📄 পাপকে ঘৃণা করুন
পাপ হল মহান স্রষ্টার বিরোধিতা ও অবাধ্যতা, পাপ হল অসামাজিকতা, পাপ হল অপরাধ, পাপ হল অশ্লীলতা ও অশালীনতা, পাপ হল অভদ্রতা ও অসচ্চরিত্রতা, পাপ হল অসভ্যতা ও অভব্যতা, পাপ হল নোংরামি ও অপবিত্রতা। অতএব পাপকে আপনি ঘৃণা করুন। তাহলেই পাপ বর্জন করতে পারবেন।
আর মনে রাখুন যে, পাপ ঘৃণ্য ও নোংরা বলেই মহান প্রতিপালক তা বান্দার জন্য হারাম ও নিষিদ্ধ করেছেন।
অবশ্য ঘৃণা করলে মজলিস ও পরিবেশ ত্যাগ করতে হবে। ঘৃণা ক'রে সেখানেই অবস্থান করা যাবে না। মহান আল্লাহ বলেছেন,
{وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ وَإِمَّا يُنسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَى مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ} (৬৮) الأنعام
"তুমি যখন দেখ, তারা আমার নিদর্শন সম্বন্ধে ব্যঙ্গ আলোচনায় মগ্ন হয়, তখন তুমি দূরে সরে পড়; যে পর্যন্ত না তারা অন্য প্রসঙ্গে আলোচনায় প্রবৃত্ত হয় এবং শয়তান যদি তোমাকে ভ্রমে ফেলে, তাহলে স্মরণ হওয়ার পরে তুমি অত্যাচারী সম্প্রদায়ের সাথে বসবে না।" (আনআমঃ ৬৮)
উক্ত নির্দেশের প্রতি ইঙ্গিত করেই তিনি অন্যত্র বলেছেন,
{وَقَدْ نَزَّلَ عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ أَنْ إِذَا سَمِعْتُمْ آيَاتِ اللَّهِ يُكَفَرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلَا تَقْعُدُوا مَعَهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ إِنَّكُمْ إِذَا مِّثْلُهُمْ إِنَّ اللَّهَ جَامِعُ الْمُنَافِقِينَ وَالْكَافِرِينَ فِي جَهَنَّمَ جَمِيعًا} (১৪০) سورة النساء
"তিনি কিতাবে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন যে, যখন তোমরা শুনবে আল্লাহর কোন আয়াতকে প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে এবং তা নিয়ে বিদ্রূপ করা হচ্ছে, তখন যে পর্যন্ত তারা অন্য প্রসঙ্গে আলোচনায় লিপ্ত না হয় তোমরা তাদের সাথে বসো না; নচেৎ তোমরাও তাদের মত হয়ে যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ কপট ও অবিশ্বাসী সকলকেই জাহান্নামে একত্র করবেন।" (নিসাঃ ১৪০)
নিশ্চয় আপনার মনে আছে, শত খুনের অপরাধীকে বলা হয়েছিল, 'তুমি অমুক দেশ চলে যাও। সেখানে কিছু এমন লোক আছে যারা আল্লাহ তাআলার ইবাদত করে। তুমিও তাদের সাথে আল্লাহর ইবাদত কর। আর তোমার নিজ দেশে ফিরে যেয়ো না। কেননা, সে দেশ পাপের দেশ।' (বুখারী ৩৪৭০, মুসলিম ৭১৮৪-৭১৮৫নং) সুতরাং যেখানে গেলে পাপ হয় অথবা পাপের ইচ্ছা জেগে ওঠে সেখানে যাবেন না। নচেৎ পাপ থেকে বাঁচা দুঃসাধ্য হবে।
আর খবরদার তাদের মতো হবেন না, যারা পাপ করেও মনে করে, তারা পুণ্য করছে। অশান্তি সৃষ্টি করেও ধারণা করে, তারা শান্তি প্রতিষ্ঠা করছে। কারণ তারাই হচ্ছে আমলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। মহান আল্লাহ বলেছেন,
{قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا (১০৩) الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا} (১০৪) সূরা কাহাফ
"তুমি বল, 'আমি কি তোমাদেরকে সংবাদ দেব তাদের, যারা কর্মে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত?' ওরাই তারা, পার্থিব জীবনে যাদের প্রচেষ্টা পণ্ড হয়, যদিও তারা মনে ক'রে যে, তারা সৎকর্ম করছে। (কাহফঃ ১০৪)
সুতরাং পাপকে ঘৃণা করুন, পাপ নিয়ে গর্ব করা থেকে বিরত হন এবং পাপের মজলিস ও পরিবেশ ত্যাগ করুন। নচেৎ পাপ থেকে বাঁচা তথা মহান প্রতিপালকের গযব ও আযাব থেকে রক্ষা পাওয়া বড় কঠিন হয়ে যাবে।
📄 শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই করুন
শয়তান মানুষের আদি শত্রু ও চির শত্রু। তার বিরুদ্ধে লাগাতার যুদ্ধ করুন। মহান আল্লাহ শয়তান থেকে মানুষকে সতর্ক ক'রে বলেছেন,
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السَّلْمِ كَافَّةً وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ} (২০৮) সূরা বাক্বরা
"হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।” (বাক্বারাহঃ ২০৮)
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ وَمَنْ يَتَّبِعْ خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ فَإِنَّهُ يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ} (২১) সূরা নূর
"হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করলে শয়তান তো অশ্লীলতা ও মন্দ কাজের নির্দেশ দেয়।” (নূর: ২১)
আর মহানবী বলেছেন,
إِنَّ إِبْلِيسَ يَضَعُ عَرْشَهُ عَلَى الْمَاءِ ثُمَّ يَبْعَثُ سَرَايَاهُ فَأَدْنَاهُمْ مِنْهُ مَنْزِلَةً أَعْظَمُهُمْ فِتْنَةً يَجِيءُ أَحَدُهُمْ فَيَقُولُ فَعَلْتُ كَذَا وَكَذَا فَيَقُولُ مَا صَنَعْتَ شَيْئًا قَالَ ثُمَّ يَجِيءُ أَحَدُهُمْ فَيَقُولُ مَا تَرَكْتُهُ حَتَّى فَرَّقْتُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ امْرَأَتِهِ - قَالَ - فَيُدْنِيهِ مِنْهُ وَيَقُولُ نِعْمَ أَنْتَ، فَيَلْتَزِمُهُ ..
“সমুদ্রের উপর শয়তান তার সিংহাসন রেখে মানুষকে বিভিন্ন পাপ ও ফিতনায় জড়িত করার উদ্দেশ্যে নিজের শিষ্যদল পাঠিয়ে থাকে। তার কাছে সেই শিষ্য সবচেয়ে বড় মর্যাদা (ও বেশী নৈকট্য) পায়, যে সবচেয়ে বড় পাপ বা ফিতনা সৃষ্টি করতে পারে। কোন শিষ্য এসে বলে, 'আমি এই করেছি।' ইবলীস বলে, 'তুই কিছুই করিসনি।' অন্যজন বলে 'আমি একজনের পিছনে লেগে তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়া করিয়েছি।' তখন শয়তান তাকে নিকটে করে (জড়িয়ে ধরে) বলে, 'হ্যাঁ, তুমিই একটা কাজ করেছ!” (মুসলিম ৭২৮৪নং)
অতএব শয়তান থেকে প্রতিনিয়ত আশ্রয় প্রার্থনা করুন। এর জন্য সকাল-সন্ধ্যায় ও শোবার সময় নিয়মিত তিন কুল (সূরা ইখলাস, ফালাক্ব ও নাস) ৩বার ক'রে পাঠ করুন। আর আপনার মুনাজাতে বলুন,
{ رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِين (۹۷) وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن يَحْضُرُونَ} (۹۸)
অর্থাৎ, 'হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি শয়তানদের প্ররোচনা হতে। হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি আমার নিকট ওদের (শয়তানদের) উপস্থিতি হতে।' (মু'মিনুনঃ ৯৭-৯৮)
📄 মনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করুন
পাপ বর্জন করতে আপনি আপনার মনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করুন। কারণ “মন হল মন্দপ্রবণ।” (ইউসুফ: ৫৩)
কিন্তু মনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম বড় কঠিন। আর তার জন্যই বলা হয়েছে,
(أَفْضَلُ الْجِهَادِ أَنْ يُجَاهِدَ الرَّجُلُ نَفْسَهُ وَهَوَاهُ).
অর্থাৎ, মানুষের মন ও কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ হল সর্বশ্রেষ্ঠ জিহাদ। (ইবনে নাজ্জার, সঃ জামে' ১০১৯নং)
বলা বাহুল্য, এ জিহাদ না করতে পারলে আপনি পাপ থেকে বাঁচতে পারবেন না।
📄 অবসর দূর করুন
বেকারত্ব দূর করুন। দ্বীন বা দুনিয়ার কোন না কোন কাজ করুন। বেকার হয়ে বসে থাকার চাইতে বেগাড় গিয়ে পরের কাজ করা ভালো। এতে কম-সে-কম আপনি পাপ থেকে বাঁচতে পারবেন। আরবী কবি বলেছেন,
إن الشباب والفراغ والجدة ... مفسدة للمرء أي مفسدة
অর্থাৎ, নিশ্চয় যৌবন, অবসর ও ধনবত্তা মানুষের জন্য এক প্রকার বিপত্তি।
সুতরাং ব্রেনটাকে শূন্য রাখলে তাতে নানা কুচিন্তা আসবে, শয়তান নানা কুমন্ত্রণা দেবে, নানা পাপচিন্তায় মন আচ্ছন্ন হবে। আর তার পরে পাপ ঘটে যাওয়া স্বাভাবিক।
বলা বাহুল্য, কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকুন, পাপ থেকে দূরে থাকবেন।