📄 পাপ পাপীকে আল্লাহর কাছে হেয় করে
আল্লাহর অবাধ্যাচরণ ক'রে পাপ করলে নিশ্চয় পাপী আল্লাহর কাছে হেয় ও ঘৃণ্য হবে। আর
{وَمَن يُهِنِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِن مُّكْرِمٍ إِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يَشَاء} (十八) سورة الحج
"আল্লাহ যাকে হেয় করেন, তার সম্মানদাতা কেউই নেই; নিশ্চয় আল্লাহ যা ইচ্ছা তা করেন।" (হাজ্জঃ ১৮) তিনি যাকে সম্মান দেন, তাকে অপমানকারী কেউ নেই। আমরা বিতরের কুনুতে দুআ ক'রে থাকি, '(হে আল্লাহ!) নিশ্চয় প্রিয়জন লাঞ্ছিত হয় না এবং তোমার শত্রু সম্মানিত হয় না।" (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, আহমাদ, বাইহাকী, ইবনে মাজাহ, ইরওয়াউল গলীল ২/১৭২)
তাঁর বিরুদ্ধাচরণ ও শত্রুতা করলে অবশ্যই মানুষ লাঞ্ছিত, পদদলিত ও অবহেলিত হবে। তিনি তাকে দুনিয়াতে লাঞ্ছিত করবেন মানুষ দ্বারা, লাঞ্ছিত করবেন নানা বিপদ-আপদ ও শাস্তি দ্বারা। আর আখেরাতেও লাঞ্ছিত করবেন জাহান্নামের শাস্তি দ্বারা।
মহান আল্লাহর কাছে বর্ণবৈষম্য নেই। বংশ-মর্যাদা ও রূপ-সৌন্দর্য নিক্তি নয় তাঁর। তিনি কারো বাহ্যিক রূপ ও আকার-আকৃতি, দেশ বা ভাষা দেখে ভালো- মন্দের বিচার করেন না। তিনি মানুষের হৃদয় ও আমল দেখেন। সুতরাং যার তাক্বওয়া বেশি হয়, সেই হয় তাঁর নিকট মর্যাদাবান ও সম্মানের পাত্র এবং যে যত বড় পাপী হয়, সে তত বড় অপদার্থ ও তাঁর ঘৃণার পাত্র হয়।
মহান আল্লাহ বলেছেন, {يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ} (۱۳) سورة الحجرات
"হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে, পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরেরর সাথে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে অধিক আল্লাহ-ভীরু। আল্লাহ সবকিছু জানেন, সব কিছুর খবর রাখেন।" (হুজুরাতঃ ১৩)
মহানবী বলেছেন, لينتهين أقوام يفتخرون بآبائهم الذين مَاتُوا ، إِنَّمَا هم فحم جَهَنَّمَ ، أَو لَيَكُونَن أَهْون على الله من الجعل الذي يدهده الخرء بأنفه ، إن الله قد أذهب عَنْكُم عَبيَّةِ الْجَاهِلِيَّة وَفَخْرِهَا بِالْآبَاءِ ، إِنَّمَا هُوَ مُؤْمِن تَقِيّ أو فاجر شقي ، [النَّاس كلهم بنو آدم ، وآدم خلق من تراب)).
"লোকেরা যেন মৃত বাপ-দাদাদের নিয়ে ফখর করা অবশ্যই ত্যাগ করে। তারা তো জাহান্নামের কয়লা মাত্র। তা ত্যাগ না করলে তারা সেই গোবুরে পোকার চেয়েও নিকৃষ্ট হবে যে নিজ নাক দ্বারা মল ঠেলে নিয়ে যায়। অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের নিকট থেকে জাহেলিয়াতের গর্ব ও ফখর দূর করে দিয়েছেন। (মুসলিম) তো মুত্তাকী (সংযমশীল) মুমিন অথবা পাপাচারী বদমায়াশ। মানুষ সকলেই আদমের সন্তান এবং আদম মাটি হতে সৃষ্ট।" (তিরমিযী ৩৯৫৫, আহমাদ, আবু দাউদ, বাইহাক্বী, সহীহুল জামে' ৫৪৮-২নং)
অন্য এক বর্ণনায় আছে, فَالنَّاسُ رَجُلانِ : بَر تَقِيُّ كَرِيمٌ عَلَى اللهِ ، وَفَاجِرٌ شَقِيٌّ هَيِّنٌ عَلَى اللَّهِ».
"সকল মানুষ হল দুটি মানুষের মতো; সৎশীল, সংযমী এবং আল্লাহর নিকট মর্যাদাবান আর পাপাচারী বদমাশ এবং আল্লাহর নিকট অপদার্থ।" (তিরমিযী ২২৭০নং)
*****
📄 পাপ পাপীর সাথে আল্লাহর সম্পর্ক ছিন্ন করে
পাপী যখন সৃষ্টিকর্তার অবাধ্যাচরণ করে, তখন সে যেন নিজেকে স্বাধীন ভাবে। পাপ ক'রে প্রতিপালকের সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে। তাঁর সাথে যোগাযোগ ছিন্ন ক'রে নিজেকে স্বেচ্ছামতো পরিচালনা করে। আর তাতে ফল কী হয়? ঘুড়ি যদি লাটাই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সুতো ছিঁড়ে আকাশে স্বাধীনভাবে উড়ে বেড়াতে চায়, প্লেন যদি রাডারের সাথে যোগাযোগ ছিন্ন ক'রে আকাশ পথে স্বাচ্ছন্দ্যে নিজের মনোমতো উড়তে চায়, তাহলে তার ফলাফল কী দাঁড়ায়? নিশ্চয়ই পতন ও ধ্বংস।
মানুষ নিজ প্রতিপালকের মুখাপেক্ষী এবং সদা-সর্বদা মুখাপেক্ষী। ক্ষণিকের জন্য অমুখাপেক্ষী হলে এবং তাঁর করুণা থেকে কিঞ্চিৎ সরে এলে ধ্বংসপ্রাপ্ত হতে বাধ্য। পাপাচরণের মাধ্যমে তাঁকে অসন্তুষ্ট ক'রে তাঁর রহমত থেকে বৈমুখ হলে ধ্বংস অনিবার্য।
মহান প্রভুর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হলে সকল প্রকার কল্যাণের পথ রুদ্ধ হয়, সকল মঙ্গলের দ্বার বন্ধ হয়ে যায়। আর উন্মুক্ত হয়ে যায় সকল অকল্যাণ ও অমঙ্গলের পথ ও দুয়ার। প্রভুর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন ক'রে নিজ শত্রু শয়তানের সাথে সম্পর্ক কায়েম করে পাপী। পরিণামে সাময়িক স্বাধীনতা লাভ ক'রে এক সময় সে অবাঞ্ছিত গন্তব্যে গিয়ে উপস্থিত হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন,
{وَمِنَ النَّاسِ مَن يُجَادِلُ فِي اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّبِعُ كُلَّ شَيْطَانٍ مَّرِيدٍ (۳) كُتِبَ عَلَيْهِ أَنَّهُ مَن تَوَلَّاهُ فَأَنَّهُ يُضِلُّهُ وَيَهْدِيهِ إِلَى عَذَابِ السَّعِير} (٤) سورة الحج
"মানুষের মধ্যে কতক আছে যারা অজ্ঞানতাবশতঃ আল্লাহ সম্বন্ধে বিতন্ডা করে এবং অনুসরণ করে প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানের। তার সম্বন্ধে এই নিয়ম করে দেওয়া হয়েছে যে, যে কেউ তার সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাকে পথভ্রষ্ট করবে এবং তাকে পরিচালিত করবে প্রজ্জ্বলিত অগ্নির শাস্তির দিকে।" (হাজ্জঃ ৩-৪)
কেউই মহান প্রতিপালকের প্রতি অমুখাপেক্ষী নয়। না ফিরিস্তাগণ, না নবী-রসূলগণ। কেউই তাঁর দাসত্বে অহংকার প্রদর্শন করে না। কিন্তু পাপী নিজ প্রতিপালক থেকে দূরে সরে যায় এবং নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ধারণা করে, তাই তার অবাধ্যাচরণ করে। আর তার নিশ্চিত ফল এই দাঁড়ায় যে, সে তাঁর করুণা থেকে বঞ্চিত হয় এবং তাকে উপস্থিত করা হয় কঠিন আযাবের আগুনে। মহান আল্লাহ বলেছেন,
{ لَّن يَسْتَنكِفَ الْمَسِيحُ أَن يَكُونَ عَبْداً لِّلّهِ وَلَا الْمَلَائِكَةُ الْمُقَرَّبُونَ وَمَن يَسْتَنكِفْ عَنْ عِبَادَتِهِ وَيَسْتَكْبِرُ فَسَيَحْشُرُهُمْ إِلَيْهِ جَمِيعًا (۱۷۲) فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فَيُوَفِّيهِمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدُهُم مِّن فَضْلِهِ وَأَمَّا الَّذِينَ اسْتَنكَفُوا وَاسْتَكْبَرُوا فَيُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَلَا يَجِدُونَ لَهُم مِّن دُونِ اللَّهِ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًا} (۱۷۳) النساء
"মসীহ আল্লাহর দাস হবে, তাতে সে কোন মতেই উন্নাসিকতা প্রদর্শন করে না এবং নৈকট্যপ্রাপ্ত ফিরিস্তাগণও নয়, বস্তুতঃ যারা তাঁর দাসত্ব (ইবাদত) করতে উন্নাসিকতা প্রদর্শন করে ও অহংকার করে, তিনি তাদের সকলকে অচিরেই তাঁর নিকট একত্র করবেন। যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে, তিনি তাদেরকে পূর্ণ পুরস্কার দান করবেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বেশী দেবেন, কিন্তু যারা উন্নাসিকতা প্রদর্শন করে ও অহঙ্কার করে তাদেরকে তিনি মর্মন্তুদ শাস্তি প্রদান করবেন এবং আল্লাহ ছাড়া তাদের জন্য তারা কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না।" (নিসাঃ ১৭২-১৭৩)
📄 পাপ পাপীকে আত্মভোলা করে
পাপী পাপ করতে থাকলে আত্মভোলা হয়। নিজের আত্মার উন্নতি ও পরিত্রাণের কথা বিস্মৃত হয়। আর আত্মবিস্মৃত হলে পাপী আত্মার প্রতি অবহেলা করে এবং ধীরে ধীরে তাকে নষ্ট ক'রে ফেলে। আর এটা এমন ধ্বংসের পথ, যাতে মুক্তির কোন উপায় অবশিষ্ট থাকে না।
মহান আল্লাহ বলেছেন, {وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ نَسُوا اللَّهَ فَأَنسَاهُمْ أَنفُسَهُمْ أَوْلَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ} (۱۹)
"আর তাদের মত হয়ো না, যারা আল্লাহকে বিস্মৃত হয়েছে, ফলে আল্লাহ তাদেরকে আত্মবিস্মৃত করেছেন। তারাই তো পাপাচারী।" (হাশরঃ ১৯)
অর্থাৎ, আল্লাহ শাস্তিস্বরূপ তাদেরকে এমন করে দিলেন যে, তারা এমন সব কাজ করা থেকে উদাসীন হয়ে গেল যাতে ছিল তাদের উপকার এবং যার দ্বারা তারা নিজেদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচাতে পারত। এইভাবে মানুষ আল্লাহকে ভুলে আসলে নিজেকেই ভুলে যায়। তার জ্ঞান-বুদ্ধি তাকে সঠিক দিক-নির্দেশনা করে না। চোখ দু'টি তাকে সঠিক পথ দেখায় না এবং তার কান সত্য কথা শুনতে বধির হয়ে যায়। ফলে তার দ্বারা এমন কাজ হয়ে যায়, যাতে থাকে তার নিজেরই ধ্বংস ও বিনাশ। (আহসানুল বায়ান)
নিশ্চয় এটা এক প্রকার শাস্তি মহান প্রতিপালকের পক্ষ থেকে। যেমন তিনি মুনাফিকদের ব্যাপারে বলেছেন,
الْمُنَافِقُونَ وَالْمُنَافِقَاتُ بَعْضُهُم مِّن بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمُنكَرِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمَعْرُوفِ {وَيَقْبِضُونَ أَيْدِيَهُمْ نَسُوا اللَّهَ فَنَسِيَهُمْ إِنَّ الْمُنَافِقِينَ هُمُ الْفَاسِقُونَ} (٦٧) سورة التوبة
"আল্লাহ মুনাফিক্ব পুরুষ, মুনাফিক্ব নারী ও কাফেরদেরকে জাহান্নামের আগুনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, এটা তাদের জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাদেরকে অভিশাপ করেছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী শাস্তি।" (তাওবাহঃ ৬৮)
সুতরাং যে ব্যক্তি নিজ প্রতিপালককে বিস্মৃত হয়, সে দুটি শাস্তি প্রাপ্ত হয়:
এক: মহান প্রতিপালক তাকে ভুলে যান।
দুইঃ তাকে তিনি আত্মভোলা ক'রে দেন।
মহান আল্লাহর বান্দাকে ভুলে যাওয়ার অর্থ হল, তিনি তাকে বর্জন ও উপেক্ষা করেন, ফলে সে হিফাযত বহির্ভূত হয়ে ধ্বংসের পথে অগ্রসর হয়। আর নিশ্চয় তা বান্দার জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে বড় দুর্ভাগ্যজনক।
পক্ষান্তরে আত্মবিস্মৃত করার অর্থ হল, বান্দার নিজের আত্মার কল্যাণ ও তার সুখ, পরিত্রাণ ও সংশুদ্ধির কথা তার স্মৃতি থেকে মুছে ফেলা। যেমন কারো জমিতে ফসল আছে, অথবা বাগানে গাছ আছে, কিন্তু সে ভুলে গিয়ে অন্য কাজে ব্যস্ত থাকে। সে তা সিঞ্চন করে না, দেখাশোনা করে না, ঘেরা-বেড়া দেয় না। সুতরাং তার সে ফল-ফসল নষ্ট হতে বাধ্য।
অথবা কারো পশু আছে। কিন্তু অন্য কিছু নিয়ে মশগুল হওয়ার ফলে সে তার দেখাশোনা করে না, খেতে দেয় না। তাও নষ্ট হতে বাধ্য।
অথবা কারো ধন-সম্পদ আছে। কিন্তু অন্য কোন বিষয়ে ব্যাপৃত হওয়ার ফলে সে তার হিফাযত করে না, অবহেলায় সঠিক সংরক্ষণ করে না, তালা দিয়ে বা পাহারা দিয়ে রাখে না। নিশ্চয় সে সম্পদ চুরি হয়ে অথবা নষ্ট হয়ে যাবে।
আল্লাহভোলা তথা আত্মভোলা বান্দা আত্মার ব্যাধি সম্বন্ধে সচেতন থাকে না। ফলে তা ব্যাধিগ্রস্ত হওয়ার পরেও তার চিকিৎসা করতে প্রয়াস পায় না। যে রোগ আত্মকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবে, সে রোগের কোন উপসর্গও তার কাছে ধরা পড়ে না। সুতরাং এ হল মহাশাস্তি। যে শাস্তির ফলে বান্দা নিজের সুখ-দুঃখের কথা ভুলে যায়। নিজের সাফল্য ও পরিত্রাণের কথা বিস্মৃত হয়। নিজ হৃদয়ের রোগ ও তার চিকিৎসা সম্বন্ধে উদাসীন থাকে। ভুলে যায় পরকালের চিরস্থায়ী সুখ-দুঃখের কথা।
আপনি ভেবে দেখলে দেখতে পাবেন, দুনিয়ার অধিকাংশ মানুষই আত্মভোলা। আত্মার উন্নতি ও কল্যাণের কথা চিন্তাই করে না। রঙিন বর্তমান পেয়ে ভবিষ্যৎকে ভুলে থাকে। সাময়িক সুখের ব্যস্ততায় প্রকৃত সুখের কথা বিস্মৃত হয়। লাভজনক ব্যবসা উপেক্ষা ক'রে ক্ষতিকর ব্যবসায় নিরত হয়। সুতরাং কত বড় সে ভুল, যে ভুলে মানুষ নিজেকে ভুলে যায়! (আষারুয যুনুব ৪৮-পৃঃ)
📄 পাপ পাপীকে সমাজে লাঞ্ছিত করে
মানুষ সামাজিক জীব। সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করতে এমন অনেক বিষয়ে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, যার বিপরীত কেউ কিছু করলে সে সমাজ-বিরোধী হয়ে যায়। ইসলামী সমাজে যে কেউ শরীয়ত-বিরোধী কাজ করলে সে সমাজ-বিরোধী বলে গণ্য হয়। আর যে সমাজ-বিরোধী হয়, সমাজে তার মান থাকে না। কারো নিকট সে সম্মান পায় না। লোকে হয়তো তাকে ভয় করে, কিন্তু কেউ তাকে শ্রদ্ধা করে না। আঙ্গুলের নখের মতো অনেক সময় সে সমাজের কাজে আসে, কিন্তু একটু লম্বা হলে কেটে ফেলা হয়।
চর্চা ও বদনাম হয় সমাজ-বিরোধী পামরের। ইজ্জত থাকে না কোন সাজা-পাওয়া অপরাধীর। মান-সম্মান থাকে না জেল-খাটা আসামীর। সম্মান পায় না বেশ্যাবৃত্তি থেকে ফিরে আসা মেয়ে। সামাজিক মর্যাদা পায় না অসামাজিক কোন কাজে জড়িত অপরাধী। বহু চেষ্টায় হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে আনলেও লোকে বলে 'গোবুরে পদ্মফুল' বা 'ধোয়া তুলসী'।
তওবার ফলে পাপীর পাপকে মহান আল্লাহ ক্ষমা করলেও বিবেকের কাছে সে অপরাধী থাকে। ফলে লজ্জা ও লাঞ্ছনা তার পিছু ছাড়ে না। মানুষ যত গোপনেই পাপ করুক না কেন, তার শাস্তি সে প্রকাশ্যেই পায়। আর তার ফলে ছড়িয়ে পড়ে তার অপমানের কথা।
আসলে ইসলামী সমাজে একমাত্র মর্যাদা ও সম্মান আছে তার, যে নিজ প্রতিপালকের অনুগত। ইসলামের যে যত বেশি অনুসারী, মুসলিম সমাজে সে তত বেশি মর্যাদাবান। সম্মানদাতা 'রব্বুল ইয্যাহ' মহান আল্লাহ। সম্মান আছে তাঁর কাছে, তাঁর আনুগত্যে ও ইবাদতে। তিনি বলেছেন,
{مَن كَانَ يُرِيدُ الْعِزَّةَ فَلِلَّهِ الْعِزَّةُ جَمِيعًا} (۱۰) سورة فاطر
"কেউ ইজ্জত-সম্মান চাইলে (সে জেনে রাখুক, সকল ইজ্জত-সম্মান তো আল্লাহরই।" (ফাত্বিরঃ ১০)
{الَّذِينَ يَتَّخِذُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاء مِن دُونِ الْمُؤْمِنِينَ أَيَبْتَغُونَ عِندَهُمُ الْعِزَّةَ فَإِنَّ العِزَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًا} (۱۳۹) سورة النساء
"যারা বিশ্বাসীদের পরিবর্তে অবিশ্বাসীদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে। তারা কি তাদের নিকট সম্মান অনুসন্ধান করে? অথচ সমস্ত সম্মান তো আল্লাহরই।" (নিসাঃ ১৩৯)
{وَلَا يَحْزُنكَ قَوْلُهُمْ إِنَّ الْعِزَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًا هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} (٦٥) سورة يونس
"আর ওদের কথা যেন তোমাকে দুঃখ না দেয়। নিশ্চয়ই যাবতীয় শক্তি-সম্মান আল্লাহরই জন্য, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।" (ইউনুসঃ ৬৫)
{يَقُولُونَ لَئِن رَّجَعْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ لَيُخْرِجَنَّ الْأَعَزُّ مِنْهَا الْأَدْلَ وَلِلَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَلَكِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَا يَعْلَمُونَ} (۸) سورة المنافقون
"তারা বলে, 'আমরা মদীনায় ফিরে গেলে সেখান হতে সম্মানী অবশ্যই হীনকে বহিষ্কার করবে।' বস্তুতঃ যাবতীয় সম্মান তো আল্লাহরই এবং তাঁর রসূল ও বিশ্বাসীদের। কিন্তু মুনাফিক (কপট) রা তা জানে না।" (মুনাফিকুনঃ ৮)
মোট কথা সম্মান কাফের ও মুনাফিকদের নিকট নেই। সম্মান পাপাচরণের মাঝে নেই। সম্মান আছে মহান আল্লাহর নিকট। তাঁর নিকট সম্মানীকে সম্মান দেয় মুসলিমরা। তাঁরই যিক্র, ইবাদত ও আনুগত্যের মাঝে আছে চির সম্মান। মহান আল্লাহর অনুগত বান্দাই প্রকৃত সম্মানী; যদিও সে একজন অসহায় দরিদ্র।
মহান আল্লাহর অবাধ্য বান্দা যত বড়ই ধনী হোক, যত বড়ই পদস্থ অফিসার হোক, যত বড়ই সামাজিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হোক, মুসলিমদের নিকট তার কোন সম্মান নেই। আল্লাহর নিকট তো নেই-ই। অবাধ্য হলে কি কেউ সম্মান পায়? সে তো শাস্তিযোগ্য অপরাধী।
মহান আল্লাহর বিধানের অনুসারী মানুষই হল প্রকৃত সম্মানের অধিকারী। একদা রাসূলুল্লাহ মদীনার আনসারদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন,
«يَا مَعْشَرَ الأَنصار أَلَمْ تَكُونُوا أَذِلَّةً فَأَعَزَّكُمُ اللَّهُ؟».
অর্থাৎ, হে আনসার দল! তোমরা কি সম্মানহারা ছিলে না, অতঃপর আল্লাহ তোমাদেরকে সম্মানদান করলেন? তাঁরা বলেছিলেন, 'আল্লাহ ও তাঁর রসূল সত্যই বলেছেন।' (আহমাদ ১১৫৪৭নং)
ইসলামের অনুসারীই হল সম্মানের অধিকারী। ইসলাম অবলম্বন করেই মানুষ মর্যাদার অধিকারী হতে পারে। ইসলাম ছাড়া অন্য বিধান অবলম্বন করলে মানুষ অপদস্থ হয়। উমার ফারুক বলেছেন,
إِنَّا كُنَّا أَدْلَّ قَومٍ فَأَعَزَّنَا اللهُ بِالإِسْلَامِ، فَمَهِمَا تَطلُبِ العِزَّ بِغَيرِ مَا أَعَزَّنَا اللَّهُ بِهِ، أَذَلَّنَا اللَّه
'আমরা ছিলাম সবার চেয়ে নিকৃষ্ট জাতি। আল্লাহ আমাদেরকে ইসলাম দ্বারা সম্মান দান করেছেন। সুতরাং আল্লাহ আমাদেরকে যে জিনিস দ্বারা সম্মানিত করেছেন, তা ছাড়া অন্য জিনিস দ্বারা যখনই আমরা সম্মান অনুসন্ধান করব, তখনই আল্লাহ আমাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন।' অন্য এক বর্ণনায় আছে, 'আমরা এমন এক জাতি, যাদেরকে আল্লাহ ইসলাম দ্বারা সম্মানিত করেছেন। সুতরাং আমরা তা ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা সম্মান অনুসন্ধান করব না।' (হাকেম ২০৭-২০৮, ৪৪৮১, সহীহ তারগীব ২৮৯৩ নং, সিলসিলাহ সহীহাহ ১/১১৭)
বলা বাহুল্য, আল্লাহর অনুগত বান্দা সম্মানীয় আল্লাহর সম্মান দানের ফলে, সে তাঁকে নিয়েই শক্তিশালী। সে নিজ কর্মে প্রশংসনীয়, পরিণামে সফলকাম। পক্ষান্তরে পাপাচারী লাঞ্ছিত। সে আল্লাহর অনুগত নয়, তাই তার কোন সম্মান নেই। সে নিজ কর্মে নিন্দনীয় এবং পরিণামে অকৃতকার্য। মহানবী বলেছেন,
وَجُعِلَ الدَّلَّةُ وَالصَّغَارُ عَلَى مَن خَالَفَ أَمْرِي».
"অপমান ও লাঞ্ছনা রাখা হয়েছে আমার আদেশের বিরোধীদের জন্য।" (আহমাদ ৫১১৪-৫১১৫, ৫৬৬৭, শুআবুল মান ৯৮, সঃ জামে' ২৮৩১নং)
মহানবী-এর বিরোধীরা পাপাচারী দুইভাবেঃ-
এক: তাঁর আদেশ-নিষেধ পালন না করার মাধ্যমে অবাধ্যাচরণ ক'রে। তাদের মাঝে থাকে কুপ্রবৃত্তি ও আত্মতৃপ্তির আচরণ।
দুইঃ তাঁর শরীয়তে নতুন কিছু আবিষ্কার ক'রে। তাদের মাঝে থাকে সন্দিহান ও খেয়ালখুশির আচরণ।
আর দুই শ্রেণীর বিরুদ্ধাচরণেই আছে লাঞ্ছনা ও অপমান।
ইসলামী সমাজে আল্লাহর অনুগত বান্দাগণ সম্মান পেয়ে থাকে। আল্লাহই তাদেরকে সম্মানিত করেন এবং তাঁর অনুগত বান্দাগণও তাদেরকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করে। পক্ষান্তরে আল্লাহর অবাধ্য বান্দাগণ অসম্মান পেয়ে থাকে। আল্লাহই তাদেরকে অসম্মানিত করেন এবং তাঁর অনুগত বান্দাগণও তাদেরকে অসম্মান ও অশ্রদ্ধা করে। ইবনুল কাইয়েম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন,
وَهُوَ الْمُعِزُّ لِأَهْل طَاعَتِهِ وَذَا عِزُّ حَقِيقِيُّ بِلَا بُطَلَان دَّارَينِ ذَلَّ شَقًّا وَذَلَّ هَوَان وَهُوَ الْمُذِلُّ لِمَنْ يَشَاءُ بِذِلَّةِ الـ .
অর্থাৎ, তিনিই নিজ অনুগতদের সম্মানদাতা এবং সেই নিঃসন্দেহে প্রকৃত সম্মানী। আর তিনিই যাকে ইচ্ছা ইহ-পরকালে দুর্ভাগ্য ও লাঞ্ছনা দিয়ে অপমান ক'রে থাকেন। (আল-কাফিয়াতুশ শাফিয়াহ ২১৩পৃঃ)
লক্ষণীয় যে, মুসলিম উম্মাহ আজ লাঞ্ছনা ও দুর্দশার শিকার। আর নিশ্চিতরূপে তার কারণ হল পাপাচরণ ও দ্বীন থেকে বিমুখ হওয়ার অনিবার্য পরিণতি। দুনিয়ার দিকে বেশি ঝুঁকে পড়া এবং তার জন্য দ্বীনকে পশ্চাতে ফেলার ফল স্বরূপ সকল জাতির কাছে সে অবহেলিত ও লাঞ্ছিত। দ্বীনকে সঠিকরূপে পালন ও উপস্থাপন করতে অক্ষম তথা দুনিয়াদারিতেও দুর্বল হওয়ার কারণে এ জাতি পশ্চাদ্বর্তী ও অপরের অনুবর্তী।
মহানবী বলেছেন,
يُوشِكُ الْأُمَمُ أَنْ تَدَاعَى عَلَيْكُمْ كَمَا تَدَاعَى الأَكَلَةُ إِلَى قَصْعَتِهَا ». فَقَالَ قَائِلٌ وَمِنْ قِلَّةٍ نَحْنُ يَوْمَئِذٍ قَالَ « بَلْ أَنْتُمْ يَوْمَئِذٍ كَثِيرٌ وَلَكِنَّكُمْ غُثَاءٌ كَغَثَاءِ السَّيْلِ وَلَيَنْزِعَنَّ اللَّهُ مِنْ صُدُورٍ عَدُوِّكُمُ الْمَهَابَةَ مِنْكُمْ وَلَيَقْذِفَنَّ اللَّهُ فِي قُلُوبِكُمُ الْوَهَنَ ». فَقَالَ قَائِلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْوَهَنُ قَالَ : حُبُّ الدُّنْيَا وَكَرَاهِيَةُ الْمَوْتِ ..
"অনতিদূরে সকল বিজাতি তোমাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবে, যেমন ভোজনকারীরা ভোজপাত্রের উপর একত্রিত হয়। (এবং চারদিক থেকে ভোজন করে থাকে।)" একজন বলল, 'আমরা কি তখন সংখ্যায় কম থাকব, হে আল্লাহর রসূল?' তিনি বললেন, "বরং তখন তোমরা সংখ্যায় অনেক থাকবে। কিন্তু তোমরা হবে তরঙ্গতাড়িত আবর্জনার ন্যায় (শক্তিহীন, মূল্যহীন)। আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের বক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি ভীতি তুলে নেবেন এবং তোমাদের হৃদয়ে দুর্বলতা সঞ্চার করবেন।" একজন বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! দুর্বলতা কী?' তিনি বললেন, "দুনিয়াকে ভালোবাসা এবং মরতে না চাওয়া।" (আবু দাউদ ৪২৯৯, মুসনাদে আহমাদ ২২৩৯৭নং)
দুনিয়ার নেতৃত্বদানের জন্য যে জাতির অভ্যুত্থান, যে জাতি সারা বিশ্বের সুউন্নত জাতি, সে জাতির উন্নয়নের শর্ত খুইয়ে বসে অবনতির শিকারে পরিণত হয়েছে। আজ শুধু বিজাতিরাই নয়, স্বজাতি ও নিজেরাও নিজেদেরকে হেয় ও তুচ্ছ ধারণা করতে শুরু করেছে। অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন,
{وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ } (۱۳۹) سورة آل عمران
"তোমরা হীনবল হয়ো না এবং দুঃখিত হয়ো না, তোমরাই হবে সর্বোপরি (বিজয়ী); যদি তোমরা মু'মিন হও।" (আলে ইমরানঃ ১৩৯)
'মু'মিন হওয়া'র শর্ত পালন করতে পারেনি এ জাতি, তাই সে আজ হীনবল ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, লাঞ্ছিত, অবহেলিত ও পদদলিত। সংগ্রামের সাথে দ্বীনের দিকে প্রত্যাবর্তন না করলে এবং দুনিয়ার উপর দ্বীনকে প্রাধান্য না দিলে এ জাতি দুনিয়াতে সম্মান পাবে না।
মহানবী বলেছেন,
إِذَا تَبَايَعْتُمْ بِالْعِينَةِ وَأَخَذْتُمْ أَدْنَابَ الْبَقَرِ وَرَضِيتُمْ بِالزَّرْعِ وَتَرَكْتُمُ الْجِهَادَ سَلَّطَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ دُلا لَا يَنْزِعُهُ حَتَّى تَرْجِعُوا إِلَى دِينِكُمْ ..
"যখন তোমরা 'ঈনাহ' ব্যবসা করবে এবং গরুর লেজ ধরে কেবল চাষ-বাস নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবে, আর জিহাদ ত্যাগ করে বসবে, তখন আল্লাহ তোমাদের উপর এমন হীনতা চাপিয়ে দেবেন; যা তোমাদের হৃদয় থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত দূর করবেন না; যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমরা তোমাদের দ্বীনের প্রতি প্রত্যাবর্তন করেছ।" (আহমাদ ৫৫৬২, আবু দাউদ ৩৪৬৪, বাইহাকী ১০৪৮৪নং)
আবু উমামা ফাল ও হাল-চাষের কিছু সাজ-সরঞ্জাম দেখে বললেন, আমি শুনেছি নবী বলেছেন,
لَا يَدْخُلُ هَذَا بَيْتَ قَوْمٍ إِلَّا أَدْخَلَهُ اللَّهُ الدُّلَّ).
"যে জাতির ঘরে এই জিনিস প্রবেশ করবে, সেই জাতির ঘরে আল্লাহ লাঞ্ছনা প্রবিষ্ট করবেন।" (বুখারী ২৩২১, ত্বাবারানীর আওসাত্ম ৮৯২১নং)
সংগ্রামী জাতি উন্নত থাকে, যারা মরতে জানে, তারাই বেঁচে থাকে। সংগ্রাম-বিমুখ হলে জাতি শুধু অবহেলিতই নয়, বরং এক সময় ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। মহানবী বলেন,
.... فِرْقَةٌ يَأْخُذُونَ أَدْنَابَ الْبَقَرِ وَالْبَرِّيَّةِ وَهَلَكُوا .......
"----- এক সম্প্রদায় হবে, যারা গরুর লেজ ধরে চাষবাস করবে এবং জিহাদে বিমুখতা প্রকাশ করবে, তারা হবে ধ্বংস।" (আবু দাউদ ৪৩০৬, মিশকাত ৫৪৩২ নং)
সঠিক জিহাদ ও সংগ্রাম জাতিকে উজ্জীবিত করে, প্রাণহীনে প্রাণদান করে। আর সঠিক দ্বীনের দিকে প্রত্যাবর্তন না করলে সঠিক জিহাদ ও সংগ্রাম করতেও জাতি ভ্রষ্ট হবে। সুতরাং সঠিকভাবে ফিরতে হবে সেই দ্বীনের দিকে, যে দ্বীন ছিল মহানবী ও সাহাবার যুগে।
আবু ওয়াক্বেদ লাইযী বলেন, একদা আমরা এক বিছানার উপর বসে ছিলাম। রসূল বলেন, "অদূর ভবিষ্যতে ফিতনা দেখা দেবে।" সকলে বলল, 'তখন আমরা কী করব হে আল্লাহর রসূল?' তিনি বিছানায় হাত রেখে খামচে ধরে বললেন, "এইরূপ করবে।" আরো একদিন রাসূলুল্লাহ লোকেদেরকে বললেন, "অদূর ভবিষ্যতে ফিতনা দেখা দেবে।"
কিন্তু অনেক লোকে সে কথা শুনতে পেল না। মুআয বললেন, 'তোমরা কি শুনছ, রাসূলুল্লাহ কী বলছেন?' তারা বলল, 'তিনি কী বললেন?'
মুআয বললেন, তিনি বললেন, "অদূর ভবিষ্যতে ফিতনা দেখা দেবে।" লোকেরা বলল, 'তাহলে আমরা কী করতে পারি হে আল্লাহর রসূল?' তিনি বললেন,
تَرْجِعُونَ إِلَى أَمْرِكُمُ الْأَوَّل
"তোমরা তোমাদের প্রথম বিষয়ে ফিরে যাবে।" (ত্বাহাবীর মুশকিলুল আষার ৪৮১১, সিঃ সহীহাহ ৩১৬৫নং)
বলা বাহুল্য, জাতির উচিত, সর্বাগ্রে সেই প্রথম বিষয়ের দিকে প্রত্যাবর্তন করা। সকল বিষয়ে রাসূল ও সাহাবার আদর্শের দিকে রুজু করা। আক্বীদা, ইবাদত, ব্যবহার ও রাজকার্যের সকল ক্ষেত্রে তাঁদের আদর্শ নির্দ্বিধায় বরণ ক'রে নেওয়া। ইমাম মালেক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন,
لَنْ يَصْلُحَ آخِرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ، إِلَّا بِمَا صَلَحَ بِهِ أَوَّلُهَا».
"প্রথম দল যা নিয়ে সংশুদ্ধ ছিল, তা ব্যতিরেকে এ উম্মতের শেষ দল কখনই সংশুদ্ধ হতে পারে না।"