📄 সন্তান জন্মের আগের নৈতিক দায়িত্ব
১. মা-বাবা উভয়ে উত্তম ও ভাল কাজের নিয়্যত করা।
২. মা-বাবা উভয়ে হালাল উপার্জন করা।
৩. মা-বাবা উভয়ে হালাল খাবার খাওয়া।
৪. ওয়াক্ত মতো দৈনিক পাঁচ সলাত আদায় করা।
৫. সম্ভব হলে মাঝে মাঝে তাহাজ্জুদ সলাত আদায় করা।
৬. সলাতের পর তাসবীহ পাঠ করা।
৭. দু'জনেই খুব বেশীবেশী ভাল কাজ করা।
৮. প্রতিদিন আল-কুরআন অর্থসহ তিলাওয়াত করতে চেষ্টা করা।
৯. নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত শুনা।
১০. ইসলামের উপর অন্যান্য বই অধ্যয়ন করা।
১১. মানুষের সাথে আরো বেশী ভালো আচরণ করা।
১২. গরীবদের মাঝে দান-সদাকা করা।
১৩. গীবত বা পরনিন্দা, কুৎসা রটনা, অহংকার ও দাম্ভিকতাপূর্ণ অসুন্দর বা খারাপ কথা বলা ও খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকা।
১৪. টিভি/ইন্টারনেটে অশ্লীল নাচ, গান, সিরিয়াল, নাটক, সিনেমা না দেখা।
📄 সন্তান জন্মের আগের স্বাস্থ্যগত দায়িত্ব
১. ডাক্তার দ্বারা নিয়মিত চেকআপ করানোর চেষ্টা করা।
২. গর্ভবতীর উপর কোন প্রকার মানসিক বা দৈহিক চাপ সৃষ্টি না করা।
৩. পারিবারিক কলহ থেকে দূরে থাকা।
৪. সবার সাথে হাসি-খুশীভাবে কথা বলা।
৫. নিজের বাচ্চাদের মারধর না করা, তাদের সাথে ভাল আচরণ করা।
৬. মাঝেমধ্যে চিত্ত-বিনোদনের উদ্দেশ্যে বাইরে কোথাও বেড়াতে যাওয়া।
৭. প্রতিদিন অবশ্যই গোসল করা এবং শরীরের প্রতি যত্ন নেয়া।
৮. সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা।
৯. এ সময় বেশীবেশী পানি পান করা।
১০. গর্ভাবস্থায় সব সময় ঢিলাঢালা পোশাক পরা।
১১. ঝগড়া-ঝাটি না করা, কাউকে গালাগালি না করা।
১২. রাগ কমিয়ে হাসিখুশী থাকার চেষ্টা করা।
📄 সন্তান জন্মের পরপর দায়িত্ব
১. সন্তানের ভাল নাম রাখা (সুন্দর অর্থ দেখে)।
২. সন্তানের মর্যাদা রক্ষা করা।
৩. সঠিক উপায়ে সন্তান লালন-পালন করা।
৪. সন্তানের সাথে সুন্দর আচরণ করা।
৫. সন্তানকে স্নেহ ও ভালবাসা দেয়া।
৬. সন্তানকে উত্তম শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেয়া।
৭. বিবাহযোগ্য হলে সন্তানকে উপযুক্ত পাত্র বা পাত্রীর নিকট বিবাহ দেয়া।
📄 সন্তান জন্মের পর প্রথম দিনের দায়িত্ব
সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সাথে সাথে অন্য কোন কথা বা শব্দ শিশুর কানে প্রবেশ করার পূর্বেই তার কানে আল্লাহর নাম প্রবেশ করানো উত্তম। তারপর যা করণীয় তা হলোঃ
১. গোসল দেয়া : নবজাতক শিশুকে আপনজন বা নার্স বিসমিল্লাহ পড়তে পড়তে হালকা গরম পানি দ্বারা গোসল দিয়ে গা, হাত, পা মুছে কাঁথা বা তোয়ালে বা নরম কাপড় দ্বারা আবৃত করে কোলে নিতে হবে।
২. আযান শোনানো : নবজাতক সন্তান ছেলে হোক আর মেয়ে হোক উভয়ের ক্ষেত্রেই ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর ডান কানে আযান বলা সুন্নাত। এই সময় আযান মসজিদের মুয়াজ্জিনের মতো সুর করে জোরে জোরে দিতে হবে না, আযানের প্রতিটি শব্দ তার কানের কাছে মুখ নিয়ে আস্তে আস্তে উচ্চারণ করে বললেই হবে।
“আবু রাফে বলেন, ফাতিমা হাসান ইবনে আলী-কে প্রসব করলে আমি রসূলুলাহ -কে হাসানের কানে সলাতের আযানের অনুরূপ আযান দিতে দেখেছি।” (জামে আত-তিরমিযী, আবু দাউদ)
৩. তাহনীক করা: ভূমিষ্ট শিশুর মাতা সামান্য কোন মিষ্টি দ্রব্য চিবিয়ে রস বের করে শিশুকে মুখের লালার সাথে মিশ্রিত করে তা আঙ্গুল দ্বারা মুখের ভেতর জিহ্বার তালুতে লাগিয়ে দেয়া সুন্নাহ। (সহীহ বুখারী) তবে যাদের মুখে অসুখ রয়েছে বা যারা পান-সিগারেট খান তাদের এই কাজটি করা উচিত নয়।
৪. দুধপান করানো: সন্তানের জন্য মায়ের পক্ষ থেকে প্রথম উপহার হলো মায়ের দুধ। এটি ভূমিষ্ঠ হওয়া সন্তানের জন্য পরিপূর্ণ খাদ্য। এতে আল্লাহ তা'আলা শিশুর যা প্রয়োজন তার সকল উপাদান দিয়ে দিয়েছেন। আজকাল কিছু কিছু মায়েরা অনেক খোঁড়া যুক্তি উপস্থাপনের মাধ্যমে শিশুকে এ দুধ পান করা থেকে বঞ্চিত করে থাকেন অর্থাৎ এখান থেকেই শুরু হয় মায়ের দ্বারা সন্তানের অধিকার হরণ। অথচ একটু চিন্তা করা উচিত- মায়ের স্তনে এ দুধ কে দিল? কেন দিল? কেন এ সময়ে দিল? কেন মায়ের স্তনে ন্যাচারালি অন্য সময়ে দুধ আসে না ইত্যাদি। সুতরাং বিষয়টি পরিষ্কার, এমন মায়েদের আচরণে লংঘিত হচ্ছেঃ ক) সন্তানের অধিকার। খ) মহান আল্লাহ তা'আলার আদেশ।