📄 তওবাকে বিশুদ্ধ রাখুন
পাপ থেকে ফিরার জন্য তওবা করুন। আর সে তওবা যেন বিশুদ্ধ হয়। কোন সৃষ্টিকে সন্তুষ্ট করার জন্য যেন না হয়। নচেৎ সে তওবায় আপনি প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না।
অনুরূপ আপনার তওবা যেন কেবল বিপদ থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে না হয়, নচেৎ বিপদ কেটে গেলে আবারও আপনি আপনার অপরাধে ফিরে যেতে পারেন।
তদনুরূপ তওবা যেন কোন স্বার্থ উদ্ধারের জন্য না হয়, নচেৎ স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে আপনি আপনার অতীতে আবারও ফিরে যেতে পারেন। মানুষের ভয়ে নয়, কেবল আল্লাহর ভয়ে তওবা করুন। স্রষ্টার ভয় বুকে থাকলে সৃষ্টির ভয় মন থেকে মুছে যাবে। আর মনে রাখবেন, ইহকালের শাস্তি অপেক্ষা পরকালের শাস্তি বহুগুণ বেশি।
বলা বাহুল্য, একমাত্র বিশুদ্ধ তওবাই পারে আপনাকে অপরাধ থেকে দূরে রাখতে。
📄 আল্লাহর ভয় মনে রাখুন
আপনি আল্লাহকে বিশ্বাস করেন, তাহলে তাঁর বিধানের কথাও মনে রাখুন। আপনি যেখানেই থাকুন, যে অবস্থায়ই থাকুন, তিনি আপনাকে দেখছেন। তিনি আপনার কর্ম দেখছেন, আপনার কথা শুনছেন, আপনার মনের গোপন কথাও জানছেন।
{عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ الْكَبِيرُ الْمُتَعَال (۹) سَوَاء مِّنكُم مَّنْ أَسَرَّ الْقَوْلَ وَمَن جَهَرَ بِهِ وَمَنْ هُوَ مُسْتَخْفِ بِاللَّيْلِ وَسَارِبٌ بالنهار (۱۰) سورة الرعد}
"অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সম্বন্ধে তিনি অবগত; তিনি সুমহান, সর্বোচ্চ। তোমাদের মধ্যে যে গোপনে কথা বলে এবং যে তা প্রকাশ্যে বলে, যে রাত্রে আত্মগোপন করে এবং যে দিবসে প্রকাশ্যে বিচরণ করে, তারা (আল্লাহর জ্ঞানে) সবাই সমান।" (রা'দঃ ৯-১০)
{وَأَسِرُّوا قَوْلَكُمْ أَوِ اجْهَرُوا بِهِ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ (۱۳) أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ} (١٤) سورة الملك
তোমরা তোমাদের কথা গোপনেই বল অথবা প্রকাশ্যে, নিশ্চয় তিনি অন্তর্যামী। যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানেন না? তিনি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবগত। (মুল্কঃ ১৩-১৪)
আরবী কবি বলেছেন,
إذا ما خلوت الدهر يوما فلا تقل خلوت ولكن قل : علي رقيب ولا تحسبن الله يغفل ساعة ولا أن ما تخفيه عنه يغيب
অর্থাৎ, যদি কোন সময় তুমি একাকিত্ব অবলম্বন কর, তাহলে বলো না যে, আমি নির্জনে একা আছি। বরং বল, 'আমার উপর পর্যবেক্ষক আছেন।' তুমি এ ধারণা করো না যে, যা ঘটে গেছে সে সম্বন্ধে আল্লাহ বেখবর আছেন। আর এও ধারণা করো না যে, গোপন জিনিস তাঁর অগোচর থাকে।
وإذا خلوت بريبة في ظلمة والنفس داعية إلى الطغيان فاستحي من نظر الإله وقل لها إن الذي خلق الظلام يراني
অর্থাৎ, যখন অন্ধকারে কোন পাপ নিয়ে গোপনীয়তা অবলম্বন কর এবং মনও চায় অবাধ্যতা করতে, তাহলে আল্লাহর দৃষ্টিকে লজ্জা করো এবং বলো, যিনি অন্ধকার সৃষ্টি করেছেন, তিনি আমাকে দেখছেন।
إِنَّ مَنْ يَرْكَبُ الْفَوَاحِشَ سِرًّا حين يخلو بسوءة غير خال كَيْفَ يَخْلُو وعندَهُ كَاتِبَاهُ شَاهِدَيْهِ وَرَبُّهُ ذُو الْجَلَال
অর্থাৎ, যে কেউ গোপনে অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়, যখন সে কোন খারাপ কিছু নিয়ে নির্জনতা অবলম্বন করে, সে নির্জন নয়। কীভাবে সে নির্জন হতে পারে, অথচ তার সাথে তার দুই সাক্ষী লেখক (ফিরিস্তা) রয়েছেন এবং রয়েছেন তার মহাশক্তিশালী প্রতিপালক।
মহান আল্লাহ বান্দার সবকিছু নোট করছেন। তিনি বলেছেন,
{أَمْ يَحْسَبُونَ أَنَّا لَا نَسْمَعُ سِرَّهُمْ وَنَجْوَاهُم بَلَى وَرُسُلُنَا لَدَيْهِمْ يَكْتُبُونَ} (৮০)
"ওরা কি মনে করে যে, আমি ওদের গোপন বিষয় ও গোপন পরামর্শের খবর রাখি না? অবশ্যই (রাখি)। আমার দূতগণ তো ওদের কাছে থেকে সব লিপিবদ্ধ করে।" (যুখরুফঃ ৮০)
শেষ বিচারের দিন সেই রেকর্ড প্রদর্শন করা হবে এবং বলা হবে,
{هَذَا كِتَابُنَا يَنطِقُ عَلَيْكُم بِالْحَقِّ إِنَّا كُنَّا نَسْتَنسِخُ مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ} (২৯) الجاثية
"আমার (নিকট সংরক্ষিত) এ আমলনামা, যা তোমাদের ব্যাপারে সত্য কথা বলবে। তোমরা যা করতে, নিশ্চয় আমি তা লিপিবদ্ধ করাতাম।" (জাযিয়াহঃ ২৯)
হ্যাঁ, আমি-আপনি মহান স্রষ্টার গোপন ক্যামেরার সামনে আছি। সুতরাং “কেউ অণু পরিমাণ ভালো কাজ করলে, (সেদিন) সে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করলে, তাও সে দেখতে পাবে।” (যিলযালঃ ৭-৮)
সেদিন (প্রত্যেকের হাতে) রাখা হবে আমলনামা এবং তাতে যা লিপিবদ্ধ আছে তার কারণে অপরাধীরা ভীত-সন্ত্রস্ত হবে; তারা বলবে,
{يَا وَيْلَتَنَا مَالِ هَذَا الْكِتَابِ لَا يُغَادِرُ صَغِيرَةً وَلَا كَبِيرَةً إِلَّا أَحْصَاهَا وَوَجَدُوا مَا عَمِلُوا حَاضِرًا وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا} (৪৯) سورة الكهف
'হায় দুর্ভোগ আমাদের! এ কেমন গ্রন্থ! এ তো ছোট-বড় কিছুই বাদ দেয়নি; বরং এ সমস্ত হিসাব রেখেছে!' তারা তাদের কৃতকর্ম সম্মুখে উপস্থিত পাবে; আর তোমার প্রতিপালক কারো প্রতি যুলুম করেন না। (কাহফঃ ৪৯)
হ্যাঁ, সেদিন এমন দিন,
{يَوْمَ تَجِدُ كُلُّ نَفْسٍ مَّا عَمِلَتْ مِنْ خَيْرٍ مُّحْضَرًا وَمَا عَمِلَتْ مِن سُوءٍ تَوَدُّ لَوْ أَنَّ بَيْنَهَا وَبَيْنَهُ أَمَدًا بَعِيدًا وَيُحَذِّرُكُمُ اللهُ نَفْسَهُ وَاللَّهُ رَؤُوفٌ بِالْعِبَادِ} (৩০) آل عمران
“যেদিন প্রত্যেক সেই ব্যক্তি, যে ভাল কাজ করেছে, সে তা উপস্থিত পাবে এবং যে মন্দ কাজ করেছে, (সেও তা বিদ্যমান পাবে।) সেদিন সে কামনা করবে, যদি তার ও ওর (দুষ্কর্মের) মধ্যে বহু দূর ব্যবধান হতো! বস্তুতঃ আল্লাহ তাঁর নিজের সম্বন্ধে তোমাদেরকে সাবধান করছেন। আর আল্লাহ দাসদের প্রতি অত্যন্ত অনুগ্রহশীল।” (আলে ইমরান: ৩০)
এখানেই শেষ নয়, তারপর হিসাব হবে এবং হিসাব অনুযায়ী নির্ধারিত হবে আমাদের চিরস্থায়ী ঠিকানা।
অতএব আপনার অপরাধ করার ইচ্ছা হলে মহান আল্লাহর কথা স্মরণ করুণ, দুনিয়ার কারেন্ট শাস্তি ও লাঞ্ছনার কথা স্মরণ করুন, তাঁর হিসাব ও শাস্তির কথা স্মরণ করুন, তাহলেই পাপ ও অপরাধ থেকে দূরে থাকতে পারবেন।
কিন্তু যদি আপনার বিশ্বাস ক্ষীণ হয়, দুনিয়ায় ধরা পড়া ও প্রশাসনের শাস্তিকে ভয় না হয়, সমাজের লোকের সামনে লাঞ্ছিত হওয়াকেও আপনি পরোয়া না করেন, তাহলে একবার ভেবে দেখুন, আপনি কেমন মানুষ?
📄 আল্লাহকে লজ্জা করুন
অনেক প্রকৃতির পাপী আছে, কেউ সমাজ ও মানুষকে ভয় করে, ফলে গোপনে পাপ করে। ফলে 'দিনের বেলায় মোল্লাগিরি, রাতের বেলায় কলাই চুরি' করে। নবী ﷺ বলেন, আমি নিঃসন্দেহে আমার উম্মতের কয়েক দল লোককে চিনি যারা কিয়ামতের দিন তিহামা (মক্কা ও ইয়ামানের মধ্যবর্তী এক বিশাল লম্বা শ্রেণীবদ্ধ) পর্বতমালার সমপরিমাণ বিশুদ্ধ নেকী নিয়ে উপস্থিত হবে; কিন্তু আল্লাহ তাদের সে সমস্ত নেকীকে উড়ন্ত ধূলিকণাতে পরিণত করে দেবেন।" যওবান বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! সে লোকেরা কেমন হবে তা আমাদের জন্য খুলে বলুন ও তাদের হুলিয়া বর্ণনা করুন, যাতে আমরা আমাদের অজান্তে তাদের দলভুক্ত না হয়ে পড়ি।' আল্লাহর রসূল ﷺ বললেন,
((أَمَا إِنَّهُمْ مِنْ إِخْوَانِكُمْ ، وَلَكِنَّهُمْ أَقْوَامٌ إِذا خَلَوْا بِمَحَارِمِ اللَّهِ انْتَهَكُوهَا)).
"শোন! তারা তোমাদেরই ভাই এবং তোমাদেরই সম্প্রদায়ভুক্ত হবে। তোমরা যেমন রাত্রি জাগরণ করে ইবাদত কর তেমনি তারাও করবে। কিন্তু যখনই তারা আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্তু নিয়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকবে, তখনই তা অমান্য ও লংঘন করবে।" (ইবনে মাজাহ ৪২৪৫, ত্বাবারানীর আওসাত্ব ৪২৩২, সাগীর ৬৬২ নং)
এই শ্রেণীর মানুষদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন,
{يَسْتَخْفُونَ مِنَ النَّاسِ وَلَا يَسْتَخْفُونَ مِنَ اللَّهِ وَهُوَ مَعَهُمْ إِذْ يُبَيِّتُونَ مَا لَا يَرْضَى مِنَ الْقَوْلِ وَكَانَ اللَّهُ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطًا } (۱۰۸) سورة النساء
"এরা মানুষকে লজ্জা করে (মানুষের দৃষ্টি থেকে গোপনীয়তা অবলম্বন করে), কিন্তু আল্লাহকে লজ্জা করে না (তাঁর দৃষ্টি থেকে গোপনীয়তা অবলম্বন করতে পারে না) অথচ তিনি তাদের সঙ্গে থাকেন, যখন রাত্রে তারা তাঁর (আল্লাহর) অপছন্দনীয় কথা নিয়ে পরামর্শ করে। আর তারা যা করে, তা সর্বতোভাবে আল্লাহর জ্ঞানায়ও।" (নিসাঃ ১০৮)
প্রকৃত প্রস্তাবে তারাই পাপ থেকে বাঁচতে পারবে, যারা তাদের মহান প্রতিপালককে লজ্জা করবে। মাননীয় মানুষের সামনে যেমন পাপী অশ্লীলতা করতে, ক্যামেরার সামনে যেমন অসভ্য অসভ্যতা করতে, শাসকের সামনে যেমন অপরাধী অপরাধ করতে ভয় ও লজ্জা করে, তেমনি তারা সর্বজ্ঞাতা সর্বদ্রষ্টা প্রতিপালককে ভয় ও লজ্জা করবে।
সাঈদ বিন য়্যাযীদ আযদী একদা নবী -কে বললেন, 'আপনি আমাকে অসিয়ত করুন।' তিনি বললেন,
أُوصِيكَ أَنْ تَسْتَحِيَ مِنَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ، كَمَا تَسْتَحِي مِنَ الرَّجُلِ الصَّالِحِ مِنْ قَوْمِكَ)).
"আমি তোমাকে অসিয়ত করছি যে, তুমি আল্লাহ আয্যা অজাল্লকে ঠিক সেইরূপ লজ্জা করবে, যেরূপ লজ্জা ক'রে থাক তোমার সম্প্রদায়ের নেক লোককে।" (ত্বাবারানী ৫৪০৬, সহীহুল জামে ২৫৪১, সিলসিলাহ সহীহাহ ৭৪১নং)
বলা বাহুল্য, কেউ যদি মহান আল্লাহকে প্রকৃত লজ্জা করে, তাহলে সে পাপ থেকে বাঁচতে পারবে।
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ কর্তৃক বর্ণিত, একদা আল্লাহর রসূল বললেন, "তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে লজ্জা কর।" সকলে বলল, 'হে আল্লাহর নবী! আমরা তো---আলহামদু লিল্লাহ---আল্লাহকে লজ্জা করে থাকি।' তিনি বললেন,
((لَيْسَ ذَلِكَ، وَلَكِنْ مَنْ اسْتَحَى مِنْ اللَّهِ حَقَّ الْحَيَاءِ فَلْيَحْفَظُ الرَّأْسَ وَمَا حَوَى، وَلْيَحْفَظُ الْبَطْنَ وَمَا وَعَى ، وَلْيَذْكُرُ الْمَوْتَ وَالْبَلَى ، وَمَنْ أَرَادَ الْآخِرَةَ تَرَكَ زِينَةَ الدُّنْيَا، فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَقَدْ اسْتَحْيَا مِنْ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ حَقَّ الْحَيَاءِ)).
"না, ঐরূপ নয়। আল্লাহকে যথাযথভাবে লজ্জা করার অর্থ এই যে, মাথা ও তার সংযুক্ত অন্যান্য অঙ্গ (জিভ, চোখ এবং কান) কে (অবৈধ প্রয়োগ হতে) হিফাযত করবে, পেট ও তার সংশ্লিষ্ট অঙ্গ (লিঙ্গ, হাত, পা ও হৃদয়) কে (তাঁর অবাধ্যাচরণ ও হারাম হতে) হিফাযত করবে এবং মরণ ও তার পর হাড় মাটি হয়ে যাওয়ার কথা (সর্বদা) স্মরণে রাখবে। আর যে ব্যক্তি পরকাল (ও তার সুখময় জীবন) পাওয়ার ইচ্ছা রাখে, সে ইহকালের সৌন্দর্য পরিহার করবে। যে ব্যক্তি এ সব কিছু করে, সেই প্রকৃতপক্ষে আল্লাহকে যথাযথভাবে লজ্জা করে।" (আহমাদ ৩৬৭১, তিরমিযী ২৪৫৮, সহীহ তিরমিযী ২০০০ নং)
📄 মরণকে স্মরণ করুন
সব সময় মনে রাখতে হবে, আমার জন্মটা মৃত্যুর মধ্যেই শেষ নয়। পেকে যাওয়া পাতা একদিন জীবনের বোঁটা থেকে খসে পড়বে। জীবনের প্রদীপ জ্বলতে জ্বলতে হঠাৎ নিভে যাবে। আরবী কবি বলেছেন,
تزود بالتقوى فإنك لا تدري إذا جن ليل هل تعيش إلى الفجر
فكم من فتى أمسى وأصبح ضاحكاً وقد نسجت أكفانه وهو لا يدري
وكم من صغار يرتجى طول عمرهم وقد دخلت أجسادهم ظلمة القبر
وكم من صحيح مات من غير علة وكم من سقيم عاش حينا من الدهر
অর্থাৎ, তাকওয়া-পরহেযগারীর পাথেয় সংগ্রহ কর, কারণ তুমি জান না যে, রাত্রি ছেয়ে এলে তুমি ফজর পর্যন্ত বাঁচবে কি না। কত যুবক সকাল-সন্ধ্যায় হেসে বেড়ায়। অথচ তার কাফন প্রস্তুত হচ্ছে সে তা জানে না। কত শিশুর দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়। অথচ আঁধার গোরে তাদের দেহ প্রবিষ্ট হয়। কত সুস্থ ব্যক্তি বিনা রোগেই মারা গেছে এবং কত রোগী দীর্ঘ আয়ু নিয়ে বেঁচে আছে।
মহান আল্লাহ বলেছেন,
{وَلِكُلِّ أُمَّةٍ أَجَلٌ فَإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ لَا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ} (٣٤) الأعراف
অর্থাৎ, প্রত্যেক জাতির এক নির্দিষ্ট সময় আছে। সুতরাং যখন তাদের সময় আসবে, তখন তারা মুহূর্তকালও বিলম্ব বা ত্বরা করতে পারবে না। (আ'রাফ ৩৪)
সুতরাং পাপ কেন? পাপ নিয়ে কি পরকালে পাড়ি দেব? পাপ নিয়ে প্রতিপালকের সম্মুখে দন্ডায়মান হব? পাপের হিসাব কি পারব দিতে? মরতে যদি না হতো, তাহলে এক কথা ছিল, কিন্তু মরতে যদি অবশ্যই হয়, তাহলে পরিত্রাণের পথ কোথায়?