📄 প্যারেন্টিং কি ও কেন?
প্যারেন্টিং শব্দটি ইংরেজী, এর সারমর্ম হচ্ছে সন্তান প্রতিপালনে মা-বাবার ভূমিকা। প্যারেন্টিং শব্দটির অর্থ ব্যাপক। প্যারেন্টিং মানে খুব ছোট বয়সে শুধু শিশুর লালন-পালন নয়। প্যারেন্টিং হচ্ছে একটি প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি যার মাধ্যমে সন্তানের দৈহিক, মানসিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং ধর্মীয় প্রতিটি দিক দিয়ে শিশুকাল থেকে যৌবন পর্যন্ত শিক্ষা দান।
প্যারেন্টিং-এর মূল দায়িত্ব সাধারণত পালন করেন জন্মদাত্রী মা এবং বাবা। কিন্তু তারপরও নিকট আত্মীয়-স্বজন যেমন, বড় ভাই-বোন, খালা-খালু, চাচা-চাচী, মামা-মামী, দাদা-দাদী, নানা-নানীরাও প্যারেন্টিং-এর কাজটি করতে পারেন। ইংল্যান্ডের বিখ্যাত পিডিয়াট্রিশিয়ান এবং সাইকোলজিস্ট ডোনাল্ড উইনিকোট বলেছেন, ভাল প্যারেন্টিং-এর অর্থ হচ্ছে সন্তানের জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে তার প্রতিটি মুহূর্তের ডেভেলপমেন্টের অর্থাৎ অগ্রগতির বা উন্নতির প্রতি সজাগ থাকা (সজাগ দৃষ্টি রাখা)।
আমাদের দেশে কোন কোন প্যারেন্ট সন্তানের শুধু মাত্র স্বাস্থ্য ও খাওয়া-দাওয়া নিয়ে চিন্তা করেন। আবার কোন কোন প্যারেন্ট শুধু সন্তানের পড়ালেখা নিয়ে বেশী চিন্তা করেন যেমন, সকালে টিচার, সারাদিন স্কুল, বিকেলে কোচিং, রাতে আরেক টিচার ইত্যাদি। আবার কোন কোন প্যারেন্ট সন্তানের কোন বিষয়েরই খোঁজ-খবর নেন না, কিন্তু পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ হলেই শুরু করেন মারধর, শাস্তি ইত্যাদি। এর কোনটিই ঠিক নয়।
প্যারেন্টিং হচ্ছে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা বা complete package. এই প্যাকেজের আওতায় সন্তানের এই দুনিয়ার ভালো এবং আখিরাতের ভালোর জন্য যা যা প্রয়োজন তা সবই সম্পৃক্ত। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটিকে বেশী গুরুত্ব দেয়া যাবে না।
প্যারেন্টিংয়ের ধরণ: শিশু বিশেষজ্ঞরা প্যারেন্টদেরকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন। যারা সন্তানের ভালমন্দ সবই গ্রহণ করেন তারা হচ্ছেন ইকুয়ালিটেরিয়ান (equalitarian) বা সাম্যবাদী প্যারেন্ট। আর যে সকল প্যারেন্ট সন্তানের সব ধরনের খারাপকে খারাপ চোখে দেখেন না তারা হলেন সহনশীল প্যারেন্ট। আর যে সকল প্যারেন্টরা সন্তানদের ভাল-মন্দ বিষয়গুলো খুব কড়াকড়িভাবে দেখেন তারা হলেন স্ট্রিক্ট প্যারেন্ট।
শিশুদের ধরণ: শিশু বিশেষজ্ঞরা প্যারেন্টদের মতো শিশুদেরকেও তিনভাগে ভাগ করেছেন। যে সকল শিশু ভাল-মন্দ দু'টিই করে বেড়ায় তারা হচ্ছে নমনীয় শিশু। আর যে সকল শিশু প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে মা-বাবাকে খুব সহযোগিতা করে থাকে তারা হলো সহযোগিতাকারী শিশু। আর যে সকল শিশু একেবারেই মা-বাবার কথা শুনে না তারা হচ্ছে অবাধ্য শিশু।
প্যারেন্টিংয়ের ধরণ
সাম্যবাদী প্যারেন্ট
প্রভুত্বসুলভ প্যারেন্ট
সহনশীল প্যারেন্ট
অবাধ্য শিশু
নমনীয় শিশু
সহযোগিতাকারী শিশু
শিশুর ধরণ
প্যারেন্টিং শব্দটি বাংলাদেশে থাকতে আমরা খুব একটা শুনিনি। ক্যানাডা আসার পর দেখি প্যারেন্টিং শব্দটি বহুল প্রচলিত। এই বিষয়ে এখানে কলেজ এবং ইউনিভার্সিটিগুলোতে বিভিন্ন রকমের শর্ট কোর্স এবং লং কোর্স রয়েছে। তারপর আমাদের মেয়ে জারার জন্ম হওয়ার পর এই বিষয়ে আরো ভালভাবে জানতে শুরু করলাম। আমরা স্বামী-স্ত্রী প্যারেন্টিং-এর উপর ক্যানাডা এবং আমেরিকা থেকে এধরনের কয়েকটি কোর্সও করেছি। উন্নত দেশগুলোতে এই বিষয়ের উপর খুব জোর দেয়া হয়। উন্নত বিশ্বের প্যারেন্টিং এর কিছু বিষয় আমরা বাংলাদেশে বসবাসরত বাবা-মায়েদের সাথে শেয়ার করতে চাই। আমরা চাই আমাদের বাংলাদেশেও ভবিষ্যতে প্যারেন্টিং এর উপর এই ধরনের সুযোগ-সুবিধা এবং সিস্টেম ডেভেলপ হোক এবং চালু হোক।
ক্যানাডায় শিশু জন্মের আগে থেকে শুরু হয়ে যায় প্যারেন্টিং কার্যক্রম। ক্যানাডিয়ান সরকারের রয়েছে এ জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ। যেমনঃ
• প্রিন্যাট্যাল ক্লাস (মায়ের জন্য)
• ডেলিভারি ওরিয়েন্টেশন (মা এবং বাবা দু'জনের জন্য)
• ব্রেষ্ট ফীডিং ক্লাস (মা এবং বাবা দু'জনের জন্য)
• পোষ্ট ন্যাট্যাল ক্লাস (মায়ের জন্য)
• ডায়েট ক্লাস (মায়ের জন্য)
• প্যাটারনিটি লীভ (বাবার জন্য)
• ডে-কেয়ার (বাচ্চার জন্য)
• প্রি-স্কুল (বাচ্চার জন্য)
প্রিন্যাট্যাল ক্লাস: এই ক্লাসটি গর্ভবতী মায়েদের জন্য। এখানে শেখানো হয় যে শিশু জন্মের আগে মা কি কি করবে, কিভাবে চলবে, কি কি সাবধানতা অবলম্বন করবে ইত্যাদি।
ডেলিভারি ওরিয়েন্টেশন: শিশু যে হসপিটালে ডেলিভারি হবে সেখান থেকে ডেলিভারি তারিখের এক-দুই মাস আগে হসপিটাল ভিজিট করার জন্য এপয়েন্টমেন্ট দেয়া হয়। সেদিন মা এবং বাবা দু'জনকেই হসপিটালের দরজা থেকে শুরু করে রিসেপশন, ওয়েটিং রুম, ডেলিভারি রুম, অপারেশন রুম ইত্যাদি সব আগেই দেখিয়ে দেয়া হয়। বিষয়টা গভীরভাবে চিন্তা করলে আমরা বুঝতে পারব বিষয়টা কত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যে দিন ডেলিভারির ব্যাথা উঠে সেদিন মা এবং বাবা দু'জনেই খুব উদ্বিগ্ন থাকেন, কোথায় যাবেন, কিভাবে যাবেন সব কিছু মিলিয়ে খুব টেনশনে থাকেন। তাই আগে থেকেই যদি প্র্যাকটিকাল প্ল্যানটি জানা থাকে তাহলে ঐ দিন আর বেশী ঝামেলা পোহাতে হয় না (টেনশনে ভুগতে হয় না)।
সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার দিন: স্কুল জীবনে হুমায়ুন আহমেদের মে ফ্লাওয়ার উপন্যাস থেকে এই বিষয়টি প্রথম জানতে পারি। তখন খুব অবাক লেগেছিল। এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে কারো নেই। আমেরিকা-ক্যানাডায় বাচ্চা ভূমিষ্ট হওয়ার সময় শিশুর বাবা শিশুর মায়ের হাত ধরে অপারেশন থিয়েটারে বা ডেলিভারি রুমে বসে থাকেন। এর কারণ হচ্ছে মা যে সন্তান ভূমিষ্ট করার জন্য কত কষ্ট করেন তা বাবা হিসেবে স্বামীও যেন কিছুটা বুঝতে পারেন। এবার সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর সন্তানকে সর্বপ্রথমে বাবার কোলে দেয়া হয় এবং তিনি শিশুর কানে আযান দেন।
নতুন শিশুর জন্য গিফ্ট: একটি আনন্দদায়ক বিষয় হচ্ছে হসপিটালে শিশু যেদিন জন্ম নেয় সেদিন নার্সরা বেবীর জন্য ফুল নিয়ে আসে। পৃথিবীর বড় বড় নাম করা বেবী প্রডাক্টস কোম্পানীগুলো যেমন, ডাইপার কোম্পানী, বেবী ফুড কোম্পানী, বেবী প্রসাধনী কোম্পানী ইত্যাদি থেকে নানা রকম গিফ্ট সামগ্রী পাঠানো হয়। একটি ফটোগ্রাফী কোম্পানী শিশুর জন্মের দিন প্রস্তুত থাকে বেবীর নানা ভংগীতে ছবি তোলার জন্য।
ব্রেষ্ট ফীডিং ক্লাস: যদি অনাগত সন্তানটি বাবা মায়ের প্রথম সন্তান হয় তাহলে এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একজন নতুন মায়ের জন্য এটি একটি নতুন অভিজ্ঞতা। এই ব্রেষ্ট ফীডিং-এরও যে নানা উপায় আছে তা না জানলে নবজাতক শিশু হয়তো ঠিক মতো দুধ না পেয়ে কষ্ট পাবে। কারণ একটি নবজাতক শিশুর একমাত্র খাদ্য হচ্ছে মায়ের বুকের দুধ। তাই ক্যানাডাতে সন্তান ভুমিষ্ট হওয়ার পরপরই প্রতিটি হসপিটালে রয়েছে ব্রেষ্ট ফীডিং-এর জন্য স্পেশাল ক্লাস। এই ক্লাসে প্রতিটি নতুন মা এবং বাবাকে একজন শিক্ষক শিক্ষা দেন যে কীভাবে শিশুকে ব্রেষ্টফীডিং করাতে হবে।
পোষ্ট ন্যাট্যাল ক্লাস: এই ক্লাসটিও মায়ের জন্য। অর্থাৎ শিশু জন্মের পর এই ক্লাস শুরু করতে হয়। বিশেষ করে যাদের প্রথম বাচ্চা। এই নতুন শিশুকে কিভাবে পরিচর্যা করতে হবে তা নিয়ে সাজানো হয়েছে এই পোষ্ট ন্যাট্যাল ক্লাসের কার্যক্রম। এটি শিশু জন্মের পর চার মাসের কোর্স। এখানে শেখানো হয় কিভাবে সদ্যভূমিষ্ট বাচ্চাকে লালন-পালন করতে হবে। এছাড়া বাচ্চা জন্মের পরপর হসপিটাল থেকে একজন শিশু বিশেষজ্ঞ নার্স বাসায় নিয়মিত পাঠানো হয়। কারণ একজন নতুন মা হয়তো অনেক কিছুই জানেন না। যেমন, বাচ্চাকে কীভাবে গোসল করাতে হয়, কীভাবে ডাইপার পরিবর্তন করতে হয়, কীভাবে ব্রেষ্ট ফীডিং করাতে হয়, কীভাবে অন্যান্য কাজগুলো করতে হয় ইত্যাদি।
ডায়েট কোর্স : এই কোর্সটিও মায়ের জন্য। গর্ভকালীন একজন মায়ের দৈহিক ওজন ১০ থেকে ১৪ কেজি পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। শিশুর মা শিশু জন্মের আগে এক প্রকার খাবার খেয়েছেন এবং জন্মের পর তার খাবারের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। মা যদি ব্যালেন্সড ডায়েট না করেন তাহলে সেখান থেকে নানা প্রকার অসুবিধা হতে পারে, অস্বাভাবিক মোটা হয়ে যেতে পারেন ইত্যাদি। তাই শিশুর জন্মের পর পোষ্ট ন্যাট্যাল ক্লাসের পরপরই এই ডায়েট কোর্সের ব্যবস্থা।
প্যাটারনিটি লীভ (ছুটি) : এই শব্দটি বাংলাদেশে থাকতে কোনদিন শুনিনি। আমরা সবসময় শুনে আসছি ম্যাটারনিটি লীভ অর্থাৎ যে সকল মায়েরা চাকরীজীবী তারা যখন প্রেগন্যান্ট হন এবং শিশুর জন্মের কিছুদিন আগে থেকে ছুটিতে যান সেই ছুটিকে বলে ম্যাটারনিটি লীভ, এই লীভ বাংলাদেশে সাধারণত তিন থেকে ছয় মাস দেয়া হয়। কিন্তু ক্যানাডাতে মায়েদের জন্য ম্যাটারনিটি লীভ এক থেকে দেড় বছর পর্যন্ত। প্যাটারনিটি লীভ হচ্ছে বাবাদের জন্য। তারাও শিশুর পরিচর্যার জন্য নতুন মাকে সাহায্য করার জন্য এক থেকে দেড় বছর ছুটি কাটাতে পারেন এবং সেই ছুটিকেই বলে প্যাটারনিটি লীভ। এখানে শিশু পরিচর্যার দায়িত্ব শুধু মায়ের একার নয়, বাবারও।
ডে কেয়ার : অনেক বাবা-মা দু'জনই হয়তো চাকরী করেন। তখন তারা বাচ্চাকে ডে কেয়ারে রেখে যান এবং অফিস থেকে ফেরার পথে আবার বাড়ি নিয়ে আসেন। যারা ডে কেয়ার পরিচালনা করেন তাদেরকে অবশ্যই এই বিষয়ের উপর ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রি থাকতে হবে। যে কেউ চাইলেই এই কাজ করতে পারে না। বেশীরভাগ অমুসলিম ডেকেয়ারে মুসলিম বাচ্চাদেরকে হালাল খাবার দিয়ে থাকে। এছাড়া আমেরিকা এবং ক্যানাডায় অনেক মুসলিম ডে কেয়ারও রয়েছে। এই ডে কেয়ার থেকে বাচ্চা অনেক কিছু শিক্ষা গ্রহণ করে। বাচ্চার মা-বাবা অনলাইলে বাচ্চাকে সারাদিন দেখতে পারে যে সে ডে কেয়ারে কখন কি করছে।
প্রি-স্কুল: শিশুর বয়স যখন তিন বছর হয় তখন এখানে তাদের জন্য রয়েছে প্রি-স্কুল। শিশুরা প্রাইমারী স্কুলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এক বছর এই প্রি-স্কুলে পড়াশুনা করে। শিশুকে প্রাইমারী স্কুলে যাওয়ার আগে উপযোগী করে এই এক বছরে তৈরী করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ের পড়ালেখা এখানেই শেখানো হয়। এছাড়া তাকে নানা রকম আদব-কায়দা শেখানো হয় যেমন, বই-খাতা গুছিয়ে ব্যাগে ঢুকানো, কাপড়-চোপড় পরা, জুতা-মোজা পরা, ঠিক মতো বাথরুম করা, ডাইনিং টেবিলে বসা, খাওয়া-দাওয়া করা, হাত-মুখ ধোয়া, টিশু পেপার ব্যবহার করা, ময়লা-আবর্জনা সঠিক জায়গায় ফেলা ইত্যাদি ইত্যাদি।
প্রাইমারী স্কুল : শিশুর বয়স যখন পাঁচ বছর হয় তখন সে প্রাইমারী স্কুলে যায়। এখানে সে পড়ালেখার পাশাপাশি আরো অনেক কিছু শেখে। তাদেরকে স্কুল থেকে মাঝেমধ্যে ট্রেনে করে দূরে কোথাও নিয়ে যাওয়া হয় যেমন, চিড়িয়াখানা, বিভিন্ন রকম মিউজিয়াম, পাবলিক লাইব্রেরী ইত্যাদি। এসব স্কুল ট্রিপে শিশুদেরকে ট্রাফিক আইন-কানুন শেখানো হয় যে, কীভাবে রাস্তা পারাপার হবে, কোন লাইট জ্বললে কী করতে হবে ইত্যাদি।
আরো মজার বিষয় হচ্ছে যে, শিশুদেরকে ছোট বয়স থেকেই ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। তাদেরকে স্কুলের ফিল্ড ট্রিপে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ফায়ারম্যান, ক্যাপ্টেন, ফায়ার ট্রাক ইত্যাদির সাথে সামনাসামনি পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। পুলিশদের প্রতি শিশুদের সবসময় এক প্রকার কৌতূহল থাকে, তাদের ধারণা পুলিশরা সাধারণ মানুষ নয়। তাই শিশুদেরকে পুলিশ অফিসারদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়, শিশুরা পুলিশদের প্রশ্ন করে নানা রকম কৌতূহল মিটায়, পুলিশদের সম্পর্কে তাদের অমূলক ভুল ধারণা থাকলেও তা ভেঙ্গে যায়, তারা পুলিশদেরকে বিপদের বন্ধু মনে করে।
এই বিষয়গুলো আমরা এই কারণে শেয়ার করলাম যে আমাদের দেশেও কি আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য এবং নতুন বাবা-মায়েদের জন্য সিস্টেমগুলো চালু করতে পারি না? সকলের উদ্যোগ থাকলে ইন্শাআল্লাহ শিঘ্রই বাংলাদেশে প্যারেন্টিং এর উপর সুন্দর সুন্দর ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।
📄 প্যারেন্টিং অর্গানাইজেশনস এবং ইনস্টিটিউটস
আমেরিকা, ক্যানাডা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও সিংগাপুরে প্যারেন্টিংয়ের বিষয়ে অনেক অর্গানাইজেশন এবং ইনষ্টিটিউট রয়েছে। প্যারেন্টিং হচ্ছে একটি সায়েন্স, পৃথিবীর বড় বড় ইউনিভার্সিটি এর উপর গবেষণা করে নানা রকম সমস্যার সমাধান বের করেছে এবং আজও এই গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। প্যারেন্টিং সায়েন্সের উপর বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টরেট ডিগ্রিও দেয়া হয়।
আজকাল উন্নত দেশগুলোতে কিছু কিছু মুসলিম প্যারেন্টিং অর্গানাইজেশন এবং ইনষ্টিটিউটও হয়েছে। তবে অমুসলিম অর্গানাইজেশন এবং ইনষ্টিটিউটগুলো এই বিষয়ের উপর অধিক পারদর্শী এবং রিসোর্সে সমৃদ্ধশালী। আমরা যারা প্যারেন্ট তাদের উচিত হবে এই সকল অর্গানাইজেশন এবং ইনষ্টিটিউট থেকে জ্ঞান অর্জন করা এবং তার সাথে ইসলামিক কালচারকে সমন্বয় সাধন করে তা নিজেদের পরিবারে বাস্তবায়ন করা।
উন্নত দেশগুলোর টিভিতে প্যারেন্টিং-এর উপর নানা রকম প্রোগ্রাম বা টিভি শো দেখানো হয়ে থাকে। এই অনুষ্ঠানগুলোতে প্যারেন্টিং-এর উপর বিশেষজ্ঞদের অতিথি হিসেবে আনা হয়। তারা প্যারেন্টদের নানা রকম প্রশ্নের উত্তর দেন। এছাড়া আরো কিছু লাইভ প্রোগ্রামও ধারণ করা হয় যা থেকে প্যারেন্টরা অনেক কিছু শিখতে পারে। যেমন, একটি পরিবারে তিনটি বাচ্চা আছে, তাদের মধ্যে একটি বাচ্চা অন্যরকম, একেবারেই মা-বাবার কথা শুনতে চায় না, পরিবারের সবাইকে অস্থির করে রাখে। একজন বিশেষজ্ঞ মহিলা ন্যানী (Nanny) এসে ঐ বাড়িতে কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ থাকে এবং ঐ বাচ্চার সাথে সময় কাটায়। একসময় দেখা যায় যে ঐ বাচ্চার মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেেেছ। এই প্রোগ্রামে হিডেন (লুকানো) ক্যামেরা দিয়ে ধারণ করা হয় বাচ্চার কাজকর্ম এবং ন্যানীর সাথে তার এই কয়দিনের সময় কাটানোর নানা রকম অভিজ্ঞতা।
অবাক করা কথা এই যে, অমুসলিমদের প্যারেন্টিং-এর অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে যে, শিশু লালন-পালনের বেশীরভাগ বিষয়গুলোই ইসলামের সুন্নাহভিত্তিক। অমুসলিম বিশেষজ্ঞরা অনেক গবেষণা করে যা আবিষ্কার করেছেন তা ১৪শত বছর আগেই আমাদের নাবী মুহাম্মাদ ﷺ শিখিয়ে দিয়ে গেছেন। নিম্নে কিছু মুসলিম প্যারেন্টিং-এর ওয়েবসাইট দেয়া হলো।
• http://www.effectiveislamicparenting.com/
• http://www.islamawareness.net/Parenting/
• http://www.soundvision.com/article/22-tips-for-parents-on-keeping-muslim-teens-muslim
• http://muslimmatters.org/2013/05/10/making-families-work-yasir-qadhi/
• http://www.muslimparentsnetwork.org/
• http://seekershub.org/home/courses/GEN140
• http://outstandingmuslimparents.com/
• http://outstandingmuslimparents.tv/
• http://theislamicmonthly.com/muslim-kids-are-more-difficult-to-raise-or-is-it-a-parenting-thing/
• http://islamic-world.net/parenting/parenting_tips.htm
• http://muslimmommy.com/
• https://www.pinterest.com/parenthoodms/muslim-parenting-blogs/
• http://blog.islamiconlineuniversity.com/muslim-parenting-whats-and-hows/
• http://www.muslimfamilymatters.com/training/parenting
• http://www.patheos.com/blogs/altmuslim/2013/06/parenting-in-the-age-of-new-media-advice-for-muslim-parents/
• http://productivemuslim.com/luqman-parenting-lessons-part1/
• http://www.grandmajeddah.com/home-1.html
• http://www.salaam.co.uk/course/muslimfamily.php
• www.amanaparenting.com
📄 প্যারেন্টিং-এর ছয়টি ধাপ
এই বইতে আমরা সন্তান প্রতিপালনের ৬টি ধাপ নিয়ে আলোচনা করেছি। একটি শিশুর জন্মের আগে মায়ের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে সন্তানের জন্ম, তারপর লালন-পালন করে বড় করে বিয়ে-শাদী দেয়া পর্যন্ত সকল বিষয়গুলো এখানে আলোচনা করা হয়েছে।
৬. সন্তানের শিক্ষা জীবনের পরবর্তী দায়িত্ব
৫. সন্তানের কলেজ/ইউনিভার্সিটি জীবনের গাইডলাইন
৪. সন্তানের স্কুল জীবনের গাইডলাইন
৩. সন্তান স্কুলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত দায়িত্ব
২. সন্তান জন্মের পরপর করণীয়
১. সন্তান জন্মের আগে প্রস্তুতি
Age 20+ LEADING
Ages 16-20 INDEPENDENCE
Ages 11-18 SELF-DISCIPLINE
Ages 7-12 ACCOUNTABILITY
Ages 1-8 FOLLOWING
Ages 0-3 ATTACHMENT