📄 যে সৎকর্ম কাবীরা গোনাহও নিশ্চিহ্ন ক’রে দেয়
বিদিত যে, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা বিশাল গোনাহ। মহান আল্লাহ বলেছেন,
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا زَحْفاً فَلَا تُوَلُّوهُمُ الْأَدْبَارَ (١٥) وَمَنْ يُوَلِّهِمْ يَوْمَئِذٍ دُبُرَهُ إِلَّا مُتَحَرِّفاً لِقِتَالٍ أَوْ مُتَحَيِّزاً إِلَى فِئَةٍ فَقَدْ بَاءَ بِغَضَبٍ مِنْ اللَّهِ وَمَأْوَاهُ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ} (١٦) الأنفال
"হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা যখন (যুদ্ধকালে) অবিশ্বাসী বাহিনীর সম্মুখীন হবে, তখন (তাদের মুকাবিলা করতে) পৃষ্ঠপ্রদর্শন করো না। সেদিন যুদ্ধকৌশল পরিবর্তন কিংবা স্বীয় দলে স্থান নেওয়া ব্যতীত অন্য কারণে কেউ তার পৃষ্ঠ প্রদর্শন করলে, সে তো আল্লাহর বিরাগভাজন হবে এবং তার আশ্রয়স্থল হবে জাহান্নাম, আর তা কত নিকৃষ্ট ঠিকানা!" (আনফালঃ ১৫-১৬)
এ কাজ সর্বনাশী কর্মসমূহের অন্যতম। মহানবী বলেছেন,
اجْتَنِبُوا السَّبْعَ الْمُوبِقَاتِ ..
"সাতটি সর্বনাশী কর্ম হতে দূরে থাক।"
সকলে বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! তা কী কী?' তিনি বললেন,
الشَّرْكُ بِاللَّهِ وَالسِّحْرُ وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَأَكْلُ مَالِ الْيَتِيمِ وَأَكْلُ الرِّبَا وَالتَّوَلَّى يَوْمَ الزَّحْفِ وَقَدْفُ الْمُحْصَنَاتِ الْغَافِلَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ ..
"আল্লাহর সাথে শির্ক করা, যাদু করা, ন্যায় সঙ্গত অধিকার ছাড়া আল্লাহ যে প্রাণ হত্যা করা হারাম করেছেন তা হত্যা করা, সুদ খাওয়া, এতীমের মাল ভক্ষণ করা, (যুদ্ধক্ষেত্র হতে) যুদ্ধের দিন পলায়ন করা এবং সতী উদাসীনা মুমিনা নারীর চরিত্রে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া।" (বুখারী ২৭৬৬, ৬৮৫৭, মুসলিম ২৭২নং, আবু দাউদ, নাসাঈ)
কিন্তু এমন একটি দুআ আছে, যা পড়ে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে সে পাপও মাফ হয়ে যাবে। মহানবী বলেছেন,
(( مَنْ قَالَ : أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الحَيُّ القَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ ، غُفِرَتْ ذُنُوبُهُ ، وَإِنْ كَانَ قَدْ فَرَّ مِنَ الزَّحْفِ )) .
"যে ব্যক্তি এ দুআ পড়বে, 'আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাযী লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুমু অ আতুবু ইলাইহ।' অর্থাৎ, আমি সেই আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি যিনি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব, অবিনশ্বর। এবং আমি তাঁর কাছে তওবা করছি। সে ব্যক্তির পাপরাশি মার্জনা করা হবে; যদিও সে রণক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে (যাওয়ার পাপ করে) থাকে।" (আবু দাউদ ১৫১৯নং, তিরমিযী ৩৫৭৭, হাকেম ১৮৮৪নং)
অবশ্য এটি এক প্রকার তওবা ও ইস্তিগফার। আর তার ফলে আকবারুল কাবায়েরও ক্ষমার্হ হতে পারে।
মহানবী বলেন,
(( مَنْ قَالَ قَبْلَ أَنْ يَنْصَرِفَ وَيَثْنِيَ رِجْلَهُ مِنْ صَلَاةِ الْمَغْرِبِ وَالصُّبْحِ {لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ عَشْرَ مَرَّاتٍ كُتِبَ لَهُ بِكُلِّ وَاحِدَةٍ عَشْرُ حَسَنَاتٍ وَمُحِيَتْ عَنْهُ عَشْرُ سَيِّئَاتٍ وَرُفِعَ لَهُ عَشْرُ دَرَجَاتٍ وَكَانَتْ حِرْزًا مِنْ كُلِّ مَكْرُوهِ وَحِرْزًا مِنْ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ وَلَمْ يَحِلُّ لِذَنْبِ يُدْرِكُهُ إِلَّا الشَّرْكَ فَكَانَ مِنْ أَفْضَل النَّاسِ عَمَلًا إِلَّا رَجُلًا يَفْضُلُهُ يَقُولُ أَفْضَلَ مِمَّا قَالَ)).
যে ব্যক্তি মাগরেব ও ফজরের নামায থেকে ফিরে বসা ও পা মোড়ার পূর্বে- "লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু, অলাহুল হামদু, য়্যুহয়ী অয়্যুমীতু, অহুআ আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।" (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কেউ সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, তাঁরই জন্য সারা রাজত্ব, এবং তাঁরই নিমিত্তে সকল প্রশংসা। তিনি জীবন দান করেন, ও মৃত্যু প্রদান করেন। আর তিনি সর্ববস্তুর উপর সর্বক্ষমতাবান। ১০ বার পাঠ করে, আল্লাহ তার আমলনামায় প্রত্যেক বারের বিনিময়ে দশটি নেকী লিপিবদ্ধ করেন, দশটি গোনাহ মোচন করে দেন, তাকে দশটি মর্যাদায় উন্নীত করেন, প্রত্যেক অপ্রীতিকর বিষয় এবং বিতাড়িত শয়তান থেকে (ঐ যিকর) রক্ষামন্ত্র হয়, নিশ্চিতভাবে শির্ক ব্যতীত তার অন্যান্য পাপ ক্ষমার্হ হয়। আর সে হয় আমল করার দিক থেকে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠব্যক্তি; তবে সেই ব্যক্তি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হতে পারে, যে তার থেকেও উত্তম যিক্র পাঠ করবে।" (আহমাদ ১৭৯৯০, সহীহ তারগীব ৪৭৭নং)
তিনি আরো বলেছেন,
(( مَنْ غَسَّلَ مَيْتًا فَكَتَمَ عَلَيْهِ ، غَفَرَ اللَّهُ لَهُ أَرْبَعِينَ مَرَّة )).
"যে ব্যক্তি কোন মুসলিমকে গোসল দেয় এবং তার সকল ত্রুটি গোপন করে, আল্লাহ তাকে ৪০ বার ক্ষমা ক'রে দেন।" আর এক বর্ণনায় আছে, "৪০টি কাবীরাহ গোনাহ মাফ ক'রে দেন।" (হাকেম ১/৩৫৪, ৩৬২, বাইহাকী ৩/৩৯৫, মাযমাউয যাওয়াইদ ৩/২১, শেষোক্ত বর্ণনাটি শায)
📄 যে কাজ সমুদ্রের ফেনা বরাবর পাপরাশিকেও মাফ ক’রে দেয়
সমুদ্রের পানিকে ক্ষিপ্ত বাতাস যখন আছাড় মারে, তরঙ্গমালা যখন ঘাত-প্রতিঘাতে পানির মাঝে আন্দোলন সৃষ্টি করে, তখন তার ফেনা সৃষ্টি হয়। আর সেই ফেনা হয় অনেক অনেক। সেই ফেনা পরিমাণও যদি কেউ পাপ করে এবং নির্দিষ্ট কতিপয় নেক আমল করে, তাহলে তা মাফ হয়ে যাবে। আর তা হল মহান করুণাময়ের বিশেষ করুণা মুসলিমের জন্য। তার মধ্যে একটি আমল হল, ফরয নামাযের পর যথা নিয়ম ও সংখ্যায় যিকর পাঠ করা। মহানবী বলেছেন,
مَنْ سَبَّحَ اللَّهَ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ ثَلَاثًا وَثَلاثِينَ وَحَمِدَ اللَّهَ ثَلَاثًا وَثَلاثِينَ وَكَبَّرَ اللَّهَ ثلاثًا وَثَلاثِينَ فَتِلْكَ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ وَقَالَ تَمَامَ الْمِائَةِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ غُفِرَتْ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ ..
"যে ব্যক্তি প্রত্যেক নামাযের পরে 'সুবহা-নাল্লাহ' ৩৩ বার, الْحَمْدُ لله 'আলহামদু লিল্লা-হ' ৩৩ বার, الله أكبر 'আল্লা-হু আকবার' ৩৩ বার সর্বমোট ৯৯ বার এবং ১০০ পূরণ করার জন্য নিম্নোক্ত দুআ একবার পাঠ করবে, তার সমুদ্রের ফেনা বরাবর পাপ হলেও মাফ হয়ে যাবে।
لا إله إلا الله وَحْدَهُ لا شَريكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَ هُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ.
উচ্চারণঃ- "লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। (আহমাদ ৮৮৩৪, মুসলিম ১৩৮০নং)
অনুরূপ আরো একটি যিকরের ব্যাপারে মহানবী বলেছেন,
(( مَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللهُ وَبِحَمْدِهِ ، فِي يَوْمٍ مِئَةَ مَرَّةٍ ، حُطَّتْ خَطَايَاهُ ، وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ البَحْرِ )) . متفقٌ عَلَيْهِ
“যে ব্যক্তি দৈনিক একশবার 'সুবহানাল্লাহি অবিহামদিহ' পড়বে তার গুনাহসমূহ মোচন করা হবে; যদিও তা সমুদ্রের ফেনা বরাবর হয়।” (বুখারী ৬৪০৫, মুসলিম ৭০১৮নং)
অন্য একটি যিকরের ব্যাপারে মহানবী বলেছেন,
(من قال حين يأوي إلى فراشه : لا إله إلا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير لا حول ولا قوة إلا بالله سبحان الله والحمد لله ولا اله إلا الله والله أكبر، غفر الله ذنوبه وإن كانت مثل زبد البحر).
"যে ব্যক্তি বিছানায় আশ্রয় নিয়ে বলবে, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। লা হাউলা অলা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। সুবহানাল্লাহি অলহামদু লিল্লাহি অলা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার।' সে ব্যক্তির পাপরাশি মাফ হয়ে যাবে; যদিও তা সমুদ্রের ফেনা বরাবর হয়।" (ইবনে হিব্বান ৫৫২৮, ইবনে আবী শাইবা ২৬৫২৭, সিঃ সহীহাহ ৩৪১৪নং)
অন্য এক বর্ণনায় আছে,
مَا عَلَى الْأَرْضِ رَجُلٌ يَقُولُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ إِلَّا كُفَرَتْ عَنْهُ ذُنُوبُهُ وَلَوْ كَانَتْ أَكْثَرَ مِنْ زَبَدِ الْبَحْرِ).
পৃথিবীর বুকে যে ব্যক্তি বলবে, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, অল্লাহু আকবার, (অসুবহানাল্লাহ, অলহামদু লিল্লাহ), অলা হাউলা অলা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।' সে ব্যক্তির পাপরাশি মাফ হয়ে যাবে; যদিও তা সমুদ্রের ফেনা বরাবর (বা তার থেকে বেশি) হয়।" (আহমাদ ৬৪৭৯, ৬৯৭৩, তিরমিযী ৩৪৬০, হাকেম ১৮৫৩, সঃ তারগীব ১৫৬৯নং)
📄 যে কাজ পূর্বেকার সকল পাপ মাফ ক’রে দেয়
এমন কিছু সৎকর্ম আছে, যা করলে পূর্বকৃত সকল পাপ মাফ হয়ে যায়। যেমনঃ-
১। উযূ করা
মহানবী বলেছেন, একদা উষমান বিন আফফান উযু করার পর বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ-কে আমার এই ওযুর মতো ওযু করতে দেখলাম। অতঃপর তিনি বললেন,
(( مَنْ تَوَضَّأَ هَكَذَا ، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ، وَكَانَتْ صَلَاتُهُ وَمَشْيُهُ إِلَى الْمَسْجِدِ نَافِلَةً )). رواه مسلم
“যে ব্যক্তি এরূপ ওযু করবে, তার পূর্বকৃত পাপরাশি মাফ করা হবে এবং তার নামায ও মসজিদের দিকে চলার সওয়াব অতিরিক্ত হবে।” (মুসলিম ৫৬৬নং)
যায়দ বিন খালেদ জুহানী বলেন, নবী বলেছেন,
مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْن لَا يَسْهُو فِيهِمَا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ».
"যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওযু করে, কোন ভুল না ক'রে (একাগ্রচিত্তে) দুই রাকআত নামায পড়ে, সেই ব্যক্তির পূর্বেকার সমূদয় গোনাহ মাফ হয়ে যায়।" (আবু দাউদ ৯০৫, সহীহ তারগীব ২২১নং)
২। ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহার শেষে আমীন বলা
আল্লাহর রসূল বলেন,
إِذَا قَالَ الإِمَامُ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ فَقُولُوا آمِينَ ». فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ..
"ইমাম যখন 'গাইরিল মাগযুবি আলাইহিম অলাযয়া-ল্লীন, বলে তখন তোমরা 'আমীন' বল। কারণ যার 'আমীন' বলা ফিরিশাবর্গের 'আমীন' বলার সাথে একীভূত হয়, তার পিছেকার সকল পাপরাশি মাফ হয়ে যায়।" (আহমাদ ৭১৮৭, মালেক ১৯৫, বুখারী ৭৮২, মুসলিম ৭৪৭, আবু দাউদ ৯৩৬, নাসাঈ ৯২৭, ইবনে মাজাহ ইবনে হিব্বান ১৮০৪, ইবনে খুযাইমা ৫৭৫, দারেমী ১২৪৬, বাইহাক্বী ২২৬৪নং)
অন্য এক বর্ণনা মতে,
إِذَا أَمَّنَ الإِمَامُ فَأَمِّنُوا فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ تَأْمِينُهُ تَأْمِينَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ».
"ইমাম যখন 'আমীন' বলবে, তখন তোমরাও 'আমীন' বল। কারণ, যার 'আমীন' বলা ফিরিশাবর্গের 'আমীন' বলার সাথে সাথে হয়, তখন তার পূর্বেকার পাপরাশি মাফ ক'রে দেওয়া হয়।"
আরো এক বর্ণনা মতে,
إِذَا قَالَ أَحَدُكُمْ آمِينَ، وَالْمَلَائِكَةُ فِي السَّمَاءِ آمِينَ ، فَوَافَقَتْ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَى غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ..
"তোমাদের কেউ যখন নামাযে 'আমীন' বলে এবং ফিরিশাবর্গ আকাশে 'আমীন' বলেন, আর পরস্পরের 'আমীন' বলা একই সাথে হয়, তখন তার পূর্বেকার পাপরাশি মাফ ক'রে দেওয়া হয়।" (বুখারী ৭৮০-৭৮২, ৪৪৭৫, ৬৪০২, মুসলিম ৯৪২, ৯৪৪-৯৪৫, আবু দাউদ ৯৩২-৯৩৩, ৯৩৫-৯৩৬, নাসাঈ, দারেমী)
৩। কওমার দুআ বলা
এ ব্যপারে মহানবী ﷺ বলেছেন,
إِذَا قَالَ الإِمَامُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ..
"যখন ইমাম 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলে, তখন তোমরা 'আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ' বল। কেননা যার ঐ বলা ফিরিস্তাগণের বলার সাথে একীভূত হয়, তার পিছেকার সকল পাপরাশি মাফ হয়ে যায়।" (মালেক ১৯৭, বুখারী ৭৯৬নং, মুসলিম ৪০৯নং, আবু দাউদ ৮৪৮, তিরমিযী ২৬৭, নাসাঈ ১০৬৩নং)
৪। রযমানের রোযা রাখা
মহানবী ﷺ বলেছেন,
(( مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَاناً وَاحْتِسَاباً ، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ )). متفقٌ عَلَيْهِ
"যে ব্যক্তি ঈমান সহকারে নেকীর আশায় রমযানের রোযা পালন করে, তার অতীতের গুনাহসমূহ ক্ষমা ক'রে দেওয়া হয়।" (বুখারী ৩৮, মুসলিম ১৮১৭নং)
৫। তারাবীহর নামায পড়া
মহানবী ﷺ বলেছেন,
(( مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَاناً وَاحْتِسَاباً غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ )). متفقٌ عَلَيْهِ
"যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও নেকীর আশায় রমযান মাসে কিয়াম করবে (তারাবীহ পড়বে), তার পূর্বেকার পাপসমূহ মাফ ক'রে দেওয়া হবে।" (বুখারী ৩৭, ২০০৮-২০০৯, মুসলিম ১৮১৫নং, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ)
৬। শবেকদরের নামায পড়া
মহানবী ﷺ বলেছেন,
((مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ)). متفقٌ عَلَيْهِ
"যে ব্যক্তি ঈমান ও বিশ্বাসের সাথে এবং সওয়াবের আশা রেখে রমযানের রোযা রাখে, তার পূর্বেকার পাপরাশি মাফ হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি শবেকদরে (ভাগ্যরজনী অথবা মহিয়সী রজনীতে) ঈমানসহ নেকীর আশায় কিয়াম করে (নামায পড়ে), তার অতীতের গুনাহ মাফ ক'রে দেওয়া হয়।" (বুখারী ৩৫, ১৯০১, ২০১৪, মুসলিম ১৮১৭নং)
৭। খাবারের পর নির্দিষ্ট দুআ পড়া
৮। কাপড় পরার সময় নির্দিষ্ট দুআ পড়া
মহানবী বলেছেন,
(( مَنْ أَكَلَ طَعَامَاً، فَقَالَ : الحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا، وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلَا قُوَّةٍ ، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ، وَمَنْ لَبِسَ ثَوْبًا فَقَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَسَانِي هَذَا وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْل مِنِّى وَلَا قُوَّةٍ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ)).
"যে ব্যক্তি আহার শেষে এই দুআ পড়বেঃ- 'আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আত্মআমানী হা-যা অরাযাক্বানীহি মিন গাইরি হাওলিম মিন্নী অলা কুউওয়াহ।' (অর্থাৎ, সেই আল্লাহর যাবতীয় প্রশংসা যিনি আমাকে এটা খাওয়ালেন এবং জীবিকা দান করলেন, আমার কোন চেষ্টা ও সামর্থ্য ছাড়াই) সে ব্যক্তির পূর্বের সমস্ত পাপ মোচন ক'রে দেওয়া হবে।" আর যে ব্যক্তি কাপড় পরার শেষে এই দুআ পড়বেঃ- 'আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী কাসানী হা-যা অরাযাক্বানীহি মিন গাইরি হাওলিম মিন্নী অলা কুউওয়াহ।' (অর্থাৎ, সেই আল্লাহর যাবতীয় প্রশংসা যিনি আমাকে এটা পরালেন এবং জীবিকা দান করলেন, আমার কোন চেষ্টা ও সামর্থ্য ছাড়াই) সে ব্যক্তির পূর্বের সমস্ত পাপ মোচন ক'রে দেওয়া হবে।" (আবু দাউদ ৪০২৫, তিরমিযী ৩৪৫৮, ইবনে মাজাহ ৩২৮৫, হাকেম ১৮৭০, তাবারানীর কাবীর ১৬৮০১, দারেমী ২৬৯০, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৬২৮৫, আবু য়্যা'লা ১৪৮৮নং)