📘 পাপ তার শাস্তি ও মুক্তির উপায় > 📄 (৫) বিপদাপদ

📄 (৫) বিপদাপদ


দুঃখ-কষ্ট দ্বারা পরিবেষ্টিত এ জীবন। এমন কোন মানুষ নেই, যে কোন দুঃখ বা কষ্ট পায় না। কিন্তু সেই দুঃখ-কষ্ট অনেক সময় মানুষের নিজ কৃতকর্মের প্রতিফল হয়। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত শাস্তি হয়। কারো জন্য ঈমানের পরীক্ষা হয়। সুতরাং যে যত বেশি ভালো মানুষ, তার দুঃখ-কষ্ট তত বেশি হয়। মহানবী বলেছেন,
(أَشَدُّ النَّاسِ بَلاء الأنبياء ثُمَّ الأَمْثَلُ فالأمْثَلُ يُبْتَلى الرَّجُلُ عَلى حَسَبِ دِينِهِ فَإِنْ كَانَ فِي دِينِهِ صُلْباً اشْتَدَّ بَلاؤُهُ وإِنْ كَانَ فِي دِينِهِ رِقَةٌ ابْتُلِيَ على قَدْرِ دِينِهِ فَمَا يَبْرَحُ البَلاءُ بالعَبْدِ حَتَّى يَتْرُكَهُ يَمْشِي على الأرض وما عليهِ خَطِيئَةٌ)).
"সকল মানুষ অপেক্ষা নবীগণই অধিকতর কঠিন বিপদের সম্মুখীন হন। অতঃপর তাঁদের চেয়ে নিম্নমানের ব্যক্তি এবং তারপর তাদের চেয়েও নিম্নমানের ব্যক্তিগণ অপেক্ষাকৃত হাল্কা বিপদে আক্রান্ত হন। মানুষকে তার দ্বীনের (পূর্ণতার) পরিমাণ অনুযায়ী বিপদগ্রস্ত করা হয়; সুতরাং তার দ্বীনে যদি মজবুতি থাকে, তবে (যে পরিমাণ মজবুতি আছে) ঠিক সেই পরিমাণ তার বিপদও কঠিন হয়ে থাকে। আর যদি তার দ্বীনে দুর্বলতা থাকে তবে তার দ্বীন অনুযায়ী তার বিপদও (হাল্কা) হয়। পরন্ত বিপদ এসে এসে বান্দার শেষে এই অবস্থা হয় যে, সে জমীনে চলা ফেরা করে অথচ তার কোন পাপ অবশিষ্ট থাকে না।" (তিরমিযী ২৩৯৮, ইবনে মাজাহ ৪০২৩, ইবনে হিব্বান, সহীহুল জামে' ৯৯২ নং)

মু'মিন নারী-পুরুষের জীবনে কোন বালা-মসিবত বা বিপদাপদ এলে তার ফলে তার গোনাহ মোচন হয়ে যায়। যে কষ্ট সে পায়, তার বিনিময়ে করুণাময় তাকে পাপমুক্ত, শুদ্ধ ও পবিত্র করেন। মহানবী বলেছেন,
(( مَا يَزَالُ البَلاءُ بِالْمُؤْمِن وَالْمُؤْمِنَةِ فِي نَفْسِهِ وَوَلَدِهِ وَمَالِهِ حَتَّى يَلْقَى اللَّهُ تَعَالَى وَمَا عَلَيْهِ خَطِيئة )). رواه الترمذي
"মু'মিন পুরুষ ও নারীর জান, সন্তান-সন্ততি ও তার ধনে (বিপদ-আপদ দ্বারা) পরীক্ষা হতে থাকে, পরিশেষে সে আল্লাহ তাআলার সঙ্গে নিষ্পাপ হয়ে সাক্ষাৎ করবে।" (তিরমিযী ২৩৯৯নং)

((مَا يُصِيبُ الْمُسْلِمَ مِنْ نَصَبٍ ، وَلَا وَصَبٍ ، وَلَا هُمْ ، وَلَا حَزَن ، وَلَا أَدْى ، وَلَا غَم ، حَتَّى الشَّوكَةُ يُشَاكُهَا إِلَّا كَفَرَ اللهُ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
"মুসলিমকে যে কোন ক্লান্তি, অসুখ, চিন্তা, শোক এমন কি (তার পায়ে) কাঁটাও লাগে, আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে তার গোনাহসমূহ ক্ষমা ক'রে দেন।" (বুখারী ৫৬৪১-৫৬৪২, মুসলিম ৬৭৩৩নং)

ইবনে মাসউদ বলেন, একদা আমি নবী -এর খিদমতে উপস্থিত হলাম। সে সময় তিনি জ্বর ভুগছিলেন। আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! আপনার যে প্রচন্ড জ্বর!' তিনি বললেন, "হ্যাঁ! তোমাদের দু'জনের সমান আমার জ্বর আসে।" আমি বললাম, 'তার জন্যই কি আপনার পুরস্কারও দ্বিগুণ?' তিনি বললেন,
(( أَجَلْ ، ذلِكَ كَذلِكَ ، مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصِيبُهُ أذى ، شَوْكَةٌ فَمَا فَوقَهَا إِلَّا كَفَرَ اللَّهُ بِهَا سَيِّئَاتِهِ ، وَحُطَّتْ عَنْهُ ذُنُوبُهُ كَمَا تَحُطُّ الشَّجَرَةُ وَرَقَهَا )).
"হ্যাঁ! ব্যাপার তা-ই। (অনুরূপ) যে কোন মুসলিমকে কোন কষ্ট পৌঁছে, কাঁটা লাগে অথবা তার চেয়েও কঠিন কষ্ট হয়, আল্লাহ তাআলা এর কারণে তার পাপসমূহকে মোচন ক'রে দেন এবং তার পাপসমূহকে এইভাবে ঝরিয়ে দেওয়া হয়; যেভাবে গাছ তার পাতা ঝরিয়ে দেয়।" (বুখারী ৫৬৪৮, মুসলিম ৬৭২৪নং)

অন্য এক বর্ণনায় আছে,
((مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصِيبُهُ أَذَى مَرَضٌ فَمَا سِوَاهُ إِلَّا حَطَّ اللَّهُ لَهُ سَيِّئَاتِهِ كَمَا تَحُطُّ الشَّجَرَةُ ورقها )).
"কোন মুমিনকে যখনই কোন রোগ অথবা অন্য কিছুর মাধ্যমে কষ্ট পৌঁছে, তখনই আল্লাহ তার বিনিময়ে তার পাপরাশিকে ঝরিয়ে দেন; যেমন বৃক্ষ তার পত্রাবলীকে ঝরিয়ে থাকে।" (বুখারী ৫৬৬০, ৫৬৬৭, মুসলিম ৬৭২৪নং)

তিনি আরো বলেছেন,
مَا يُصِيبُ الْمُؤْمِنَ مِنْ شَوْكَةٍ فَمَا فَوْقَهَا إِلَّا رَفَعَهُ اللَّهُ بِهَا دَرَجَةً أَوْ حَطَّ عَنْهُ بِهَا خطيئة ». رواه مسلم
"মু'মিন কোন কাঁটা বা তার চাইতে বড় কোন কিছু দ্বারা বিপদগ্রস্ত হলে আল্লাহ তার বিনিময়ে তাকে একটি মর্যাদায় উন্নত করেন অথবা তার একটি পাপ মোচন ক'রে দেন।" (মুসলিম ৬৭২৭নং)

জাবের বলেন, রাসূলুল্লাহ (একবার) উম্মে সায়েব কিংবা উম্মে মুসাইয়িবের নিকট প্রবেশ ক'রে বললেন, "হে উম্মে সায়েব কিংবা উম্মে মুসাইয়িব! তোমার কী হয়েছে যে, থর করে কাঁপছ?" সে বলল, 'জ্বর হয়েছে; আল্লাহ তাতে বর্কত না দিন।' (এ কথা শুনে) তিনি বললেন,
(( لَا تَسبِّي الحُمَّى فَإِنَّهَا تُذْهِبُ خَطَايَا بَنِي آدَمَ كَمَا يُذْهِبُ الكِيْرُ خَبَثَ الحَدِيدِ )) .
“জ্বরকে গালি দিয়ো না। জ্বর তো আদম সন্তানের পাপ মোচন করে; যেমন হাপর (ও ভাটি) লোহার ময়লা দূর ক'রে ফেলে।” (মুসলিম ৬৭৩৫নং)

অবশ্য পাপ ক্ষয়ের জন্য শর্ত হল, মু'মিন বালা-মসিবতে ধৈর্যধারণ করবে এবং সওয়াবের আশা রাখবে। উপরন্তু সে তাতেও মহান প্রতিপালকের প্রশংসা করলে এমন পাপমুক্ত হবে, যেমন সদ্যভূমিষ্ঠ শিশু নিষ্পাপ হয়। মহানবী বলেছেন,
((إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ : إِنِّي إِذا ابْتَلَيْتُ عَبْدًا مِنْ عِبَادِي مُؤْمِنًا فَحَمِدَنِي عَلَى مَا ابْتَلَيْتُهُ فَإِنَّهُ يَقُومُ مِنْ مَضْجَعِهِ ذَلِكَ كَيَوْمٍ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ مِنْ الْخَطَايَا، وَيَقُولُ الرَّبُّ عَزَّ وَجَلَّ: أَنَا فَيَدْتُ عَبْدِي وَابْتَلَيْتُهُ وَأَجْرُوا لَهُ كَمَا كُنْتُمْ تُجْرُونَ لَهُ وَهُوَ صَحِيحٌ)).
"আল্লাহ আয্যা অজাল্ল বলেন, "আমি যখন আমার কোন মুমিন বান্দাকে (রোগ-বালা দিয়ে) পরীক্ষা করি এবং সে ঐ রোগ-বালাতে আমার প্রশংসা করে, তখন সে তার ঐ বিছানা থেকে সেই দিনকার মত নিষ্পাপ হয়ে ওঠে, যেদিন তার মা তাকে ভূমিষ্ঠ করেছিল।" রব্ব আয্যা অজাল্ল (কিরামান কাতেবীনকে) বলেন, “আমি আমার বান্দাকে (অনেক আমল থেকে) বিরত রেখেছি এবং রোগগ্রস্ত করেছি। সুতরাং তোমরা তার জন্য সেই আমলের সওয়াব লিখতে থাক, যে আমলের সওয়াব তার সুস্থ অবস্থায় লিখতে।” (আহমাদ ১৭১১৮, সহীহ তারগীব ৩৪২৩নং)
সুতরাং যাদের দুঃখ-কষ্টের সংসার, যারা চিররোগা ও অসুস্থ, তাদের জন্য অবশ্যই সুসংবাদ। তারা দুনিয়াতে সুখ না পেলেও আখেরাতে তার বিনিময়ে পাবে চিরসুখের রাজ্য। যেহেতু তারা কষ্টে ধৈর্যধারণ ক'রে সওয়াবের আশা করে এবং তাওহীদ ও ঈমান নিয়ে নিষ্পাপ হয়ে প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ করবে।

📘 পাপ তার শাস্তি ও মুক্তির উপায় > 📄 (৬) কবরের আযাব

📄 (৬) কবরের আযাব


কবরের আযাব সত্য। কোন মু'মিন কোনও পাপ থেকে তওবা ক'রে মারা না গেলে তার কবরে আযাব হতে পারে। আর তার ফলে তার জাহান্নামের শাস্তি লাঘব হতে পারে অথবা মাফ হতে পারে।
কবরের শাস্তির মধ্যে মাটির চেপে ধরা অন্যতম। আর সেটা সকলের জন্য অনিবার্য। কেউ বাঁচলে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবী সা'দ বিন মুআয বাঁচতেন। মহানবী বলেছেন,
((هَذَا الَّذِي تَحَرَّكَ لَهُ الْعَرْشِ وَفُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَشَهِدَهُ سَبْعُونَ أَلْفًا مِنَ الْمَلَائِكَةِ لَقَدْ ضُمَّ ضَمَّةً ثُمَّ فُرِّجَ عَنْهُ)).
“এই ব্যক্তি, যার (মৃত্যুর) জন্য আরশ কম্পিত হয়েছে, তার জন্য আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়েছে এবং তার জানাযায় সত্তর হাজার ফিরিস্তা উপস্থিত হয়েছেন, তাকেও একবার চেপে ধরা হয়েছে। অতঃপর মুক্তি দেওয়া হয়েছে।” (নাসাঈ ২০৫৫নং)
এ ছাড়া পাপ অনুযায়ী বিভিন্ন শাস্তি রয়েছে কবরে। আর সে শাস্তি কবরে পেয়ে গেলে জাহান্নামের শাস্তি হাল্কা অথবা মাফ হয়ে যাবে。

📘 পাপ তার শাস্তি ও মুক্তির উপায় > 📄 (৭) ঈসালে সওয়াব

📄 (৭) ঈসালে সওয়াব


মানুষ মারা গেলে তার আমলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু বেহেস্তী বারযাখী জীবনে তার মর্যাদাবর্ধন অথবা দোযখী জীবনের শাস্তি লাঘব করার কতিপয় পথ খোলা থাকে। আর সে পথ অবলম্বন করতে পারে তার আত্মীয়-বন্ধুগণ। তারা যেমন দুআ ব্যবহার করতে পারে, তেমনি কিছু নেক আমল করতে পারে, যার দ্বারা তাদের মৃতব্যক্তি মধ্য জগতে উপকৃত হতে পারে।

১। মাইয়্যেতের নযর-মানা রোযা যদি তার অভিভাবক কাযা রেখে দেয়, তবে তার সওয়াব তার উপকারে আসবে। প্রিয় রসূল বলেন,
مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامٌ صَامَ عَنْهُ وَلِيُّهُ ..
"যে ব্যক্তি রোযা বাকী রেখে মারা যায়, তার পক্ষ থেকে তার অভিভাবক রোযা রেখে দেবে।" (বুখারী ১৯৫২, মুসলিম ২৭৪৮নং)
ইবনে আব্বাস বলেন, 'এক মহিলা সমুদ্র-সফরে বের হলে সে নযর মানল যে, যদি আল্লাহ তাবারাকা অতাআলা তাকে সমুদ্র থেকে পরিত্রাণ দান করেন, তাহলে সে একমাস রোযা রাখবে। অতঃপর সে সমুদ্র থেকে পরিত্রাণ পেয়ে ফিরে এল। কিন্তু রোযা না রেখেই সে মারা গেল। তার এক কন্যা নবী এর নিকট এসে সে ঘটনার উল্লেখ করলে তিনি বললেন, "মনে কর, তার যদি কোন ঋণ বাকী থাকত, তাহলে তা তুমি পরিশোধ করতে কি না?" বলল, 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন,
(( دَيْنُ اللَّهِ أَحَقُّ أَنْ يُقْضَى)).
"তাহলে আল্লাহর ঋণ অধিকরূপে পরিশোধ-যোগ্য। সুতরাং তুমি তোমার মায়ের তরফ থেকে রোযা কাযা করে দাও।" (আহমাদ ১৮৬১, ৩১৩৮, আবু দাউদ ৩৩১০নং, ত্বাবারানী ১২১৯৫, প্রমুখ)

তদনুরূপ রমযানের রোযা কাযা রেখে মারা গেলে তার বিনিময়ে তার অভিভাবক ফিদয়্যাহ (প্রত্যেক দিনের পরিবর্তে একটি মিসকীনকে একদিনের খাদ্য অথবা ১ কিলো ২৫০ গ্রাম করে চাল) দিলে তার সওয়াবও মাইয়্যেতের জন্য উপকারী।
আমরাহর মা রমযানের রোযা বাকী রেখে ইন্তিকাল করলে তিনি মা আয়েশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, 'আমি আমার মায়ের তরফ থেকে কাযা করে দেব কি?' আয়েশা (রাঃ) বললেন, 'না। বরং তার তরফ থেকে প্রত্যেক দিনের পরিবর্তে এক একটি মিসকীনকে অর্ধ সা' (প্রায় ১কিলো ২৫০ গ্রাম খাদ্য) সদকাহ করে দাও।' (ত্বাহাবী ৩/১৪২, মুহাল্লা ৭/৪, আহকামুল জানাইয, টীকা ১৭০পৃঃ)
ইবনে আব্বাস বলেন, 'কোন ব্যক্তি রমযান মাসে অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং তারপর রোযা না রাখা অবস্থায় মারা গেলে তার তরফ থেকে মিসকীন খাওয়াতে হবে; তার কাযা নেই। পক্ষান্তরে নযরের রোযা বাকী রেখে গেলে তার তরফ থেকে তার অভিভাবক (বা ওয়ারেস) রোযা রাখবে।' (আবু দাউদ ২৪০১নং প্রমুখ)

২। মাইয়্যেতের তরফ থেকে আত্মীয় বা যে কেউ তার ছেড়ে যাওয়া ঋণ পরিশোধ করলে সে কবরে উপকৃত হয়। মহানবী বলেছেন,
نَفْسُ المُؤمِنَ مُعَلَّقَةً بِدَيْنِهِ حَتَّى يُقْضَى عَنْهُ)).
"(মরণের পর ঐ ঋণের কারণে) মু'মিনের আত্মা (বেহেস্তের পথে) লটকে থাকবে; যতক্ষণ না তার তরফ থেকে তার সেই ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।" (আহমাদ ১০৫৯৯, তিরমিযী ১০৭৮, ইবনে মাজাহ ২৪১৩, আবু য়‍্যা'লা ৬০২৬নং)

৩। মাইয়্যেত হজ্জ করার নযর মেনে মারা গেলে, অথবা হজ্জ ফরয হওয়ার পর কোন ওযরে না ক'রে মারা গেলে যদি তার ওয়ারেসীনদের কেউ (যে নিজের ফরয হজ্জ আগে পালন করে থাকবে) তার তরফ থেকে তা পালন করে, তবে এর সওয়াবেও সে লাভবান হবে।
ইবনে আব্বাস বলেন, এক ব্যক্তি নবী-এর নিকট এসে বলল, 'আমার বোন হজ্জ করার নযর মেনে মারা গেছে। (এখন কী করা যায়?) নবী বললেন, "তার ঋণ বাকী থাকলে কি তুমি পরিশোধ করতে?" লোকটি বলল, 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন, "তাহলে আল্লাহর ঋণ পরিশোধ করে দাও। কারণ, তা অধিক পরিশোধ-যোগ্য।" (বুখারী ৬৬৯৯নং)
অনুরূপ এক মহিলা বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! আমার আব্বা বড় বৃদ্ধ। তার ফরয হজ্জ বাকী আছে। এখন সওয়ারীতে বসে থাকতেও সে অক্ষম। আমি কি তার তরফ থেকে হজ্জ করে দেব?' নবী বললেন, " 'হ্যাঁ।' করে দাও।" (মুসলিম ১৩৩৪-১৩৩৫নং প্রমুখ)
ইমাম নওবী বলেন, এই হাদীস বার্ধক্য, চিররোগ অথবা মৃত্যুর কারণে ফরয হজ্জ পালনে অসমর্থ ব্যক্তির তরফ থেকে হজ্জ পালন করার বৈধতা নির্দেশ করে। (শারহে নওবী ৫/৮৩)
অবশ্য ফরয হওয়া সত্ত্বেও যে বিনা ওজরে সময়ের অবহেলা বশতঃ হজ্জ না ক'রে মারা গেছে, তার তরফ থেকে হজ্জ আদায় কোন কাজে দেবে না। (আহকামুল জানাইয ১৭১পৃঃ, টীকা)

৪। মাইয়্যেতের ছেড়ে যাওয়া নেক সন্তান, যে নেক আমল করে, তার সওয়াবের অনুরূপ সওয়াব লাভ হয় তার পিতা-মাতারও। এতে সন্তানের সওয়াবও মোটেই কম হয় না। কারণ, সন্তান হল পিতা-মাতার আমলকৃত ও উপার্জিত ধনের ন্যায়। আর আল্লাহ তাআলা বলেন,
{وَأَن لَّيْسَ لِلْإِنسَانِ إِلَّا مَا سَعَى} (۳۹) سورة النجم
অর্থাৎ, এবং মানুষ তাই পায়; যা সে করে। (সূরা নাজম ৩৯ আয়াত)
আর আল্লাহ রসূল বলেন,
إِنَّ مِنْ أَطْيَبِ مَا أَكَلَ الرَّجُلُ مِنْ كَسْبِهِ وَوَلَدُهُ مِنْ كَسْبِهِ ..
"মানুষ সবচেয়ে হালাল বস্তু যেটা ভক্ষণ করে তা হল তার নিজ উপার্জিত খাদ্য। আর তার সন্তান হল তার নিজ উপার্জিত ধন স্বরূপ।" (আবু দাউদ ৩৫২৮, তিরমিযী ১৩৫৮, নাসাঈ ৪৪৬৪, ইবনে মাজাহ ২১৩৭নং প্রমুখ)
তাই সন্তান যদি তার পিতা-মাতার নামে দান করে অথবা ক্রীতদাস মুক্ত করে অথবা হজ্জ করে, তাহলে এসবের সওয়াবে তারা উপকৃত হবে।
ইবনে আব্বাস বলেন, সা'দ বিন উবাদাহর মা যখন ইন্তেকাল করেন, তখন তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি আল্লাহর রসূল-কে বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! আমার অনুপস্থিত থাকা কালে আমার আম্মা মারা গেছেন। এখন যদি তাঁর তরফ থেকে কিছু দান করি তাহলে তিনি উপকৃত হবেন কি?' নবী বললেন, "হ্যাঁ হবে।" সা'দ বললেন, 'তাহলে আমি আপনাকে সাক্ষ্য রেখে বলছি যে, আমার মিখরাফের বাগান তাঁর নামে সদকাহ করলাম।' (বুখারী ২৭৫৬, ২৭৬২নং প্রমুখ)
আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী-কে বলল, 'আমার মা হঠাৎ মারা গেছে। আমার ধারণা যে, সে কথা বলার সুযোগ পেলে সাদকাহ করত। সুতরাং আমি যদি তার পক্ষ থেকে সাদকাহ করি, তাহলে কি সে নেকী পাবে?' তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" (বুখারী ১৩৮৮, ২৭৬০, মুসলিম ২৩৭৩, ৪৩০৭-৪৩০৮নং)
আব্দুল্লাহ বিন আম্র বলেন, আস বিন ওয়াইল সাহমী তার তরফ হতে ১০০টি ক্রীতদাস মুক্ত করার অসিয়ত করে মারা যায়। সুতরাং তার ছোট ছেলে হিশাম ৫০টি দাস মুক্ত করে। অতঃপর তার বড় ছেলে আম্র বাকী ৫০টি দাস মুক্ত করার ইচ্ছা করলে বললেন, '(বাপ তো কাফের অবস্থায় মারা গেছে) তাই আমি এ কাজ আল্লাহর রসূল-কে জিজ্ঞাসা না করে করব না।' সুতরাং তিনি নবী-এর নিকট এসে ঘটনা খুলে বলে জিজ্ঞাসা করলেন, "আমি কি বাকী ৫০টি দাস তার তরফ থেকে মুক্ত করব?' উত্তরে আল্লাহর রসূল বললেন,
إِنَّهُ لَوْ كَانَ مُسْلِمًا فَأَعْتَقْتُمْ عَنْهُ أَوْ تَصَدَّقْتُمْ عَنْهُ أَوْ حَجَجْتُمْ عَنْهُ بَلَغَهُ ذَلِكَ ..
"সে যদি মুসলিম হতো এবং তোমরা তার তরফ থেকে দাস মুক্ত করতে, অথবা সদকাহ করতে অথবা হজ্জ করতে তাহলে তার সওয়াব তার নিকট পৌঁছত।" (আবু দাউদ ২৮৮৫নং, বাইহাকী ৬/২৭৯, আহমাদ ৬৭০৪নং)

📘 পাপ তার শাস্তি ও মুক্তির উপায় > 📄 (৮) কিয়ামতের কঠিনতা

📄 (৮) কিয়ামতের কঠিনতা


কিয়ামতের কঠিনতা ও ভয়াবহতা মু'মিনের জাহান্নামের শাস্তি লাঘব করবে। গোনাহগার তওহীদবাদী মু'মিন কিয়ামতের সেই ভীষণ কষ্ট পেয়ে জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি পেতে পারে। মহান আল্লাহ চাইলে তাকে ক্ষমা ক'রে বেহেস্ত প্রবেশের অনুমতি দিতে পারেন। না চাইলে পাপ অনুসারে তাকে কিছুদিন জাহান্নামে শাস্তি ভোগাতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সে জান্নাতের পথে পুলসিরাতেও হাত-পা কেটে শাস্তি পেতে পারে। অতঃপর জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতের সুখ লাভ করতে পারে। নচেৎ পুল থেকে নিচে পড়ে জাহান্নামে নির্ধারিত কাল পর্যন্ত শাস্তি ভোগ করতে পারে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00