📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 আমাদের প্রয়োজন আগেই মানসিক প্রস্তুতি

📄 আমাদের প্রয়োজন আগেই মানসিক প্রস্তুতি


এই অধ্যায় পড়ে আমরা কেউ কেউ ঘাবড়ে যেতে পারি বা মনের মধ্যে নানা রকম চিন্তা এবং প্রশ্ন আসতে পারে। হতে পারে সেটা ভিন্ন ভিন্ন পরিবারের ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা। যেমন:
* আমার সন্তানতো অনেক ভাল এবং ভদ্র। আমার সন্তানের মধ্যে তো এ সকল দোষত্রুটি নেই, কেন এসব কথা বলা হচ্ছে?
* আমার সন্তানতো ইসলামিক মাইন্ডের, আমার সন্তানতো আমার বাধ্য। আমরা মা-বাবারাও ইসলামিক মাইন্ডের। আমরা সবাই সলাত আদায়কারী। তাহলে সমস্যা কোথায়?
* এতো নেগেটিভ কথা বলা হচ্ছে কেন? আমাদের সন্তানদের মধ্যে তো অনেক ভাল গুণও আছে। আর নেগেটিভ কথাগুলো এতো সরাসরি বা এতো কঠিন করে বলা হচ্ছে কেন?

ভুল ধারণার অবসান
মা-বাবাদের প্রতি অনুরোধ এই অধ্যায় পড়েই যেন কেউ ভুল ধারণা পোষণ না করি। হয়তো এই সমস্যা আমার সন্তানদের নিয়ে নেই, হয়তো আমার সন্তান এখনো অনেক ছোট, বা আমার সন্তান স্কুল কলেজ পাশ করে ফেলেছে অথবা আমার এখনো সন্তান হয়নি। এই সমস্যাগুলো যে শুধু আমার একার তা হয়তো না, হতে পারে এটা অন্য কারো। আসলে এ চিত্র শুধু যে মুসলিমদের মাঝে তাও নয়, হতে পারে এটা মুসলিম-অমুসলিম সব দিকেই আছে। আমাদের সকলের দায়িত্ব একে অপরকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করা。

আমাদের সন্তানেরা এই প্রতিকূল পরিবেশে ইসলামিক স্কুলে পড়তে পারলে ভাল, না পারলে অবশ্যই সাধারণ স্কুলে পড়বে। সাধারণ স্কুল থেকে সব ছেলেমেয়েদেরকে নিয়ে ইসলামিক স্কুলে ভর্তি করে দিতেও বলা হচ্ছে না। এটাই বুঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যে সাধারণ স্কুলে পড়েও আমাদের সন্তানরা কিভাবে একজন ভাল একাডেমিক হওয়ার পাশাপাশি একজন ভাল মুসলিম হতে পারে। এটাই স্বাভাবিক, কোন মা-বাবা নিজ সন্তানদের সম্পর্কে নেগেটিভ কথা শুনতে পছন্দ করেন না। কিন্তু কিছু কিছু সত্য কথা সরাসরি না বললে ভালভাবে বুঝা যায় না এবং অনুধাবনও করা যায় না。

তাই বুঝার সুবিধার্থে এই বইতে অনেক সত্য কথা এবং সত্য ঘটনাই সরাসরি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই কথাগুলো যে সবাইকে বলা হচ্ছে ব্যাপারটাও তা নয়। একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আমাদের সকলেরই দায়িত্ব সমাজের কল্যাণের কথা চিন্তা করা। ঘটনা ঘটবার আগে নিজেরা সচেতন হওয়া এবং অপরকে সচেতন করা। আর এটাই আল্লাহ তা'আলার তরফ থেকে প্রতিটি মু'মিনের দায়িত্ব। তাই আসুন পুরো বইটি খুব মনোযোগের সাথে পড়ার চেষ্টা করি এবং বাস্তব ভিত্তিক সমাধানের চিন্তা করি।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 মা-বাবার আচরণ সন্তানদের মনে প্রভাব ফেলে

📄 মা-বাবার আচরণ সন্তানদের মনে প্রভাব ফেলে


১) আমরা স্বামী-স্ত্রী কি সন্তানদের সামনে ঝগড়া-ঝাটি করি?
২) আমরা কি একে অপরকে রাগের মাথায় গালাগালি করি বা জিনিসপত্র ভাঙ্গি?
৩) আমরা স্বামী-স্ত্রী কি সন্তানদের সামনে মিথ্যা কথা বলি?
৪) আমরা কি একজন আরেক জনের বদনাম সন্তানদের নিকট বা অন্যের নিকট করি?
৫) আমরা কি প্রতিবেশী বা আত্মীয়-স্বজনের গীবত করি?
৬) আমরা কি অন্যের হক নষ্ট করি?
৭) আমরা কি অবৈধ ইনকাম বা ব্যবসার সাথে জড়িত?
৮) আমরা কি টিভিতে আপত্তিকর মুভি বা অনুষ্ঠান দেখি?
৯) আমরা কি সন্তানদের সাথে দুর্ব্যবহার করি বা গায়ে হাত তুলি?
১০) আমরা সন্তানদেরকে দিয়ে কি মিথ্যা কথা বলাই?

নিম্নের ভিডিও লিংকটি থেকে আমরা শিক্ষাগ্রহণ করতে পারি যে, কিভাবে আমাদের সন্তানদেরকে দিয়ে মিথ্যা কথা বলাই।
Shishu Lalon Palon: https://www.youtube.com/watch?v=ib-a0a0_sdk

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 মা-বাবাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন

📄 মা-বাবাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন


১. সন্তানের বন্ধুদের যেন বাসায় আসতে দেই এবং আমিও তাদের সাথে নিয়মিত মেলামেশা করি।
২. সন্তানের পারসোনাল রুমে টিভি বা কম্পিউটার না দিয়ে কমন জায়গায় রাখার চেষ্টা করি। (যেমন ড্রইং রুমে বা লিভিং রুমে)
৩. মাঝে মাঝে স্কুল এবং কলেজে গিয়ে খোঁজ-খবর নিতে পারি এবং শিক্ষক- শিক্ষিকাদের সাথে কথা বলতে পারি。
৪. টিভিতে আজেবাজে হিন্দি মুভি এবং সিরিয়াল দেখা বাদ দেই এবং শয়তানের হাত থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করি।
৫. কখনো অন্য কোন পরিবারের সাথে দুনিয়াবি বিষয়ে প্রতিযোগিতায় না করি।
৬. মা-বাবারা ইসলামিক মাইন্ডেড পরিবারের সাথে বন্ধুত্ব করি।
৭. বাড়িতে নিয়মিত কুরআন-হাদীসের আলোচনা ও সলাত আদায় করার পরিবেশ তৈরী করি।
৮. সন্তানদেরকে কখনো মিথ্যা আশ্বাস না দেই। যেমন: এই কাজটা করলে ঐ জিনিসটা দিব কিন্তু দেখা গেল যে সে কাজটি করল কিন্তু আমি প্রতিজ্ঞা ঠিক রাখলাম না। এই ধরনের আচরণ সন্তানদের মনে প্রভাব ফেলে।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 আমার সন্তানের শিক্ষা কিন্তু থেমে নেই

📄 আমার সন্তানের শিক্ষা কিন্তু থেমে নেই


আমাদের হিউম্যান ব্রেইন কম্পিউটারের মতোই কাজ করে। কম্পিউটার আসলে আমাদের ভাষা বুঝে না, তার নিজস্ব কোড ল্যাংগুয়েজ রয়েছে সিপিউতে (Central Processing Unit) যাকে বলে মেশিন ল্যাংগুয়েজ। আমরা যখন কিবোর্ডের মাধ্যমে কম্পিউটারকে ইনপুট দেই তখন তা সিপিউতে গিয়ে তার নিজস্ব কোড ল্যাংগুয়েজে প্রসেস হয় এবং তারপর তা মনিটর দিয়ে আমাদেরকে সুন্দর আউটপুট দেখায়। ঠিক তেমনি আমার সন্তানকে আমি কিছু শিখাচ্ছি না বলে এটা ভাবা যাবে না যে সে কিছু শিখছে না। সে আশেপাশের পরিবেশ, স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি, টিভি, রেডিও, ইন্টানেট হতে সচেতন ও অবচেতন মনে প্রতিনিয়ত কোন না কোন কিছু শিখছে। তারপর সেগুলো তার ব্রেইনে গিয়ে কম্পিউটারের সিপিউর মতো প্রসেস হচ্ছে এবং শেষে তার চরিত্র দিয়ে আউটপুট বের হচ্ছে。

ইনপুট
স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি, টিভি, রেডিও, ইন্টানেট, নিউজপেপার ইত্যাদি।
প্রসেস
আউটপুট

ইসলাম হলো Complete Code of Life, আমি যদি কোডগুলি না-ই জানি তাহলে সে কোড মানবো কিভাবে? অন্তত দৈনন্দিন জীবনের কোডগুলি না জানলে যে কোন সময় মহান আল্লাহর কাছ থেকে যে কোন শাস্তি আসতে পারে। তখন যদি বলি আমি তো কোডগুলি জানি না তাহলেও কোনভাবেই রেহাই পাওয়া যাবে না। ইসলামের কোডগুলির চূড়ান্ত সোর্স হলো আল-কুরআন ও সুন্নাহ। আর আমরা সলাতে প্রতিনিয়তই সে কোডগুলি পড়ছি। এখন দরকার কোডগুলি অর্থসহ পড়া। এর জন্য প্রয়োজন তাফসীরের এবং সংকলিত সহীহ হাদীসের বিস্তারিত অধ্যয়ন。

একটি উদাহরণের মাধ্যমে ব্যাপারটা আরো পরিষ্কার করে বোঝানো যাক। 'ক' নামের একটি ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া ছেলে শপিং মলে একটি দোকানে তার সামনে একটি মেয়েকে দেখে তার রূপে মোহিত হয়ে সে রূপ অবগাহনে লিপ্ত হলো। মেয়েটির শরীর আংশিক খোলা থাকার কারণে তার নজর বার বার সেই মেয়েটির দিকে ফিরে যাচ্ছে। অপর একটি ছেলের নাম 'খ'। একই শপিং মলে ঐ দোকানে মেয়েটিকে একবার দেখে তার দৃষ্টিকে অবনত করে নিল। আরেকবার দৃষ্টি দেয়ার সাথে সাথে তার একটি কোড (হাদীস) এর কথা মনে পড়ল। যদি কোন পুরুষ তার স্ত্রী ব্যতীত অপর কোন নারীর দিকে কুদৃষ্টিতে তাকায় তাহলে পরকালে তার চোখে গলিত সীসা ঢেলে শাস্তি দেয়া হবে। এ কোড মনে আসার সাথে সাথে 'খ' তার দৃষ্টিকে একেবারে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসল, আর তাকালোনা। এখানে 'ক' কোড ভঙ্গ করল আর 'খ' কোড মেনে খারাপ কাজ হতে বিরত থাকলো। আল্লাহ তা'আলা বলেন:

"মু'মিন পুরুষদেরকে বলুন, যেন তারা নিজেদের চোখ নিচু রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। এটাই তাদের জন্য বেশি পবিত্র নিয়ম। তারা যা কিছু করে আল্লাহ এর খবর রাখেন।" (সূরা নূর ২৪:৩০)

এভাবে জীবনের প্রায় সকল অঙ্গনে একজন ঈমানদার আল্লাহ নির্ধারিত আচরণ বিধির সম্মুখীন। আল্লাহ এ আচরণবিধি দিয়ে যুগে যুগে নাবী-রসূলদের পাঠিয়েছেন। নাবী-রসূলগণ এ আচরণবিধির কেবল থিওরীই বলে যাননি, সঙ্গে এর প্রাকটিক্যালও করিয়ে দেখিয়ে গেছেন। মানুষ সেসব বিধি মেনে নিজেকে অনন্ত জীবনের জন্য প্রস্তুত করেছে। অথবা কোড ভঙ্গ করে শাস্তির যোগ্য হয়েছে। সারাজীবন এ আচরণ বিধি মেনে আল্লাহর নির্ধারিত সীমার মধ্যে অবস্থান করে পরকালীন পাথেয় অর্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। আসুন আত্মগঠনের প্রক্রিয়ায় আমরা নিজেদের জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর হুকুমগুলি মেনে চলতে চেষ্টা করি, ফরয, ওয়াজিব, সুন্নত ইত্যাদি ক্যাটাগরীর কাজগুলি মেনে নিজেদের মেধা ও চরিত্রকে তৈরী করি।

ফন্ট সাইজ
15px
17px