📄 আমি কি চাই এই প্রতিকূল পরিবেশে আমার সন্তানের ঈমানী শক্তি বৃদ্ধি হোক?
একসময় আধুনিক ছেলেমেয়েরা রেডিও শুনতো না। কিন্তু যুগ পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখন ছেলেমেয়েরা নিয়মিত রেডিও শুনে মোবাইলের মাধ্যমে। বাংলাদেশে এখন কয়েকটি রেডিও চ্যানেল চালু হয়েছে। এই চ্যানেলগুলো উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। কারণ এই চ্যানেলগুলো ছেলেমেয়েদের অবাধ প্রেম নিবেদনের মিডিয়া হিসেবে কাজ করে। এর মাধ্যমে তারা তাদের ভালবাসা-ভালোলাগার কথা ব্যক্ত করতে পারে। এছাড়া টিভি চ্যানেলগুলোতেও এই জাতীয় প্রোগ্রামও চালু হয়েছে যার মাধ্যমে ছেলেমেয়েরা তাদের প্রথম (ক্রাস) ভালোলাগার কথা ব্যক্ত করে। এছাড়া আরো রয়েছে মোবাইল কোম্পানীগুলোর রাত বারটার পর ফ্রী টক টাইম ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাসহ প্যাকেজ যার মাধ্যমে উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের অবাধ এবং সীমাহীন কথোপকথোন। এরপর তো রয়েছে ফেইসবুকের মাধ্যমে অবাধ বুন্ধুত্ব। সারাদিন স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি এবং বাইরের পরিবেশ তারপর ডিসের মাধ্যমে ঘরে ঘরে হিন্দি চ্যানেলে সিনেমা, নাচ, গান, সিরিয়াল。
চারিদিক দিয়ে আমাদের সন্তানদের আক্রমণ করছে! কোথায় যাবে তারা? পালাবার কোন রাস্তা নেই! কুরআনের ইতিহাস থেকে আমরা দেখেছি যে, পূর্বে যখন একেকটা জাতি এভাবে পাপের সীমা ছাড়িয়ে গেছে তখন আল্লাহ সেই জাতিগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছিল, যেমন আদ জাতি, সামুদ জাতি, লুত জাতি। আমাদের সামনেও মহাবিপদ! চারিদিকে আগুন, আমাদের সন্তানরা এই আগুনের মধ্যে বসবাস করছে。
আমাদের সন্তানদেরকে এই আগুন থেকে রক্ষা করতে হলে একটিই পথ আর তা হচ্ছে তাদের ঈমানী শক্তি বৃদ্ধি করতে হবে। ঈমানী শক্তি বৃদ্ধি করতে হলে সর্বপ্রথমে তাদেরকে ঈমানের উপর সঠিক জ্ঞান দিতে হবে। এর পাশাপাশি তাদের মধ্যে আল্লাহ ভীতি এবং আল্লার প্রতি ভালবাসা বাড়াতে হবে। এই দু'টি বিষয় সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জনের জন্য আমাদের ফ্যামিলি ডেভেলপমেন্ট প্যাকেজ সিরিজের প্রকাশিত ১ম ও ২য় বই ঈমানের স্বচ্ছ ধারণা ও তাকওয়া জোগাড় করে খুব ভালভাবে পড়তে হবে। ইনশাআল্লাহ এর মাধ্যমে আমরা শিখতে পারবো কীভাবে ঈমানকে মজবুত করা যায়, কীভাবে ঈমানকে renew করা যায়, কীভাবে ঈমানের উপর টিকে থাকা যায় ইত্যাদি। আর তাকওয়ার মাধ্যমে জানতে পারবো কীভাবে আল্লাহকে ভালবাসা যায় এবং তাঁর ভালবাসা অর্জন করা যায়, কীভাবে আল্লাহর প্রতি ভয় বাড়ানো যায়, কীভাবে আল্লাহর প্রতি সচেতনতা বাড়ানো যায় ইত্যাদি।
📄 আমি কি এখনও সাবধান হবো না?
১. আমি কি জানি সন্তানদের মনে নিয়মিত কালচার আর ফ্যাশনের নামে আল্লাহবিরোধী বিশ্বাস ঢুকছে?
২. আমি কি জানি স্কুল-কলেজ এবং ইউনিভার্সিটি থেকেই তারা নানা রকম শিরকে লিপ্ত হচ্ছে?
৩. আমি কি জানি কী ধরনের বই তারা পড়ে? এবং এই গল্প-উপন্যাসের মাধ্যমে স্লো-পয়জনে তারা কিভাবে আক্রান্ত হচ্ছে?
৪. আমি কি জানি তাদের কাছে এডাল্ট ডিভিডি বা পর্নগ্রাফী আছে কি না?
৫. আমি কি জানি তারা কী ধরনের গান শুনে? আর অনেক গানের কথাই তো শিরক মিশ্রিত!
৬. আমি কি জানি ইসলামী অনুষ্ঠানের নামে আমি এবং আমার সন্তানেরা নানা রকম সুন্নাতের বিপরীত "বিদ'আতী” কাজ করে যাচ্ছি?
৭. বেশীরভাগ স্কুল-কলেজ এবং ইউনিভার্সিটিগুলোতে শিক্ষার এমন কোন ব্যবস্থা নেই যেখানে ইসলামী নীতি-নৈতিকতা শেখানো হয়।
৮. আমি কি জানি ১৩ (সাবালিকা) বছর বয়স থেকে আমার মেয়ের উপর পর্দা ফরয?
৯. আমার কন্যা পর্দা না করার কারণে যারা তাকে দেখে চোখ ও মনের জিনায় লিপ্ত হচ্ছে তাদের এ কবীরা গুণাহের জন্য আখিরাতে আমি দায়ী হবো সে কথাটা ভেবে দেখেছি কখনো?
📄 আমাদের প্রয়োজন আগেই মানসিক প্রস্তুতি
এই অধ্যায় পড়ে আমরা কেউ কেউ ঘাবড়ে যেতে পারি বা মনের মধ্যে নানা রকম চিন্তা এবং প্রশ্ন আসতে পারে। হতে পারে সেটা ভিন্ন ভিন্ন পরিবারের ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা। যেমন:
* আমার সন্তানতো অনেক ভাল এবং ভদ্র। আমার সন্তানের মধ্যে তো এ সকল দোষত্রুটি নেই, কেন এসব কথা বলা হচ্ছে?
* আমার সন্তানতো ইসলামিক মাইন্ডের, আমার সন্তানতো আমার বাধ্য। আমরা মা-বাবারাও ইসলামিক মাইন্ডের। আমরা সবাই সলাত আদায়কারী। তাহলে সমস্যা কোথায়?
* এতো নেগেটিভ কথা বলা হচ্ছে কেন? আমাদের সন্তানদের মধ্যে তো অনেক ভাল গুণও আছে। আর নেগেটিভ কথাগুলো এতো সরাসরি বা এতো কঠিন করে বলা হচ্ছে কেন?
ভুল ধারণার অবসান
মা-বাবাদের প্রতি অনুরোধ এই অধ্যায় পড়েই যেন কেউ ভুল ধারণা পোষণ না করি। হয়তো এই সমস্যা আমার সন্তানদের নিয়ে নেই, হয়তো আমার সন্তান এখনো অনেক ছোট, বা আমার সন্তান স্কুল কলেজ পাশ করে ফেলেছে অথবা আমার এখনো সন্তান হয়নি। এই সমস্যাগুলো যে শুধু আমার একার তা হয়তো না, হতে পারে এটা অন্য কারো। আসলে এ চিত্র শুধু যে মুসলিমদের মাঝে তাও নয়, হতে পারে এটা মুসলিম-অমুসলিম সব দিকেই আছে। আমাদের সকলের দায়িত্ব একে অপরকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করা。
আমাদের সন্তানেরা এই প্রতিকূল পরিবেশে ইসলামিক স্কুলে পড়তে পারলে ভাল, না পারলে অবশ্যই সাধারণ স্কুলে পড়বে। সাধারণ স্কুল থেকে সব ছেলেমেয়েদেরকে নিয়ে ইসলামিক স্কুলে ভর্তি করে দিতেও বলা হচ্ছে না। এটাই বুঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যে সাধারণ স্কুলে পড়েও আমাদের সন্তানরা কিভাবে একজন ভাল একাডেমিক হওয়ার পাশাপাশি একজন ভাল মুসলিম হতে পারে। এটাই স্বাভাবিক, কোন মা-বাবা নিজ সন্তানদের সম্পর্কে নেগেটিভ কথা শুনতে পছন্দ করেন না। কিন্তু কিছু কিছু সত্য কথা সরাসরি না বললে ভালভাবে বুঝা যায় না এবং অনুধাবনও করা যায় না。
তাই বুঝার সুবিধার্থে এই বইতে অনেক সত্য কথা এবং সত্য ঘটনাই সরাসরি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই কথাগুলো যে সবাইকে বলা হচ্ছে ব্যাপারটাও তা নয়। একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আমাদের সকলেরই দায়িত্ব সমাজের কল্যাণের কথা চিন্তা করা। ঘটনা ঘটবার আগে নিজেরা সচেতন হওয়া এবং অপরকে সচেতন করা। আর এটাই আল্লাহ তা'আলার তরফ থেকে প্রতিটি মু'মিনের দায়িত্ব। তাই আসুন পুরো বইটি খুব মনোযোগের সাথে পড়ার চেষ্টা করি এবং বাস্তব ভিত্তিক সমাধানের চিন্তা করি।
📄 মা-বাবার আচরণ সন্তানদের মনে প্রভাব ফেলে
১) আমরা স্বামী-স্ত্রী কি সন্তানদের সামনে ঝগড়া-ঝাটি করি?
২) আমরা কি একে অপরকে রাগের মাথায় গালাগালি করি বা জিনিসপত্র ভাঙ্গি?
৩) আমরা স্বামী-স্ত্রী কি সন্তানদের সামনে মিথ্যা কথা বলি?
৪) আমরা কি একজন আরেক জনের বদনাম সন্তানদের নিকট বা অন্যের নিকট করি?
৫) আমরা কি প্রতিবেশী বা আত্মীয়-স্বজনের গীবত করি?
৬) আমরা কি অন্যের হক নষ্ট করি?
৭) আমরা কি অবৈধ ইনকাম বা ব্যবসার সাথে জড়িত?
৮) আমরা কি টিভিতে আপত্তিকর মুভি বা অনুষ্ঠান দেখি?
৯) আমরা কি সন্তানদের সাথে দুর্ব্যবহার করি বা গায়ে হাত তুলি?
১০) আমরা সন্তানদেরকে দিয়ে কি মিথ্যা কথা বলাই?
নিম্নের ভিডিও লিংকটি থেকে আমরা শিক্ষাগ্রহণ করতে পারি যে, কিভাবে আমাদের সন্তানদেরকে দিয়ে মিথ্যা কথা বলাই।
Shishu Lalon Palon: https://www.youtube.com/watch?v=ib-a0a0_sdk