📄 মা-বাবার আচরণ সন্তানদের মনে প্রভাব ফেলে
১) আমরা স্বামী-স্ত্রী কি সন্তানদের সামনে ঝগড়া-ঝাটি করি?
২) আমরা কি একে অপরকে রাগের মাথায় গালাগালি করি বা জিনিসপত্র ভাঙ্গি?
৩) আমরা স্বামী-স্ত্রী কি সন্তানদের সামনে মিথ্যা কথা বলি?
৪) আমরা কি একজন আরেক জনের বদনাম সন্তানদের নিকট বা অন্যের নিকট করি?
৫) আমরা কি প্রতিবেশী বা আত্মীয়-স্বজনের গীবত করি?
৬) আমরা কি অন্যের হক নষ্ট করি?
৭) আমরা কি অবৈধ ইনকাম বা ব্যবসার সাথে জড়িত?
৮) আমরা কি টিভিতে আপত্তিকর মুভি বা অনুষ্ঠান দেখি?
৯) আমরা কি সন্তানদের সাথে দুর্ব্যবহার করি বা গায়ে হাত তুলি?
১০) আমরা সন্তানদেরকে দিয়ে কি মিথ্যা কথা বলাই?
নিম্নের ভিডিও লিংকটি থেকে আমরা শিক্ষাগ্রহণ করতে পারি যে, কিভাবে আমাদের সন্তানদেরকে দিয়ে মিথ্যা কথা বলাই।
Shishu Lalon Palon: https://www.youtube.com/watch?v=ib-a0a0_sdk
📄 মা-বাবাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন
১. সন্তানের বন্ধুদের যেন বাসায় আসতে দেই এবং আমিও তাদের সাথে নিয়মিত মেলামেশা করি।
২. সন্তানের পারসোনাল রুমে টিভি বা কম্পিউটার না দিয়ে কমন জায়গায় রাখার চেষ্টা করি। (যেমন ড্রইং রুমে বা লিভিং রুমে)
৩. মাঝে মাঝে স্কুল এবং কলেজে গিয়ে খোঁজ-খবর নিতে পারি এবং শিক্ষক- শিক্ষিকাদের সাথে কথা বলতে পারি。
৪. টিভিতে আজেবাজে হিন্দি মুভি এবং সিরিয়াল দেখা বাদ দেই এবং শয়তানের হাত থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করি।
৫. কখনো অন্য কোন পরিবারের সাথে দুনিয়াবি বিষয়ে প্রতিযোগিতায় না করি।
৬. মা-বাবারা ইসলামিক মাইন্ডেড পরিবারের সাথে বন্ধুত্ব করি।
৭. বাড়িতে নিয়মিত কুরআন-হাদীসের আলোচনা ও সলাত আদায় করার পরিবেশ তৈরী করি।
৮. সন্তানদেরকে কখনো মিথ্যা আশ্বাস না দেই। যেমন: এই কাজটা করলে ঐ জিনিসটা দিব কিন্তু দেখা গেল যে সে কাজটি করল কিন্তু আমি প্রতিজ্ঞা ঠিক রাখলাম না। এই ধরনের আচরণ সন্তানদের মনে প্রভাব ফেলে।
📄 আমার সন্তানের শিক্ষা কিন্তু থেমে নেই
আমাদের হিউম্যান ব্রেইন কম্পিউটারের মতোই কাজ করে। কম্পিউটার আসলে আমাদের ভাষা বুঝে না, তার নিজস্ব কোড ল্যাংগুয়েজ রয়েছে সিপিউতে (Central Processing Unit) যাকে বলে মেশিন ল্যাংগুয়েজ। আমরা যখন কিবোর্ডের মাধ্যমে কম্পিউটারকে ইনপুট দেই তখন তা সিপিউতে গিয়ে তার নিজস্ব কোড ল্যাংগুয়েজে প্রসেস হয় এবং তারপর তা মনিটর দিয়ে আমাদেরকে সুন্দর আউটপুট দেখায়। ঠিক তেমনি আমার সন্তানকে আমি কিছু শিখাচ্ছি না বলে এটা ভাবা যাবে না যে সে কিছু শিখছে না। সে আশেপাশের পরিবেশ, স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি, টিভি, রেডিও, ইন্টানেট হতে সচেতন ও অবচেতন মনে প্রতিনিয়ত কোন না কোন কিছু শিখছে। তারপর সেগুলো তার ব্রেইনে গিয়ে কম্পিউটারের সিপিউর মতো প্রসেস হচ্ছে এবং শেষে তার চরিত্র দিয়ে আউটপুট বের হচ্ছে。
ইনপুট
স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি, টিভি, রেডিও, ইন্টানেট, নিউজপেপার ইত্যাদি।
প্রসেস
আউটপুট
ইসলাম হলো Complete Code of Life, আমি যদি কোডগুলি না-ই জানি তাহলে সে কোড মানবো কিভাবে? অন্তত দৈনন্দিন জীবনের কোডগুলি না জানলে যে কোন সময় মহান আল্লাহর কাছ থেকে যে কোন শাস্তি আসতে পারে। তখন যদি বলি আমি তো কোডগুলি জানি না তাহলেও কোনভাবেই রেহাই পাওয়া যাবে না। ইসলামের কোডগুলির চূড়ান্ত সোর্স হলো আল-কুরআন ও সুন্নাহ। আর আমরা সলাতে প্রতিনিয়তই সে কোডগুলি পড়ছি। এখন দরকার কোডগুলি অর্থসহ পড়া। এর জন্য প্রয়োজন তাফসীরের এবং সংকলিত সহীহ হাদীসের বিস্তারিত অধ্যয়ন。
একটি উদাহরণের মাধ্যমে ব্যাপারটা আরো পরিষ্কার করে বোঝানো যাক। 'ক' নামের একটি ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া ছেলে শপিং মলে একটি দোকানে তার সামনে একটি মেয়েকে দেখে তার রূপে মোহিত হয়ে সে রূপ অবগাহনে লিপ্ত হলো। মেয়েটির শরীর আংশিক খোলা থাকার কারণে তার নজর বার বার সেই মেয়েটির দিকে ফিরে যাচ্ছে। অপর একটি ছেলের নাম 'খ'। একই শপিং মলে ঐ দোকানে মেয়েটিকে একবার দেখে তার দৃষ্টিকে অবনত করে নিল। আরেকবার দৃষ্টি দেয়ার সাথে সাথে তার একটি কোড (হাদীস) এর কথা মনে পড়ল। যদি কোন পুরুষ তার স্ত্রী ব্যতীত অপর কোন নারীর দিকে কুদৃষ্টিতে তাকায় তাহলে পরকালে তার চোখে গলিত সীসা ঢেলে শাস্তি দেয়া হবে। এ কোড মনে আসার সাথে সাথে 'খ' তার দৃষ্টিকে একেবারে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসল, আর তাকালোনা। এখানে 'ক' কোড ভঙ্গ করল আর 'খ' কোড মেনে খারাপ কাজ হতে বিরত থাকলো। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
"মু'মিন পুরুষদেরকে বলুন, যেন তারা নিজেদের চোখ নিচু রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। এটাই তাদের জন্য বেশি পবিত্র নিয়ম। তারা যা কিছু করে আল্লাহ এর খবর রাখেন।" (সূরা নূর ২৪:৩০)
এভাবে জীবনের প্রায় সকল অঙ্গনে একজন ঈমানদার আল্লাহ নির্ধারিত আচরণ বিধির সম্মুখীন। আল্লাহ এ আচরণবিধি দিয়ে যুগে যুগে নাবী-রসূলদের পাঠিয়েছেন। নাবী-রসূলগণ এ আচরণবিধির কেবল থিওরীই বলে যাননি, সঙ্গে এর প্রাকটিক্যালও করিয়ে দেখিয়ে গেছেন। মানুষ সেসব বিধি মেনে নিজেকে অনন্ত জীবনের জন্য প্রস্তুত করেছে। অথবা কোড ভঙ্গ করে শাস্তির যোগ্য হয়েছে। সারাজীবন এ আচরণ বিধি মেনে আল্লাহর নির্ধারিত সীমার মধ্যে অবস্থান করে পরকালীন পাথেয় অর্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। আসুন আত্মগঠনের প্রক্রিয়ায় আমরা নিজেদের জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর হুকুমগুলি মেনে চলতে চেষ্টা করি, ফরয, ওয়াজিব, সুন্নত ইত্যাদি ক্যাটাগরীর কাজগুলি মেনে নিজেদের মেধা ও চরিত্রকে তৈরী করি।
📄 এ যুগের ছেলেমেয়েদের ধারণা
১. এখনকার ছেলেমেয়েরা মা-বাবার চেয়ে বন্ধু-বান্ধবদের সিদ্ধান্তকে বেশী গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
২. এখন তারা ইন্টারনেটকেই সকল রিক্রিয়েশনের আঁধার মনে করে।
৩. বলিউড-হলিউডকে সকল বিনোদনের হেডকোয়ার্টারস মনে করে।
৪. টিভি চ্যানেলগুলোকে একমাত্র সুস্থ স্বাভাবিক শিক্ষার উৎস মনে করে।
৫. আমেরিকান আইডল আর ইন্ডিয়ান আইডলকে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ও অবশ্যই দর্শনীয় অনুষ্ঠান মনে করে।
৬. ইউরোপ আমেরিকাকে সভ্যতা আর মানবাধিকারের সর্বশেষ ও চূড়ান্ত তীর্থস্থান মনে করে।
৭. তারা ফ্যাশন শোতে অংশগ্রহণ এবং মডেল হওয়াকে খুব গর্বের কাজ মনে করে।
৮. তারা ইসলামকে টেররিজম ভাবে, এবং ইসলাম পালন করাকে ব্যাকডেইটেড বা অপশনাল বলে মনে করে।
৯. তারা ব্যান্ড মিউজিক এবং হ্যাভিমেটাল মিউজিককে একপ্রকার ইবাদত মনে করে।
১০. তারা বিভিন্ন স্টার ও ক্রিকেট খেলোয়াড়কে অনুসরণ করে এবং তাদেরকে গুরু মনে করে।
১১. তারা উল্টা-পাল্টা কাজ কারবারকে আধুনিকতা মনে করে।
১২. তারা শবে কদর-এর রাত্রির চাইতেও 31st December night-কে বেশী গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
১৩. তারা Happy New Year এবং Valentines Day পালন করা জরুরী মনে করে।
১৪. আরো ভয়ংকর কথা এই যে, তারা তাদের ছোট-বড় সকল অপকর্মগুলিকে অনলাইনে বিনা দ্বিধায় প্রচার করে। এই প্রচার হয়ে থাকে লিখিত আকারে, ছবি পোস্ট করে, অনেক সময় ভিডিও প্রচার করে।
আমাকে একদিন চরম মাশুল দিতে হবে
এ যুগের মা-বাবারা সন্তানদের ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করতে ব্যর্থ হলে এর জন্যে একদিন চরম মাশুল দিতে হবে। সন্তানরা দ্বীনি শিক্ষার অভাবে নিজেদের মস্তিষ্কে মা-বাবার ব্যাপারে এমন দৃষ্টিভঙ্গী গ্রহণ করে যার জন্য সেসব মা- বাবাকেই দোষ দিতে হয়। কারণ সকল মানুষই জীবনের সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোন না কোন নিয়ম অনুসরণ করে। মা-বাবা যদি জীবনের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষা না দিয়ে থাকেন তাহলে সন্তানেরা সে বিষয়ে যেখানে যা পায় তাকেই শ্রেষ্ঠ নীতিমালা হিসেবে গ্রহণ করে নেয়।
ছোট বয়সের সন্তানদের কিছু ভাল দিক
আলহামদুলিল্লাহ আমাদের সন্তানদের মধ্যে ছোট বয়স থেকে কিছু ভাল চারিত্রিক গুণ থাকে। কিন্তু সে দিন-দিন বড় হওয়ার পাশাপাশি নিজ ঘর থেকে এবং আশে পাশের পরিবেশ থেকে খারাপ অভ্যাসগুলো আয়ত্ত করতে থাকে। বড়দের মধ্যে যে দোষ-ত্রুটিগুলো থাকে তা সাধারণত ছোটছোট ছেলেমেয়েদের মধ্যে থাকে না। যেমন ছোট বয়সে-
* তারা কারো গীবত, পরনিন্দা, পরচর্চা করে না।
* তারা কারো পিছনে গোয়েন্দাগীরি করে না।
* তারা সাধারণত অহংকার বা গর্ব করে না।
* তারা সামাজিক স্ট্যাটাস নিয়ে প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে না।
* তারা শাড়ি গহনা নিয়ে প্রতিযোগিতা বা একে অপরে হিংসা করে না।
* তারা অন্যের ভাল দেখলে হিংসা করে না。
* অন্যের উন্নতি দেখলে তাদের গা-জ্বালাপোড়া করে না।
* তারা অন্যের উন্নতি ঠেকানোর জন্য পিছন দিক থেকে টেনে ধরে না।
* তারা কাজে ফাঁকি দেয়া শিখে না।