📄 ছেলে সন্তানের মুসলমানি (খতনা) কখন করাবো?
ছেলে সন্তানকে মুসলমানি করানো সুন্নাহ। রসূল হাসান ও হুসাইন উভয়ের আকীকা ও খতনা সপ্তম দিনে করেছিলেন। (বায়হাকী) অবশ্যই এই কাজটি ভাল ডাক্তার দিয়ে হসপিটাল বা ক্লিনিকে নিয়ে করাতে হবে। উন্নত দেশে ছেলের মুসলমানি জন্মের কিছু দিনের মধ্যে হসপিটালে ডাক্তাররা করিয়ে দেন। উন্নত দেশের অমুসলিমরাও মুসলমানি করায় স্বাস্থ্যগত উপকারিতার জন্য। আমাদের দেশে একটি অনৈসলামী প্রথা প্রচলন আছে যে, মুসলমানির অনুষ্ঠান করা এবং সবাইকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো ও উপহার গ্রহণ করা। এই ধরনের কোন অনুষ্ঠান বা নিয়ম ইসলামে নেই। আমরা না জানার কারণে আকীকা করি না কিন্তু মুসলমানির অনুষ্ঠান করি, অর্থাৎ যেটা করার কথা সেটা করি না কিন্তু যেটা করার কথা না সেটা করি।
কেউ কেউ মনে করতে পারে যে, ছেলেকে মুসলমানি করালে সে ঐ দিন থেকে মুসলিম হয়। এই ধারণা ঠিক না। প্রতিটি শিশু মুসলিম হয়েই জন্মগ্রহণ করে, এমনকি সে হিন্দু বা খৃষ্টানের ঘরে জন্ম নিলেও। পরবর্তীতে তার মা-বাবা ঐ শিশুকে হিন্দু, খৃষ্টান বা নাস্তিক বানায়। (এই কথাগুলি রসূলুল্লাহ -এর সহীহ হাদীসে আছে।)
📄 ভূমিষ্ট শিশু নিয়ে কুসংস্কার মুক্ত থাকা
সন্তান জন্ম নিয়ে আমাদের দেশে অনেক কুসংস্কার প্রচলিত আছে। এই সকল কুসংস্কার থেকে আমাদের দূরে থাকতে হবে এবং অন্যদেরকে বুঝাতে হবে। কারণ অনেক কুসংস্কার শিরকে পরিণত হয়ে যায় যা আল্লাহ কখনো ক্ষমা করবেন না। গ্রামাঞ্চলে এখনো প্রচলিত আছে যে প্রেগন্যান্ট মাকে নিজ ঘর থেকে আলাদা করে দেয়া হয়, তাকে নিম্নমানের একটি আলাদা ঘরে রাখা হয়, তার থেকে বাড়ির মানুষজন দূরে দূরে থাকে, তার ঘরে গেলে ক্ষতি হতে পারে এমন মনে করে। এগুলো সবই ইসলামবিরোধী। একটি শিশু যখন ভূমিষ্ট হয় তখন সে এক জগত থেকে অন্য জগতে আসে, তার পরিবেশ পরিপূর্ণভাবে পরিবর্তন হয়ে যায়, সেজন্য তার নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকে শিশুর কোন বিষয়ে একটু এদিকসেদিক দেখলেই বলে ফেলে যে তাকে জ্বীনে ধরেছে। এই ধারণা করা ঠিক না বরং অতিসত্বর শিশুকে ডাক্তার দেখাতে হবে, এবং কোন কবিরাজের বা কোন মৌলভীর নিকট যাওয়া অনুচিৎ। ওরা কুসংস্কারাচ্ছন্ন, ওরা চিকিৎসার কিছুই জানে না।
📄 শিশু সন্তানকে শিরক থেকে মুক্ত রাখা
তারপর সন্তান জন্ম হলে তার কপালে কালো টিপ দেয়া হয়, পায়ে কালো টিপ দেয়া হয়, এগুলোও কুসংস্কার, এগুলো করা গুনাহর কাজ। অনেকে কথায় কথায় বলে থাকে শিশুরা হচ্ছে ফিরিশতা। এই ধরনের কথাও ঠিক না। শিশুরা হচ্ছে মানুষ, তারা ফিরিশতা হতে পারে না। তবে হ্যাঁ, তারা নিষ্পাপ। কিন্তু তারা ফিরিশতাদের মতো নিষ্পাপ এই কথা বলাও ঠিক না। ফিরিশতাদের জায়গায় ফিরিশতারা এবং মানুষের জায়গায় মানুষ, এই দু'টি আল্লাহর আলাদা আলাদা সৃষ্টি, কারো সাথে কারো তুলনা করা ঠিক না। মনে রাখা প্রয়োজন যে মানুষের সৃষ্টি মাটি থেকে কিন্তু ফিরিশতাদের সৃষ্টি নূর থেকে。
আরো একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। কেউ কেউ সন্তানের গলায় তাবিজ ঝুলিয়ে দেয় সন্তানকে জিন-ভূত থেকে রক্ষা করার জন্য বা কোন বদ নজর থেকে দূরে রাখার জন্য। মনে রাখতে হবে যে কোন ধরনের তাবিজ শরীরে ঝুলানো শিরক এমনকি যদিও সেটি কোন মাওলানা থেকে কুরআনের আয়াত দিয়ে লেখা তাবিজও হয়। শিশুর শরীরে কোন প্রকার কালো সূতা বা কড়ি ঝুলানো যাবে না। এমনকি কুরআনের আয়াতসহ স্বর্ণের বা অন্য কোন ধাতব পর্দাথের লকেট গলায় ঝুলানো যাবে না। এগুলো সুস্পষ্ট গুনাহর কাজ।