📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 এ যুগের ছেলেমেয়েদের ধারণা

📄 এ যুগের ছেলেমেয়েদের ধারণা


১. এখনকার ছেলেমেয়েরা মা-বাবার চেয়ে বন্ধু-বান্ধবদের সিদ্ধান্তকে বেশী গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
২. এখন তারা ইন্টারনেটকেই সকল রিক্রিয়েশনের আঁধার মনে করে।
৩. বলিউড-হলিউডকে সকল বিনোদনের হেডকোয়ার্টারস মনে করে।
৪. টিভি চ্যানেলগুলোকে একমাত্র সুস্থ স্বাভাবিক শিক্ষার উৎস মনে করে।
৫. আমেরিকান আইডল আর ইন্ডিয়ান আইডলকে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ও অবশ্যই দর্শনীয় অনুষ্ঠান মনে করে।
৬. ইউরোপ আমেরিকাকে সভ্যতা আর মানবাধিকারের সর্বশেষ ও চূড়ান্ত তীর্থস্থান মনে করে।
৭. তারা ফ্যাশন শোতে অংশগ্রহণ এবং মডেল হওয়াকে খুব গর্বের কাজ মনে করে।
৮. তারা ইসলামকে টেররিজম ভাবে, এবং ইসলাম পালন করাকে ব্যাকডেইটেড বা অপশনাল বলে মনে করে।
৯. তারা ব্যান্ড মিউজিক এবং হ্যাভিমেটাল মিউজিককে একপ্রকার ইবাদত মনে করে।
১০. তারা বিভিন্ন স্টার ও ক্রিকেট খেলোয়াড়কে অনুসরণ করে এবং তাদেরকে গুরু মনে করে।
১১. তারা উল্টা-পাল্টা কাজ কারবারকে আধুনিকতা মনে করে।
১২. তারা শবে কদর-এর রাত্রির চাইতেও 31st December night-কে বেশী গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
১৩. তারা Happy New Year এবং Valentines Day পালন করা জরুরী মনে করে।
১৪. আরো ভয়ংকর কথা এই যে, তারা তাদের ছোট-বড় সকল অপকর্মগুলিকে অনলাইনে বিনা দ্বিধায় প্রচার করে। এই প্রচার হয়ে থাকে লিখিত আকারে, ছবি পোস্ট করে, অনেক সময় ভিডিও প্রচার করে।

আমাকে একদিন চরম মাশুল দিতে হবে
এ যুগের মা-বাবারা সন্তানদের ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করতে ব্যর্থ হলে এর জন্যে একদিন চরম মাশুল দিতে হবে। সন্তানরা দ্বীনি শিক্ষার অভাবে নিজেদের মস্তিষ্কে মা-বাবার ব্যাপারে এমন দৃষ্টিভঙ্গী গ্রহণ করে যার জন্য সেসব মা- বাবাকেই দোষ দিতে হয়। কারণ সকল মানুষই জীবনের সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোন না কোন নিয়ম অনুসরণ করে। মা-বাবা যদি জীবনের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষা না দিয়ে থাকেন তাহলে সন্তানেরা সে বিষয়ে যেখানে যা পায় তাকেই শ্রেষ্ঠ নীতিমালা হিসেবে গ্রহণ করে নেয়।

ছোট বয়সের সন্তানদের কিছু ভাল দিক
আলহামদুলিল্লাহ আমাদের সন্তানদের মধ্যে ছোট বয়স থেকে কিছু ভাল চারিত্রিক গুণ থাকে। কিন্তু সে দিন-দিন বড় হওয়ার পাশাপাশি নিজ ঘর থেকে এবং আশে পাশের পরিবেশ থেকে খারাপ অভ্যাসগুলো আয়ত্ত করতে থাকে। বড়দের মধ্যে যে দোষ-ত্রুটিগুলো থাকে তা সাধারণত ছোটছোট ছেলেমেয়েদের মধ্যে থাকে না। যেমন ছোট বয়সে-
* তারা কারো গীবত, পরনিন্দা, পরচর্চা করে না।
* তারা কারো পিছনে গোয়েন্দাগীরি করে না।
* তারা সাধারণত অহংকার বা গর্ব করে না।
* তারা সামাজিক স্ট্যাটাস নিয়ে প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে না।
* তারা শাড়ি গহনা নিয়ে প্রতিযোগিতা বা একে অপরে হিংসা করে না।
* তারা অন্যের ভাল দেখলে হিংসা করে না。
* অন্যের উন্নতি দেখলে তাদের গা-জ্বালাপোড়া করে না।
* তারা অন্যের উন্নতি ঠেকানোর জন্য পিছন দিক থেকে টেনে ধরে না।
* তারা কাজে ফাঁকি দেয়া শিখে না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px