📘 পাপ তার শাস্তি ও মুক্তির উপায় > 📄 আল্লাহকে লজ্জা করুন

📄 আল্লাহকে লজ্জা করুন


অনেক প্রকৃতির পাপী আছে, কেউ সমাজ ও মানুষকে ভয় করে, ফলে গোপনে পাপ করে। ফলে 'দিনের বেলায় মোল্লাগিরি, রাতের বেলায় কলাই চুরি' করে। নবী ﷺ বলেন, আমি নিঃসন্দেহে আমার উম্মতের কয়েক দল লোককে চিনি যারা কিয়ামতের দিন তিহামা (মক্কা ও ইয়ামানের মধ্যবর্তী এক বিশাল লম্বা শ্রেণীবদ্ধ) পর্বতমালার সমপরিমাণ বিশুদ্ধ নেকী নিয়ে উপস্থিত হবে; কিন্তু আল্লাহ তাদের সে সমস্ত নেকীকে উড়ন্ত ধূলিকণাতে পরিণত করে দেবেন।" যওবান বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! সে লোকেরা কেমন হবে তা আমাদের জন্য খুলে বলুন ও তাদের হুলিয়া বর্ণনা করুন, যাতে আমরা আমাদের অজান্তে তাদের দলভুক্ত না হয়ে পড়ি।' আল্লাহর রসূল ﷺ বললেন,
((أَمَا إِنَّهُمْ مِنْ إِخْوَانِكُمْ ، وَلَكِنَّهُمْ أَقْوَامٌ إِذا خَلَوْا بِمَحَارِمِ اللَّهِ انْتَهَكُوهَا)).
"শোন! তারা তোমাদেরই ভাই এবং তোমাদেরই সম্প্রদায়ভুক্ত হবে। তোমরা যেমন রাত্রি জাগরণ করে ইবাদত কর তেমনি তারাও করবে। কিন্তু যখনই তারা আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্তু নিয়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকবে, তখনই তা অমান্য ও লংঘন করবে।" (ইবনে মাজাহ ৪২৪৫, ত্বাবারানীর আওসাত্ব ৪২৩২, সাগীর ৬৬২ নং)

এই শ্রেণীর মানুষদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন,
{يَسْتَخْفُونَ مِنَ النَّاسِ وَلَا يَسْتَخْفُونَ مِنَ اللَّهِ وَهُوَ مَعَهُمْ إِذْ يُبَيِّتُونَ مَا لَا يَرْضَى مِنَ الْقَوْلِ وَكَانَ اللَّهُ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطًا } (۱۰۸) سورة النساء
"এরা মানুষকে লজ্জা করে (মানুষের দৃষ্টি থেকে গোপনীয়তা অবলম্বন করে), কিন্তু আল্লাহকে লজ্জা করে না (তাঁর দৃষ্টি থেকে গোপনীয়তা অবলম্বন করতে পারে না) অথচ তিনি তাদের সঙ্গে থাকেন, যখন রাত্রে তারা তাঁর (আল্লাহর) অপছন্দনীয় কথা নিয়ে পরামর্শ করে। আর তারা যা করে, তা সর্বতোভাবে আল্লাহর জ্ঞানায়ও।" (নিসাঃ ১০৮)

প্রকৃত প্রস্তাবে তারাই পাপ থেকে বাঁচতে পারবে, যারা তাদের মহান প্রতিপালককে লজ্জা করবে। মাননীয় মানুষের সামনে যেমন পাপী অশ্লীলতা করতে, ক্যামেরার সামনে যেমন অসভ্য অসভ্যতা করতে, শাসকের সামনে যেমন অপরাধী অপরাধ করতে ভয় ও লজ্জা করে, তেমনি তারা সর্বজ্ঞাতা সর্বদ্রষ্টা প্রতিপালককে ভয় ও লজ্জা করবে।
সাঈদ বিন য়‍্যাযীদ আযদী একদা নবী -কে বললেন, 'আপনি আমাকে অসিয়ত করুন।' তিনি বললেন,
أُوصِيكَ أَنْ تَسْتَحِيَ مِنَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ، كَمَا تَسْتَحِي مِنَ الرَّجُلِ الصَّالِحِ مِنْ قَوْمِكَ)).
"আমি তোমাকে অসিয়ত করছি যে, তুমি আল্লাহ আয্যা অজাল্লকে ঠিক সেইরূপ লজ্জা করবে, যেরূপ লজ্জা ক'রে থাক তোমার সম্প্রদায়ের নেক লোককে।" (ত্বাবারানী ৫৪০৬, সহীহুল জামে ২৫৪১, সিলসিলাহ সহীহাহ ৭৪১নং)
বলা বাহুল্য, কেউ যদি মহান আল্লাহকে প্রকৃত লজ্জা করে, তাহলে সে পাপ থেকে বাঁচতে পারবে।

আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ কর্তৃক বর্ণিত, একদা আল্লাহর রসূল বললেন, "তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে লজ্জা কর।" সকলে বলল, 'হে আল্লাহর নবী! আমরা তো---আলহামদু লিল্লাহ---আল্লাহকে লজ্জা করে থাকি।' তিনি বললেন,
((لَيْسَ ذَلِكَ، وَلَكِنْ مَنْ اسْتَحَى مِنْ اللَّهِ حَقَّ الْحَيَاءِ فَلْيَحْفَظُ الرَّأْسَ وَمَا حَوَى، وَلْيَحْفَظُ الْبَطْنَ وَمَا وَعَى ، وَلْيَذْكُرُ الْمَوْتَ وَالْبَلَى ، وَمَنْ أَرَادَ الْآخِرَةَ تَرَكَ زِينَةَ الدُّنْيَا، فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَقَدْ اسْتَحْيَا مِنْ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ حَقَّ الْحَيَاءِ)).
"না, ঐরূপ নয়। আল্লাহকে যথাযথভাবে লজ্জা করার অর্থ এই যে, মাথা ও তার সংযুক্ত অন্যান্য অঙ্গ (জিভ, চোখ এবং কান) কে (অবৈধ প্রয়োগ হতে) হিফাযত করবে, পেট ও তার সংশ্লিষ্ট অঙ্গ (লিঙ্গ, হাত, পা ও হৃদয়) কে (তাঁর অবাধ্যাচরণ ও হারাম হতে) হিফাযত করবে এবং মরণ ও তার পর হাড় মাটি হয়ে যাওয়ার কথা (সর্বদা) স্মরণে রাখবে। আর যে ব্যক্তি পরকাল (ও তার সুখময় জীবন) পাওয়ার ইচ্ছা রাখে, সে ইহকালের সৌন্দর্য পরিহার করবে। যে ব্যক্তি এ সব কিছু করে, সেই প্রকৃতপক্ষে আল্লাহকে যথাযথভাবে লজ্জা করে।" (আহমাদ ৩৬৭১, তিরমিযী ২৪৫৮, সহীহ তিরমিযী ২০০০ নং)

📘 পাপ তার শাস্তি ও মুক্তির উপায় > 📄 মরণকে স্মরণ করুন

📄 মরণকে স্মরণ করুন


সব সময় মনে রাখতে হবে, আমার জন্মটা মৃত্যুর মধ্যেই শেষ নয়। পেকে যাওয়া পাতা একদিন জীবনের বোঁটা থেকে খসে পড়বে। জীবনের প্রদীপ জ্বলতে জ্বলতে হঠাৎ নিভে যাবে। আরবী কবি বলেছেন,
تزود بالتقوى فإنك لا تدري إذا جن ليل هل تعيش إلى الفجر
فكم من فتى أمسى وأصبح ضاحكاً وقد نسجت أكفانه وهو لا يدري
وكم من صغار يرتجى طول عمرهم وقد دخلت أجسادهم ظلمة القبر
وكم من صحيح مات من غير علة وكم من سقيم عاش حينا من الدهر
অর্থাৎ, তাকওয়া-পরহেযগারীর পাথেয় সংগ্রহ কর, কারণ তুমি জান না যে, রাত্রি ছেয়ে এলে তুমি ফজর পর্যন্ত বাঁচবে কি না। কত যুবক সকাল-সন্ধ্যায় হেসে বেড়ায়। অথচ তার কাফন প্রস্তুত হচ্ছে সে তা জানে না। কত শিশুর দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়। অথচ আঁধার গোরে তাদের দেহ প্রবিষ্ট হয়। কত সুস্থ ব্যক্তি বিনা রোগেই মারা গেছে এবং কত রোগী দীর্ঘ আয়ু নিয়ে বেঁচে আছে।

মহান আল্লাহ বলেছেন,
{وَلِكُلِّ أُمَّةٍ أَجَلٌ فَإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ لَا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ} (٣٤) الأعراف
অর্থাৎ, প্রত্যেক জাতির এক নির্দিষ্ট সময় আছে। সুতরাং যখন তাদের সময় আসবে, তখন তারা মুহূর্তকালও বিলম্ব বা ত্বরা করতে পারবে না। (আ'রাফ ৩৪)
সুতরাং পাপ কেন? পাপ নিয়ে কি পরকালে পাড়ি দেব? পাপ নিয়ে প্রতিপালকের সম্মুখে দন্ডায়মান হব? পাপের হিসাব কি পারব দিতে? মরতে যদি না হতো, তাহলে এক কথা ছিল, কিন্তু মরতে যদি অবশ্যই হয়, তাহলে পরিত্রাণের পথ কোথায়?

📘 পাপ তার শাস্তি ও মুক্তির উপায় > 📄 পাপকে ঘৃণা করুন

📄 পাপকে ঘৃণা করুন


পাপ হল মহান স্রষ্টার বিরোধিতা ও অবাধ্যতা, পাপ হল অসামাজিকতা, পাপ হল অপরাধ, পাপ হল অশ্লীলতা ও অশালীনতা, পাপ হল অভদ্রতা ও অসচ্চরিত্রতা, পাপ হল অসভ্যতা ও অভব্যতা, পাপ হল নোংরামি ও অপবিত্রতা। অতএব পাপকে আপনি ঘৃণা করুন। তাহলেই পাপ বর্জন করতে পারবেন।
আর মনে রাখুন যে, পাপ ঘৃণ্য ও নোংরা বলেই মহান প্রতিপালক তা বান্দার জন্য হারাম ও নিষিদ্ধ করেছেন।
অবশ্য ঘৃণা করলে মজলিস ও পরিবেশ ত্যাগ করতে হবে। ঘৃণা ক'রে সেখানেই অবস্থান করা যাবে না। মহান আল্লাহ বলেছেন,
{وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ وَإِمَّا يُنسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَى مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ} (৬৮) الأنعام
"তুমি যখন দেখ, তারা আমার নিদর্শন সম্বন্ধে ব্যঙ্গ আলোচনায় মগ্ন হয়, তখন তুমি দূরে সরে পড়; যে পর্যন্ত না তারা অন্য প্রসঙ্গে আলোচনায় প্রবৃত্ত হয় এবং শয়তান যদি তোমাকে ভ্রমে ফেলে, তাহলে স্মরণ হওয়ার পরে তুমি অত্যাচারী সম্প্রদায়ের সাথে বসবে না।" (আনআমঃ ৬৮)
উক্ত নির্দেশের প্রতি ইঙ্গিত করেই তিনি অন্যত্র বলেছেন,
{وَقَدْ نَزَّلَ عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ أَنْ إِذَا سَمِعْتُمْ آيَاتِ اللَّهِ يُكَفَرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلَا تَقْعُدُوا مَعَهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ إِنَّكُمْ إِذَا مِّثْلُهُمْ إِنَّ اللَّهَ جَامِعُ الْمُنَافِقِينَ وَالْكَافِرِينَ فِي جَهَنَّمَ جَمِيعًا} (১৪০) سورة النساء
"তিনি কিতাবে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন যে, যখন তোমরা শুনবে আল্লাহর কোন আয়াতকে প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে এবং তা নিয়ে বিদ্রূপ করা হচ্ছে, তখন যে পর্যন্ত তারা অন্য প্রসঙ্গে আলোচনায় লিপ্ত না হয় তোমরা তাদের সাথে বসো না; নচেৎ তোমরাও তাদের মত হয়ে যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ কপট ও অবিশ্বাসী সকলকেই জাহান্নামে একত্র করবেন।" (নিসাঃ ১৪০)

নিশ্চয় আপনার মনে আছে, শত খুনের অপরাধীকে বলা হয়েছিল, 'তুমি অমুক দেশ চলে যাও। সেখানে কিছু এমন লোক আছে যারা আল্লাহ তাআলার ইবাদত করে। তুমিও তাদের সাথে আল্লাহর ইবাদত কর। আর তোমার নিজ দেশে ফিরে যেয়ো না। কেননা, সে দেশ পাপের দেশ।' (বুখারী ৩৪৭০, মুসলিম ৭১৮৪-৭১৮৫নং) সুতরাং যেখানে গেলে পাপ হয় অথবা পাপের ইচ্ছা জেগে ওঠে সেখানে যাবেন না। নচেৎ পাপ থেকে বাঁচা দুঃসাধ্য হবে।
আর খবরদার তাদের মতো হবেন না, যারা পাপ করেও মনে করে, তারা পুণ্য করছে। অশান্তি সৃষ্টি করেও ধারণা করে, তারা শান্তি প্রতিষ্ঠা করছে। কারণ তারাই হচ্ছে আমলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। মহান আল্লাহ বলেছেন,
{قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا (১০৩) الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا} (১০৪) সূরা কাহাফ
"তুমি বল, 'আমি কি তোমাদেরকে সংবাদ দেব তাদের, যারা কর্মে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত?' ওরাই তারা, পার্থিব জীবনে যাদের প্রচেষ্টা পণ্ড হয়, যদিও তারা মনে ক'রে যে, তারা সৎকর্ম করছে। (কাহফঃ ১০৪)
সুতরাং পাপকে ঘৃণা করুন, পাপ নিয়ে গর্ব করা থেকে বিরত হন এবং পাপের মজলিস ও পরিবেশ ত্যাগ করুন। নচেৎ পাপ থেকে বাঁচা তথা মহান প্রতিপালকের গযব ও আযাব থেকে রক্ষা পাওয়া বড় কঠিন হয়ে যাবে।

📘 পাপ তার শাস্তি ও মুক্তির উপায় > 📄 শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই করুন

📄 শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই করুন


শয়তান মানুষের আদি শত্রু ও চির শত্রু। তার বিরুদ্ধে লাগাতার যুদ্ধ করুন। মহান আল্লাহ শয়তান থেকে মানুষকে সতর্ক ক'রে বলেছেন,
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السَّلْمِ كَافَّةً وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ} (২০৮) সূরা বাক্বরা
"হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।” (বাক্বারাহঃ ২০৮)
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ وَمَنْ يَتَّبِعْ خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ فَإِنَّهُ يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ} (২১) সূরা নূর
"হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করলে শয়তান তো অশ্লীলতা ও মন্দ কাজের নির্দেশ দেয়।” (নূর: ২১)

আর মহানবী বলেছেন,
إِنَّ إِبْلِيسَ يَضَعُ عَرْشَهُ عَلَى الْمَاءِ ثُمَّ يَبْعَثُ سَرَايَاهُ فَأَدْنَاهُمْ مِنْهُ مَنْزِلَةً أَعْظَمُهُمْ فِتْنَةً يَجِيءُ أَحَدُهُمْ فَيَقُولُ فَعَلْتُ كَذَا وَكَذَا فَيَقُولُ مَا صَنَعْتَ شَيْئًا قَالَ ثُمَّ يَجِيءُ أَحَدُهُمْ فَيَقُولُ مَا تَرَكْتُهُ حَتَّى فَرَّقْتُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ امْرَأَتِهِ - قَالَ - فَيُدْنِيهِ مِنْهُ وَيَقُولُ نِعْمَ أَنْتَ، فَيَلْتَزِمُهُ ..
“সমুদ্রের উপর শয়তান তার সিংহাসন রেখে মানুষকে বিভিন্ন পাপ ও ফিতনায় জড়িত করার উদ্দেশ্যে নিজের শিষ্যদল পাঠিয়ে থাকে। তার কাছে সেই শিষ্য সবচেয়ে বড় মর্যাদা (ও বেশী নৈকট্য) পায়, যে সবচেয়ে বড় পাপ বা ফিতনা সৃষ্টি করতে পারে। কোন শিষ্য এসে বলে, 'আমি এই করেছি।' ইবলীস বলে, 'তুই কিছুই করিসনি।' অন্যজন বলে 'আমি একজনের পিছনে লেগে তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়া করিয়েছি।' তখন শয়তান তাকে নিকটে করে (জড়িয়ে ধরে) বলে, 'হ্যাঁ, তুমিই একটা কাজ করেছ!” (মুসলিম ৭২৮৪নং)

অতএব শয়তান থেকে প্রতিনিয়ত আশ্রয় প্রার্থনা করুন। এর জন্য সকাল-সন্ধ্যায় ও শোবার সময় নিয়মিত তিন কুল (সূরা ইখলাস, ফালাক্ব ও নাস) ৩বার ক'রে পাঠ করুন। আর আপনার মুনাজাতে বলুন,
{ رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِين (۹۷) وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن يَحْضُرُونَ} (۹۸)
অর্থাৎ, 'হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি শয়তানদের প্ররোচনা হতে। হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি আমার নিকট ওদের (শয়তানদের) উপস্থিতি হতে।' (মু'মিনুনঃ ৯৭-৯৮)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00