📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 গর্ভবতী মায়ের পড়াশোনা

📄 গর্ভবতী মায়ের পড়াশোনা


একটি শিশু এসে একটি নারীর জীবনকে ধন্য করে তোলে। একজন নারী আর এক জীবনে পদার্পণ করেন মাতৃস্নেহ নিয়ে। প্রকৃত মা সেই, যে সঠিকভাবে সন্তান প্রতিপালন করেন। মা হওয়ার জন্য কেবল জন্মদাত্রী হওয়াই যথেষ্ট নয়। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে যখন একজন নারী প্রেগন্যান্ট হন তখন তিনি এই বিষয়ের উপর কোন প্রকার পড়াশোনা করেন না। কিন্তু বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যাপক। আমাদের দেশে প্রেগন্যান্ট মা শুধু খাওয়া-দাওয়া নিয়েই চিন্তিত থাকেন আর অন্য কোন বিষয় নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না। আমরা আগেই দেখেছি যে নর্থ-আমেরিকায় প্রেগন্যান্ট মহিলাদের জন্য নানা রকম কোর্স রয়েছে। এই বিষয়ের উপর বাজারে অনেক বই এবং ডিভিডি পাওয়া যায় যা প্রেগন্যান্ট হওয়ার আগ থেকেই পড়া ও দেখা শুরু করা উচিত। এছাড়াও ইন্টারনেটে এ বিষয়ে প্রচুর সাইট রয়েছে যেখান থেকে ঘরে বসেও পড়াশোনা করা যেতে পারে। এতো গেল একজন সাধারণ মায়ের কথা।

কিন্তু একজন মুসলিম মায়ের দায়িত্ব অন্যান্য মায়েদের চেয়ে আরো অনেক বেশী। ঐসকল পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি আরো অতিরিক্ত পড়াশোনা করবেন কিভাবে তার সন্তানকে আদর্শ মুসলিম হিসেবে গড়ে তুলবেন, কিভাবে তার সন্তানের অন্তরে সঠিক দ্বীনের আলো প্রবেশ করবে। সেজন্য প্রয়োজন ইসলামী শিশু সাহিত্য পড়া, আল কুরআনের তাফসীর পড়া, রসূল ﷺ-এর জীবনী পড়া, সাহাবাদের জীবনী পড়া। এছাড়া এখন প্রচুর ইসলামিক ডিভিডি পাওয়া যায় এবং ইন্টারনেট থেকেও আমরা অনেক ভিডিও দেখার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করতে পারি। প্রেগন্যান্ট অবস্থায় মায়েরা সাধারণত হাতে অনেক সময় পান বা চাকুরীরত মায়েরা সন্তান জন্মের পর সাধারণত বাসাতেই থাকেন। এই সময়ে মায়েরা ইসলামের উপর পড়াশুনা করে উপযুক্ত জ্ঞান অর্জন করতে পারেন। এতে অনেক মানসিক শান্তিও পেতে পারেন।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 মায়ের গর্ভে শিশুর শিক্ষা পর্ব

📄 মায়ের গর্ভে শিশুর শিক্ষা পর্ব


প্রত্যেক মায়ের গর্ভে চল্লিশ দিন পর্যন্ত বীর্য আকারে অবস্থান করে; অতঃপর পরবর্তী চল্লিশ দিন জমাট রক্তে পরিণত হয়; এরপর এমনিভাবে তা আরো চল্লিশ দিনের মধ্যে মাংসের টুকরায় পরিণত হয়; অতঃপর আল্লাহ একজন ফিরিশতাকে প্রেরণ করেন যাকে মানব শিশুটির ব্যাপারে চারটি বিষয় অর্থাৎ তার রিযিক, আয়ুষ্কাল, ভাগ্যের ভালো ও মন্দ সম্পর্কে লিখতে বলা হয়। এরপর উক্ত মানব ভ্রুনের মধ্যে আত্মা (জীবন) দিয়ে দেয়া হয়। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)

মেডিক্যাল সায়েন্স বলে গর্ভবতী হওয়ার পর প্রথম মাসেই শিশুর হৃৎপিন্ড তৈরী হয় এবং গর্ভধারণের দেড় মাসের মধ্যে শিশুর হৃৎপিন্ড কাজ করতে শুরু করে। পরবর্তী দু'মাসের ভেতর তার হাত-পা এবং অন্যান্য অঙ্গসমূহ তৈরী হয়ে যায়।

তিন মাস পর থেকে সে ধীরে ধীরে বড় হতে শুরু করে এবং পাঁচ মাস বয়স থেকে সে শুনতে পায়। তাই তৃতীয় মাস থেকে মায়ের উচিত আস্তে আস্তে পড়ার পরিবর্তে জোরেজোরে কুর'আন হাদীস পড়া, সুন্দর করে শব্দ করে কুরআন তিলাওয়াত করা। পঞ্চম মাস থেকে গর্ভের সন্তানের সাথে একা একা কথা বলা যেতে পারে, তাকে ভালো ভালো কথা শুনানো যেতে পারে ইত্যাদি। যদি এটা প্রথম সন্তান হয় তবে গর্ভধারণের বিশ সপ্তাহ পর শিশুর প্রথম নড়াচড়া টের পাওয়া যায়। আর প্রথম গর্ভ না হয়ে যদি দ্বিতীয় বা তৃতীয় অথবা আরও পরবর্তী গর্ভ হয়, তাহলে গর্ভধারণের ষোল থেকে আঠারো সপ্তাহ পরপরই মা শিশুর নড়াচড়া টের পায়।

মায়ের গর্ভে সন্তান নাভীর মাধ্যমে খাদ্যগ্রহণ করে তিল তিল করে বড় হতে থাকে। তাই মায়ের চরিত্রের যথেষ্ট প্রভাব সন্তানের উপর পড়ে। কোন মা যদি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সলাতে নিয়মিত হয়ে না থাকেন, তাহলে এসময় থেকেই তাকে (পাঁচ ওয়াক্ত সলাতে) নিয়মিত হয়ে যাওয়া উচিত। মায়ের মধ্যে যেসকল দোষ-ত্রুটিগুলো রয়েছে সেগুলো এসময় থেকেই আস্তে আস্তে কমিয়ে নিয়ে আসা উচিত।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 সন্তান জন্মের পূর্বে সতর্কতা

📄 সন্তান জন্মের পূর্বে সতর্কতা


অতি দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বাস্তবে দেখা গেছে যে প্রেগন্যান্ট মায়েরা নয় মাস দশ দিন (৪০ সপ্তাহ) সময় কাটায় অনৈসলামী কর্মকান্ড করেন। সন্তান আল্লাহ দিয়েছেন আমাদেরকে নিয়ামতস্বরূপ, এ জন্য আমাদের সবসময় মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার কথা কিন্তু আমরা করি তার উল্টোটা। আল্লাহ তা'আলা যে সকল কাজ হারাম করেছেন এবং যেসকল কাজ করা পছন্দ করেন না সেগুলো আমরা প্রেগন্যান্ট অবস্থায় করে থাকি। তখন অবসর সময় কাটানোর জন্য দেখা গেছে অনেক মায়েরাই রিমোট হাতে টিভির সামনে বসে সময় কাটায়, অশ্লীল নাচ, গান, সিরিয়াল, নাটক, হিন্দি সিনেমা, ইত্যাদি উপভোগ করে থাকেন।

আমরা যদি একটু গভীরভাবে চিন্তা করে দেখি যে, পেটে যে সন্তান আছে সে সবই শুনতে পায় এবং মায়ের কাজকর্ম বুঝতে পারে। একজন মা যদি ঠিক মতো পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় করেন, এই সময় ভাল বই পড়েন, কুরআন তিলাওয়াত করেন, কুরআন তিলাওয়াত শুনেন, কুরআনের তরজমা শুনেন, হাদীস পড়েন, কুরআনের তাফসীর পড়েন, ইসলামিক লেকচার শুনেন এবং দেখেন তাহলে সেই পেটের সন্তানের উপর কেমন শুভ প্রভাব পড়বে? আর তার ঠিক উল্টোটা যদি কোন মা করেন, ইসলাম যার অনুমোদন দেয় না তা করেন, আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা করেন, নাবী মুহাম্মাদ ﷺ যা অপছন্দ করেন বা করতে নিষেধ করেছেন তা ঐ গর্ভবতী মা করেন, তাহলে তার পেটের সন্তানের উপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে? একবার চিন্তা করি আল্লাহর দেয়া নিয়ামত পেটে নিয়ে আল্লাহর অপছন্দ সব কাজ করছি!

যিনি সন্তান দিয়েছেন তাঁর ইচ্ছা এই সন্তান সুস্থ হবে নাকি অসুস্থ হবে? এই সন্তান শেষ পর্যন্ত জীবিত থাকবে নাকি মরে যাবে? এই সন্তান বোবা হবে নাকি বিকলাঙ্গ হবে? এ সকল কিছু নির্ভর করছে মহান সৃষ্টিকর্তার উপর। তিনি চাইলে কাউকে সন্তান দেন আবার কাউকে সন্তান দেন না, আবার কাউকে ছেলে দেন আবার কাউকে মেয়ে দেন। তাই আমাদের সবসময় সন্তানের বিষয়ে মহান আল্লাহ তা'আলার নিকট সাহায্য চাওয়া উচিত, তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত, তাঁর পছন্দ মতো কাজকর্ম করা উচিত।

যদি নিজেকে কন্ট্রোল করা না যায় তাহলে বাসা থেকে TV'র dish অথবা cable-এর কানেকশন কেটে দেয়া উচিত। তাহলে মন চাইলেও অন্ততপক্ষে অশ্লীল নাচ, গান, সিরিয়াল, নাটক, হিন্দি সিনেমা ইত্যাদি হারাম কাজ থেকে দূরে থাকা যাবে।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 সন্তান জন্মের আগে দু’আ

📄 সন্তান জন্মের আগে দু’আ


رَبِّ إِنِّي نَذَرْتُ لَكَ مَا فِي بَطْنِي مُحَرَّرًا فَتَقَبَّلْ مِنِّي إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
রব্বি ইন্নি নাযারতু লাকা মা-ফী বাতুনী মুহার্ররান্ ফাতাকুব্বাল মিন্নী ইন্নাকা আন্তাসসামিউল 'আলীম।
হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয়ই আমার গর্ভে যা রয়েছে, তা আমি মুক্ত করে (জন্মের পর) আপনার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করলাম, সুতরাং আপনি আমা হতে তা গ্রহণ করুন, নিশ্চয়ই আপনি শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী। (সূরা আলে ইমরান: ৩৫)

رَبِّ هَبْ لِي مِن لَّدُنكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ
রব্বি হাবলী মিল্লাদুন্‌ন্কা যুররিইয়াতান্ তয়্যিবাতান ইন্নাকা সামি'উদ দু'আয়ি।
হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আপনার নিকট হতে পবিত্র সন্তান প্রদান করুন; নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী। (সূরা আলে ইমরান ৩: ৩৮)

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
রব্বানা- হাবলানা মিন আযওয়া-জিনা- ওয়া যুররিইইয়া-তিনা-কুররতা আ'ইউনিওঁ ওয়াজ 'আলনা- লিলমুত্তাক্বীনা ইমা-মা-।
হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন যারা আমাদের চক্ষু শীতল করবে। আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দিন। (সূরা ফুরকান ২৫ঃ ৭৪)

ফন্ট সাইজ
15px
17px