📄 সঠিকভাবে নামাযী হন
'আঠ কী, খাট কী, তিনশ' ষাট কী' নয়, বরং পাঁচ অক্তের সঠিক নামাযী হন। তাহলে আপনি পাপ থেকে দূরে থাকতে পারবেন। যেহেতু মহান আল্লাহর ওয়াদা, যা অন্যথা হতে পারে না। তিনি বলেছেন,
{وَأَقِمِ الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ} (٤٥) سورة العنكبوت
"যথাযথভাবে নামায পড়। নিশ্চয় নামায অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। আর অবশ্যই আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা জানেন।” (আনকাবুতঃ ৪৫)
অতএব সঠিকভাবে নিয়মিত নামায পড়লে এবং আপনার নামায কবুল হলে নিঃসন্দেহে আপনি পাপ থেকে বিরত থাকতে পারবেন।
টিকাঃ
(২) আঠ কী নামায কেবল জুমআর নামায, খাট কী নামায, জানাযার নামায এবং ৩৬০ কী নামায ঈদের নামায।
📄 আত্মসম্মানবোধ জাগরূক রাখুন
যে মানুষের মান নেই, তার অপমানবোধ হতে পারে না। আপনার নিজের আত্মসম্মানবোধ থাকলে নিশ্চয় আপনি পাপ করতে পারেন না। এমন কাউকে পাপ ঘটাতে দিতে পারেন না, যার কারণে আপনার ও আপনার বংশের মান-মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়।
সুতরাং আর পাঁচটা মানুষ থেকে আপনি ভালো, লোকে অধম হলেও আপনি উত্তম, আপনার মান-সম্মান আছে এবং তা বজায় রাখতে হবে। এই শ্রেণীর বোধ আপনার মনে জাগরুক রাখলে আপনি পাপ থেকে বাঁচতে পারবেন।
📄 লোভ সংবরণ করুন
আশার আশায় মানুষ বাঁচে। কিন্তু অতিরিক্ত আশা করে বলে মানুষ দুঃখ পায়। অতিরিক্ত সুখ সম্ভোগের লোভ তাকে পাপে লিপ্ত করে। আপনার আদর্শ যদি এই বাণী হয়,
(( مَا لِي وَلِلدُّنْيَا ؟ مَا أَنَا فِي الدُّنْيَا إِلَّا كَرَاكِبِ اسْتَظَلَّ تَحْتَ شَجَرَةٍ ثُمَّ رَاحَ وَتَرَكَهَا)).
"দুনিয়ার সাথে আমার কী সম্পর্ক? আমি তো (এ) জগতে ঐ সওয়ারের মত যে (ক্লান্ত হয়ে একটু বিশ্রামের জন্য) গাছের ছায়ায় থামল। পুনরায় সে চলতে আরম্ভ করল এবং ঐ গাছটি ছেড়ে দিল।" (আহমাদ ২৭৪৪, তিরমিযী ২৩৭৭, ইবনে মাজাহ ৪১০৯, মিশকাত ৫১৮৮ নং)
তাহলে আপনার দ্বারা পাপ ঘটতে পারে না। পক্ষান্তরে এই বাণী যদি আপনার বাস্তব জীবন হয়,
(( لَا يَزَالُ قَلْبُ الْكَبِيرِ شَابًّا فِي اثْنَتَيْنِ فِي حُبِّ الدُّنْيَا وَطُولِ الْأَمَل)).
"দুটি জিনিসের জন্য বৃদ্ধের হৃদয় সদা যুবকের মতো থাকে; দুনিয়ার মহব্বত এবং সুদীর্ঘ আশা।" (বুখারী ৬৪২০নং)
তাহলে পাপ থেকে বাঁচা কঠিন আছে।
📄 ভালো বন্ধু নির্বাচন করুন
এমনও হতে পারে যে, আপনার পাপের কারণ হল অসৎ সঙ্গী, অবৈধ বন্ধু অথবা পাপাচারী সহপাঠী বা সহকর্মী। তাই তাদেরকে বর্জন ক'রে আপনি ভালো ও বৈধ বন্ধু গ্রহণ করুন।
নিশ্চয়ই বন্ধুত্বের প্রভাব আছে। ভালো-মন্দ উভয় দিক থেকে বন্ধুদের সহযোগিতা থাকে। এই বন্ধুত্বের উদাহরণ দিয়ে মহানবী বলেছেন,
(( إِنَّمَا مَثَلُ الجَلِيسِ الصَّالِحِ وَجَلِيسِ السُّوءِ ، كَحَامِلِ المِسْكِ، وَنَافِحُ الْكِيرِ، فَحَامِلُ الْمِسْكِ : إِمَّا أَنْ يُحْذِيَكَ، وَإِمَّا أَنْ تَبْتَاعَ مِنْهُ ، وَإِمَّا أَنْ تَجِدَ مِنْهُ ريحاً طَيِّبَةً ، وَنَافِخُ الكير : إِمَّا أَنْ يُحْرِقَ ثِيَابَكَ ، وَإِمَّا أَنْ تَجِدَ مِنْهُ ريحاً مُنْتِنَةً )). مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
"সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উদাহরণ হল, কস্তুরী বহনকারী (আতরওয়ালা) ও হাপরে ফুৎকারকারী (কামারের) ন্যায়। কস্তুরী বহনকারী (আতরওয়ালা) হয়তো তোমাকে কিছু দান করবে অথবা তার কাছ থেকে তুমি কিছু খরিদ করবে অথবা তার কাছ থেকে সুবাস লাভ করবে। আর হাপরে ফুৎকারকারী (কামার) হয়তো তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে অথবা তুমি তার কাছ থেকে দুর্গন্ধ পাবে।" (বুখারী ৫৫৩৪, মুসলিম ৬৮৬০নং)
এটাই বাস্তব যে, 'সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে' এবং 'সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ'। আর তার জন্যই মহানবী বলেছেন,
(( الرَّجُلُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ ، فَلِيَنْظُرْ أَحَدُكُمْ مَنْ يُخَالِلُ)).
"মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের উপর হয়। অতএব তোমাদের প্রত্যেককে দেখা উচিত যে, সে কার সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করছে।" (আহমাদ ৮০২৮, আবু দাউদ ৪৮৩৫, তিরমিযী ২৩৭৮নং)
অতএব পাপের কারণ যদি বন্ধু, সঙ্গী বা স্বামী-স্ত্রী হয়, তাহলে তা পরিবর্তন করে দেখুন, আপনি পাপ থেকে বাঁচতে পারছেন।