📘 পাপ তার শাস্তি ও মুক্তির উপায় > 📄 (৪) মু’মিনদের পারস্পরিক দুআ

📄 (৪) মু’মিনদের পারস্পরিক দুআ


ইসলামের রীতিতে আছে, বান্দা সরাসরি নিজে প্রভুর নিকট ক্ষমাপ্রার্থী হতে পারে এবং কাউকে দুআ করতে বলে তার মাধ্যমেও ক্ষমাপ্রাপ্তির আশা করতে পারে। মু'মিনদের মাঝে এটাই রীতি আছে যে, তারা পরস্পর একে অপরের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করবে। মহান আল্লাহ উভয় ভাবেই সকলকে ক্ষমা করবেন।
ইউসুফ নবী-এর প্রতি চরম অন্যায় ক'রে তাঁর ভাইয়েরা যে অপরাধ করেছিল, তার জন্য লাঞ্ছিত হয়ে তারা নিজ পিতাকে বলেছিল,
{يَا أَبَانَا اسْتَغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا إِنَّا كُنَّا خَاطِئِينَ (۹۷) قَالَ سَوْفَ أَسْتَغْفِرُ لَكُمْ رَبِّيَ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ} (۹۸) سورة يوسف
'হে আমাদের পিতা! আমাদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন; নিশ্চয়ই আমরা অপরাধী।' সে বলল, 'আমি আমার প্রতিপালকের কাছে তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব, তিনি অবশ্যই অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।' (ইউসুফঃ ৯৭-৯৮)

মহাক্ষমাশীল পরম করুণাময় তাঁর দয়াবান নবী-কে আদেশ করেছেন, তিনি যেন মু'মিনদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। তিনি বলেছেন,
{فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللَّهِ لِنتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ} (১৫৯) সূরা আলে ইমরান
"আল্লাহর দয়ায় তুমি তাদের প্রতি হয়েছিলে কোমল-হৃদয়; যদি তুমি রূঢ় ও কঠোর-চিত্ত হতে, তাহলে তারা তোমার আশপাশ হতে সরে পড়ত। সুতরাং তুমি তাদেরকে ক্ষমা কর এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর। আর কাজে-কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ কর। অতঃপর তুমি কোন সংকল্প গ্রহণ করলে আল্লাহর প্রতি নির্ভর কর। নিশ্চয় আল্লাহ (তাঁর উপর) নির্ভরশীলদের ভালবাসেন।" (আলে ইমরানঃ ১৫৯)

{إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِذَا كَانُوا مَعَهُ عَلَى أَمْرٍ جَامِعٍ لَمْ يَذْهَبُوا حَتَّى يَسْتَأْذِنُوهُ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَأْذِنُونَكَ أُوْلَئِكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ فَإِذَا اسْتَأْذَنُوكَ لِبَعْضٍ شَأْنِهِمْ فَأَذَن لِّمَن شِئْتَ مِنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمُ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ} (৬২)
"তারাই বিশ্বাসী যারা আল্লাহ এবং তাঁর রসূলে বিশ্বাস করে এবং রসূলের সঙ্গে সমষ্টিগত ব্যাপারে একত্রিত হলে, তার অনুমতি ব্যতীত সরে পড়ে না। যারা তোমার অনুমতি প্রার্থনা করে, তারাই আল্লাহ এবং রসূলে বিশ্বাসী। অতএব তারা তাদের কোন কাজে বাইরে যাওয়ার জন্য তোমার অনুমতি চাইলে, তাদের মধ্যে যাদেরকে ইচ্ছা তুমি অনুমতি দাও এবং তাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (নূর : ৬২)

তিনি বিশেষভাবে মু'মিন নারীদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করতে বলেছেন,
{يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَى أَن لا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا يَسْرِقْنَ وَلَا يَزْنِينَ وَلَا يَقْتُلْنَ أَوْلَادَهُنَّ وَلَا يَأْتِينَ بِبُهْتَانِ يَفْتَرِينَهُ بَيْنَ أَيْدِيهِنَّ وَأَرْجُلِهِنَّ وَلَا يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفِ فَبَايِعْهُنَّ وَاسْتَغْفِرْ لَهُنَّ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ } (১২) سورة الممتحنة
"হে নবী! বিশ্বাসী নারীরা যখন তোমার নিকট এসে বায়আত করে এই মর্মে যে, তারা আল্লাহর সাথে কোন শরীক স্থির করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, নিজেদের সন্তান-সন্ততিদের হত্যা করবে না, তারা সজ্ঞানে কোন অপবাদ রচনা ক'রে রটাবে না এবং সৎকার্যে তোমাকে অমান্য করবে না, তখন তাদের বায়আত গ্রহণ কর এবং তাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (মুমতাহিনাহঃ ১২)

আর রসূল -এর ক্ষমাপ্রার্থনার দুআ মহান আল্লাহ কবুল করতেন এবং মু'মিনদেরকে ক্ষমা ক'রে দিতেন। তিনি বলেছেন,
{وَمَا أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلَّا لِيُطَاعَ بِإِذْنِ اللهِ وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذْ ظَلَمُوا أَنفُسَهُمْ جَاؤُوكَ فَاسْتَغْفَرُوا اللَّهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُوا اللهَ تَوَّابًا رَّحِيمًا} (৬৪) সূরা নিসা
"রসূল এ উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেছি যে, আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে তার আনুগত্য করা হবে। আর যখন তারা নিজেদের প্রতি যুলুম ক'রে (পাপ করে) ছিল, তখন যদি তারা তোমার নিকট আসত ও আল্লাহর নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করত এবং রসূলও তাদের জন্য ক্ষমা চাইত, তাহলে নিশ্চয়ই তারা আল্লাহকে তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালুরূপে পেত।" (নিসাঃ ৬৪)

তিনি ব্যাপকভাবে সকল মু'মিন নারী-পুরুষের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন।
আস্নেম আহওয়াল হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে সার্জিস হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি একদা রাসূলুল্লাহ -এর জন্য দুআ ক'রে বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন।' তিনি বললেন, "আর তোমাকেও (আল্লাহ ক্ষমা করুন)।" আসেম বলেন, আমি আব্দুল্লাহকে প্রশ্ন করলাম, 'আল্লাহর রসূল কি আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন?' তিনি উত্তর দিলেন, 'হ্যাঁ, আর তোমার জন্যও তো।' অতঃপর তিনি এই আয়াত পাঠ করলেন,
{وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ} (১৯) সূরা মুহাম্মদ
“(হে নবী!) তুমি নিজের জন্য ও মু'মিন নর-নারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর।" (সূরা মুহাম্মাদ ১৯ আয়াত, মুসলিম ৬২৩৪নং)

কেউ পানাহার করালে মহানবী তার জন্য এই বলে দুআ ও ক্ষমাপ্রার্থনা করতেন,
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِيمَا رَزَقْتَهُمْ وَاغْفِرْ لَهُمْ وَارْحَمْهُمْ.
"হে আল্লাহ! ওদেরকে তুমি যা দান করেছ, তাতে ওদের জন্য বর্কত দান কর। ওদেরকে ক্ষমা করে দাও এবং ওদের প্রতি রহম কর।" (মুসলিম ৫৪৪৯, আবু দাউদ ৩৭৩১, তিরমিযী ৩৫৭৬নং)

তিনি আল্লাহর প্রিয় বান্দার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনার আবেদন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। উসাইর ইবনে আম্র মতান্তরে ইবনে জাবের থেকে বর্ণিত, উমার -এর নিকট যখনই ইয়ামান থেকে সহযোগী যোদ্ধারা আসতেন, তখনই তিনি তাঁদেরকে জিজ্ঞেস করতেন, 'তোমাদের মধ্যে কি উয়াইস ইবনে আমের আছে?' শেষ পর্যন্ত (এক দলের সঙ্গে) উয়াইস (ক্বারনী) (মদীনা) এলেন। অতঃপর উমার তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কি উয়াইস ইবনে আমের?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ।' উমার বললেন, 'মুরাদ (পরিবারের) এবং ক্বার্ন (গোত্রের)?' উয়াইস বললেন, 'হ্যাঁ।' তিনি (পুনরায়) জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমার শরীরে শ্বেত রোগ ছিল, তা এক দিরহাম সম জায়গা ব্যতীত (সবই) দূর হয়ে গেছে?' উয়াইস বললেন, 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন, 'তোমার মা আছে?' উয়াইস বললেন, 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন, 'আমি রাসূলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি,
(( يَأْتِي عَلَيْكُمْ أُويْسُ بْنُ عَامِرٍ مَعَ أَمْدَادِ أَهْلِ اليَمَنِ مِنْ مُرَادٍ ، ثُمَّ مِنْ قَرَن كَانَ بِهِ بَرَضٌ ، فَبَرَأَ مِنْهُ إِلَّا مَوْضِعَ دِرْهَم ، لَهُ وَالدَةٌ هُوَ بِهَا بَرٌّ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهُ لأَبَرَّهُ ، فَإِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ يَسْتَغْفِرَ لَكَ فَافْعَل ))
"মুরাদ (পরিবারের) এবং ক্বার্ন (গোত্রের) উয়াইস ইবনে আমের ইয়ামানের সহযোগী ফৌজের সঙ্গে তোমাদের কাছে আসবে। তার দেহে ধবল দাগ আছে, যা এক দিরহাম সম স্থান ছাড়া সবই ভাল হয়ে গেছে। সে তার মায়ের সাথে সদাচারী হবে। সে যদি আল্লাহর প্রতি কসম খায়, তবে আল্লাহ তা পূরণ ক'রে দেবেন। সুতরাং (হে উমার!) তুমি যদি নিজের জন্য তাকে দিয়ে ক্ষমাপ্রার্থনার দুআ করাতে পার, তাহলে অবশ্যই করায়ো।” সুতরাং তুমি আমার জন্য (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা কর।'
শোনামাত্র উয়াইস উমারের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করলেন। অতঃপর উমার তাঁকে বললেন, 'তুমি কোথায় যাবে?' উয়াইস বললেন, 'কুফা।' তিনি বললেন, 'আমি কি তোমার জন্য সেখানকার গর্ভনরকে পত্র লিখে দেব না?' উয়াইস বললেন, 'আমি সাধারণ গরীব-মিসকীনদের সাথে থাকতে ভালবাসি।'
অতঃপর যখন আগামী বছর এল তখন কুফার সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন হজ্জে এল। সে উমার-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি তাকে উয়াইস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। সে বলল, 'আমি তাঁকে এই অবস্থায় ছেড়ে এসেছি যে, তিনি একটি ভগ্ন কুটির ও স্বল্প সামগ্রীর মালিক ছিলেন।' উমার বললেন, 'আমি রাসূলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, "মুরাদ (পরিবারের) এবং ক্বার্ন (গোত্রের) উয়াইস ইবনে আমের ইয়ামানের সহযোগী ফৌজের সঙ্গে তোমাদের নিকট আসবে। তার দেহে ধবল রোগ আছে, যা এক দিরহামসম স্থান ছাড়া সবই ভালো হয়ে গেছে। সে তার মায়ের সাথে সদাচারী (মা-ভক্ত) হবে। সে যদি আল্লাহর উপর কসম খায়, তাহলে আল্লাহ তা পূর্ণ ক'রে দেবেন। যদি তুমি তোমার জন্য তার দ্বারা ক্ষমাপ্রার্থনার দুআ করাতে পার, তাহলে অবশ্যই করায়ো।"
অতঃপর সে (কুফার লোকটি হজ্জ সম্পাদনের পর) উয়াইস (ক্বারনীর) নিকট এল এবং বলল, 'আপনি আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।' উয়াইস বললেন, 'তুমি এক শুভযাত্রা থেকে নব আগমন করেছ। অতএব তুমি আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর।' অতঃপর তিনি বললেন, 'তুমি উমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছ?' সে বলল, 'হ্যাঁ।' সুতরাং উয়াইস তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করলেন। (এসব শুনে) লোকেরা (উয়াইসের) মর্যাদা জেনে নিল। সুতরাং তিনি তার সামনের দিকে (অন্যত্র) চলে গেলেন।

অন্য এক বর্ণনায় আছে, উমার বলেন, 'আমি আল্লাহর রসূল -এর নিকট শুনেছি, তিনি বলেছেন,
(( إِنَّ خَيْرَ التَّابِعِينَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ : أُوَيْسٌ ، وَلَهُ وَالِدَةٌ وَكَانَ بِهِ بَيَاضٍ ، فَمُرُوهُ ، فَلْيَسْتَغْفِرْ لَكُمْ )).
"নিশ্চয় সর্বশ্রেষ্ঠ তাবেঈন হল এক ব্যক্তি, যাকে উয়াইস বলা হয়। তার মা আছে। তার ধবল রোগ ছিল। তোমরা তাকে আদেশ করো, সে যেন তোমাদের জন্য (আল্লাহর নিকট) ক্ষমাপ্রার্থনা করে।" (মুসলিম ৬৬৫৪-৬৬৫৬নং)

মহানবী মৃত মুসলিমদের জন্য ইস্তিগফার করতেন। মুসলিমদেরকে মৃতের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করতে আদেশ দিতেন। আর জানাযা পড়ার সময় বলতেন,
(( اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا ، وَصَغِيرنَا وَكَبيرنَا ، وَذَكَرنَا وَأَنْتَانَا ، وَشَاهِدنَا وَغَائِبِنَا ، اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الإِسْلامِ ، وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الإِيمَانِ ، اللَّهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ ، وَلَا تَفْتِنَا بَعْدَهُ )).
"হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত-মৃত, ছোট-বড়, পুরুষ ও নারী, উপস্থিত ও অনুপস্থিতকে ক্ষমা ক'রে দাও। হে আল্লাহ! আমাদের মধ্যে যাকে তুমি জীবিত রাখবে তাকে ইসলামের উপর জীবিত রাখ এবং যাকে মরণ দিবে তাকে ঈমানের উপর মরণ দাও। হে আল্লাহ! ওর সওয়াব থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত করো না এবং ওর পরে আমাদেরকে ফিতনায় ফেলো না।" (তিরমিযী ১০২৪, আবু দাউদ ৩২০৩, নাসাঈ ১৯৮৬, ইবনে মাজাহ ১৪৯৮নং)

(( اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ ، وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ ، وَأَكْرِمْ نُزُلَهُ ، وَوَسِّعْ مُدْخَلَهُ ، وَاغْسِلْهُ بِالمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالبَرَدِ ، وَنَقِّهِ مِن الخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ ، وَأَبْدِلْهُ دَاراً خَيْراً مِنْ دَارِهِ ، وَأَهْلاً خَيْراً مِنْ أَهْلِهِ ، وَزَوْجَاً خَيْراً مِنْ زَوْجِهِ ، وَأَدْخِلهُ الجَنَّةَ ، وَأَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ ، وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ )).
"হে আল্লাহ! তুমি ওকে ক্ষমা করে দাও এবং ওকে রহম কর। ওকে নিরাপত্তা দাও এবং মার্জনা ক'রে দাও, ওর মেহেমানী সম্মানজনক কর এবং ওর প্রবেশস্থল প্রশস্ত কর। ওকে তুমি পানি, বরফ ও শিলাবৃষ্টি দ্বারা ধৌত করে দাও এবং ওকে গোনাহ থেকে এমন পরিষ্কার কর, যেমন তুমি সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার করেছ। আর ওকে তুমি ওর ঘর অপেক্ষা উৎকৃষ্ট ঘর, ওর পরিবার অপেক্ষা উত্তম পরিবার, ওর জুড়ী অপেক্ষা উৎকৃষ্ট জুড়ী দান কর। ওকে জান্নাতে প্রবেশ করাও এবং কবর ও দোযখের আযাব থেকে রেহাই দাও।" (মুসলিম ২২৭৬-২২৭৮, নাসাঈ ১৯৮৩নং)

তিনি বলেছেন,
(( مَا مِنْ مَيتٍ يُصَلِّي عَلَيْهِ أُمَّةٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَبْلُغُونَ مِئَةً كُلُّهُمْ يَشْفَعُونَ لَهُ إِلَّا شُفْعُوا فيه )). رواه مسلم
"যে মৃতের জানাযার নামায একটি বড় জামাআত পড়ে, যারা সংখ্যায় একশ' জন পৌঁছে এবং সকলেই তার ক্ষমার জন্য সুপারিশ করে, তার ব্যাপারে তাদের সুপারিশ গ্রহণ করা হয়।" (মুসলিম ২২৪১নং)
অন্য এক বর্ণনায় আছে, "তাকে ক্ষমা ক'রে দেওয়া হয়।" (সহীহ ইবনে মাজাহ ১২০৯নং)

অন্য এক হাদীসে আছে,
(( مَا مِنْ رَجُلٍ مُسْلِمٍ يَمُوتُ ، فَيَقُومُ عَلَى جَنَازَتِهِ أَرْبَعُونَ رَجُلاً لَا يُشْرِكُونَ بِاللَّهِ شَيْئاً ، إلَّا شَفَعَهُمُ اللَّهُ فِيهِ)). رواه مسلم
"যে কোন মুসলমান মারা যাবে এবং তার জানাযায় এমন চল্লিশজন লোক নামায পড়বে, যারা আল্লাহর সাথে কোন জিনিসকে শরীক করে না, আল্লাহ তার ব্যাপারে তাদের সুপারিশ গ্রহণ করবেন।" (মুসলিম ২২৪২নং)

মহানবী মৃতকে সমাধিস্থ করার পর তার নিকট দাঁড়িয়ে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলতেন,
( اسْتَغْفِرُوا لِأَخِيكُمْ وَسَلُوا لَهُ التَّثْبِيتَ ، فَإِنَّهُ الْآنَ يُسأَلُ )).
"তোমরা তোমাদের ভাইদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তার জন্য স্থিরতার দুআ কর। কেননা, এখনই তাকে প্রশ্ন করা হবে।" (আবু দাউদ ৩২২৩নং)
কবর যিয়ারতে গিয়েও ক্ষমাপ্রার্থনার দুআ করা বিধেয়। (বিস্তারিত দেখুন: 'জানাযা দর্পণ')

তবে মহান আল্লাহর কাছে অপরের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করার শর্ত রয়েছে। আর তা হল এই যে, যার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করা হবে, সে যেন আল্লাহর দুশমন, আল্লাহদ্রোহী, বেদ্বীন, নাস্তিক, মুনাফিক, কাফের বা মুশরিক (মতান্তরে বেনামাযী) না হয়। যেহেতু তাদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনার অনুমতি নেই।
লালনকারী চাচা আবু তালেবের মৃত্যুর সময় আল্লাহর রসূল তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন, "চাচা! আপনি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ব্যতীত কেউ সত্য উপাস্য নেই) বলুন, আমি কিয়ামতে তা দলীলস্বরূপ আল্লাহর সামনে পেশ করে তাঁর আযাব থেকে রক্ষা করার সুপারিশ করব।" কিন্তু পার্শ্বেই আব্দুল্লাহ বিন আবি উমাইয়া ও আবু জাহল বসেছিল, তারা তাঁকে স্ব-ধর্ম ত্যাগ করতে বাধা দিলে আবু তালেব কালেমা পড়তে অস্বীকার করলেন। মহানবী বললেন,
(أَمَا وَاللَّهِ لَأَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ مَا لَمْ أَنْهَ عَنْكَ).
"আল্লাহর কসম! যতক্ষণ না আমাকে আপনার ব্যাপারে নিষেধ করা হয়েছে, ততক্ষণ আমি আপনার জন্য আল্লাহর নিকট 'ইস্তিগফার' (ক্ষমা প্রার্থনা) করতে থাকব।"
কিন্তু আল্লাহর তরফ থেকে উত্তর এল,
{مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَن يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أَوْلِي قُرْبَى مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ} (۱۱۳) سورة التوبة
"নবী এবং মুমিনদের জন্য সঙ্গত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, যদিও বা তারা আত্মীয়-স্বজন হয়; যখন এ সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, ওরা দোযখবাসী।" (তাওবাহঃ ১১৩)

আবু তালেবের ব্যাপারে আরো অবতীর্ণ হল,
{إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَن يَشَاء وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ} (٥٦)
“(হে নবী!) তুমি যাকে প্রিয় মনে কর, তাকে হেদায়াত করতে (সৎপথে আনতে) পার না। বরং আল্লাহই যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনতে পারেন। আর তিনিই ভাল জানেন কারা সৎপথের অনুসারী।” (কাসাসঃ ৫৬, বুখারী ১৩৬০, মুসলিম ১৪১নং)

আল্লাহর রসূল একবার মায়ের কবর যিয়ারতে গেলেন। সঙ্গে কিছু সাহাবাও ছিলেন। সেখানে পৌছে তিনি কেঁদে উঠলেন। সাহাবাগণ কাঁদার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন,
اسْتَأْذِنْتُ رَبِّي أَنْ أَسْتَغْفِرَ لأُمِّى فَلَمْ يَأْذَنْ لِي وَاسْتَأْذِنْتُهُ أَنْ أَزُورَ قَبْرَهَا فَأَذِنَ لِي ..
"আমি আমার প্রতিপালকের নিকট আমার আম্মার জন্য ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করার অনুমতি চাইলাম, কিন্তু তিনি অনুমতি দিলেন না। আমি তাঁর কবর যিয়ারতের অনুমতি চাইলাম, তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন।" (মুসলিম ২৩০৩নং)
আল্লাহর রসূল এর মনে প্রশ্ন জাগল যে, ইব্রাহীম তো তাঁর পিতার জন্য (মুশরিক হওয়া সত্ত্বেও) ইস্তিগফার করেছিলেন। আল্লাহর তরফ থেকে উত্তর এল,
{وَمَا كَانَ اسْتِغْفَارُ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ إِلَّا عَن مَّوْعِدَةٍ وَعَدَهَا إِيَّاهُ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ أَنَّهُ عَدُوٌّ لِلَّهِ تَبَرَّأَ مِنْهُ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لأَوَّاهُ حَلِيمٌ } (١١٤) سورة التوبة
"ইব্রাহীম তাঁর পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল এবং তা (ইস্তিগফার) তাকে দেওয়া আল্লাহর একটি প্রতিশ্রুতির জন্য সম্ভব হয়েছিল। অতঃপর যখন এ তার নিকট সুস্পষ্ট হল যে, সে আল্লাহর শত্রু, তখন ইব্রাহীম তার সম্পর্কে নির্লিপ্ত হয়ে গেল। নিশ্চয় ইব্রাহীম ছিল কোমল হৃদয় ও সহনশীল।" (তাওবাহঃ ১১৪, তফসীর ইবনে কাষীর ২/৩৯৩)
বলাই বাহুল্য যে, আল্লাহর দুশমনদের জন্য না ক্ষমাপ্রার্থনার দুআ করা যাবে, আর না তাদের ব্যাপারে সে দুআ কবুল হবে।

মোটকথা, মৃতব্যক্তির জন্য দুআ বিধেয়। আর সে কথার ইঙ্গিত রয়েছে আল-কুরআনে। মহান আল্লাহ বলেছেন,
{وَالَّذِينَ جَاؤُوا مِن بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَّحِيمٌ} (١٠) سورة الحشر
"যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে, 'হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এবং বিশ্বাসে অগ্রণী আমাদের ভ্রাতাদেরকে ক্ষমা কর এবং মুমিনদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে হিংসা-বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি তো দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু।" (হাশ্রঃ ১০)

অনুরূপভাবে নেক সন্তান পিতামাতার জন্য দুআ করলে, তাদের কাজে লাগবে। মহানবী বলেছেন,
إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ ..
"আদম সন্তান মারা গেলে তার সমস্ত আমল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, অবশ্য তিনটি আমল বিচ্ছিন্ন হয় না; সদকাহ জা-রিয়াহ (ইষ্টাপূর্ত কর্ম), উপকারী ইল্ম, অথবা নেক সন্তান যে তার জন্য দুআ করে থাকে।" (মুসলিম ৪৩১০, আবু দাউদ ২৮৮২নং প্রমুখ)
((إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَيَرْفَعُ الدَّرَجَةَ لِلْعَبْدِ الصَّالِحِ فِي الْجَنَّةِ فَيَقُولُ يَا رَبِّ أَنَّى لِي هَذِهِ فَيَقُولُ بِاسْتِغْفَارِ وَلَدِكَ لَكَ)).
"নিশ্চয় আল্লাহ আয্যা অজাল্ল জান্নাতে নেক বান্দার দর্জা উঁচু করেন। সে তখন বলে, 'হে আমার প্রতিপালক! এ উন্নতি কীভাবে?' আল্লাহ বলেন, 'তোমার জন্য তোমার ছেলের ক্ষমা প্রার্থনার ফলে।" (আহমাদ ১০৬১০নং)
আর সে সব দুআ কবুল হলে জাহান্নামের শাস্তি থেকে অবশ্যই রেহাই পাবে মু'মিন।

📘 পাপ তার শাস্তি ও মুক্তির উপায় > 📄 (৫) বিপদাপদ

📄 (৫) বিপদাপদ


দুঃখ-কষ্ট দ্বারা পরিবেষ্টিত এ জীবন। এমন কোন মানুষ নেই, যে কোন দুঃখ বা কষ্ট পায় না। কিন্তু সেই দুঃখ-কষ্ট অনেক সময় মানুষের নিজ কৃতকর্মের প্রতিফল হয়। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত শাস্তি হয়। কারো জন্য ঈমানের পরীক্ষা হয়। সুতরাং যে যত বেশি ভালো মানুষ, তার দুঃখ-কষ্ট তত বেশি হয়। মহানবী বলেছেন,
(أَشَدُّ النَّاسِ بَلاء الأنبياء ثُمَّ الأَمْثَلُ فالأمْثَلُ يُبْتَلى الرَّجُلُ عَلى حَسَبِ دِينِهِ فَإِنْ كَانَ فِي دِينِهِ صُلْباً اشْتَدَّ بَلاؤُهُ وإِنْ كَانَ فِي دِينِهِ رِقَةٌ ابْتُلِيَ على قَدْرِ دِينِهِ فَمَا يَبْرَحُ البَلاءُ بالعَبْدِ حَتَّى يَتْرُكَهُ يَمْشِي على الأرض وما عليهِ خَطِيئَةٌ)).
"সকল মানুষ অপেক্ষা নবীগণই অধিকতর কঠিন বিপদের সম্মুখীন হন। অতঃপর তাঁদের চেয়ে নিম্নমানের ব্যক্তি এবং তারপর তাদের চেয়েও নিম্নমানের ব্যক্তিগণ অপেক্ষাকৃত হাল্কা বিপদে আক্রান্ত হন। মানুষকে তার দ্বীনের (পূর্ণতার) পরিমাণ অনুযায়ী বিপদগ্রস্ত করা হয়; সুতরাং তার দ্বীনে যদি মজবুতি থাকে, তবে (যে পরিমাণ মজবুতি আছে) ঠিক সেই পরিমাণ তার বিপদও কঠিন হয়ে থাকে। আর যদি তার দ্বীনে দুর্বলতা থাকে তবে তার দ্বীন অনুযায়ী তার বিপদও (হাল্কা) হয়। পরন্ত বিপদ এসে এসে বান্দার শেষে এই অবস্থা হয় যে, সে জমীনে চলা ফেরা করে অথচ তার কোন পাপ অবশিষ্ট থাকে না।" (তিরমিযী ২৩৯৮, ইবনে মাজাহ ৪০২৩, ইবনে হিব্বান, সহীহুল জামে' ৯৯২ নং)

মু'মিন নারী-পুরুষের জীবনে কোন বালা-মসিবত বা বিপদাপদ এলে তার ফলে তার গোনাহ মোচন হয়ে যায়। যে কষ্ট সে পায়, তার বিনিময়ে করুণাময় তাকে পাপমুক্ত, শুদ্ধ ও পবিত্র করেন। মহানবী বলেছেন,
(( مَا يَزَالُ البَلاءُ بِالْمُؤْمِن وَالْمُؤْمِنَةِ فِي نَفْسِهِ وَوَلَدِهِ وَمَالِهِ حَتَّى يَلْقَى اللَّهُ تَعَالَى وَمَا عَلَيْهِ خَطِيئة )). رواه الترمذي
"মু'মিন পুরুষ ও নারীর জান, সন্তান-সন্ততি ও তার ধনে (বিপদ-আপদ দ্বারা) পরীক্ষা হতে থাকে, পরিশেষে সে আল্লাহ তাআলার সঙ্গে নিষ্পাপ হয়ে সাক্ষাৎ করবে।" (তিরমিযী ২৩৯৯নং)

((مَا يُصِيبُ الْمُسْلِمَ مِنْ نَصَبٍ ، وَلَا وَصَبٍ ، وَلَا هُمْ ، وَلَا حَزَن ، وَلَا أَدْى ، وَلَا غَم ، حَتَّى الشَّوكَةُ يُشَاكُهَا إِلَّا كَفَرَ اللهُ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
"মুসলিমকে যে কোন ক্লান্তি, অসুখ, চিন্তা, শোক এমন কি (তার পায়ে) কাঁটাও লাগে, আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে তার গোনাহসমূহ ক্ষমা ক'রে দেন।" (বুখারী ৫৬৪১-৫৬৪২, মুসলিম ৬৭৩৩নং)

ইবনে মাসউদ বলেন, একদা আমি নবী -এর খিদমতে উপস্থিত হলাম। সে সময় তিনি জ্বর ভুগছিলেন। আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! আপনার যে প্রচন্ড জ্বর!' তিনি বললেন, "হ্যাঁ! তোমাদের দু'জনের সমান আমার জ্বর আসে।" আমি বললাম, 'তার জন্যই কি আপনার পুরস্কারও দ্বিগুণ?' তিনি বললেন,
(( أَجَلْ ، ذلِكَ كَذلِكَ ، مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصِيبُهُ أذى ، شَوْكَةٌ فَمَا فَوقَهَا إِلَّا كَفَرَ اللَّهُ بِهَا سَيِّئَاتِهِ ، وَحُطَّتْ عَنْهُ ذُنُوبُهُ كَمَا تَحُطُّ الشَّجَرَةُ وَرَقَهَا )).
"হ্যাঁ! ব্যাপার তা-ই। (অনুরূপ) যে কোন মুসলিমকে কোন কষ্ট পৌঁছে, কাঁটা লাগে অথবা তার চেয়েও কঠিন কষ্ট হয়, আল্লাহ তাআলা এর কারণে তার পাপসমূহকে মোচন ক'রে দেন এবং তার পাপসমূহকে এইভাবে ঝরিয়ে দেওয়া হয়; যেভাবে গাছ তার পাতা ঝরিয়ে দেয়।" (বুখারী ৫৬৪৮, মুসলিম ৬৭২৪নং)

অন্য এক বর্ণনায় আছে,
((مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصِيبُهُ أَذَى مَرَضٌ فَمَا سِوَاهُ إِلَّا حَطَّ اللَّهُ لَهُ سَيِّئَاتِهِ كَمَا تَحُطُّ الشَّجَرَةُ ورقها )).
"কোন মুমিনকে যখনই কোন রোগ অথবা অন্য কিছুর মাধ্যমে কষ্ট পৌঁছে, তখনই আল্লাহ তার বিনিময়ে তার পাপরাশিকে ঝরিয়ে দেন; যেমন বৃক্ষ তার পত্রাবলীকে ঝরিয়ে থাকে।" (বুখারী ৫৬৬০, ৫৬৬৭, মুসলিম ৬৭২৪নং)

তিনি আরো বলেছেন,
مَا يُصِيبُ الْمُؤْمِنَ مِنْ شَوْكَةٍ فَمَا فَوْقَهَا إِلَّا رَفَعَهُ اللَّهُ بِهَا دَرَجَةً أَوْ حَطَّ عَنْهُ بِهَا خطيئة ». رواه مسلم
"মু'মিন কোন কাঁটা বা তার চাইতে বড় কোন কিছু দ্বারা বিপদগ্রস্ত হলে আল্লাহ তার বিনিময়ে তাকে একটি মর্যাদায় উন্নত করেন অথবা তার একটি পাপ মোচন ক'রে দেন।" (মুসলিম ৬৭২৭নং)

জাবের বলেন, রাসূলুল্লাহ (একবার) উম্মে সায়েব কিংবা উম্মে মুসাইয়িবের নিকট প্রবেশ ক'রে বললেন, "হে উম্মে সায়েব কিংবা উম্মে মুসাইয়িব! তোমার কী হয়েছে যে, থর করে কাঁপছ?" সে বলল, 'জ্বর হয়েছে; আল্লাহ তাতে বর্কত না দিন।' (এ কথা শুনে) তিনি বললেন,
(( لَا تَسبِّي الحُمَّى فَإِنَّهَا تُذْهِبُ خَطَايَا بَنِي آدَمَ كَمَا يُذْهِبُ الكِيْرُ خَبَثَ الحَدِيدِ )) .
“জ্বরকে গালি দিয়ো না। জ্বর তো আদম সন্তানের পাপ মোচন করে; যেমন হাপর (ও ভাটি) লোহার ময়লা দূর ক'রে ফেলে।” (মুসলিম ৬৭৩৫নং)

অবশ্য পাপ ক্ষয়ের জন্য শর্ত হল, মু'মিন বালা-মসিবতে ধৈর্যধারণ করবে এবং সওয়াবের আশা রাখবে। উপরন্তু সে তাতেও মহান প্রতিপালকের প্রশংসা করলে এমন পাপমুক্ত হবে, যেমন সদ্যভূমিষ্ঠ শিশু নিষ্পাপ হয়। মহানবী বলেছেন,
((إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ : إِنِّي إِذا ابْتَلَيْتُ عَبْدًا مِنْ عِبَادِي مُؤْمِنًا فَحَمِدَنِي عَلَى مَا ابْتَلَيْتُهُ فَإِنَّهُ يَقُومُ مِنْ مَضْجَعِهِ ذَلِكَ كَيَوْمٍ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ مِنْ الْخَطَايَا، وَيَقُولُ الرَّبُّ عَزَّ وَجَلَّ: أَنَا فَيَدْتُ عَبْدِي وَابْتَلَيْتُهُ وَأَجْرُوا لَهُ كَمَا كُنْتُمْ تُجْرُونَ لَهُ وَهُوَ صَحِيحٌ)).
"আল্লাহ আয্যা অজাল্ল বলেন, "আমি যখন আমার কোন মুমিন বান্দাকে (রোগ-বালা দিয়ে) পরীক্ষা করি এবং সে ঐ রোগ-বালাতে আমার প্রশংসা করে, তখন সে তার ঐ বিছানা থেকে সেই দিনকার মত নিষ্পাপ হয়ে ওঠে, যেদিন তার মা তাকে ভূমিষ্ঠ করেছিল।" রব্ব আয্যা অজাল্ল (কিরামান কাতেবীনকে) বলেন, “আমি আমার বান্দাকে (অনেক আমল থেকে) বিরত রেখেছি এবং রোগগ্রস্ত করেছি। সুতরাং তোমরা তার জন্য সেই আমলের সওয়াব লিখতে থাক, যে আমলের সওয়াব তার সুস্থ অবস্থায় লিখতে।” (আহমাদ ১৭১১৮, সহীহ তারগীব ৩৪২৩নং)
সুতরাং যাদের দুঃখ-কষ্টের সংসার, যারা চিররোগা ও অসুস্থ, তাদের জন্য অবশ্যই সুসংবাদ। তারা দুনিয়াতে সুখ না পেলেও আখেরাতে তার বিনিময়ে পাবে চিরসুখের রাজ্য। যেহেতু তারা কষ্টে ধৈর্যধারণ ক'রে সওয়াবের আশা করে এবং তাওহীদ ও ঈমান নিয়ে নিষ্পাপ হয়ে প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ করবে।

📘 পাপ তার শাস্তি ও মুক্তির উপায় > 📄 (৬) কবরের আযাব

📄 (৬) কবরের আযাব


কবরের আযাব সত্য। কোন মু'মিন কোনও পাপ থেকে তওবা ক'রে মারা না গেলে তার কবরে আযাব হতে পারে। আর তার ফলে তার জাহান্নামের শাস্তি লাঘব হতে পারে অথবা মাফ হতে পারে।
কবরের শাস্তির মধ্যে মাটির চেপে ধরা অন্যতম। আর সেটা সকলের জন্য অনিবার্য। কেউ বাঁচলে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবী সা'দ বিন মুআয বাঁচতেন। মহানবী বলেছেন,
((هَذَا الَّذِي تَحَرَّكَ لَهُ الْعَرْشِ وَفُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَشَهِدَهُ سَبْعُونَ أَلْفًا مِنَ الْمَلَائِكَةِ لَقَدْ ضُمَّ ضَمَّةً ثُمَّ فُرِّجَ عَنْهُ)).
“এই ব্যক্তি, যার (মৃত্যুর) জন্য আরশ কম্পিত হয়েছে, তার জন্য আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়েছে এবং তার জানাযায় সত্তর হাজার ফিরিস্তা উপস্থিত হয়েছেন, তাকেও একবার চেপে ধরা হয়েছে। অতঃপর মুক্তি দেওয়া হয়েছে।” (নাসাঈ ২০৫৫নং)
এ ছাড়া পাপ অনুযায়ী বিভিন্ন শাস্তি রয়েছে কবরে। আর সে শাস্তি কবরে পেয়ে গেলে জাহান্নামের শাস্তি হাল্কা অথবা মাফ হয়ে যাবে。

📘 পাপ তার শাস্তি ও মুক্তির উপায় > 📄 (৭) ঈসালে সওয়াব

📄 (৭) ঈসালে সওয়াব


মানুষ মারা গেলে তার আমলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু বেহেস্তী বারযাখী জীবনে তার মর্যাদাবর্ধন অথবা দোযখী জীবনের শাস্তি লাঘব করার কতিপয় পথ খোলা থাকে। আর সে পথ অবলম্বন করতে পারে তার আত্মীয়-বন্ধুগণ। তারা যেমন দুআ ব্যবহার করতে পারে, তেমনি কিছু নেক আমল করতে পারে, যার দ্বারা তাদের মৃতব্যক্তি মধ্য জগতে উপকৃত হতে পারে।

১। মাইয়্যেতের নযর-মানা রোযা যদি তার অভিভাবক কাযা রেখে দেয়, তবে তার সওয়াব তার উপকারে আসবে। প্রিয় রসূল বলেন,
مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامٌ صَامَ عَنْهُ وَلِيُّهُ ..
"যে ব্যক্তি রোযা বাকী রেখে মারা যায়, তার পক্ষ থেকে তার অভিভাবক রোযা রেখে দেবে।" (বুখারী ১৯৫২, মুসলিম ২৭৪৮নং)
ইবনে আব্বাস বলেন, 'এক মহিলা সমুদ্র-সফরে বের হলে সে নযর মানল যে, যদি আল্লাহ তাবারাকা অতাআলা তাকে সমুদ্র থেকে পরিত্রাণ দান করেন, তাহলে সে একমাস রোযা রাখবে। অতঃপর সে সমুদ্র থেকে পরিত্রাণ পেয়ে ফিরে এল। কিন্তু রোযা না রেখেই সে মারা গেল। তার এক কন্যা নবী এর নিকট এসে সে ঘটনার উল্লেখ করলে তিনি বললেন, "মনে কর, তার যদি কোন ঋণ বাকী থাকত, তাহলে তা তুমি পরিশোধ করতে কি না?" বলল, 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন,
(( دَيْنُ اللَّهِ أَحَقُّ أَنْ يُقْضَى)).
"তাহলে আল্লাহর ঋণ অধিকরূপে পরিশোধ-যোগ্য। সুতরাং তুমি তোমার মায়ের তরফ থেকে রোযা কাযা করে দাও।" (আহমাদ ১৮৬১, ৩১৩৮, আবু দাউদ ৩৩১০নং, ত্বাবারানী ১২১৯৫, প্রমুখ)

তদনুরূপ রমযানের রোযা কাযা রেখে মারা গেলে তার বিনিময়ে তার অভিভাবক ফিদয়্যাহ (প্রত্যেক দিনের পরিবর্তে একটি মিসকীনকে একদিনের খাদ্য অথবা ১ কিলো ২৫০ গ্রাম করে চাল) দিলে তার সওয়াবও মাইয়্যেতের জন্য উপকারী।
আমরাহর মা রমযানের রোযা বাকী রেখে ইন্তিকাল করলে তিনি মা আয়েশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, 'আমি আমার মায়ের তরফ থেকে কাযা করে দেব কি?' আয়েশা (রাঃ) বললেন, 'না। বরং তার তরফ থেকে প্রত্যেক দিনের পরিবর্তে এক একটি মিসকীনকে অর্ধ সা' (প্রায় ১কিলো ২৫০ গ্রাম খাদ্য) সদকাহ করে দাও।' (ত্বাহাবী ৩/১৪২, মুহাল্লা ৭/৪, আহকামুল জানাইয, টীকা ১৭০পৃঃ)
ইবনে আব্বাস বলেন, 'কোন ব্যক্তি রমযান মাসে অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং তারপর রোযা না রাখা অবস্থায় মারা গেলে তার তরফ থেকে মিসকীন খাওয়াতে হবে; তার কাযা নেই। পক্ষান্তরে নযরের রোযা বাকী রেখে গেলে তার তরফ থেকে তার অভিভাবক (বা ওয়ারেস) রোযা রাখবে।' (আবু দাউদ ২৪০১নং প্রমুখ)

২। মাইয়্যেতের তরফ থেকে আত্মীয় বা যে কেউ তার ছেড়ে যাওয়া ঋণ পরিশোধ করলে সে কবরে উপকৃত হয়। মহানবী বলেছেন,
نَفْسُ المُؤمِنَ مُعَلَّقَةً بِدَيْنِهِ حَتَّى يُقْضَى عَنْهُ)).
"(মরণের পর ঐ ঋণের কারণে) মু'মিনের আত্মা (বেহেস্তের পথে) লটকে থাকবে; যতক্ষণ না তার তরফ থেকে তার সেই ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।" (আহমাদ ১০৫৯৯, তিরমিযী ১০৭৮, ইবনে মাজাহ ২৪১৩, আবু য়‍্যা'লা ৬০২৬নং)

৩। মাইয়্যেত হজ্জ করার নযর মেনে মারা গেলে, অথবা হজ্জ ফরয হওয়ার পর কোন ওযরে না ক'রে মারা গেলে যদি তার ওয়ারেসীনদের কেউ (যে নিজের ফরয হজ্জ আগে পালন করে থাকবে) তার তরফ থেকে তা পালন করে, তবে এর সওয়াবেও সে লাভবান হবে।
ইবনে আব্বাস বলেন, এক ব্যক্তি নবী-এর নিকট এসে বলল, 'আমার বোন হজ্জ করার নযর মেনে মারা গেছে। (এখন কী করা যায়?) নবী বললেন, "তার ঋণ বাকী থাকলে কি তুমি পরিশোধ করতে?" লোকটি বলল, 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন, "তাহলে আল্লাহর ঋণ পরিশোধ করে দাও। কারণ, তা অধিক পরিশোধ-যোগ্য।" (বুখারী ৬৬৯৯নং)
অনুরূপ এক মহিলা বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! আমার আব্বা বড় বৃদ্ধ। তার ফরয হজ্জ বাকী আছে। এখন সওয়ারীতে বসে থাকতেও সে অক্ষম। আমি কি তার তরফ থেকে হজ্জ করে দেব?' নবী বললেন, " 'হ্যাঁ।' করে দাও।" (মুসলিম ১৩৩৪-১৩৩৫নং প্রমুখ)
ইমাম নওবী বলেন, এই হাদীস বার্ধক্য, চিররোগ অথবা মৃত্যুর কারণে ফরয হজ্জ পালনে অসমর্থ ব্যক্তির তরফ থেকে হজ্জ পালন করার বৈধতা নির্দেশ করে। (শারহে নওবী ৫/৮৩)
অবশ্য ফরয হওয়া সত্ত্বেও যে বিনা ওজরে সময়ের অবহেলা বশতঃ হজ্জ না ক'রে মারা গেছে, তার তরফ থেকে হজ্জ আদায় কোন কাজে দেবে না। (আহকামুল জানাইয ১৭১পৃঃ, টীকা)

৪। মাইয়্যেতের ছেড়ে যাওয়া নেক সন্তান, যে নেক আমল করে, তার সওয়াবের অনুরূপ সওয়াব লাভ হয় তার পিতা-মাতারও। এতে সন্তানের সওয়াবও মোটেই কম হয় না। কারণ, সন্তান হল পিতা-মাতার আমলকৃত ও উপার্জিত ধনের ন্যায়। আর আল্লাহ তাআলা বলেন,
{وَأَن لَّيْسَ لِلْإِنسَانِ إِلَّا مَا سَعَى} (۳۹) سورة النجم
অর্থাৎ, এবং মানুষ তাই পায়; যা সে করে। (সূরা নাজম ৩৯ আয়াত)
আর আল্লাহ রসূল বলেন,
إِنَّ مِنْ أَطْيَبِ مَا أَكَلَ الرَّجُلُ مِنْ كَسْبِهِ وَوَلَدُهُ مِنْ كَسْبِهِ ..
"মানুষ সবচেয়ে হালাল বস্তু যেটা ভক্ষণ করে তা হল তার নিজ উপার্জিত খাদ্য। আর তার সন্তান হল তার নিজ উপার্জিত ধন স্বরূপ।" (আবু দাউদ ৩৫২৮, তিরমিযী ১৩৫৮, নাসাঈ ৪৪৬৪, ইবনে মাজাহ ২১৩৭নং প্রমুখ)
তাই সন্তান যদি তার পিতা-মাতার নামে দান করে অথবা ক্রীতদাস মুক্ত করে অথবা হজ্জ করে, তাহলে এসবের সওয়াবে তারা উপকৃত হবে।
ইবনে আব্বাস বলেন, সা'দ বিন উবাদাহর মা যখন ইন্তেকাল করেন, তখন তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি আল্লাহর রসূল-কে বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! আমার অনুপস্থিত থাকা কালে আমার আম্মা মারা গেছেন। এখন যদি তাঁর তরফ থেকে কিছু দান করি তাহলে তিনি উপকৃত হবেন কি?' নবী বললেন, "হ্যাঁ হবে।" সা'দ বললেন, 'তাহলে আমি আপনাকে সাক্ষ্য রেখে বলছি যে, আমার মিখরাফের বাগান তাঁর নামে সদকাহ করলাম।' (বুখারী ২৭৫৬, ২৭৬২নং প্রমুখ)
আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী-কে বলল, 'আমার মা হঠাৎ মারা গেছে। আমার ধারণা যে, সে কথা বলার সুযোগ পেলে সাদকাহ করত। সুতরাং আমি যদি তার পক্ষ থেকে সাদকাহ করি, তাহলে কি সে নেকী পাবে?' তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" (বুখারী ১৩৮৮, ২৭৬০, মুসলিম ২৩৭৩, ৪৩০৭-৪৩০৮নং)
আব্দুল্লাহ বিন আম্র বলেন, আস বিন ওয়াইল সাহমী তার তরফ হতে ১০০টি ক্রীতদাস মুক্ত করার অসিয়ত করে মারা যায়। সুতরাং তার ছোট ছেলে হিশাম ৫০টি দাস মুক্ত করে। অতঃপর তার বড় ছেলে আম্র বাকী ৫০টি দাস মুক্ত করার ইচ্ছা করলে বললেন, '(বাপ তো কাফের অবস্থায় মারা গেছে) তাই আমি এ কাজ আল্লাহর রসূল-কে জিজ্ঞাসা না করে করব না।' সুতরাং তিনি নবী-এর নিকট এসে ঘটনা খুলে বলে জিজ্ঞাসা করলেন, "আমি কি বাকী ৫০টি দাস তার তরফ থেকে মুক্ত করব?' উত্তরে আল্লাহর রসূল বললেন,
إِنَّهُ لَوْ كَانَ مُسْلِمًا فَأَعْتَقْتُمْ عَنْهُ أَوْ تَصَدَّقْتُمْ عَنْهُ أَوْ حَجَجْتُمْ عَنْهُ بَلَغَهُ ذَلِكَ ..
"সে যদি মুসলিম হতো এবং তোমরা তার তরফ থেকে দাস মুক্ত করতে, অথবা সদকাহ করতে অথবা হজ্জ করতে তাহলে তার সওয়াব তার নিকট পৌঁছত।" (আবু দাউদ ২৮৮৫নং, বাইহাকী ৬/২৭৯, আহমাদ ৬৭০৪নং)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00