📄 শিশুদের নিয়ে সতর্কতা
কত বছর পর্যন্ত শিশুকে বুকের দুধ পান করানো যাবে? আমাদের দেশের অনেক মায়েরাই (এবং বাবারাও) জানেন না যে শিশুকে কত বছর পর্যন্ত বুকের দুধ পান করানো যাবে। এই বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা কুরআনের সূরা বাকারার ২৩৩ নং আয়াতে পরিষ্কারভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, দুই বছর পর্যন্ত। অর্থাৎ একটি শিশুকে জন্মের পর থেকে দুই বছর বা ২৪ মাস পর্যন্ত বুকের দুধ পান করানো যাবে। আল্লাহ তা'আলা কুরআনে বলেন:
“যে স্তন্য পানকাল পূর্ণ করতে চায় তার জন্য মায়েরা তাদের সন্তানদেরকে পূর্ণ দুই বছর বুকের দুধ পান করাবে।” (সূরা বাকারা ২: ২৩৩)
"তার জননী তাকে গর্ভে ধারণ করে কষ্টের সাথে এবং প্রসব করে কষ্টের সাথে, তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়াতে লাগে ত্রিশ মাস" (সূরা আহকাফ: ১৫)
ইবনে আব্বাস বলেন যে, যদি কোন নারী নয় মাসে সন্তান প্রসব করে তবে তার দুধ পান করানোর সময়কাল একুশ মাসই যথেষ্ট। আর যদি সাত মাসে সন্তান ভূমিষ্ট হয় তবে দুধ পানের সময়কাল হবে তেইশ মাস। আর যদি ছয় মাসে সন্তান প্রসব করে তবে দুধ পান করানোর সময়কাল হবে পূর্ণ দুই বছর। কেননা, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন যে, গর্ভধারণ ও দুধ ছাড়ানোর সময়কাল হলো ত্রিশ মাস। (ইবনে কাসীর)
২য় সন্তান হলে ১ম সন্তানকে গুরুত্ব কম দেয়া: এই কাজটি মোটেও ঠিক নয়। কিন্তু বেশীরভাগ মা-বাবারা এবং পরিবারের অন্যান্যরা এই ভুল কাজটি করে থাকেন। ১ম সন্তান এবং ২য় সন্তান যদি কাছাকাছি বয়সের হয়ে থাকে তাহলে এই সমস্যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করে। ১ম সন্তান নিজেকে অসহায় মনে করে, তাকে অবহেলার কারণে সে দিন দিন ক্ষেপে যায়, ছোট ভাই বা বোনকে শত্রু মনে করে, তাকে সহ্য করতে পারে না, সুযোগ পেলে তাকে আঘাতও করে। ১ম সন্তানকে গুরুত্ব কম দেয়ার কারণে দিন দিন তার মনমানসিকতার উপর প্রচন্ড চাপ পড়ে। এতে সে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে, তার পড়ালেখারও ক্ষতি হতে পারে, মা-বাবার প্রতিও তার ভালবাসা কমে যেতে পারে।
২য় সন্তান গর্ভে এলে তখন থেকেই ১ম শিশু সন্তানকে বোঝাতে হবে যে, তার একটা ছোট ভাই বা বোন আসছে। সে তাকে অনেক ভালোবাসে, তার সাথে খেলবে ইত্যাদি। এভাবে ১ম সন্তানকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে হবে। ১ম সন্তানের বয়স যদি ৫+ বছর হয়, তাহলে তাকে দিয়ে নবজাতকের কিছু কাজে যুক্ত করানো যেতে পারে। তবে মা-বাবার চেষ্টা করা উচিত নবজাতকের পাশাপাশি পূর্বের শিশু সন্তানগুলিকেও আলাদা করে একটু সময় দেয়া। তা না হলে তারা হিংসাত্মক মনোভাব ধারণ করবে।
বাচ্চারা খেলতে গিয়ে ব্যাথা পেলে: অনেক সময় খেলতে গিয়ে বাচ্চারা ব্যাথা পায়, হয়তো হাত-পায়ের কোথাও ছিলে যায়, হয়তো রক্ত বের হয় অথবা মচকে যায়। কোন কোন মা-বাবারা সন্তানের এই দুর্ঘটনার জন্য তার প্রতি সহানুভূতিসূলভ আচরণ না করে বরং তাকে বকাঝকা করেন। যেমন বলে : ভাল হয়েছে, তুই মর, মর, আরো বেশী করে কর ইত্যাদি। মা-বাবা সন্তানের চিকিৎসা ঠিকই করেন কিন্তু একই সাথে এই অমানবিক আচরণও করেন। শিশু দুষ্টামী করতে গিয়ে বা খেলতে গিয়ে ব্যাথা পেতেই পারে। তখন তাকে সহানুভূতি না দেখিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করাটা মোটেও ঠিক না। এতে সে মানসিকভাবেও প্রচন্ড আঘাত পায়। নিম্নে একটি ভিডিও লিংক দেয়া হলো যা দেখে আমরা এ বিষয়ে খুবই উপকৃত হতে পারি।
YouTube Link: https://youtu.be/XHc9IBR6cOU
Facebook link: https://www.facebook.com/shishu.lalon.palon/videos/787926311319946/
সন্তানদের মধ্যে পক্ষপাতিত্ব করা ঠিক নয় : মা-বাবাদের আরো একটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে, আর তা হচ্ছে সন্তানদের মধ্যে যেন পক্ষপাতিত্ব না করা। যাদের কয়েকটি সন্তান তারা অনেক সময় নিজ সন্তানদের একেকজনকে একেক রকম চোখে দেখে থাকেন, একেকজনকে একেক রকম ভালবাসেন বা একেকজনকে একেক রকম গুরুত্ব দেন। যেমন, ডাইনিং টেবিলে খেতে বসেছে সব ছেলেমেয়েরা এক সাথে, সেখানে হয়তো ভাল ভাল আইটেমগুলো প্রায় সময়ই একটি সন্তানকে দেয়া হয়, এতে অন্য সন্তানরা মনে কষ্ট পায়। মনে রাখতে হবে সন্তান সবগুলোই একই মা-বাবার। মা-বাবা যদি তাদের মধ্যে পক্ষপাতিত্ব করেন তাহলে তা তারা অনায়াসেই বুঝতে পারে এবং মনে প্রচন্ড কষ্ট পায়। এতে সন্তানের পড়ালেখার ক্ষতি হয় এবং মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও ভালবাসা কমে যায়।
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের সন্তানদের সম-অধিকার ও সম-ব্যবহারের অধিকার রয়েছে যেমন তোমাদের অধিকার রয়েছে সন্তানদের কাছ থেকে শ্রদ্ধা ও সম্মান লাভের। (আবু দাউদ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহকে ভয় কর, আর তোমাদের সন্তানদের মধ্যে ইনসাফ কর। (সহীহ বুখারী)
ছোট বাচ্চাদেরকে একা বাসায় রেখে বাইরে যাওয়া ঠিক নয়: আমার সন্তান কি একা একা বাসায় থাকার উপযোগী হয়েছে? মা-বাবাদের অনেক সময় সন্তানদেরকে একা বাসায় রেখে বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। বাসায় যদি বড় কেউ না থাকে এবং সন্তান যদি একা থাকার মতো উপযোগী না হয় তাহলে তাকে একা বাসায় রেখে যাওয়া অবশ্যই ঠিক না। আমেরিকা এবং ক্যানাডায় এ সম্পর্কে আইন রয়েছে। কোন মা-বাবা ১২ বছরের নীচের কোন বাচ্চাকে বাসায় একা রেখে যেতে পারবে না, এটা একটা অপরাধ। যদি কোন মা-বাবা এই অপরাধ করেন তাহলে তাদের জেল অথবা জরিমানা হতে পারে। এই বিষয়ে কড়াকড়ির অনেক কারণ আছে। বাচ্চা একা বাসায় থাকলে নানা রকম দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বাচ্চারা হচ্ছে অবুঝ, তারা খেলার ছলে ও কৌতুহলবশতঃ কত কিছুই না করতে পারে।
একটি সত্য ঘটনা উল্লেখ করা যাক। আমরা টরন্টো শহরের যে বিল্ডিংটাতে বাস করি সেটার ৮ তলায় এক পরিবারে দু'টি ছেলে- একটির বয়স পাঁচ এবং অপরটির বয়স ছয়ের কাছাকাছি। একদিন ওদের মা বাচ্চাদেরকে বাসায় রেখে একই ফ্লোরে পাশের ফ্লাটে গেছেন কোন কাজে। ইতিমধ্যে বাচ্চা দু'টি খেলার অংশ হিসেবে তাদের ছোট ছোট দু'টি ছাতা কিচেনে ওভেনের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে ওভেন অন করে দিয়েছে। ফলে যা হবার তাই হয়েছে, কিছুক্ষণের মধ্যে আগুন ধরে গিয়েছে এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এসে সেই আগুন নিভিয়েছে।
বাচ্চা একা বাসায় রেখে গেলে আরো অনেক রকম দুঘর্টনাই ঘটতে পারে যেমন, দা-বঁটি বা ছুরি-কাঁচি দিয়ে খেলতে পারে, বারান্দার রেলিংয়ে উঠতে পারে, ছাদে যেতে পারে, দিয়াশলাই নিয়ে খেলতে পারে। বাচ্চাদের common sense এতোটুকু কাজ করে যে বড় কেউ বাসায় থাকলে তারা বড়দের কোন জিনিস দিয়ে সাধারণত খেলে না। এই কাজগুলো সাধারণতঃ তখনই করে যখন বাসায় কেউ থাকে না, তখন তারা নিজেদেরকে স্বাধীন মনে করে।
শিশুদের গায়ে হাত তোলা ঠিক নয়: আমরা ছোটবেলায় মা-বাবার হাতে অনেক মার খেয়েছি। স্কুলে তো শিক্ষকের বেতের বাড়ির কথা মনে পড়লে এখনো গা শিউরে উঠে। যাহোক, তারা আমাদের ভালোর কথা চিন্তা করেই হয়তো গায়ে হাত তুলেছেন। তৎকালীন সময়ে শিশুদের সংশোধন প্রক্রিয়া অমানবিক ছিল যা শিশু মনোবিজ্ঞান বা ইসলাম কেউ সমর্থন করে না। নর্থ- আমেরিকায় শিশুর গায়ে হাত তোলা দন্ডনীয় অপরাধ, সেটা মা-বাবা হোক কিংবা স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা হোক। এছাড়া ইসলামে কারো মুখে আঘাত করা সম্পূর্ণরূপে নিষেধ।
দশ বছর বয়স হলে শিশুদের বিছানা আলাদা করে দিতে হবে: আমাদের দেশের কালচারে শিশুরা সাধারণত মা-বাবার সাথেই ঘুমায়। এখন প্রশ্ন: শিশুরা কত বছর বয়স পর্যন্ত মা-বাবার সাথে ঘুমাতে পারবে? আবু দাউদের সহীহ হাদীসে রসূল বলেছেন দশ বছর বয়স হলে শিশুদেরকে আলাদা বিছানা করে দিতে, সে যেন আর মা-বাবার সাথে না ঘুমায়।
📄 শিশুদের সাথে কথা বলা
শিশুদের কথা বলার সময় প্যারেন্টদের উপস্থিত থাকা উচিত
* শিশুরা সাধারণত যে বয়সে বেশী কথা বলে। যেমন: ঘুমানোর আগে শুয়ে শুয়ে, ডাইনিং টেবিলে খাওয়ার আগে, গাড়িতে কোথাও যাবার সময়।
* তাদেরকে এটা বুঝতে দিতে হবে যে, সে যে বিষয়ের গুরুত্ব দিচ্ছে তা তার মা-বাবাও গুরুত্ব দিচ্ছে।
* শিশুরা যে কাজগুলো করে তার সাথে সপ্তাহে অন্ততপক্ষে একদিন মা-বাবার উচিত সময় দেয়া এবং সেই কাজগুলো করা।
* শিশুদের কাছে যে বিষয়গুলো বেশী আগ্রহ সেই বিষয়গুলোর উপর মা-বাবার উচিত দক্ষতা অর্জন করা।
শিশুদের বুঝতে দিতে হবে যে প্যারেন্ট তার কথা গুরুত্বসহকারে শুনছে
* শিশুরা যখন কোন একটি বিষয়ে কথা বলা শুরু করে তখন মা-বাবার উচিত তাদের নিজের কাজ বন্ধ করে দিয়ে শিশুর কথা শুনা।
* তাকে বিরক্ত না করে বা তাকে কথার মাঝখানে বন্ধ করে না দিয়ে তার কথার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।
* যদি তার কথা ঠিক মতো বুঝাও না যায় তবুও তার কথা মনোযোগ সহকারে শুনা উচিত।
* তাদের কথা পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত মা-বাবা কোন কথা বলা ঠিক নয়।
* তার কোন কথা বুঝা না গেলে তাকে আবার জিজ্ঞেস করা উচিত。
এমনভাবে শিশুদের সাথে আচরণ করতে হবে যেন তারা কথা শুনে
* তাদের সাথে শক্ত কথাও নরম করে বলতে হবে, তাদের সাথে রাগান্বিত কন্ঠে অথবা প্রতিরোধের কন্ঠে কথা বলা যাবে না।
• তাদেরকে ছোট করে বা হেয় করে কোন কথা বলা যাবে না। স্বীকার করতে হবে যে তার দ্বিমত করার অধিকার আছে।
• তাদের সাথে দ্বিমত নিয়ে তর্ক করা ঠিক নয়। বরং এভাবে বলা যেতে পারে যে, "আমি জানি তুমি আমার সাথে একমত নও কিন্তু আমি এটা মনে করি"।
• শিশুর সাথে কথোপকথনের সময় শ্রোতার নিজের অনুভূতির কথা বাদ দিয়ে শিশুদের অনুভূতির দিকে বেশী গুরুত্ব দিতে হবে।
প্যারেন্টদের আরো মনে রাখা উচিত
• শিশুর সাথে কথোপকথনের সময় তাকে জিজ্ঞেস করতে হবে যে, সে কি কিছু চায়? বা তার কি কিছুর প্রয়োজন আছে?
• শিশুরা সাধারণত মা-বাবাকে নকল (অনুকরণ) করে। তারা দেখে মা-বাবা কিভাবে সমস্যার সমাধান করেন。
• শিশুদের সাথে তাদের মতো করে কথা বলতে হবে। তাদেরকে লেকচার দেয়া যাবে না, তাদেরকে বিরূপ সমালোচনা করা যাবে না, তাদেরকে ধমক দিয়ে কথা বলা যাবে না এবং তারা মনে কষ্ট পেতে পারে এমন কোন কথাই বলা যাবে না।
• শিশুরা নিজের পছন্দ অনুযায়ী নতুন নতুন বিষয় শিখতে থাকে। যদি তার শিক্ষার মধ্যে ক্ষতিকারক কিছু না থাকে তাহলে তাকে বাধা দেয়া উচিত নয়।
• শিশুরা অনেক সময় বাবা-মাকে পরীক্ষা করে যে বাবা-মা তার কথা শুনে কিনা। সে যে বিষয়ই নিয়ে আসুক না কেন তার গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে। তা না হলে সে কথা বলার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।
📄 শিশুদের নিয়ে আরো কিছু মূল্যবান টিপস
১. শিশুরা যেন কখনো শুয়ে শুয়ে না খায়।
২. শিশুরা যখন ঘুমায় তার সাথে মা অথবা বাবারও ঘুমানো উচিত।
৩. শিশুদের সামনের কখনো উঁচু গলায় কথা বলা ঠিক নয়।
৪. দুই বছরের আগে শিশুদের টিভি দেখতে দেয়া ঠিক নয়।
৫. শিশুদের দিনে দুই ঘন্টার বেশী টিভি দেখতে দেয়া ঠিক নয়。
৬. গানে গানে যে সকল শিক্ষণীয় বিষয় আছে তা তিন বছর বয়স থেকে দেখতে দিলে ভাল।
৭. শিশুদের দেহ কখনো ঝাঁকানো ঠিক না বা তাদেরকে ছুঁড়ে মারা ঠিক নয়।
৮. মা-বাবারা শিশুদের সামনে কখনো ঝগড়া করতে নেই।
৯. মা-বাবারা শিশুদের সামনে কখনো তর্ক করাও উচিত নয়।
১০. শিশুদের শাস্তি দেয়া মোটেও ঠিক নয়।
১১. দিনে অন্তত পক্ষে ২০ মিনিট শিশুদের কিছু একটা পড়তে দেয়া উচিত।
১২. শিশুদের সাথে নিয়ে প্রতিদিন কিছুক্ষণ ব্যায়াম করা উচিত।
১৩. শিশুদের একেবারেই মারামারির কোন কার্টুন দেখতে দেয়া উচিত নয়।
১৪. শিশুদের কোন সাহায্য ছাড়া নিজে থেকেই দাঁড়াতে উৎসাহ দেয়া উচিত।
১৫. শিশুদের কোন আজেবাজে নামে ডাকা ঠিক নয়।
১৬. শিশুদের নতুন একটা খেলনা দেয়ার আগে পুরোনোটা সরিয়ে ফেলা উচিত।
১৭. শিশুদের অভ্যাস করানো উচিত সে যেন নিজের ময়লা করা জায়গা নিজেই পরিষ্কার করে।
১৮. শিশুদের সার এবং কেমিক্যালমুক্ত শাক-সবজি এবং অন্যান্য খাবার খাওয়ানো উচিত।
১৯. দুই বছরের শিশু দায়িত্ববোধ করে এবং নিজের কাজ নিজে করা শিখে।
২০. প্রত্যেক শিশুকে কিছু সময় একা একা থাকতে দেয়া উচিত, এতে তার প্রতিভার বিকাশ ঘটে। তবে সেই একাকীত্বটা মা-বাবার দৃষ্টির আড়ালে নয়।
২১. শিশুরা বাবা এবং মা দু'জনের কাছ থেকেই যেন গিফ্ট বা উপহার পায়।
২২. স্কুলে যাওয়ার আগে থেকেই তারা যেন খেলাধুলা করে।
২৩. শিশুদের বিভিন্ন কালচারের সাথেও পরিচয় করিয়ে দেয়া প্রয়োজন।
২৪. তাদের নিজেদেরকেই নিজের জিনিস পছন্দ করতে দেয়া উচিত।
২৫. শিশুদেরকে সাথে নিয়ে সবাই এক টেবিলে খেতে বসা উচিত।
২৬. শিশুদেরকে সাথে নিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করা অতি উত্তম অভ্যাস।
২৭. সবসময় তাদেরকে পজিটিভভাবে উৎসাহ দেয়া উচিত।
২৮. শিশুদেরকে খেলায় হারতে দেয়া উচিত এবং এভাবে শিক্ষা দেয়া উচিত যে কিভাবে খেলায় ভাল করতে হয়।
২৯. শিশুদের কখনো চড়-থাপ্পড় দেয়া উচিত নয়।
৩০. তাদেরকে বুঝতে দিতে হবে যে খারাপ কাজের ক্ষতিপূরণ দিতে হয়।
৩১. সময় সময় তাদেরকে অন্যান্য শিশুদের সাথেও খেলতে দেয়া উচিত।
৩২. শিশুদের আগুন নিয়ে অথবা ধারালো কিছু নিয়ে কখনো খেলতে দেয়া মোটেও ঠিক নয়।
৩৩. শিশুদের কখনো খেলনা পিস্তল বা বন্দুক দিয়ে খেলতে দেয়া উচিত নয়।
৩৪. খেলার শেষে তার খেলনাগুলো যেন সে গুছিয়ে এক জায়গায় রাখে এই শিক্ষা দেয়া।
৩৫. শিশুরা যখন কাঁদে তখন তাদেরকে কাঁদতে দেয়া উচিত, জোড় করে থামিয়ে দেয়া উচিত নয়।
৩৬. শিশুদেরকে কাদা, মাটি, ধুলা ইত্যাদি দিয়েও খেলতে দেয়া উচিত।
৩৭. মেয়ে শিশুদেরকে নিজ মায়ের বড় বড় ড্রেসগুলো পড়তে বাধা দেয়া উচিত নয়।
৩৮. একইভাবে ছেলে শিশুদেরকে নিজ বাবার জুতা, শার্ট ইত্যাদি পড়তে বাধা দেয়া উচিত নয়।
৩৯. শিশুদের জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করা উচিত নয়।
৪০. পটি (potty) ট্রেনিং ছেলে শিশুদের তিন বছর বয়সে এবং মেয়ে শিশুদের দুই বছর বয়সে দেয়া উচিত।
৪১. শিশুদের গায়ে মাথা রেখে কখনো শোয়া ঠিক নয়।
৪২. শিশুদের নতুন নতুন কাজ করতে দেয়া উচিত, তাদের কাজে বাধা না দিয়ে উৎসাহ দেয়া উচিত।
৪৩. শিশুদের সাথে প্রতিদিন ফান (fun) করা এবং হাসাহাসি করা উচিত।
৪৪. তাদেরকে নিজের ভুল নিজেই সংশোধন করতে দেয়া উচিত।
৪৫. মা-বাবা যখন কোন ভুল করবেন, তখন শিশুদেরকে সরি (sorry) বলা উচিত।
৪৬. শিশুরা যেন দেখে যে মা-বাবাকে এবং বাবা মাকে ভালবাসে।
৪৭. শিশুদেরকে মা-বাবার প্রতিদিন বলা উচিত যে আমরা তোমাকে খুব ভালবাসি।
৪৮. শিশুদের যখন দাঁত উঠা শুরু করে তখন তাদেরকে বাংলার পাশাপাশি ইংরেজী অথবা আরবী ভাষাও শিক্ষা দেয়া উচিত।
৪৯. শিশু বয়সে একটি শিশু এক সাথে চারটি ভাষা আয়ত্ত করতে পারে।
৫০. স্বামী-স্ত্রীর গোপনীয় মুহূর্তগুলো যেন শিশুর সামনে প্রকাশ না পায় কখনো।
৫১. তাদের সাথে সবসময় ধৈর্যধারণ করতে হবে।
কাজের বুয়ার মাধ্যমে শিশু লালন-পালন ঠিক নয়
সন্তানের বেড়ে উঠার বয়সে আমরা বাবা-মায়েরা একটা বড় ধরণের ভুল করে থাকি আর তা হচ্ছে ছোট সন্তানকে কাজের বুয়ার মাধ্যমে লালন-পালন করা। স্বাভাবিকভাবেই একজন কাজের বুয়ার কতটুকু জ্ঞান রয়েছে একটি শিশুকে নীতি-নৈতিকতা দিয়ে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে। বুয়াদের সাধারণত সাধারণ শিক্ষাই থাকে না তার উপর আবার ইসলামী শিক্ষা থাকা তো দূরের কথা। আমরা যদি খুব গভীরভাবে চিন্তা করে দেখি বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
বাস্তবে দেখা গেছে যে বাংলাদেশের ডে-কেয়ারগুলোতে মূলতঃ কাজের বুয়ারাই শিশুদের লালন-পালন করে থাকে যেখানে উন্নত দেশগুলোর ডে-কেয়ারে বেবীসিটার হিসেবে চাকুরী করতে হলে আর্লি চাইল্ডহুড এডুকেশনের উপর ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েশন নিতে হয় এবং এই সার্টিফিকেশন ছাড়া কেউ বাচ্চা ধরতেই পারে না। সেখানে আমাদের দেশে উচ্চবিত্তদের সন্তানরাও বুয়ার হাতে মানুষ হয়। তাই এই বিষয়ে বিশেষ করে সন্তানের মায়ের এগিয়ে আসা উচিত। একটি শিশুর সর্বপ্রথম গৃহ শিক্ষীকা হচ্ছেন তার মা। সন্তান আল্লাহর দেয়া আমানত, এই মহামূল্যবান আমানত বুয়ার হাতে ছেড়ে না দিয়ে মায়ের উচিত সেই দায়িত্ব পরিপূর্ণভাবে পালন করা। যারা চাকুরী করেন তাদেরও এই বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে একটি উপায় বের করে আনা।