📄 যে কাজ পূর্বেকার সকল পাপ মাফ ক’রে দেয়
এমন কিছু সৎকর্ম আছে, যা করলে পূর্বকৃত সকল পাপ মাফ হয়ে যায়। যেমনঃ-
১। উযূ করা
মহানবী বলেছেন, একদা উষমান বিন আফফান উযু করার পর বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ-কে আমার এই ওযুর মতো ওযু করতে দেখলাম। অতঃপর তিনি বললেন,
(( مَنْ تَوَضَّأَ هَكَذَا ، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ، وَكَانَتْ صَلَاتُهُ وَمَشْيُهُ إِلَى الْمَسْجِدِ نَافِلَةً )). رواه مسلم
“যে ব্যক্তি এরূপ ওযু করবে, তার পূর্বকৃত পাপরাশি মাফ করা হবে এবং তার নামায ও মসজিদের দিকে চলার সওয়াব অতিরিক্ত হবে।” (মুসলিম ৫৬৬নং)
যায়দ বিন খালেদ জুহানী বলেন, নবী বলেছেন,
مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْن لَا يَسْهُو فِيهِمَا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ».
"যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওযু করে, কোন ভুল না ক'রে (একাগ্রচিত্তে) দুই রাকআত নামায পড়ে, সেই ব্যক্তির পূর্বেকার সমূদয় গোনাহ মাফ হয়ে যায়।" (আবু দাউদ ৯০৫, সহীহ তারগীব ২২১নং)
২। ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহার শেষে আমীন বলা
আল্লাহর রসূল বলেন,
إِذَا قَالَ الإِمَامُ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ فَقُولُوا آمِينَ ». فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ..
"ইমাম যখন 'গাইরিল মাগযুবি আলাইহিম অলাযয়া-ল্লীন, বলে তখন তোমরা 'আমীন' বল। কারণ যার 'আমীন' বলা ফিরিশাবর্গের 'আমীন' বলার সাথে একীভূত হয়, তার পিছেকার সকল পাপরাশি মাফ হয়ে যায়।" (আহমাদ ৭১৮৭, মালেক ১৯৫, বুখারী ৭৮২, মুসলিম ৭৪৭, আবু দাউদ ৯৩৬, নাসাঈ ৯২৭, ইবনে মাজাহ ইবনে হিব্বান ১৮০৪, ইবনে খুযাইমা ৫৭৫, দারেমী ১২৪৬, বাইহাক্বী ২২৬৪নং)
অন্য এক বর্ণনা মতে,
إِذَا أَمَّنَ الإِمَامُ فَأَمِّنُوا فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ تَأْمِينُهُ تَأْمِينَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ».
"ইমাম যখন 'আমীন' বলবে, তখন তোমরাও 'আমীন' বল। কারণ, যার 'আমীন' বলা ফিরিশাবর্গের 'আমীন' বলার সাথে সাথে হয়, তখন তার পূর্বেকার পাপরাশি মাফ ক'রে দেওয়া হয়।"
আরো এক বর্ণনা মতে,
إِذَا قَالَ أَحَدُكُمْ آمِينَ، وَالْمَلَائِكَةُ فِي السَّمَاءِ آمِينَ ، فَوَافَقَتْ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَى غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ..
"তোমাদের কেউ যখন নামাযে 'আমীন' বলে এবং ফিরিশাবর্গ আকাশে 'আমীন' বলেন, আর পরস্পরের 'আমীন' বলা একই সাথে হয়, তখন তার পূর্বেকার পাপরাশি মাফ ক'রে দেওয়া হয়।" (বুখারী ৭৮০-৭৮২, ৪৪৭৫, ৬৪০২, মুসলিম ৯৪২, ৯৪৪-৯৪৫, আবু দাউদ ৯৩২-৯৩৩, ৯৩৫-৯৩৬, নাসাঈ, দারেমী)
৩। কওমার দুআ বলা
এ ব্যপারে মহানবী ﷺ বলেছেন,
إِذَا قَالَ الإِمَامُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ..
"যখন ইমাম 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলে, তখন তোমরা 'আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ' বল। কেননা যার ঐ বলা ফিরিস্তাগণের বলার সাথে একীভূত হয়, তার পিছেকার সকল পাপরাশি মাফ হয়ে যায়।" (মালেক ১৯৭, বুখারী ৭৯৬নং, মুসলিম ৪০৯নং, আবু দাউদ ৮৪৮, তিরমিযী ২৬৭, নাসাঈ ১০৬৩নং)
৪। রযমানের রোযা রাখা
মহানবী ﷺ বলেছেন,
(( مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَاناً وَاحْتِسَاباً ، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ )). متفقٌ عَلَيْهِ
"যে ব্যক্তি ঈমান সহকারে নেকীর আশায় রমযানের রোযা পালন করে, তার অতীতের গুনাহসমূহ ক্ষমা ক'রে দেওয়া হয়।" (বুখারী ৩৮, মুসলিম ১৮১৭নং)
৫। তারাবীহর নামায পড়া
মহানবী ﷺ বলেছেন,
(( مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَاناً وَاحْتِسَاباً غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ )). متفقٌ عَلَيْهِ
"যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও নেকীর আশায় রমযান মাসে কিয়াম করবে (তারাবীহ পড়বে), তার পূর্বেকার পাপসমূহ মাফ ক'রে দেওয়া হবে।" (বুখারী ৩৭, ২০০৮-২০০৯, মুসলিম ১৮১৫নং, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ)
৬। শবেকদরের নামায পড়া
মহানবী ﷺ বলেছেন,
((مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ)). متفقٌ عَلَيْهِ
"যে ব্যক্তি ঈমান ও বিশ্বাসের সাথে এবং সওয়াবের আশা রেখে রমযানের রোযা রাখে, তার পূর্বেকার পাপরাশি মাফ হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি শবেকদরে (ভাগ্যরজনী অথবা মহিয়সী রজনীতে) ঈমানসহ নেকীর আশায় কিয়াম করে (নামায পড়ে), তার অতীতের গুনাহ মাফ ক'রে দেওয়া হয়।" (বুখারী ৩৫, ১৯০১, ২০১৪, মুসলিম ১৮১৭নং)
৭। খাবারের পর নির্দিষ্ট দুআ পড়া
৮। কাপড় পরার সময় নির্দিষ্ট দুআ পড়া
মহানবী বলেছেন,
(( مَنْ أَكَلَ طَعَامَاً، فَقَالَ : الحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا، وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلَا قُوَّةٍ ، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ، وَمَنْ لَبِسَ ثَوْبًا فَقَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَسَانِي هَذَا وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْل مِنِّى وَلَا قُوَّةٍ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ)).
"যে ব্যক্তি আহার শেষে এই দুআ পড়বেঃ- 'আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আত্মআমানী হা-যা অরাযাক্বানীহি মিন গাইরি হাওলিম মিন্নী অলা কুউওয়াহ।' (অর্থাৎ, সেই আল্লাহর যাবতীয় প্রশংসা যিনি আমাকে এটা খাওয়ালেন এবং জীবিকা দান করলেন, আমার কোন চেষ্টা ও সামর্থ্য ছাড়াই) সে ব্যক্তির পূর্বের সমস্ত পাপ মোচন ক'রে দেওয়া হবে।" আর যে ব্যক্তি কাপড় পরার শেষে এই দুআ পড়বেঃ- 'আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী কাসানী হা-যা অরাযাক্বানীহি মিন গাইরি হাওলিম মিন্নী অলা কুউওয়াহ।' (অর্থাৎ, সেই আল্লাহর যাবতীয় প্রশংসা যিনি আমাকে এটা পরালেন এবং জীবিকা দান করলেন, আমার কোন চেষ্টা ও সামর্থ্য ছাড়াই) সে ব্যক্তির পূর্বের সমস্ত পাপ মোচন ক'রে দেওয়া হবে।" (আবু দাউদ ৪০২৫, তিরমিযী ৩৪৫৮, ইবনে মাজাহ ৩২৮৫, হাকেম ১৮৭০, তাবারানীর কাবীর ১৬৮০১, দারেমী ২৬৯০, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৬২৮৫, আবু য়্যা'লা ১৪৮৮নং)