভিসিডি ইত্যাদি সংগ্রহ করতে পারি। আল-কুরআনের তাফসীর, সহীহ হাদিস গ্রন্থ, রসূল এর জীবনী, ইসলামী অর্থনীতি, ইসলামের ইতিহাস, ইসলামী সমাজ, চার খলিফার বিস্তারিত জীবনী, সাহাবীদের জীবনী, অন্যান্য নাবীদের জীবনী, Comparative religion, ইসলামী শিক্ষা ইত্যাদি বিষয়ের বই দিয়ে নিজ ঘরে একটি পারিবারিক লাইব্রেরী তৈরী করতে পারি। নিজে যেন পড়ি ও সন্তানদের পড়ার উৎসাহ প্রদান করি।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 সন্তান প্রতিপালনে মুসলিম ও অমুসলিম মায়ের পার্থক্য

📄 সন্তান প্রতিপালনে মুসলিম ও অমুসলিম মায়ের পার্থক্য


ইসলাম থেকে বঞ্চিত মা (অমুসলিম মা) তার সন্তান প্রতিপালন সম্পর্কে যা কিছু চিন্তা করে তা এ নশ্বর দুনিয়া পর্যন্তই সীমিত। মৃত্যুর সীমানা পার হয়ে তার দৃষ্টি অনন্ত জগত পর্যন্ত প্রসারিত হয় না। নিজের সন্তান হওয়ার কারণে সে তার শিশুর লালন-পালন করে। তার অন্তরে সন্তানের প্রতি মমত্ববোধের সীমাহীন আবেগ রয়েছে। সে এ চিন্তা করে যে, সন্তানের মাধ্যমে তার বংশ টিকে থাকবে অথবা সন্তান বড়ো হয়ে তাকে আরাম ও শান্তি দেবে এবং তার সাহায্যকারী হবে। এ ধ্যানধারণার বশবর্তী হয়ে সে নিজের সন্তানকে এমনভাবে প্রতিপালন করে যাতে সে পার্থিব দৃষ্টিকোণ থেকে সার্থক জীবনযাপন করতে পারে। আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন অর্থাৎ যারা ইসলাম প্র্যাকটিস করেন না তাদের মধ্যে আর অমুসলিম মায়ের মধ্যে চিন্তা-ভাবনা আর কাজের মধ্যে তেমন একটা পার্থক্য দেখা যায় না।

কিন্তু মুসলিম ও অমুসলিম মায়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

একজন প্রকৃত মুসলিম মা (যিনি ইসলাম প্র্যাকটিস করেন) সন্তান প্রতিপালনকে তিনি একটি দ্বীনি দায়িত্ব এবং আখিরাতের মুক্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম মনে করেন। সন্তানকে প্রাচুর্যপূর্ণ আরামদায়ক একটি জীবন উপহার দেবার লক্ষ্যে তারা সন্তানকে প্রতিপালন করেন না। তারা নিজের অভিভাবকত্বে এমন মু'মিন তৈরী করেন যাদের দৃষ্টি সুদূর প্রসারী হবে, যারা দুনিয়ায় আল্লাহর মর্জি মুতাবেক জীবন কাটানো এবং আখিরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নিজেকে ঐভাবে পরিচালিত করবে।

তাই একজন প্রকৃত মুসলিম মায়ের নিকট সন্তান প্রতিপালনের প্রশ্নটি শুধু পার্থিব দুনিয়ার ব্যাপারই নয়, বরং তার ভালোমন্দের প্রভাব সে জীবনেও প্রতিভাত হবে। তার চিন্তা ভাবনা হলো, তিনি যদি সন্তানকে ইসলামী ধ্যানধারণায় গড়ে তোলেন এবং ইসলামী নির্দেশ মোতাবেক লালন-পালন করেন তা হলে তার এই জীবন এবং পরকালীন জীবন দুই-ই সুন্দর হবে। আল্লাহ তার উপর খুশী হবেন এবং তাকে এই পৃথিবীতে শান্তি দেবেন এবং পরকালে জান্নাত দান ও পুরস্কারের বারি বর্ষণ করবেন। যদি তিনি এ দায়িত্ব পালনে দুর্বলতা দেখান অথবা আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী সন্তানদের গড়ে না তোলেন তাহলে পরকালে লজ্জিত হবেন এবং আখিরাত নষ্ট হয়ে যাবে। আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট হবেন এবং শাস্তি দেবেন।

এ ধরনের চিন্তা ও কর্মের সবচেয়ে বড় উপকারী দিক হলো যে, সকল প্রচেষ্টা সত্ত্বেও যদি সন্তান মায়ের আকাঙ্ক্ষা পূরণে অক্ষম হন, তাহলেও সে মা লজ্জিত হন না। তিনি নিরাশও হন না এবং তার কাজে ভাটা পড়ে না। বরং এ আস্থায় তিনি সবসময় বলীয়ান থাকেন যে, দুনিয়ায় যদি সন্তান তার আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থও হয় তবুও তিনি আল্লাহর নিকট যে প্রতিদানের প্রত্যাশী তা তিনি পূরণ করবেন। তিনি বড়ো শক্তিশালী। তিনি বান্দার সুন্দর কাজের পুরোপুরি প্রতিদান দেন এবং কখনো বান্দাকে প্রতিদান থেকে বঞ্চিত করেন না।

“স্ত্রী স্বামীর ঘরের তত্ত্বাবধায়ক এবং জিম্মাদার। যেসব ব্যক্তি ও বস্তুর তত্ত্বাবধায়ক তাকে বানানো হয়েছে সে ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞেস করা হবে।” (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)

ফন্ট সাইজ
15px
17px