📄 সন্তান জন্মের পূর্বে সতর্কতা
অতি দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বাস্তবে দেখা গেছে যে প্রেগন্যান্ট মায়েরা নয় মাস দশ দিন (৪০ সপ্তাহ) সময় কাটায় অনৈসলামী কর্মকান্ড করেন। সন্তান আল্লাহ দিয়েছেন আমাদেরকে নিয়ামতস্বরূপ, এ জন্য আমাদের সবসময় মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার কথা কিন্তু আমরা করি তার উল্টোটা। আল্লাহ তা'আলা যে সকল কাজ হারাম করেছেন এবং যেসকল কাজ করা পছন্দ করেন না সেগুলো আমরা প্রেগন্যান্ট অবস্থায় করে থাকি। তখন অবসর সময় কাটানোর জন্য দেখা গেছে অনেক মায়েরাই রিমোট হাতে টিভির সামনে বসে সময় কাটায়, অশ্লীল নাচ, গান, সিরিয়াল, নাটক, হিন্দি সিনেমা, ইত্যাদি উপভোগ করে থাকেন।
আমরা যদি একটু গভীরভাবে চিন্তা করে দেখি যে, পেটে যে সন্তান আছে সে সবই শুনতে পায় এবং মায়ের কাজকর্ম বুঝতে পারে। একজন মা যদি ঠিক মতো পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় করেন, এই সময় ভাল বই পড়েন, কুরআন তিলাওয়াত করেন, কুরআন তিলাওয়াত শুনেন, কুরআনের তরজমা শুনেন, হাদীস পড়েন, কুরআনের তাফসীর পড়েন, ইসলামিক লেকচার শুনেন এবং দেখেন তাহলে সেই পেটের সন্তানের উপর কেমন শুভ প্রভাব পড়বে? আর তার ঠিক উল্টোটা যদি কোন মা করেন, ইসলাম যার অনুমোদন দেয় না তা করেন, আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা করেন, নাবী মুহাম্মাদ ﷺ যা অপছন্দ করেন বা করতে নিষেধ করেছেন তা ঐ গর্ভবতী মা করেন, তাহলে তার পেটের সন্তানের উপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে? একবার চিন্তা করি আল্লাহর দেয়া নিয়ামত পেটে নিয়ে আল্লাহর অপছন্দ সব কাজ করছি!
যিনি সন্তান দিয়েছেন তাঁর ইচ্ছা এই সন্তান সুস্থ হবে নাকি অসুস্থ হবে? এই সন্তান শেষ পর্যন্ত জীবিত থাকবে নাকি মরে যাবে? এই সন্তান বোবা হবে নাকি বিকলাঙ্গ হবে? এ সকল কিছু নির্ভর করছে মহান সৃষ্টিকর্তার উপর। তিনি চাইলে কাউকে সন্তান দেন আবার কাউকে সন্তান দেন না, আবার কাউকে ছেলে দেন আবার কাউকে মেয়ে দেন। তাই আমাদের সবসময় সন্তানের বিষয়ে মহান আল্লাহ তা'আলার নিকট সাহায্য চাওয়া উচিত, তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত, তাঁর পছন্দ মতো কাজকর্ম করা উচিত।
যদি নিজেকে কন্ট্রোল করা না যায় তাহলে বাসা থেকে TV'র dish অথবা cable-এর কানেকশন কেটে দেয়া উচিত। তাহলে মন চাইলেও অন্ততপক্ষে অশ্লীল নাচ, গান, সিরিয়াল, নাটক, হিন্দি সিনেমা ইত্যাদি হারাম কাজ থেকে দূরে থাকা যাবে।
📄 সন্তান জন্মের আগে দু’আ
رَبِّ إِنِّي نَذَرْتُ لَكَ مَا فِي بَطْنِي مُحَرَّرًا فَتَقَبَّلْ مِنِّي إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
রব্বি ইন্নি নাযারতু লাকা মা-ফী বাতুনী মুহার্ররান্ ফাতাকুব্বাল মিন্নী ইন্নাকা আন্তাসসামিউল 'আলীম।
হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয়ই আমার গর্ভে যা রয়েছে, তা আমি মুক্ত করে (জন্মের পর) আপনার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করলাম, সুতরাং আপনি আমা হতে তা গ্রহণ করুন, নিশ্চয়ই আপনি শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী। (সূরা আলে ইমরান: ৩৫)
رَبِّ هَبْ لِي مِن لَّدُنكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ
রব্বি হাবলী মিল্লাদুন্ন্কা যুররিইয়াতান্ তয়্যিবাতান ইন্নাকা সামি'উদ দু'আয়ি।
হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আপনার নিকট হতে পবিত্র সন্তান প্রদান করুন; নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী। (সূরা আলে ইমরান ৩: ৩৮)
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
রব্বানা- হাবলানা মিন আযওয়া-জিনা- ওয়া যুররিইইয়া-তিনা-কুররতা আ'ইউনিওঁ ওয়াজ 'আলনা- লিলমুত্তাক্বীনা ইমা-মা-।
হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন যারা আমাদের চক্ষু শীতল করবে। আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দিন। (সূরা ফুরকান ২৫ঃ ৭৪)
📄 সন্তান জন্মের আগের নৈতিক দায়িত্ব
১. মা-বাবা উভয়ে উত্তম ও ভাল কাজের নিয়্যত করা।
২. মা-বাবা উভয়ে হালাল উপার্জন করা।
৩. মা-বাবা উভয়ে হালাল খাবার খাওয়া।
৪. ওয়াক্ত মতো দৈনিক পাঁচ সলাত আদায় করা।
৫. সম্ভব হলে মাঝে মাঝে তাহাজ্জুদ সলাত আদায় করা।
৬. সলাতের পর তাসবীহ পাঠ করা।
৭. দু'জনেই খুব বেশীবেশী ভাল কাজ করা।
৮. প্রতিদিন আল-কুরআন অর্থসহ তিলাওয়াত করতে চেষ্টা করা।
৯. নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত শুনা।
১০. ইসলামের উপর অন্যান্য বই অধ্যয়ন করা।
১১. মানুষের সাথে আরো বেশী ভালো আচরণ করা।
১২. গরীবদের মাঝে দান-সদাকা করা।
১৩. গীবত বা পরনিন্দা, কুৎসা রটনা, অহংকার ও দাম্ভিকতাপূর্ণ অসুন্দর বা খারাপ কথা বলা ও খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকা।
১৪. টিভি/ইন্টারনেটে অশ্লীল নাচ, গান, সিরিয়াল, নাটক, সিনেমা না দেখা।
📄 সন্তান জন্মের আগের স্বাস্থ্যগত দায়িত্ব
১. ডাক্তার দ্বারা নিয়মিত চেকআপ করানোর চেষ্টা করা।
২. গর্ভবতীর উপর কোন প্রকার মানসিক বা দৈহিক চাপ সৃষ্টি না করা।
৩. পারিবারিক কলহ থেকে দূরে থাকা।
৪. সবার সাথে হাসি-খুশীভাবে কথা বলা।
৫. নিজের বাচ্চাদের মারধর না করা, তাদের সাথে ভাল আচরণ করা।
৬. মাঝেমধ্যে চিত্ত-বিনোদনের উদ্দেশ্যে বাইরে কোথাও বেড়াতে যাওয়া।
৭. প্রতিদিন অবশ্যই গোসল করা এবং শরীরের প্রতি যত্ন নেয়া।
৮. সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা।
৯. এ সময় বেশীবেশী পানি পান করা।
১০. গর্ভাবস্থায় সব সময় ঢিলাঢালা পোশাক পরা।
১১. ঝগড়া-ঝাটি না করা, কাউকে গালাগালি না করা।
১২. রাগ কমিয়ে হাসিখুশী থাকার চেষ্টা করা।