📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 সন্তান জন্মের পর প্রথম দিনের দায়িত্ব

📄 সন্তান জন্মের পর প্রথম দিনের দায়িত্ব


সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সাথে সাথে অন্য কোন কথা বা শব্দ শিশুর কানে প্রবেশ করার পূর্বেই তার কানে আল্লাহর নাম প্রবেশ করানো উত্তম। তারপর যা করণীয় তা হলোঃ

১. গোসল দেয়া : নবজাতক শিশুকে আপনজন বা নার্স বিসমিল্লাহ পড়তে পড়তে হালকা গরম পানি দ্বারা গোসল দিয়ে গা, হাত, পা মুছে কাঁথা বা তোয়ালে বা নরম কাপড় দ্বারা আবৃত করে কোলে নিতে হবে।

২. আযান শোনানো : নবজাতক সন্তান ছেলে হোক আর মেয়ে হোক উভয়ের ক্ষেত্রেই ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর ডান কানে আযান বলা সুন্নাত। এই সময় আযান মসজিদের মুয়াজ্জিনের মতো সুর করে জোরে জোরে দিতে হবে না, আযানের প্রতিটি শব্দ তার কানের কাছে মুখ নিয়ে আস্তে আস্তে উচ্চারণ করে বললেই হবে।
“আবু রাফে বলেন, ফাতিমা হাসান ইবনে আলী-কে প্রসব করলে আমি রসূলুলাহ -কে হাসানের কানে সলাতের আযানের অনুরূপ আযান দিতে দেখেছি।” (জামে আত-তিরমিযী, আবু দাউদ)

৩. তাহনীক করা: ভূমিষ্ট শিশুর মাতা সামান্য কোন মিষ্টি দ্রব্য চিবিয়ে রস বের করে শিশুকে মুখের লালার সাথে মিশ্রিত করে তা আঙ্গুল দ্বারা মুখের ভেতর জিহ্বার তালুতে লাগিয়ে দেয়া সুন্নাহ। (সহীহ বুখারী) তবে যাদের মুখে অসুখ রয়েছে বা যারা পান-সিগারেট খান তাদের এই কাজটি করা উচিত নয়।

৪. দুধপান করানো: সন্তানের জন্য মায়ের পক্ষ থেকে প্রথম উপহার হলো মায়ের দুধ। এটি ভূমিষ্ঠ হওয়া সন্তানের জন্য পরিপূর্ণ খাদ্য। এতে আল্লাহ তা'আলা শিশুর যা প্রয়োজন তার সকল উপাদান দিয়ে দিয়েছেন। আজকাল কিছু কিছু মায়েরা অনেক খোঁড়া যুক্তি উপস্থাপনের মাধ্যমে শিশুকে এ দুধ পান করা থেকে বঞ্চিত করে থাকেন অর্থাৎ এখান থেকেই শুরু হয় মায়ের দ্বারা সন্তানের অধিকার হরণ। অথচ একটু চিন্তা করা উচিত- মায়ের স্তনে এ দুধ কে দিল? কেন দিল? কেন এ সময়ে দিল? কেন মায়ের স্তনে ন্যাচারালি অন্য সময়ে দুধ আসে না ইত্যাদি। সুতরাং বিষয়টি পরিষ্কার, এমন মায়েদের আচরণে লংঘিত হচ্ছেঃ ক) সন্তানের অধিকার। খ) মহান আল্লাহ তা'আলার আদেশ।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 সন্তান জন্মের পর সপ্তম দিনের দায়িত্ব

📄 সন্তান জন্মের পর সপ্তম দিনের দায়িত্ব


১. উত্তম নাম রাখা: সন্তান পুত্র বা কন্যা যাই হোক না কেন তাদের উত্তম ও সুন্দর অর্থবোধক নাম থাকা বাঞ্ছনীয়। এটি মা-বাবার কাছে সন্তানের হক। মুসলিম নামের বই বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। এছাড়া ইন্টারনেটে সার্চ দিলেই শত শত নামের লিস্ট পাওয়া যাবে। সেখান থেকে বাছাই করে একটি সুন্দর অর্থবহ নাম রাখা উচিত। খুব ভালো হয় যে, কিছু নাম পছন্দ করে কোনো যোগ্য আলেমের কাছ থেকে যাচাই করে নেয়া। কারণ অনেক সময় অনলাইনে সঠিক তথ্য নাও থাকতে পারে। রসূলুল্লাহ বলেছেন: কিয়ামাতের দিন তোমাদের ডাকা হবে তোমাদের স্ব-স্ব নাম ও বাবার নামসহ। অতএব তোমরা ভাল নাম রাখবে। (আবু দাউদ)

২. মাথার চুল কাটা : সপ্তম দিনে শিশুর মাথার চুল কামিয়ে (মুণ্ডন) দেয়া শিশুর অধিকার। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম) আলী ইবনে আবু তালিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূল একটি ছাগল দিয়ে হাসানের আকীকা করেন এবং বলেন: হে ফাতিমা! তার মাথা কামাও এবং তার চুলের ওজনের সমপরিমাণ রূপা দান কর। তদানুযায়ী আমি তার চুল ওজন করলাম এবং তার ওজন এক দিরহাম বা তার কাছাকাছি হল। (জামে আত-তিরমিযী)

কোন কোন ডাক্তার শিশুর মাথার চুল কামাতে নিষেধ করেন। যদিও মেডিকেল সায়েন্স অনুযায়ী এর কোন জোড়ালো ক্ষতিকারক কারণ নেই। যেসব ডাক্তারের ইসলামের সঠিক জ্ঞান নেই তারা হয়ত এই সুন্নাহ পালনে গুরুত্ব দেন না। চুল ছেটে দেয়ার ফলে শিশুর দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ এবং চিন্তা শক্তি বৃদ্ধি পেয়ে থাকে。

৩. আকীকা করা : নবজাতক সন্তান ছেলে হলে দু'টি ছাগল অথবা ভেড়া আর কন্যা হলে একটি ছাগল অথবা ভেড়া তার নামানুসারে যবেহ করা উত্তম। আকীকা করতে হয় সন্তান জন্মের সপ্তম দিনে, সেদিন সম্ভব না হলে ১৪তম দিনে এবং সেটিও সম্ভব না হলে ২১তম দিনে আকীকা দিতে হবে। এই কুরবানী আল্লাহর হক। অর্থাৎ সন্তান হয়েছে এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু কুরবানী দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। আকীকার জন্য অনুষ্ঠান করে সেই মাংস রান্না করে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী এবং গরীব-দুঃখীদের খাওয়ানো যেতে পারে। আর অনুষ্ঠান করতে না চাইলে ঐ মাংস আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী এবং গরীব-দুখীদের মাঝে বিতরণ করে দেয়া যেতে পারে।

রসূল বলেছেন: ছেলেদের আকীকা কর অর্থাৎ তার পক্ষ থেকে কুরবানীর মাধ্যমে রক্ত বইতে দাও; এবং কষ্টদায়ক বস্তু (মাথার চুল) মুন্ডন করে দাও। (সহীহ বুখারী)

আকীকা প্রসঙ্গে রসূল বলেছেন: পুত্র সন্তানের পক্ষ থেকে সমবয়সী দু'টি ছাগল এবং কন্যা সন্তানের পক্ষ থেকে একটি ছাগল আকীকা দাও। (জামে আত-তিরমিযী)

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 ছেলে সন্তানের মুসলমানি (খতনা) কখন করাবো?

📄 ছেলে সন্তানের মুসলমানি (খতনা) কখন করাবো?


ছেলে সন্তানকে মুসলমানি করানো সুন্নাহ। রসূল হাসান ও হুসাইন উভয়ের আকীকা ও খতনা সপ্তম দিনে করেছিলেন। (বায়হাকী) অবশ্যই এই কাজটি ভাল ডাক্তার দিয়ে হসপিটাল বা ক্লিনিকে নিয়ে করাতে হবে। উন্নত দেশে ছেলের মুসলমানি জন্মের কিছু দিনের মধ্যে হসপিটালে ডাক্তাররা করিয়ে দেন। উন্নত দেশের অমুসলিমরাও মুসলমানি করায় স্বাস্থ্যগত উপকারিতার জন্য। আমাদের দেশে একটি অনৈসলামী প্রথা প্রচলন আছে যে, মুসলমানির অনুষ্ঠান করা এবং সবাইকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো ও উপহার গ্রহণ করা। এই ধরনের কোন অনুষ্ঠান বা নিয়ম ইসলামে নেই। আমরা না জানার কারণে আকীকা করি না কিন্তু মুসলমানির অনুষ্ঠান করি, অর্থাৎ যেটা করার কথা সেটা করি না কিন্তু যেটা করার কথা না সেটা করি।

কেউ কেউ মনে করতে পারে যে, ছেলেকে মুসলমানি করালে সে ঐ দিন থেকে মুসলিম হয়। এই ধারণা ঠিক না। প্রতিটি শিশু মুসলিম হয়েই জন্মগ্রহণ করে, এমনকি সে হিন্দু বা খৃষ্টানের ঘরে জন্ম নিলেও। পরবর্তীতে তার মা-বাবা ঐ শিশুকে হিন্দু, খৃষ্টান বা নাস্তিক বানায়। (এই কথাগুলি রসূলুল্লাহ -এর সহীহ হাদীসে আছে।)

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 ভূমিষ্ট শিশু নিয়ে কুসংস্কার মুক্ত থাকা

📄 ভূমিষ্ট শিশু নিয়ে কুসংস্কার মুক্ত থাকা


সন্তান জন্ম নিয়ে আমাদের দেশে অনেক কুসংস্কার প্রচলিত আছে। এই সকল কুসংস্কার থেকে আমাদের দূরে থাকতে হবে এবং অন্যদেরকে বুঝাতে হবে। কারণ অনেক কুসংস্কার শিরকে পরিণত হয়ে যায় যা আল্লাহ কখনো ক্ষমা করবেন না। গ্রামাঞ্চলে এখনো প্রচলিত আছে যে প্রেগন্যান্ট মাকে নিজ ঘর থেকে আলাদা করে দেয়া হয়, তাকে নিম্নমানের একটি আলাদা ঘরে রাখা হয়, তার থেকে বাড়ির মানুষজন দূরে দূরে থাকে, তার ঘরে গেলে ক্ষতি হতে পারে এমন মনে করে। এগুলো সবই ইসলামবিরোধী। একটি শিশু যখন ভূমিষ্ট হয় তখন সে এক জগত থেকে অন্য জগতে আসে, তার পরিবেশ পরিপূর্ণভাবে পরিবর্তন হয়ে যায়, সেজন্য তার নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকে শিশুর কোন বিষয়ে একটু এদিকসেদিক দেখলেই বলে ফেলে যে তাকে জ্বীনে ধরেছে। এই ধারণা করা ঠিক না বরং অতিসত্বর শিশুকে ডাক্তার দেখাতে হবে, এবং কোন কবিরাজের বা কোন মৌলভীর নিকট যাওয়া অনুচিৎ। ওরা কুসংস্কারাচ্ছন্ন, ওরা চিকিৎসার কিছুই জানে না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px