📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 দ্বীন সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা

📄 দ্বীন সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা


ঈমানের অন্যতম দাবী হলো দ্বীনের জ্ঞানার্জন করা। আমার যদি দ্বীন সম্পর্কে নূন্যতম জ্ঞানই না থাকে তাহলে কিভাবে নিজ পরিবারকে দ্বীনের আলোকে গাইড করবো? কিভাবে সন্তানদের অন্তরে সামান্য হলেও দ্বীনের আলো ঢুকাবো? যুগ পরিবর্তন হয়ে গেছে। আমার ভাসাভাসা দ্বীনি জ্ঞান দিয়ে উঠতি বয়সের সন্তানদের আর বুঝ দিতে পারবো না।

আমাদেরকে কিছু কুরআনের তাফসীর, সহীহ হাদীস গ্রন্থ, হারাম-হালালের বিধান সম্বলিত বই, কিছু ইসলামী সাহিত্য, রসূল (ﷺ)-এর জীবনী, সাহাবীদের জীবনী ইত্যাদি জোগাড় করে অধ্যয়ন করে নিতে হবে। তাহলে পরবর্তী জেনারেশনকে দ্বীনের চির-আধুনিক চিত্রটি তুলে ধরা সম্ভব হবে। তা না হলে আমাদের এই চরম সীমাবদ্ধতা ও কেবল বাপদাদার রসম রেওয়াজের জ্ঞান দিয়ে আমরা আমাদের পরবর্তী বংশধরদের দ্বীন হতে দূরে ঠেলে দেবো। আসুন জ্ঞানের সবচাইতে বিশুদ্ধ মাধ্যম কুরআন ও সহীহ হাদীস হতে যাবতীয় সবকিছু জানার ও বুঝার চেষ্টা করি। এভাবে জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পাবো। জীবনকে নতুনভাবে উপভোগ করতে পারবো। তখন উপলব্ধি হবে যে জীবন মানে কেবল সকালে ঘুমঘুম চোখে অফিসে দৌড়ানো নয়। জীবন মানে কেবল সংসারের ঘানি টানা নয়। জীবন মানে শুধু অর্থ কামাই করাই নয়। এর বাইরে জীবনের বিশাল ক্ষেত্র রয়ে গেছে। সেগুলি আরো আনন্দদায়ক, আরো চ্যালেঞ্জিং, আরো কালারফুল। তখন বুঝবো আসল মানবপ্রেম কাকে বলে। দেখবো দুনিয়াটা কতগুলি সূদী মহাজনের নেতৃত্বে চলছে। বুঝবো তারা আমাদের যে মূল্যবোধ গিলাচ্ছে তা কতগুলি অখাদ্য আর কুখাদ্য ছাড়া আর কিছুই নয়।

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ মূল্যবোধ রয়েছে আল কুরআনে। মানুষ পরিচালনার জন্য রয়েছে উন্নত মানবিক পদ্ধতি। তখন আফসোস করবো বর্তমানের অর্থহীন বস্তুপূজার জন্য। সময় নষ্ট করার অভিযোগে নিজেকে তিরস্কার করবো। দ্বীনের বিশাল এ নিয়ামত হতে বঞ্চিত করার জন্য নিজেকে নিজে ভর্ৎসনা করবো। কেবল ৩৩ মার্কস পেয়ে পাশ করার ছোট মনের চিন্তা হতে বেরিয়ে লেটার মার্কস পেয়ে আল্লাহর প্রিয় হবার লোভনীয় বাসনা জাগবে। দেখবো জীবনের রুটিন ও স্টাইল আগাগোড়া পরিবর্তন হয়ে গেছে। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দিন। আমিন।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 আমরা সন্তানদের সবসময় ছোট মনে করি

📄 আমরা সন্তানদের সবসময় ছোট মনে করি


আমার সন্তান একটি স্বতন্ত্র সত্ত্বা। মা-বাবাদের একপেশে স্বভাব হলো সন্তানদের সবসময় ছোট মনে করা। আমরা প্রায় এরকম মন্তব্য করি যে, আমার ছেলে এখনো অল্প বয়স্ক, সে আর একটু বড় হোক তারপর নিয়মকানুনের ব্যাপারে কঠোর হওয়া যাবে। আমরা মা-বাবারা মনে করি সন্তানগণ সবসময় আমাদের কথা শুনবে। এ একটি ভুল ধারণা। আমার দৃষ্টির আগোচরে সন্তানগণ বড় হয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ একদিন টের পাওয়া যাবে যে সে আর আমার কথা শুনছে না। আমার যৌক্তিক দাবীগুলিও মানছে না। আমাকে হেয় করা শুরু করেছে। তখন আর কিছু করার সময় থাকবে না। পারিবারিক, ধর্মীয় ও সামাজিক কোন মূল্যবোধে যদি আমি বিশ্বাস করি তাহলে সেগুলিতে ছোটকাল হতেই অভ্যাস করাতে হবে।

বিত্তবান মা-বাবাদের অবস্থা আরো করুণ। তাদের জন্য আফসোস। যে অর্থের পেছনে ছুটে তারা সন্তানদের সময় দেন না, পরবর্তীতে সে অর্থকে অনর্থের মূল বলে মনে করতে থাকেন। বেলাশেষে আফসোস করেন কিন্তু তখন বেশ দেরী হয়ে যায়। বিত্তশালী পরিবারগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে সন্তানদের অতিরিক্ত স্বাধীনতা দিয়ে ক্ষতি করেন। কিন্তু শেখার এ সময়টিতে মা-বাবারা সন্তানদের প্রাচুর্যে ভাসিয়ে দেন। ফলে সন্তানদের মধ্যে প্রতিকূল পরিবেশে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়ার ক্ষমতা সৃষ্টি হয় না। কঠিন অবস্থায় নিজেকে সামলিয়ে চলার শিক্ষার অভাবে সে খেই হারিয়ে ফেলে।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 কিছু পারিবারিক নিয়ম থাকা উচিত

📄 কিছু পারিবারিক নিয়ম থাকা উচিত


ভুক্তভোগী মা-বাবারা নিজেদের বিষয়গুলির ব্যাপারে যতটা আপোস করেন তার চাইতে বেশী আপোস করেন সন্তানদের বিষয়াদিতে। আর খারাপ কাহিনীর শুরু এখান হতে। প্রাত্যহিক জীবনের চাহিদা পূরণে আপোস, পারিবারিক মূল্যবোধ ধরে রাখার ক্ষেত্রে অবহেলা, সন্তানদের বন্ধুবান্ধব নির্বাচনে একেবারে লাগামহীন স্বাধীনতা দান, করণীয়সমূহের লিষ্টে ধর্মীয় শিক্ষাদানকে সবকিছুর পেছনে রাখা, মা-বাবাদের একান্ত নিজস্ব বিষয়গুলির প্রতি উদাসীন থাকা, সন্তানদের আলাদা সত্তার স্বীকৃতি না দেয়া, সন্তানদের অন্যায় আবদার মেনে নেয়া ইত্যাদি হলো পরিবার নামক দেহে ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ।

প্রত্যেকটি পরিবারের কিছু অলিখিত মূল্যবোধ বা ঐতিহ্য রয়েছে। পরিবারের কর্তাগণ যদি সে মূল্যবোধগুলির ব্যাপারে মনোযোগী হন তাহলেই একটা বড় ধরনের লক্ষ্য অর্জিত হয়ে যায়। যেমন কোন কোন পরিবারে এ নিয়ম রয়েছে যে স্কুল পড়ুয়া সন্তানগণ কোন অবস্থাতেই অনুমতি ছাড়া মাগরিবের পর ঘরের বাইরে থাকতে পারবে না। এটিও কম নয়। এ বিষয়টিও এমন যে আমেরিকার সরকার কোন কোন অঙ্গরাজ্যে কার্ফিউ জারী করে স্কুল পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের ঘরের ভেতর থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। আর এ সংক্রান্ত গবেষণায় ৫৩৪টি আমেরিকান শহরে সান্ধ্যকালীন কারফিউ সম্পর্কে জনতার যে মতামত পাওয়া গেছে তা এই : শতকরা ৯৭ ভাগ শহরবাসী বলেছেন কারফিউর ফলে শিশু অপরাধ অনেক কমেছে; ৯৬ ভাগ বলেছেন কারফিউর কারণে ফাঁকিবাজী কমেছে; ৮৮ ভাগ বলেছে কারফিউ মাস্তানি কমিয়েছে; কারফিউর ফলে ৫৬ ভাগ শহরে বড় ধরনের অপরাধ কমেছে। অতএব আমার পরিবারে যদি এ ধরনের কোন ঐতিহ্য থেকে থাকে তাহলে তা শিথিল যেন না করি। বরং আরো কড়াকড়িভাবে সন্তানদের এ নিয়ম পালনে উৎসাহিত করি। তারা যদি এ নিয়ম পালন করে তাহলে পুরস্কৃত করতে পারি।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 পারিবারিক সিটিং বা বৈঠক

📄 পারিবারিক সিটিং বা বৈঠক


পারিবারিক শিক্ষা একজন মানুষের ভিত তৈরী করে। এ শিক্ষা এত শক্তিশালী যা একজন ব্যক্তির সারাজীবনের জন্য দিক নির্দেশনার কাজ করে। সাপ্তাহিক বন্ধের দিন সকালে নাস্তার টেবিলে সম্ভব হলে দুই ঘন্টা সময় নিয়ে বসা উচিত। সাথে পরিবারের সকল সদস্য। স্ত্রী, সন্তান ও অন্য কেউ যদি থেকে থাকে। সকলকে নিয়ে সুন্দর আনন্দঘন পরিবেশে নাস্তা শুরু করা যেতে পারে। পারিবারিক বিষয় আলোচনা করা যেতে পারে। খোলামনে, আন্তরিকতার সাথে। পরস্পরকে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে কোন সমস্যা আছে কিনা। সন্তানদের একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা যেতে পারে।

এরপর কুরআনের তাফসীর নিয়ে বসা যেতে পারে। সূরা ফাতিহা দিয়ে শুরু। সূরা ফাতিহার সরল অর্থ সবাইকে শুনানোর পর এর তাফসীর শুরু করতে হবে। সকলকে প্রতিটি আয়াতের অর্থ ও এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা এক এক করে শুনানো যেতে পারে। জিজ্ঞেস করতে হবে কারো কোন কিছু যোগ করার আছে কিনা। সকলকেই বলার সুযোগ দিতে হবে। তারপর সূরা ফাতিহার শিক্ষা বাস্তব জীবনের আলোকে মিলানোর চেষ্টা করতে হবে। এ কাজটি প্রতি সপ্তাহে করতে হবে। একেক সপ্তাহে একেক সূরা নিয়ে আলোচনা হবে। পারিবারিক বৈঠকের উদ্দেশ্য থাকবে পরস্পর সম্পর্ক বৃদ্ধি ও আদর্শ পরিবার গঠন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px