📄 পাপ বর্জন করার নির্দেশ
পাপ মানব-জীবনের বড় অভিশাপ। পাপ থেকে দূরে থাকতে আদেশ করেছেন সৃষ্টিকর্তা। আদম সৃষ্টির শুরু থেকেই আদম ও তাঁর বংশধরকে অবাধ্যাচরণ ও পাপাচরণ থেকে মুক্ত থাকার আদেশ দেওয়া হয়েছে। মানুষের সামনে অথবা পিছনে, প্রকাশ্যে বা গোপনে কৃত কোন প্রকার পাপকে প্রশ্রয় দেয় না ইসলাম। কুরআন সে কথার ঘোষণা দিতে আদেশ দিয়ে বলেছে,
{قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَن تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَن تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ} (۳۳)
"বল, 'আমার প্রতিপালক নিষিদ্ধ করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতাকে, পাপাচারকে ও অসংগত বিদ্রোহকে এবং কোন কিছুকে আল্লাহর অংশী করাকে, যার কোন দলীল তিনি প্রেরণ করেননি এবং আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কিছু বলাকে (নিষিদ্ধ করেছেন), যে সম্পর্কে তোমাদের কোন জ্ঞান নেই।" (আ'রাফঃ ৩৩)
মহান প্রতিপালক পাপীকে পাপ বর্জন করার আদেশ দিয়ে বলেছেন,
{ وَدْرُوا ظَاهِرَ الإِثْمِ وَبَاطِنَهُ إِنَّ الَّذِينَ يَكْسِبُونَ الإِثْمَ سَيُجْزَوْنَ بِمَا كَانُوا يَقْتَرِفُونَ}
"তোমরা প্রকাশ্য এবং গোপন পাপ বর্জন কর। যারা পাপ করে, তাদের পাপের সমুচিত শাস্তি তাদেরকে দেওয়া হবে।" (আনআমঃ ১২০)
কখনো তিনি পাপ থেকে দূরে থাকতে বলেছেন,
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالأَنصَابُ وَالأَزْلامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} (৯০) سورة المائدة
"হে বিশ্বাসিগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্যনির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা হতে দূরে থাক, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।" (মায়িদাহঃ ৯০)
{فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْتَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ} (৩০) سورة الحج
"সুতরাং তোমরা দূরে থাক মূর্তিরূপ অপবিত্রতা হতে এবং দূরে থাক মিথ্যা কথন হতে।" (হাজ্জ: ৩০)
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ} (১২) الحجرات
"হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা বহুবিধ ধারণা হতে দূরে থাক; কারণ কোন কোন ধারণা পাপ।" (হুজুরাতঃ ১২)
অনুরূপ মহানবী ﷺ বলেছেন,
اجْتَنِبُوا السَّبْعَ الْمُوبِقَاتِ ..
"সাতটি সর্বনাশী কর্ম হতে দূরে থাক।" (বুখারী ২৭৬৬, ৬৮৫৭, মুসলিম ২৭২নং, আবু দাউদ, নাসাঈ)
অনেক সময় সতর্ক ও সাবধান ক'রে পাপ থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। যেমন বলা হয়েছে,
((إِيَّاكُمْ وَمُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ)).
"তোমরা ছোট ছোট তুচ্ছ পাপ থেকেও দূরে থেকো। (আহমাদ ২২৩০৮, ত্বাবারানী ৫৭৩৯, বাইহাকীর শুআবুল ইমান, সহীহুল জামে' ২৬৮৬নং)
অনেক ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, তোমরা পাপের নিকটবর্তী হয়ো না। পাপের ভূমিকায় যেয়ো না বা তার প্রথম ধাপেও পা দিয়ো না।
{وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَى إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاء سَبيلاً) (৩২) سورة الإسراء
"তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না, নিশ্চয় তা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ।" (বানী ইস্রাঈল: ৩২)
{وَلَا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ حَتَّى يَبْلُغَ أَشُدَّهُ وَأَوْفُوا بِالْعَهْدِ إِنَّ الْعَهْدَ كَانَ مَسْؤُولاً) (৩৪) سورة الإسراء
"সাবালক না হওয়া পর্যন্ত সদুদ্দেশ্যে ছাড়া এতীমের সম্পত্তির নিকটবর্তী হয়ো না। আর প্রতিশ্রুতি পালন করো; নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।" (বানী ইস্রাঈল: ৩৪)
আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরাসরি পাপে লিপ্ত হতে নিষেধ করা হয়েছে। অনেক সময়ে পাপের শাস্তি ঘোষণা ক'রে পাপ থেকে শঙ্কিত হতে আহবান করা হয়েছে।
অনেক সময় তওবার আহবান জানানো হয়েছে। যারা অবাধ্যাচরণ ক'রে আল্লাহর দরবার থেকে দূরে চলে গেছে, তাদেরকে পুনরায় ফিরে আসার তাকীদ দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে ক্ষমা করার অঙ্গীকারও করা হয়েছে।
উদ্দেশ্য হল, হে মানুষ! তুমি পৃথিবী আবাদ কর আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্য দিয়ে। পৃথিবীকে পাপমুক্ত কর। পাপের কালিমা থেকে এ পৃথিবীকে পবিত্র ও পরিষ্কার কর। লাভ মানুষেরই।