📘 পাপ তার শাস্তি ও মুক্তির উপায় > 📄 মাল-ধনের উপর পাপের প্রভাব

📄 মাল-ধনের উপর পাপের প্রভাব


বহু পাপ এমন আছে, যা করার ফলে মানুষের মাল-ধনের ক্ষতি হয়। বহু বিধান এমন আছে, যা অমান্য করলে মানুষের সম্পদের সমূহ ক্ষতি হয়। ইসলামের একটি মৌলিক বিধান হচ্ছে,
(لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَار).
"কারো জন্য অপরের কোন প্রকার ক্ষতি করা বৈধ নয়। কোন দু'জনের জন্য প্রতিশোধমূলক পরস্পরকে ক্ষতিগ্রস্ত করাও বৈধ নয়।" (অথবা কেউ অপরের ক্ষতি করবে না এবং অপরের ক্ষতি করার পরিবর্তেও ক্ষতি করবে না।) (আহমাদ ২৮-৬৫, ইবনে মাজাহ ২৩৪১, সহীহুল জামে' ৭৫১৭নং)

এ বিধান অমান্য করলে মুসলিমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
হারাম উপার্জন করা ও খাওয়া হতে ইসলাম ভীতি প্রদর্শন করেছে। মহান আল্লাহ বলেছেন,
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلا أَن تَكُونَ تِجَارَةً عَن تَرَاضِ مِّنكُمْ وَلَا تَقْتُلُواْ أَنفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا} (۲۹) سورة النساء
“হে মু'মিনণ! তোমরা একে অন্যের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। তবে তোমাদের পরস্পর সম্মতিক্রমে ব্যবসার মাধ্যমে (গ্রহণ করলে তা বৈধ)। আর নিজেদেরকে হত্যা করো না; নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।” (নিসাঃ ২৯)

মহানবী বলেছেন,
أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ اللَّهَ طَيِّبُ لَا يَقْبَلُ إِلا طَيِّبًا وَإِنَّ اللَّهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْسَلِينَ فَقَالَ ( يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إِنِّى بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ) وَقَالَ (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ) .. ثُمَّ ذَكَرَ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ أَشْعَثَ أَغْبَرَ يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ يَا رَبِّ يَا رَبِّ وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ وَغُذِيَ بالْحَرَامِ فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذلِكَ ..
“হে লোক সকল! অবশ্যই আল্লাহ পবিত্র এবং তিনি পবিত্র (মালই) কবুল করে থাকেন। আল্লাহ মুমিনদেরকে সেই আদেশ করেছেন, যে আদেশ করেছেন আম্বিয়াগণকে। সুতরাং তিনি আম্বিয়াগণের উদ্দেশ্যে বলেছেন, 'হে রসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তুসমূহ থেকে আহার কর এবং সৎকাজ কর। তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে আমি সবিশেষ অবহিত।' (সূরা মু'মিনুন ৫১ আয়াত)
আর তিনি (মুমিনদের উদ্দেশ্যে) বলেছেন, 'হে মুমিনগণ! আমি তোমাদেরকে যে সব রুজী দান করেছি তা থেকে পবিত্র বস্তু আহার কর---।' (বাক্বারাহ ১৭২)
অতঃপর তিনি সেই ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে লম্বা সফর করে আলুথালু ধূলিমলিন বেশে নিজ হাত দু'টিকে আকাশের দিকে লম্বা করে তুলে দুআ করে, 'হে আমার প্রতিপালক! হে আমার প্রভু!' কিন্তু তার আহার্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পরিধেয় লেবাস হারাম এবং হারাম দ্বারাই তার পুষ্টিবিধান হয়েছে। অতএব তার দুআ কীভাবে কবুল হতে পারে? (মুসলিম ২৩৯৩, তিরমিযী ২৯৮৯, দারেমী ২৭১৭নং)

তিনি কা'ব বিন উজরার উদ্দেশ্যে বলেছিলেন,
(يا كعب بن عجرة ! إنه لن يدخل الجنة لحم نبت من سحت)).
“হে কা'ব বিন উজরাহ! সে মাংস কোন দিন বেহেশ্ প্রবেশ করতে পারবে না, যার পুষ্টিসাধন হারাম খাদ্য দ্বারা করা হয়েছে।” (দারেমী ২৭৭৬নং)

"--- হে কা'ব বিন উজরাহ! যে মাংস হারাম খাদ্য দ্বারা প্রতিপালিত হবে, তার জন্য জাহান্নামই উপযুক্ত।" (সহীহ তিরমিযী ৫০ ১নং)

যাকাত আদায় ক'রে ইসলাম মুসলিমকে তার মালের পবিত্রতা ও বৃদ্ধি সাধন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
অর্থের ব্যাপারে যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তার জন্য ইসলাম ঋণের সুন্দর বিধান দিয়েছে।
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا تَدَايَنتُم بِدَيْنِ إِلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى فَاكْتُبُوهُ وَلْيَكْتُب بَّيْنَكُمْ كَاتِبٌ بالْعَدْلِ وَلَا يَأْبَ كَاتِبٌ أَنْ يَكْتُبَ كَمَا عَلَّمَهُ اللهُ فَلْيَكْتُبْ وَلْيُمْلِلِ الَّذِي عَلَيْهِ الْحَقُّ وَلْيَتَّقِ اللَّهَ رَبَّهُ وَلَا يَبْخَسُ مِنْهُ شَيْئًا فَإِن كَانَ الَّذِي عَلَيْهِ الْحَقُّ سَفِيهَا أَوْ ضَعِيفًا أَوْ لَا يَسْتَطِيعُ أَن يُمِلَّ هُوَ فَلْيُمْلِلْ وَلِيُّهُ بِالْعَدْلِ وَاسْتَشْهِدُوا شَهِيدَيْن من رِّجَالِكُمْ فَإِن لَّمْ يَكُونَا رَجُلَيْنِ فَرَجُلٌ وَامْرَأَتَانِ مِمَّن تَرْضَوْنَ مِنَ الشُّهَدَاء أَن تَضِلَّ إِحْدَاهُمَا فَتُذَكِّرَ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَى وَلَا يَأْبَ الشُّهَدَاء إِذَا مَا دُعُوا وَلَا تَسْأَمُوا أَن تَكْتُبُوهُ صَغِيرًا أو كبيرًا إِلَى أَجَلِهِ ذَلِكُمْ أَقْسَطُ عِندَ اللَّهِ وَأَقُومُ لِلشَّهَادَةِ وَأَدْنَى أَلا تَرْتَابُوا إِلا أَن تَكُونَ تِجَارَةً حَاضِرَةً تُدِيرُونَهَا بَيْنَكُمْ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَلا تَكْتُبُوهَا وَأَشْهِدُوا إِذَا تَبَايَعْتُمْ وَلَا يُضَارَّ كَاتِبٌ وَلَا شَهِيدٌ وَإِن تَفْعَلُوا فَإِنَّهُ فُسُوقٌ بِكُمْ وَاتَّقُوا اللهَ وَيُعَلِّمُكُمُ اللهُ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} (۲۸۲) سورة البقرة
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পরস্পর ঋণ দেওয়া-নেওয়া কর, তখন তা লিখে নাও। আর তোমাদের মধ্যে কোন লেখক যেন ন্যায়ভাবে তা লিখে দেয় এবং আল্লাহ যেরূপ শিক্ষা দিয়েছেন---সেইরূপ লিখতে কোন লেখক যেন অস্বীকার না করে। অতএব তার লিখে দেওয়াই উচিত। আর ঋণগ্রহীতা যেন লেখার বিষয় বলে দিয়ে লিখিয়ে নেয় এবং সে যেন স্বীয় প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করে এবং লেখার মধ্যে বিন্দুমাত্র কম-বেশী না করে। অনন্তর ঋণগ্রহীতা যদি নির্বোধ হয় কিংবা দুর্বল হয় অথবা নিজে লেখার বিষয়বস্তু বলে দিতে অক্ষম হয়, তাহলে তার অভিভাবক যেন ন্যায়সঙ্গতভাবে তা লেখায়। আর তোমাদের মধ্যে দু'জন পুরুষকে (এই আদান-প্রদানের) সাক্ষী কর। যদি দু'জন পুরুষ না পাও, তাহলে সাক্ষীদের মধ্যে যাদেরকে তোমরা পছন্দ কর তাদের মধ্য হতে একজন পুরুষ ও দু'জন মহিলাকে সাক্ষী কর; যাতে মহিলাদ্বয়ের একজন ভুলে গেলে যেন অন্য জন তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। আর যখন (সাক্ষ্য দিতে) ডাকা হয়, তখন যেন সাক্ষীরা অস্বীকার না করে। (ঋণ) ছোট হোক, বড় হোক, তোমরা মেয়াদসহ লিখতে কোনরূপ অলসতা করো না। এ লেখা আল্লাহর নিকট ন্যায্যতর ও সাক্ষ্য (প্রমাণের) জন্য দৃঢ়তর এবং তোমাদের মধ্যে সন্দেহ উদ্রেক না হওয়ার অধিক নিকটতর। কিন্তু তোমরা পরস্পরে ব্যবসায় যে নগদ আদান-প্রদান কর, তা না লিখলে কোন দোষ নেই। তোমরা যখন পরস্পর বেচা-কেনা কর, তখন সাক্ষী রাখ। আর কোন লেখক ও সাক্ষী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। যদি তোমরা তাদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত কর, তাহলে তা হবে তোমাদের পক্ষে পাপের বিষয়। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আল্লাহ তোমাদেরকে শিক্ষা দেন। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে মহাজ্ঞানী।" (বাক্বারাহঃ ২৮২)

মুসলিমকে ঋণদান করতে উদ্বুদ্ধ করেছে এবং তাতে অর্ধেক অর্থ সাদকা করার সওয়াব নিহিত রেখেছে। অপর দিকে ঋণ পরিশোধ করার ব্যাপারে টাল-বাহানা করতে নিষেধ করেছে। মহানবী বলেছেন,
أَيُّمَا رَجُل يَدَيَّنُ دَيْنَا وَهُوَ مُجْمِعُ أَنْ لَا يُوَفِّيَهُ إِيَّاهُ لَقِيَ اللَّهُ سَارِقًا)).
"যে ব্যক্তি ঋণ করার পর তার মনে পাকা এই সংকল্প রাখে যে, সে তা পরিশোধ করবে না, সে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে 'চোর' হয়ে সাক্ষাৎ করবে।" (ইবনে মাজাহ ২৪১০ নং)

মহানবী সেই ব্যক্তির জানাযা পড়তেন না, যে ঋণ পরিশোধ না ক'রে মারা যেত। তিনি বলতেন,
يُغْفَرُ لِلشَّهِيدِ كُلُّ ذَنْبٍ إِلَّا الدَّيْنَ ..
"ঋণ পরিশোধ না করার পাপ ছাড়া শহীদের সমস্ত পাপকে মাফ করে দেওয়া হবে।" (মুসলিম ৪৯৯১, মিশকাত ২৯১২ নং)

পরের হক যাতে না মারা যায়, তার জন্য যথেষ্ট সতর্ক করেছে ইসলাম। ইহকালে পরিশোধ না ক'রে মারা গেলে পরকালে তাকে পরিশোধ করতে হবে। মহানবী বলেছেন,
مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ دِينَارٌ أَوْ دِرْهَمٌ قُضِيَ مِنْ حَسَنَاتِهِ لَيْسَ ثُمَّ دِينَارٌ وَلَا دِرْهَمْ)).
"যে ব্যক্তি একটি দীনার অথবা দিরহাম ঋণ রেখে মারা যাবে, সে ব্যক্তিকে (কিয়ামতে) নিজের নেকী থেকে পরিশোধ করতে হবে। কারণ, সেখানে কোন দীনার নেই, কোন দিরহামও নেই।" (ইবনে মাজাহ ২৪১৪, সহীহুল জামে' ৩৪১৮, ৬৫৪৬ নং)

“(সেখানে) যালেমের নেক আমল থাকলে তার যুলুম অনুপাতে নেকী তার নিকট থেকে কেটে নিয়ে (মযলুমকে দেওয়া) হবে। পক্ষান্তরে যদি তার নেকী না থাকে (অথবা নিঃশেষ হয়ে যায়) তাহলে তার (মযলুম) প্রতিবাদীর গোনাহ নিয়ে তার ঘাড়ে চাপানো হবে।” (বুখারী ২৪৪৯, ৬৫৩৪, তিরমিযী ২৪১৯নং)

ইসলামের বিধান হল, মজুরের হক নষ্ট করো না। মহানবী-এর নির্দেশ,
أعْطِ الأجيرَ أَجْرَهُ قَبْلَ أَنْ يَجِفَّ عَرَقُهُ ..
"মজুরকে তার ঘাম শুকাবার পূর্বে তোমরা তার মজুরী দিয়ে দাও।" (বাইহাক্বী ১১৯৯৩, ইবনে মাজাহ ২৪৪৩, ইবনে উমার কর্তৃক, সহীহুল জামে' ১০৫৫নং)

ইসলামের বিধান হল, বিবাহিত বউকে তার নির্ধারিত মোহর প্রদান কর। বাকী রেখে দেনমোহর পরিশোধ না করলে স্ত্রীর অধিকার নষ্ট হয়। এ মহা অপরাধে নষ্ট হয় স্ত্রীধন। আর মহানবী বলেছেন,
إِنَّ أَعْظَمَ الذُّنُوبِ عِنْدَ اللَّهِ رَجُلٌ تَزَوَّجَ امْرَأَةً فَلَمَّا قَضَى حَاجَتَهُ مِنْهَا طَلَّقَهَا وَذَهَبَ بِمَهْرِهَا وَرَجُلٌ اسْتَعْمَلَ رَجُلاً فَذَهَبَ بِأَجْرَتِهِ وَآخَرُ يَقْتُلُ دَابَّةً عَبَثًا ..
"আল্লাহর নিকট সবচাইতে বড় পাপী সেই ব্যক্তি যে এক মহিলাকে বিবাহ করার পর তার নিকট থেকে তার প্রয়োজন মিটিয়ে নিয়ে তাকে তালাক দেয় এবং তার মোহর আত্মসাৎ করে। দ্বিতীয় হল সেই ব্যক্তি, যে একটি লোককে কাজে খাটিয়ে তার মজুরী আত্মসাৎ করে। আর তৃতীয় সেই ব্যক্তি যে খামোখা প্রাণী হত্যা করে।" (হাকেম ২৭৪৩, বাইহাকী ১৪৭৮-১, সহীহুল জামে' ১৫৬৭ নং)

স্বামীর মাল নষ্ট করার ব্যাপারেও স্ত্রীকে সতর্ক করা হয়েছে। মহানবী বলেছেন,
لا تنفق امْرَأَة من بيت زوجها إلا بإذن زوجها. قيل : يَا رَسُولَ اللَّهُ وَلَا الطَّعَامِ ؟ قَالَ : ((ذاك أفضل أَمْوَالنَّا)).
"স্বামীর অনুমতি ছাড়া কোন স্ত্রী যেন স্বামীর ঘরের কিছু খরচ না করে।” বলা হল, 'হে আল্লাহর রসূল! খাবারও না?' তিনি বললেন, "তা তো আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ মাল।" (তিরমিযী ৬৭০, ২১২০, সহীহ তারগীব ৯৪৩নং)

হকদারের হক মারা হারাম করেছে ইসলাম। ওয়ারেসদের প্রাপ্য মীরাস বন্টন করার পর মহান আল্লাহ বলেছেন,
تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ (۱۳) وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُّهِينٌ)) (١٤) سورة النساء
অর্থাৎ, এসব আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। এবং যে আল্লাহ ও রসূলের অনুগত হয়ে চলবে আল্লাহ তাকে বেহেস্তে স্থান দান করবেন, যার নীচে নদীসমূহ প্রবাহিত। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে এবং এ মহা সাফল্য। পক্ষান্তরে যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অবাধ্য হবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা লংঘন করবে তিনি তাকে আগুনে নিক্ষেপ করবেন। সেখানে সে চিরকাল থাকবে, আর তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনা-দায়ক শাস্তি। (সূরা নিসা ১৩-১৪ আয়াত)

এতীমদের মাল ভক্ষণ করতে নিষেধ করেছে ইসলাম। মহান আল্লাহ বলেছেন,
((وَلَا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ حَتَّى يَبْلُغَ أَشُدَّهُ)) (٣٤) سورة الإسراء
অর্থাৎ, পিতৃহীন বয়োপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সদুদ্দেশ্যে ছাড়া তার সম্পত্তির নিকটবর্তী হয়ো না। (সূরা ইসরা ৩৪ আয়াত)

وَآتُوا الْيَتَامَى أَمْوَالَهُمْ وَلَا تَتَبَدَّلُوا الْخَبِيثَ بِالطَّيِّبِ وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَهُمْ إِلَى أَمْوَالِكُمْ إِنَّهُ كانَ حُوبًا كبيرًا)) (۲) سورة النساء
অর্থাৎ, আর তোমরা পিতৃহীনকে তাদের ধন-সম্পদ সমর্পণ কর এবং উৎকৃষ্টের সাথে নিকৃষ্ট বদল করো না, এবং তোমাদের সম্পদের সাথে তাদের সম্পদকে মিশ্রিত করে গ্রাস করো না; নিশ্চয় তা মহাপাপ। (সূরা নিসা ২ আয়াত)

((إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَارًا وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيرًا))
"নিশ্চয় যারা পিতৃহীনদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে, তারা তাদের উদরে অগ্নি ভক্ষণ করে। আর তারা জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে।" (নিসা ৯-১০ আয়াত)

বলা বাহুল্য, এতীমের মাল ভক্ষণ করা একটি সর্বনাশী অপরাধ। যে পাপের জন্য শাস্তি রয়েছে জাহান্নামে। মহানবী ﷺ বলেছেন,
((اللَّهُمَّ إِنِّي أُحَرِّجُ حَقَّ الضَّعِيفَيْنِ الْيَتِيمِ وَالْمَرْأَةِ)).
"হে আল্লাহ! আমি দুই দুর্বল; এতীম ও নারীর অধিকার নষ্ট হওয়ার ব্যাপারে পাপ হওয়ার কথা ঘোষণা করছি।" (আহমাদ ৯৬৬৬, ইবনে মাজাহ ৩৬৭৮-নং)

মাল মহান আল্লাহর দেওয়া এক নিয়ামত। তার সংরক্ষা ও হিফাযত জরুরী। তিনি অযথা মাল নষ্ট করতে নিষেধ করেছেন। মহানবী ﷺ বলেছেন,
((إِنَّ اللَّهَ كَرِهَ لَكُمْ ثَلَاثًا: قِيلَ وَقَالَ وَإِضَاعَةَ الْمَالِ وَكَثْرَةَ السُّؤال)).
"আল্লাহ তোমাদের জন্য হারাম করেছেন, (ঘৃণিত করেছেন এবং আমি নিষিদ্ধ করছি) তিনটি কর্ম: জনরবে থাকা, সম্পদ অপচয় করা ও অধিক প্রশ্ন করা।" (বুখারী ১৪৭৭, মুসলিম ৪৫৮০, মিশকাত ৪৯১৫)

মহান প্রতিপালক অপব্যয় ও অপচয় করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন,
{يَا بَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِندَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ) (۳۱) سورة الأعراف
"হে আদমের বংশধরগণ! তোমরা প্রত্যেক নামাযের সময় সুন্দর পরিচ্ছদ পরিধান কর। পানাহার কর, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপচয়কারীদেরকে পছন্দ করেন না।" (আ'রাফঃ ৩১)

وَآتِ ذَا الْقُرْبَى حَقَّهُ وَالْمِسْكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَلَا تُبَذِّرْ تَبْذِيرًا (٢٦) إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِرَبِّهِ كَفُورًا} (۲۷) سورة الإسراء
"তুমি আত্মীয়-স্বজনকে তার প্রাপ্য প্রদান কর এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। আর কিছুতেই অপব্যয় করো না। নিশ্চয় যারা অপব্যয় করে, তারা শয়তানের ভাই। আর শয়তান তার প্রতিপালকের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।" (বানী ইস্রাঈল: ২৬-২৭)

নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় তিনি পাগল ও শিশু প্রভৃতি নির্বোধদের হাতে মাল দিতে নিষেধ ক'রে বলেছেন,
{ وَلَا تُؤْتُوا السُّفَهَاء أَمْوَالَكُمُ الَّتِي جَعَلَ اللهُ لَكُمْ قِيَاماً وَارْزُقُوهُمْ فِيهَا وَاكْسُوهُمْ وَقُولُوا لَهُمْ قَوْلاً مَّعْرُوفًا} (٥) سورة النساء
"আর আল্লাহ তোমাদের সম্পদকে---যা তোমাদের উপজীবিকা (জীবনযাত্রার অবলম্বন) করেছেন---তা নির্বোধদের (হাতে) অর্পণ করো না। তা হতে তাদের খাওয়া-পরার ব্যবস্থা কর এবং তাদের সাথে মিষ্ট কথা বল।" (নিসাঃ ৫)

কুড়িয়ে পাওয়া মাল যাতে নষ্ট না হয় অথবা কেউ কুক্ষিগত না করে, তার জন্য মহানবী বলেছেন,
((ضَالَّةُ الْمُؤْمِن حَرْقُ النَّارِ)).
"মুমিনের হারিয়ে যাওয়া জিনিস দোযখের শিখা স্বরূপ।" (ত্বাবারানী ২০৬৯, বাইহাক্বী ১১৮৫১, সিলসিলাহ সহীহাহ ৬২০নং)

لَا يَأْوى الضَّالَّةَ إِلَّا ضَالُّ ..
"ভ্রষ্ট ছাড়া অন্য কেউ (এলান উদ্দেশ্য বিনা) ভ্রষ্ট পশুকে জায়গা দেয় না।" (আহমাদ ১৯১৪৮, আবু দাউদ ১৭২২নং)

তোলাবাজি করা বা মস্তানি ক'রে অর্থ আদায় করা ইসলামে বৈধ নয়। মহানবী বলেছেন,
((إِنَّ صَاحِبَ الْمَكْسِ فِي النَّارِ).
"নিশ্চয়ই চাঁদাবাজ জাহান্নামে যাবে।" (আহমাদ ১৭০০১, তাবারানী ৪৩৬৬, সিলসিলাহ সহীহাহ ৩৪০৫নং)

যাতে জনসাধারণ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তার জন্য ইসলাম খাদ্যপণ্য গুদামজাত ক'রে রাখতে নিষেধ করেছে। মহানবী বলেছেন,
لَا يَحْتَكِرُ إِلَّا خَاطِيُّ ..
"পাপী ছাড়া অন্য কেউ (দুষ্প্রাপ্যতার সময়) খাদ্য গুদামজাত করে না।" (মুসলিম ৪২০৭, আবু দাউদ ৩৪৪৭, তিরমিযী ১২৬৭, ইবনে মাজাহ ২১৫৪নং)

পরের সংরক্ষিত মাল গোপনে গ্রহণ করাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার সাথে সাথে তার শাস্তিও ঘোষণা করেছে। মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاء بِمَا كَسَبَا نَكَالاً مِّنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ }
"চোর এবং চোরনীর হাত কেটে ফেলো, এ তাদের কৃতকর্মের ফল এবং আল্লাহর তরফ হতে শাস্তি। বস্তুতঃ আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।" (মায়িদাহঃ ৩৮)

জিনিস ধার নিয়ে তা অস্বীকার করা এক প্রকার চুরি। সুতরাং তারও অনুরূপ শাস্তির বিধান রয়েছে ইসলামে। আর সে বিধান প্রয়োগে প্রভাবশালী ও সাধারণ অথবা সবল ও দুর্বল জনগণের মাঝে কোন পার্থক্য নেই।
আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) কর্তৃক বর্ণিত, মহানবী-এর যুগে (এক উচ্চবংশীয়া) মাখযুমী মহিলা লোকের কাছে জিনিস ধার নিত, অতঃপর তা অস্বীকার করত। এই শ্রেণীর চুরি করার ফলে ধরা পড়লে নবী তার হাত কাটার আদেশ দিলেন। তাকে নিয়ে তার আত্মীয়-স্বজন সহ কুরাইশ বংশের লোকেরা বড় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ল। (তার হাত যাতে কাটা না হয় সেই চেষ্টায়) তারা বলাবলি করল, 'ওর ব্যাপারে আল্লাহর রসূল-এর সঙ্গে কে কথা বলবে?' পরিশেষে তারা বলল, 'আল্লাহর রসূল-এর প্রিয়পাত্র উসামাহ বিন যায়দ ছাড়া আর কে (এ ব্যাপারে) তাঁর সাথে কথা বলার দুঃসাহস করবে?' সুতরাং (তাদের অনুরোধ মতে) উসামাহ তাঁর সাথে কথা বললেন (এবং ঐ মহিলার হাত যাতে কাটা না যায় সে ব্যাপারে সুপারিশ করলেন)। এর ফলে আল্লাহর রসূল বললেন, “হে উসামাহ! তুমি কি আল্লাহর দন্ডবিধিসমূহের এক দন্ডবিধি (কায়েম না হওয়ার) ব্যাপারে সুপারিশ করছ?!” অতঃপর তিনি দন্ডায়মান হয়ে ভাষণে বললেন,
أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّمَا أَهْلَكَ الَّذِينَ قَبْلَكُمْ أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ وَإِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الضَّعِيفُ أَقَامُوا عَلَيْهِ الْحَدَّ وَايْمُ اللَّهِ لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَرَقَتْ لَقَطَعْتُ يدها ».
"তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতরা এ জন্যই ধ্বংস হয়েছিল যে, তাদের মধ্যে কোন উচ্চবংশীয় (বা ধনী) লোক চুরি করলে তারা তাকে (দন্ড না দিয়ে) ছেড়ে দিত। আর কোন (নিম্নবংশীয়, গরীব বা) দুর্বল লোক চুরি করলে তারা তার উপর দন্ডবিধি প্রয়োগ করত। পক্ষান্তরে আল্লাহর শপথ! মুহাম্মাদের কন্যা ফাতেমা যদি চুরি করত, তাহলে আমি তারও হাত কেটে দিতাম।" (বুখারী ৩৪৭৫, ৬৭৮৮, মুসলিম ৪৫০৫-৪৫০৭নং, আসহাবে সুনান)

প্রকাশ্যে ছিন্তাই বা ডাকাতি করারও নিন্দা করা হয়েছে ইসলামে। মহানবী বলেছেন,
إِنَّ النُّهْبَةَ لَيْسَتْ بِأَحَلَّ مِنَ الْمَيْتَةِ ». أَوْ إِنَّ الْمَيْتَةَ لَيْسَتْ بِأَحَلَّ مِنَ النُّهْبَةِ ..
"ছিনিয়ে নেওয়া মাল মৃত প্রাণী অপেক্ষা অধিক পবিত্র নয়।" (আবু দাউদ ২৭০৭, সহীহুল জামে' ১৯৮-৬নং)

মানুষ পরিশ্রম ক'রে উপার্জন করে, কিন্তু উক্ত শ্রেণীর অপরাধীরা সেই উপার্জিত অর্থ চুরি, ছিন্তাই অথবা ডাকাতি ক'রে খায়। 'কেউ খাবে কেউ খাবে না, তা হবে না তা হবে না।' এ কথা অবশ্যই ঠিক। তা বলে অন্যায়ভাবে পরের ধন ছিনিয়ে খাওয়া আদৌ ঠিক নয়। যারা পরিশ্রমবিমুখ, তারা খাবার পাওয়ার উপযুক্ত নয়। 'নো ওয়ার্ক, নো ব্রেড' শ্লোগানকেও ইসলাম সমর্থন করে। যারা নিঃস্ব, তারা ভিক্ষা করতে পারে, কিন্তু কর্মক্ষম ব্যক্তির ভিক্ষা করা বৈধ নয়। ইসলামী অর্থনীতিতে দরিদ্রদের 'রোটী, কাপড়া আওর মাকান'-এর ব্যবস্থা আছে। তাতে কোন প্রকার যুলুম করার অনুমতি নেই।

পরের জমি জবরদখল করার শাস্তিও কঠিন ভয়ানক। মহানবী বলেছেন,
أَيُّمَا رَجُلٍ ظَلَمَ شِبْرًا مِنْ الْأَرْضِ كَلَّفَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يَحْفِرَهُ حَتَّى يَبْلُغَ آخِرَ سَبْعِ أَرَضِينَ ثُمَّ يُطَوَّقَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ)).
"যে ব্যক্তি অর্ধহাত পরিমাণও জমি জবর-দখল (আত্মসাৎ) করবে, সে ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন ঐ জমির সাত তবক পর্যন্ত খুঁড়তে আদেশ করবেন। অতঃপর তা তার গলায় বেড়িস্বরূপ ঝুলিয়ে দেওয়া হবে; যতক্ষণ পর্যন্ত না সমস্ত লোকেদের বিচার-নিষ্পত্তি শেষ হয়েছে (ততক্ষণ পর্যন্ত ঐ সাত তবক আধ হাত জমি তার গলায় লটকানো থাকবে)!" (আহমাদ ১৭৫৭১, ত্বাবারানীর কাবীর ১৮১৪৬, ইবনে হিব্বান ৫১৪২, সহীহুল জামে' ২৭২২নং)

ধোঁকা-ধাপ্পা দিয়ে চুরি করাও কম পাপের নয়। লোককে ঠকিয়ে খাওয়া এবং ফাঁকি দিয়ে অর্থোপার্জন করলে সে কি সভ্য সমাজের সদস্য হতে পারে, নাকি চির সুন্দর ও চির সুখময় স্থান জান্নাতের উপযুক্ত হতে পারে? মহানবী বলেছেন,
((مَنْ غَشَنَا فَلَيْسَ مِنَّا ، وَالْمَكْرُ وَالْخِدَاعُ فِي النَّار).
"যে ব্যক্তি আমাদেরকে ধোঁকা দেয় সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়। ধোঁকাবাজ ও চালবাজ জাহান্নামে যাবে।" (ত্বাবারানীর কাবীর ১০০৮-৬, ও সাগীর ৭৩৮, ইবনে হিব্বান ৫৬৭, ৫৫৫৯, সহীহুল জামে' ৬৪০৮ নং)

মানুষের অর্থ অন্যায়ভাবে গ্রাস করার অন্যতম পাপপন্থা হল সূদ খাওয়া।
الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا وَأَحَلَّ اللهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا فَمَن جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِّن رَّبِّهِ فَانتَهَى فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ وَمَنْ عَادَ فَأُوْلَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ}
অর্থাৎ, যারা সূদ খায় তারা সেই ব্যক্তির মত দণ্ডায়মান হবে যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা পাগল করে দিয়েছে। তা এ জন্য যে, তারা বলে, 'বেচা-কেনা তো সূদের মতই।' অথচ আল্লাহ বেচা-কেনাকে বৈধ ও সুদকে অবৈধ করেছেন। সুতরাং যার কাছে তার প্রতিপালকের উপদেশ এসেছে, তারপর সে বিরত হয়েছে, অতীতে যা হয়েছে তা তারই এবং তার ব্যাপার আল্লাহর অধিকারভুক্ত। আর যারা পুনরায় (সূদ) নিতে আরম্ভ করবে, তারাই দোযখবাসী। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দানকে বৃদ্ধি করেন। আল্লাহ কোন অকৃতজ্ঞ পাপীকে ভালোবাসেন না। (সূরা বাক্বারাহ ২৭৫-২৭৬ আয়াত)

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ (۲۷۸) فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِّنَ اللهِ وَرَسُولِهِ وَإِن تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُؤُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ} (۲۷৯) سورة البقرة
অর্থাৎ, হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং বকেয়া সূদ ছেড়ে দাও; যদি তোমরা মু'মিন হও। যদি তোমরা না ছাড় তাহলে জেনে রাখ যে, এ হল আল্লাহ ও তার রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার শামিল। কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই। তোমরা অত্যাচারী হবে না এবং অত্যাচারিতও না। (ঐ ২৭৮-২৭৯ আয়াত)

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُّضَاعَفَةً وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ (۱۳۰) وَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ } (۱۳۱) سورة آل عمران
অর্থাৎ, হে ঈমানদারগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধিহারে সুদ খেয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় কর, তবেই তোমরা সফলকাম হতে পারবে। আর তোমরা সেই আগুনকে ভয় কর, যা কাফেরদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। (সূরা আ-লি ইমরান ১৩০ আয়াত)

সুদ খাওয়া একটি সর্বনাশী মহাপাপ। মহানবী সুদখোর ও সূদের সকল সহযোগীকে অভিশাপ করেছেন। জাবের হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং তার উপর সাক্ষীদ্বয়কে অভিশাপ করেছেন, আর বলেছেন, "ওরা সকলেই সমান।" (মুসলিম ৪১৭৭নং)

সুদ খাওয়া এতই কদর্য অপরাধ যে, তা চরম অন্যায় এবং চরম অশ্লীল। মহানবী বলেছেন,
(( دِرْهَم رِبًا يَأْكُلُهُ الرَّجُلُ وَهُوَ يَعْلَمُ أَشَدُّ مِنْ سِتَّةٍ وَثَلَاثِينَ زَنْيَةً)).
"জেনেশুনে মানুষের মাত্র এক দিরহাম খাওয়া সূদ আল্লাহর নিকটে ৩৬ বার ব্যভিচার অপেক্ষা অধিক গুরুতর।" (আহমাদ ২১৯৫৭, ত্বাবারানীর আউসাত্ব ২৬৮২, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৫৫১৭, দারাকুত্বনী ৩/১৬, সহীহুল জামে' ৩৩৭৫নং)

বরং সবচেয়ে বড় অশ্লীল অপেক্ষাও বেশি বড় পাপ এই শোষণ অপরাধে। মহানবী বলেছেন,
الرِّبَا سَبْعُونَ حُوبًا ، أَيْسَرُهَا أَنْ يَنْكِحَ الرَّجُلُ أُمَّهُ.
"সুদ (পাপের দিক থেকে) ৭০ প্রকার। এর মধ্যে সবচেয়ে ছোট (পাপের) সুদ হল মায়ের সঙ্গে ব্যভিচার করা! (অর্থাৎ সুদ খাওয়ার গোনাহ মায়ের সাথে ব্যভিচার করার চেয়ে ৭০ গুণ বেশী।) (ইবনে মাজাহ ২২৭৪ নং, হাকেম ২/৩৭, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৫৫২০-৫৫২২, ইবনে আবী শাইবাহ ২২০০৫নং)
সুতরাং 'লা হাউলা অলা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।'

জুযার অর্থ হারাম। জুয়াতে মানুষ সর্বশান্ত হয়। তাই জুয়া ইসলামে বৈধ নয়। মহান আল্লাহ বলেছেন,
((يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالأَنصَابُ وَالأَزْلامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ (۹۰) إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَن يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاء فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَن ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنِ الصَّلَاةِ فَهَلْ أَنتُم مُّنْتَهُونَ (۹۱) وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَاحْذَرُوا فَإِن تَوَلَّيْتُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّمَا عَلَى رَسُولِنَا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ)) (۹۲)
অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্যনির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু শয়তানের কাজ, সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। শয়তান তো মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ও নামাযে বাধা দিতে চায়! অতএব তোমরা কি নিবৃত্ত হবে না? আল্লাহর অনুসরণ কর ও রসূলের অনুসরণ কর এবং সতর্ক হও, যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও তবে জেনে রাখ যে, স্পষ্ট প্রচারই আমার রসূলের কর্তব্য। (সূরা মাইদাহ ৯০-৯২ আয়াত)

ইসলামের বিধানে ঘুস নেওয়া-দেওয়া হারাম। আর্থিক এই অপরাধের ফলে অর্থ তো ব্যয় হয়ই, অনেক হকদারের হক নষ্ট হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন,
{وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُواْ بِهَا إِلَى الْحُكَامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقًا مِّنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالإِثْمِ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ} (۱۸۸) سورة البقرة
অর্থাৎ, তোমরা একে অন্যের ধন অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং লোকেদের ধন-সম্পদের কিয়দংশ জেনে-শুনে অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে বিচারকগণকে ঘুস দিয়ো না। (সূরা বাক্বারাহ ১৮৮ আয়াত)

আব্দুল্লাহ বিন আম্র বলেন, 'আল্লাহর রসূল ঘুষখোর, ঘুষদাতা (উভয়কেই) অভিশাপ করেছেন।' (আবু দাউদ ৩৫৮-২, তিরমিযী ১৩৩৭, ইবনে মাজাহ ২৩১৩, ইবনে হিব্বান, হাকেম ৪/১০২-১০৩, সহী আবু দাউদ ৩০৫৫নং)

ইসলামের বিধানে বিবাহের সময় মহিলা মোহর পাবে, পুরুষ নয়। তাই পণ বা যৌতুক নেওয়া-দেওয়া একটি মহা অপরাধ।
১। ফল-ফসল পাকার আগে এবং দুর্যোগমুক্ত হওয়ার পূর্বে ক্রয়-বিক্রয় হারাম। (বুখারী, মুসলিম প্রমুখ)
২। বাগান বা ক্ষেতের কয়েক বছরের ফল-ফসলকে বিক্রয় করা হারাম। (মুসলিম ১৫৩৬নং) যেহেতু পূর্বের তুলনায় এই ব্যবসাতে অধিক ধোঁকার আশঙ্কা আছে।
৩। এক পশুর বিনিময়ে অপর পশু ধারে ক্রয়-বিক্রয় বৈধ নয়। অবশ্য নগদ নগদ একটির বিনিময়ে দুটি ক্রয়-বিক্রয়ও বৈধ। (সিলসিলাহ সহীহাহ ২৪১৬নং)
৪। পশুর গর্ভস্থিত ভ্রূণের বিনিময়ে পশু ক্রয়-বিক্রয় বৈধ নয়। (বুখারী, মুসলিম ১৫১৪নং)
৫। জীবিত পশুর বিনিময়ে গোশ্ত বিক্রয় করা বৈধ নয়। (সহীহুল জামে' ৬৯৩৬নং)
৬। খেজুরের বিনিময়ে গাছপাকা খেজুর, কিশমিশের বিনিময়ে আঙ্গুর, পুরাতন গমের বিনিময়ে নতুন গম ক্রয়-বিক্রয় বৈধ নয়। (বুখারী, মুসলিম ১৫৪২নং) কারণ, তাতে ধোকা ও সূদের গন্ধ আছে।
৭। নির্দিষ্ট পরিমাণ খেজুরের পরিবর্তে এক রাশ খেজুর ক্রয়-বিক্রয় হারাম; যার পরিমাণ অজানা। (আহমাদ, মুসলিম, নাসাঈ, সহীহুল জামে' ৩৯৩৪নং)
৮। এক স্তূপ খাদ্যের বিনিময়ে এক স্তূপ খাদ্য অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্যের বিনিময়ে এক স্তূপ খাদ্য ক্রয়-বিক্রয় বৈধ নয়। (নাসাঈ, সহীহুল জামে' ৭১৯৮নং) যেহেতু তাতেও ধোঁকার আশঙ্কা বর্তমান।
৯। কসম খেয়ে মাল বিক্রয় বৈধ নয়। কারণ তাতে ক্রেতা ধোঁকা খেয়ে থাকে। (মুসলিম ৪২১০নং)
১০। দালালি ক'রে পণ্যের দাম বৃদ্ধি করা এবং তা ক্রয়ের ইচ্ছা না রাখায় ক্রেতা ধোঁকা খায়। তাই তা বৈধ নয়। (বুখারী ২১৫৮, ২২৭৪, মুসলিম ৩৯০০নং)

দাঁড়ি মেরে ব্যবসা হারাম। তাতেও ধোঁকা দিয়ে মানুষের অর্থ অন্যায়ভাবে গ্রাস করা হয়। তাই ইসলামের বিধান হল,
{ وَأَوْفُوا الْكَيْلَ إِذَا كِلْتُمْ وَزِنُوا بِالقِسْطَاسِ الْمُسْتَقِيمِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً}
অর্থাৎ, মেপে দেওয়ার সময় পূর্ণমাপে দাও এবং ওজন কর সঠিক দাঁড়িপাল্লায়, এটাই উত্তম ও পরিণামে উৎকৃষ্ট। (সূরা ইসরা ৩৫ আয়াত)

মহান আল্লাহ এ পাপের ব্যাপারে মানুষকে সতর্ক ক'রে বলেছেন,
{ وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ الَّذِينَ إِذَا اكْتَالُوا عَلَى النَّاسِ يَسْتَوْفُونَ وَإِذَا كَالُوهُمْ أَوْ وَزَنُوهُمْ يُخْسِرُونَ أَلا يَظُنُّ أُولَئِكَ أَنَّهُمْ مَبْعُوثُونَ لِيَوْمٍ عَظِيمٍ يَوْمَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ }
অর্থাৎ, ধ্বংস তাদের জন্য, যারা মাপে কম দেয়, যারা লোকের নিকট হতে মেপে নেওয়ার সময় পূর্ণ মাত্রায় গ্রহণ করে এবং যখন তাদের জন্য মেপে অথবা ওজন করে দেয় তখন কম দেয়। তারা কি চিন্তা করে না যে, তাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে। এক মহা দিবসে; যেদিন দাঁড়াবে সমস্ত মানুষ বিশ্ব-জাহানের প্রতিপালকের সম্মুখে। (মুত্বাফফিফীন ১-৬ আয়াত)

আল্লাহর রসূল বলেন, "---- যে জাতি দাঁড়ি-মারা শুরু করবে, সে জাতি ফসল থেকে বঞ্চিত হবে এবং দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত হবে।" (ত্বাবারানীর কাবীর, সহীহ তারগীব ৭৬০নং)

তিনি আরো বলেন, "--- যে জাতিই মাপ ও ওজনে কম দেবে, সে জাতিই দুর্ভিক্ষ, কঠিন খাদ্য-সংকট এবং শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারের শিকার হবে।" (বাইহাকী, ইবনে মাজাহ ৪০১৯নং, সহীহ তারগীব ৭৫৯নং)

আমানতে খেয়ানত করে উপার্জন বৈধ নয় ইসলামে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
{ إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا } [ النساء : ٥٨ ]
অর্থাৎ, আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, আমানত তার মালিককে প্রত্যর্পণ করবে। (সূরা নিসা ৫৮ আয়াত)

তিনি আরো বলেছেন,
{ فَإِنْ أَمِنَ بَعْضُكُمْ بَعْضاً فَلْيُؤَدِّ الَّذِي اؤْتُمِنَ أَمَانَتَهُ } [ البقرة : ٢٨٣ ]
অর্থাৎ, যদি তোমরা পরস্পর পরস্পরকে বিশ্বাস কর, তাহলে যাকে বিশ্বাস করা হয় (যার কাছে আমানত রাখা হয়) সে যেন (বিশ্বাস বজায় রেখে) আমানত প্রত্যর্পণ করে এবং তার প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করে। (বাক্বারাহ ২৮৩ আয়াত)

মহানবী বলেছেন,
أَنَّ الأَمَانَةَ إِلَى مَنِ ائْتَمَنَكَ وَلَا تَخُنْ مَنْ خَانَكَ ..
"তোমার কাছে যে আমানত রেখেছে, তা তাকে প্রত্যর্পণ কর এবং যে তোমার খেয়ানত করেছে, তার খেয়ানত করো না।" (আবু দাউদ ৩৫৩৭, তিরমিযী ১২৬৪, হাকেম ২২৯৬, ত্বাবারানী, বাইহাক্বী, সিলসিলাহ সহীহাহ ৪২৩নং)

আমানতে খেয়ানত করা মুসলিমের আচরণ হতে পারে না। মহানবী বলেছেন,
( آية المنافق ثلاث : إِذا حَدَّثَ كَذَبَ ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ )). مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
وفي رواية : (( وَإِنْ صَامَ وَصَلَّى وَزَعَمَ أَنَّهُ مُسْلِمٌ )) .
"মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি; (১) কথা বললে মিথ্যা বলে। (২) ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে এবং (৩) তার কাছে আমানত রাখা হলে তার খিয়ানত করে।" (বুখারী ৩৩, মুসলিম ২২০নং)
মুসলিমের অন্য বর্ণনায় আছে, "যদিও সে রোযা রাখে এবং নামায পড়ে ও ধারণা করে যে, সে মুসলিম (তবু সে মুনাফিক)।" (মুসলিম ২২২নং)

আনাস বিন মালেক কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল প্রায় খুতবাতে বলতেন,
لَا إِيمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ وَلَا دِينَ لِمَنْ لَا عَهْدَ لَهُ ..
"যার আমানতদারী নেই, তার ঈমান নেই। আর যে অঙ্গীকার পালন করে না, তার দ্বীন নেই।" (আহমাদ ১২৩৮-২, বাইহাকী ১৩০৬৫, সহীহুল জামে' ৭১৭৯নং)

এইভাবে আরো কত শত পাপ আছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে মানুষের অর্থের উপর, সমাজের অর্থব্যবস্থার উপর। বলা বাহুল্য, ইসলাম এসেছে এই সকল পাপ বন্ধ ক'রে সমাজের অর্থনীতিকে পরিশুদ্ধ ও চাঙ্গা করতে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00