📄 ব্যক্তিত্বে পাপের প্রভাব
যে পাপ করে, তার ব্যক্তিত্বে পাপের ছাপ লাগে। বৈয়াক্তিক জীবনে পাপের প্রভাব প্রকটিত হয়। পাপের কারেন্ট শাস্তি তার জীবনে অভিশাপ ডেকে আনে। পাপের প্রতিফল তার জীবনকে দুর্বিষহ ক'রে তোলে।
পাপের ফলে পাপী তার জীবনে কোন ভালোর তওফীক পায় না। অসাফল্য হয় তার নিত্য সঙ্গী। সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সে ব্যর্থ হয়। হক তার জীবন থেকে লুকিয়ে বেড়ায়। তার অন্তরাত্মা কলুষিত হয়। হৃদয় কঠোর হয়ে যায়। ভালো কাজে ও আল্লাহর যিকরে সর্বদা আলস্য সৃষ্টি হয়। জীবনের অনেক মূল্যবান সময় অযথা নষ্ট হয়ে যায়। সৃষ্টির প্রতি ঘৃণা আসে, তার প্রতিও সৃষ্টির ঘৃণা জন্মে। মহান প্রতিপালকের সাথে তার সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। তাঁর দরবারে তার কোন প্রার্থনা মঞ্জুর হয় না। পাপীর আয়ু ও তার রুযীর বর্কত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
পাপী দ্বীনী ইল্ম থেকে বঞ্চিত হয়। কারণ ইল্ম হল নূর। আর মহান আল্লাহ কোন পাপীকে 'নূর' দান করেন না।
পাপীর পোশাক হয় লাঞ্ছনা, পাওনা হয় বঞ্চনা। প্রাপ্য হয় অপমান। ব্যক্তিত্ব হয় দুর্বল।
পাপ পাপীর শত্রু তৈরী করে। নিজের হৃদয়কে সংকীর্ণ করে। বন্ধু ও সঙ্গী হয় পাপাচারী নানা মানুষ।
পাপী সদা উদ্বিগ্ন থাকে। দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা, নিরাপত্তাহীনতা, অনিশ্চয়তা ও অস্বস্তি বোধ করে। এ বিশাল পৃথিবী যেন তার কাছে সংকীর্ণ মনে হয়।
পাপীর মুখমন্ডল থেকে 'নূর' ও লাবণ্য তুলে নেওয়া হয়। তার চেহারার ঔজ্জ্বল্য বিলীন হয়ে যায়। পাপের কালিমা তার মুখমন্ডলকে কালো ক'রে দেয়। পাপের তাপদাহে তার চেহারা যেন ঝলসে যায়।
ইবনে আব্বাস বলেছেন, 'পাপের কালিমা আছে মুখমন্ডলে, অন্ধকার আছে হৃদয়ে, হাস আছে রুযীতে এবং ঘৃণা আছে সৃষ্টির মনে।' (আল-জাওয়াবুল কাফী ৩৫পৃঃ)
অপরাধীর জীবন সংকীর্ণতাময় হয়। সব কিছুতে যেন 'নাই-নাই, চাই-চাই' লেগে থাকে। 'হাতে দই পাতে দই, তবু বলে কৈ-কৈ।' ধন-জন, গাড়ি-বাড়ি থাকতেও যেন অভাব মেটে না, চাহিদা পূরণ হয় না। ধনী হয়েও দরিদ্রের মতো জীবনযাপন করে। বাহ্যতঃ সুখী হলেও এবং সুখের সমূহ সামগ্রী থাকলেও মনের ভিতরে সুখ-পাখী বাসা বাঁধে না। যেহেতু সে অপরাধী এবং আল্লাহর বিধান থেকে বহু ক্রোশ দূরে অবস্থানকারী। অপরাধী চায় না আল্লাহর বিধান, চায় না তা সে মান্য করুক, চায় না তা দেশে প্রতিষ্ঠিত হোক।
এমন লোকের জীবন সম্বন্ধে মহান আল্লাহ বলেছেন, তাদের দুটি শাস্তি রয়েছে, একটি ইহকালে এবং অপরটি পরকালে। তিনি বলেছেন,
{وَمَنْ أَعْرَضَ عَن ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى (١٢٤) قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِي أَعْمَى وَقَدْ كُنتُ بَصِيراً (۱۲۵) قَالَ كَذَلِكَ أَتَتْكَ آيَاتُنَا فَنَسِيتَهَا وَكَذَلِكَ الْيَوْمَ تُنسَى (١٢٦) وَكَذَلِكَ نَجْزِي مَنْ أَسْرَفَ وَلَمْ يُؤْمِنُ بِآيَاتِ رَبِّهِ وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَشَدُّ وأبقى (۱۲۷) سورة طه
"যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে, অবশ্যই তার হবে সংকীর্ণতাময় জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব।' সে বলবে, 'হে আমার প্রতিপালক! কেন আমাকে অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করলে? অথচ আমি তো চক্ষুষ্মান ছিলাম!' তিনি বলবেন, 'তুমি এইরূপ ছিলে, আমার নিদর্শনাবলী তোমার নিকট এসেছিল; কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে। সেইভাবে আজ তোমাকে ভুলে যাওয়া হবে। আর এইভাবেই আমি তাকে প্রতিফল দেব, যে সীমালংঘন করেছে ও তার প্রতিপালকের নিদর্শনে বিশ্বাস স্থাপন করেনি। আর পরকালের শাস্তি অবশ্যই কঠোরতর ও চিরস্থায়ী।' (ত্বা-হাঃ ১২৪-১২৭)
আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে, সে অপরাধী খুব সুখী। পৃথিবীর বুকে তার চাল-চলন দেখে মনে হবে সে খুব আনন্দে আছে। কিন্তু সে নরাধম সুখী নয়। নানা অপরাধ ও পাপাচারের মাধ্যমে তার জীবনযাত্রা নির্বাহ হয়। রাত্রে গান-বাজনা শুনতে শুনতে ও বেশ্যাদের রূপ দেখতে দেখতে ঘুমের কোলে ঢলে পড়ে। সকাল হলে আবার সেই গান-বাজনা ও বেশ্যারা তাকে 'গুড-মর্নিং' বলে। তার মাঝে কি 'আল্লাহ' স্মরণে আসেন? আদৌ না।
কাজের তাগীদে বাইরে যায়। গাড়িতে বসে স্টার্ট দিতেই অটোমেটিক গান বেজে ওঠে। নিজ মুখে মুখাগ্নি সিগারেট ধারণ করে। অতঃপর পথে যেতে যেতে কিশোরী বা তরুণী দেখলে তার দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। নির্নিমেষ তাকিয়ে তার বয়ে যাওয়া রূপ-যৌবনের সুরা পান করে।
অবসর সময়ে মনের মতো বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে আড্ডা জমায়। চলে তাস- কেরামের মহা ঘটা, চলে আরো অন্য কিছু।
অনুরূপ মহিলাও রাত্রিযাপন করে। বাড়ি থেকে বের হয় সাজসজ্জা ক'রে প্রসাধিকা হয়ে। অর্ধনগ্ন দেহে সুবাসিতা হয়ে চাল-চলনে ও অঙ্গ-ভঙ্গিতে যুবকদের দৃষ্টিমন আকৃষ্ট করে। তার সেই আচরণ যেন বলে, 'দেখ আমাকে, আমি কত সুন্দরী!' বাড়ি ফিরে বসে আবার সেই প্রতিমার সম্মুখে।
যদি আপনি ঐ যুবক আর এই যুবতীকে জিজ্ঞাসা করেন, 'কেন তুমি এমন করছ?' তাহলে উত্তরে বলবে, 'জীবনটা বড় একঘেয়ে। নানা সংকীর্ণতার মাঝে একটু আনন্দের উচ্ছ্বাস। নানা দুঃখ ভোলার জন্য একটু সুখের আস্বাদ।'
লক্ষণীয় যে, তারাও সুখী নয়। বরং সুখকে আবিষ্কার করার অপপ্রয়াস মাত্র। মহান সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই সত্য বলেছেন, তাঁর সৃষ্টি, তাঁর নির্দেশনায় না চললে অবশ্যই চলার পথ ভুল হবে, সংকীর্ণ হবে, দুর্গম হবে। তাঁর স্মরণে বিমুখ হলে এই দশা হবে তার দুনিয়াতে। আর আখেরাতে তো যা হবার তাই হবে।
যে নিজে একজন অপরাধী, সে কীভাবে মানুষকে সুখের সন্ধান দিতে পারে। নিজে সুখী নয় বলেই মানুষকে সুখের সন্ধান জানিয়ে পুস্তক রচনা করে। অতঃপর প্রকৃত সুখের দিশা নিজেই না পেয়ে আত্মহত্যা করে। যেহেতু প্রকৃত সুখ ধনসুখে নয়, নারীপ্রেমে নয়, নেতৃত্বে নয়। প্রকৃত সুখ আছে মহান প্রতিপালকের সাথে স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলার ভিতরে।
জিজ্ঞাসা করুন ঐ দুনিয়াদারদেরকে, তারা কি প্রকৃতই সুখী? কখনই না। তারা কি দুনিয়া ও তার সুখসামগ্রী নিয়ে সুখী? কক্ষনই না। মহান প্রতিপালককে বিস্মৃত হয়ে সত্যই কি তারা সুখী? মোটেই না। মহান আল্লাহ বলেছেন,
{الَّذِينَ آمَنُوا وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُم بِذِكْرِ اللهِ أَلا بذكر اللهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ} (۲۸) الرعد
"যারা বিশ্বাস করেছে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের হৃদয় প্রশান্ত হয়। জেনে রাখ, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় প্রশান্ত হয়।" (রা'দঃ ২৮)
পঞ্চ-প্রয়োজনীয় জিনিসের উপর পাপের প্রভাবশালিতা
মানুষের জীবনে পঞ্চপ্রয়োজনীয় জিনিস হল তার ঈমান, জান, জ্ঞান, মান ও ধন। গুরুত্বপূর্ণ উক্ত পাঁচটি জিনিসেই পাপ প্রভাবশালী হয়। কীভাবে প্রভাবিত করে, আমরা আগামীতে তা দেখব।
📄 হৃদয়ের উপর পাপের প্রভাব
পাপ করলে সবার আগে পাপের প্রভাব পড়ে হৃদয়ের উপর। যেহেতু হৃদয়ের চাওয়াতেই পাপ সংঘটিত হয়। সুতরাং পাপ করার ফলে পাপীর হৃদয়ে মোহর মেরে দেওয়া হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন,
{أَوَلَمْ يَهْدِ لِلَّذِينَ يَرِثُونَ الأَرْضِ مِن بَعْدِ أَهْلِهَا أَن لَّوْ نَشَاء أَصَبْنَاهُم بِذُنُوبِهِمْ وَتَطْبَعُ عَلَى قُلُوبِهِمْ فَهُمْ لَا يَسْمَعُونَ} (١٠٠) سورة الأعراف
"কোন দেশের অধিবাসীর ধ্বংসের পর যারা ওর উত্তরাধিকারী হয়েছে, তাদের নিকট এটা কি প্রতীয়মান হয়নি যে, আমি ইচ্ছা করলে তাদের পাপের দরুন তাদেরকে শাস্তি দিতে পারি এবং তাদের হৃদয় মোহর ক'রে দিতে পারি; ফলে তারা শুনবে না।" (আ'রাফঃ ১০০)
ذلِكَ بِأَنَّهُمْ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا فَطُبعَ عَلَى قُلُوبِهِمْ فَهُمْ لَا يَفْقَهُونَ} (۳) المنافقون
"এটা এ জন্য যে, তারা বিশ্বাস করার পর অবিশ্বাস করেছে, ফলে তাদের হৃদয় মোহর ক'রে দেওয়া হয়েছে, সুতরাং তারা বুঝবে না।" (মুনাফিকুনঃ ৩)
জুমআহ ও জামাআত ত্যাগ করা মহাপাপ। সে পাপের কারণে হৃদয় প্রভাবান্বিত হয়। মহানবী বলেছেন,
(( لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ عَنْ وَدْعِهِمُ الجَمَاعَاتِ أَوْ لَيَخْتِمَنَّ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ ثُمَّ لَيَكُونُنَّ مِنَ الغَافِلِينَ )). رواه مسلم
"লোকেরা যেন জামাআত ত্যাগ করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকে; নচেৎ আল্লাহ অবশ্যই তাদের অন্তরে মোহর লাগিয়ে দেবেন, তারপর তারা অবশ্যই উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বে।" (মুসলিম ২০৩৯, নাসাঈ ১৩৭০, ইবনে মাজাহ ৭৯৪নং)
পাপ করার ফলে হৃদয়ে জং লাগে, সে কথা সৃষ্টিকর্তাই বলেছেন,
كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِم مَّا كَانُوا يَكْسِبُونَ} (١٤) سورة المطففين
"না এটা সত্য নয়; বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের হৃদয়ে জং ধরিয়ে দিয়েছে।" (মুত্বাফফিফীন: ১৪)
এর ব্যাখ্যায় মহানবী বলেছেন,
إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا أَخْطَأَ خَطِيئَةً نُكِتَتْ فِي قَلْبِهِ نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ فَإِذَا هُوَ نَزَعَ وَاسْتَغْفَرَ وَتَابَ صُقِلَ قَلْبُهُ وَإِنْ عَادَ زِيدَ فِيهَا حَتَّى تَعْلُوَ قَلْبَهُ وَهُوَ الرَّانُ الَّذِي ذَكَرَ اللَّهُ، كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ} .
অর্থাৎ, মু'মিন যখন কোন পাপ করে, তখন তার হৃদয়ে একটি কালো দাগ পড়ে যায়। অতঃপর সে যদি তওবা করে, পাপ থেকে বিরত হয় এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে, তাহলে তার হৃদয় পরিষ্কার হয়ে যায়। আর যদি আরো বেশি পাপ করে, তাহলে সেই দাগ তার হৃদয়কে গ্রাস ক'রে নেয়। এই হল সেই জং, যার কথা আল্লাহ তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন, "না এটা সত্য নয়; বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের হৃদয়ে জং ধরিয়ে দিয়েছে।" (মুত্বাফফিফীনঃ ১৪, আহমাদ ৭৮৯২, তিরমিযী ৩৩৩৪, সহীহ ইবনে মাজাহ ৩৪২২নং)
বলা বাহুল্য, পাপ যখন বৃদ্ধি পেতে থাকে, তখন পাপীর হৃদয়ে মোহর মারা হয়। তখন সে উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হয়। পাপের পর পাপ, সেটাই হল হৃদয়ের জং। সে জং হৃদয়কে অচল ক'রে ফেলে। তখন হৃদয়ে তালা পড়ে যায়। আবরণ ও পর্দা পড়ে যায়।
এটা পাপীদের কারেন্ট শাস্তি। তারা নিজেদের এখতিয়ারে বক্রপথ অবলম্বন করে, তাই তাদের শাস্তি স্বরূপ তাদের হৃদয়কে বক্র ক'রে দেওয়া হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন,
{فَلَمَّا زَاغُوا أَزَاغَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ} (٥) سورة الصف
"অতঃপর তারা যখন বক্রপথ অবলম্বন করল, তখন আল্লাহ তাদের হৃদয়কে বক্র ক'রে দিলেন। আর আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।" (স্বাফঃ ৫)
পাপ করার ফলে অন্তর মারা যায়। যেমন অধিকাধিক হাসলে অন্তর মারা যায়। সে পাপীর মান-সম্মানের অনুভূতি নষ্ট হয়ে যায়। পাপ-পুণ্যের পার্থক্যজ্ঞান বিলীন হয়ে যায়। তার মন থেকে পাপবোধটুকু দূর হয়ে যায়। তার আচরণ থেকে গাম্ভির্য দূরীভূত হয় এবং চপলতা ও প্রগল্ভতা সেই শূন্যস্থান পূরণ করে।
হৃদরোগের চিকিৎসক আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন,
رَأَيْتُ الذُّنُوبَ تُمِيتُ الْقُلُوبَ وَقَدْ يُورِثُ الذُّلَّ إِدْمَانُهَا
وَتَرْكُ الذُّنُوبِ حَيَاةُ الْقُلُوبِ وَخَيْرٌ لِنَفْسِكَ عِصْيَانُهَا
অর্থাৎ, আমি দেখেছি, পাপরাজি হৃদয়কে বধ করে এবং অভ্যাসগতভাবে আচরিত পাপ লাঞ্ছনা আনে।
পাপ বর্জন করাতে হৃদয়ের জীবন আছে এবং মনের জন্য মঙ্গল আছে তার বিরুদ্ধাচরণ করাতে।
পাপ করলে হৃদয়ের আয়নায় ময়লা জমে অথবা তার পারা খসে পড়ে, ফলে সে আয়নায় চেহারা দেখা যায় না। সে হৃদয় হক-বাতিলের তারতম্য খুঁজে পায় না। সে হৃদয় হয় উদাসীনতার আস্তাবল।
পরন্তু উদাসীনদের দেহ হল তাদের হৃদয়ের কবর। তাদের দেহের মধ্যে হৃদয় হল মৃতের ন্যায়। আরবী কবি বলেছেন,
فَنِسْيَانُ ذِكْرِ اللَّهِ مَوْتُ قُلُوبِهِمُ ... وَأَجْسَامُهُم قَبْلَ القُبُورِ قُبُورُ
অর্থাৎ, আল্লাহর স্মরণ বিস্মৃত হওয়া আসলে তাদের হৃদয়ের মৃত্যু। আর কবরের পূর্বে তাদের দেহগুলিই হল (মৃত হৃদয়ের) কবর।
পাপ হৃদয়কে প্রভাবান্বিত করে, যেমন রোগ-ব্যাধি দেহকে প্রভাবান্বিত করে। পাপই হল হৃদয়ের রোগ। আর সে রোগের প্রতিষেধক ওষুধ হল পাপ বর্জন করা। আল্লাহ-ভক্ত উলামাগণ এ ব্যাপারে একমত যে, কোন হৃদয়কে তার ঈপ্সিত জিনিস প্রদান করা হয় না, যতক্ষণ তা নিজ মওলার সাথে সম্পর্ক কায়েম না করে। নিজ মওলার সাথে সম্পর্ক কায়েম করতে সক্ষম হয় না, যতক্ষণ তা সুস্থ না হয়। সুস্থ হতেও পারে না, যতক্ষণ তা নিজ খেয়ালখুশির বিরুদ্ধাচরণ না করে। তার খেয়ালখুশি হল রোগ। আর তার আরোগ্য হল, তার বিরদ্ধাচরণ। এই রোগ তার মধ্যে আধিপত্য বিস্তার করলে তাকে মরণের কোলে ঠেলে দেয়। এই রোগ হল মজাদার সুস্বাদু খাবারের মতো। যে খাবারে বিষ মিশানো থাকে। মানুষ যখন তা খায়, তখন খুব মজা ও স্বাদ পায়। কিন্তু কিছু পরেই নিজ প্রতিক্রিয়া শুরু করে। মানুষ তাতে সাময়িক সুখ উপভোগ করে। কিন্তু তাতেই থাকে তার বিনাশ। পাপসমূহ অনুরূপই। পাপসমূহ যেন এক-একটা ক্ষত। আর কোন কোন ক্ষত ডেকে আনে মৃত্যু।
وَلَا تَقْرَبِ الْأَمْرَ الحَرَامَ فَإِنَّمَا حَلَاوَتُهُ تَفْنَى وَيَبْقَى مَرِيرُهَا
হারাম জিনিসের নিকটবর্তী হয়ো না। কারণ, তার মিষ্টতা বিলীন হয়ে যাবে। আর থেকে যাবে তার তিক্ততা। (রওযাতুল মুহিব্বীন ৪৪০পৃঃ)
উপদেশ গ্রহণের আগ্রহ নিয়ে ভেবে দেখুন, কোন কাফের ডাক্তার যদি কোন দৈহিক রোগের কারণে আপনাকে ফল খেতে নিষেধ করে, তাহলে নিশ্চয়ই আপনি তার কথা মেনে নেবেন এবং যতদিন আপনি রোগগ্রস্ত থাকবেন, ততদিন ফল ভক্ষণ করবেন না। আপনি ডায়েটের আশ্রয় নেবেন। তাহলে কী ব্যাপার যে, আপনি সেই জিনিস বর্জন করবেন না, যা পরম দয়াময় ও পরম সত্যবাদী মহান স্রষ্টা আপনাকে আপনার হার্দিক ব্যাধির ডায়েটের জন্য ভক্ষণ করতে নিষেধ করেছেন? যে ব্যাধি থেকে আরোগ্য লাভ না করলে আপনি ধ্বংসপ্রাপ্ত হবেন।
কবি বলেছেন,
جِسْمُكَ بِالحِمْيَةِ حَصَّنْتَهُ ... مَخَافَةً مِن أَلَم طَارِي
... وَكَانَ أُولَى بِكَ أَن تَحْتَمِي ... مِنَ الْمَعَاصِي خَشْيَةَ النَّارِ
"আকস্মিক কোন কষ্টের আশঙ্কায় তুমি তোমার দেহকে ডায়েট দিয়ে সুরক্ষিত করেছ। অথচ দোযখের ভয়ে পাপসমূহ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত করা অধিক উচিত ছিল।"
কীভাবে আপনি পাপাচারের পথে চলমান হতে পারেন, অথচ সে পথে ধ্বংস ও বিনাশের কাঁটা বিছানো? সে পথে চলতে আপনার বাধা নেই কেন, যে পথ দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য বড় বিপজ্জনক? সে পথে চলতে আপনার বাধা নেই কেন, যে পথ দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য বড় বিপজ্জনক? সে পথে চলতে আপনার বাধা নেই কেন, যে পথ দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য বড় বিপজ্জনক?
হে সেই রোগী, যে ডায়েট করেন না এবং তিক্ত ঔষধ সেবনে সহনশীলতা প্রদর্শন করেন না, আপনি কি আশু ধ্বংসের আশঙ্কা করেন না? আপনার (হৃদয়ের এ পাপ) রোগ যে আপনাকে বিনাশের দিকে নিয়ে যাবে। আর আপনি তো জানেন, ডায়েট করার সাথে ঔষধ সেবন করলে তবেই রোগ নিরাময় হয়।
বলা বাহুল্য, যে ব্যক্তি শরীয়তের আদেশাজ্ঞা পালনের ঔষধ ব্যবহার করে, নিষিদ্ধ জিনিস হতে দূরে থেকে ডায়েট করে এবং বিশুদ্ধ তওবা দ্বারা হৃদয়কে পরিচ্ছন্ন করে, সে অবশ্যই প্রত্যেক মঙ্গলের দিকে অগ্রসর হয় এবং প্রত্যেক অমঙ্গল থেকে রক্ষা পেতে সক্ষম হয়। (বাদায়েউল ফাওয়ায়েদ ২/৭১২)
পাপাচরণের ফলে আলোময় হৃদয়ে অন্ধকার ছেয়ে আসে। অসদাচরণ হৃদয়ের আলোকে নির্বাপিত করে। অবাধ্যাচরণ হৃদয়কে কালো ক'রে দেয়। আর তখনই যত অমঙ্গলের মেঘ এসে ঘনীভূত হয় হৃদয়ের আকাশে। আর হৃদয় কালো হলে চেহারা কালো হয়। সুতরাং পাপী যখন পুনরুত্থিত হবে, তখনও তার চেহারা রাতের অন্ধকারের মতো কালো হবে। মহান আল্লাহ বলেছেন,
{وَالَّذِينَ كَسَبُوا السَّيِّئَاتِ جَزَاء سَيِّئَةٍ بِمِثْلِهَا وَتَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ مَّا لَهُم مِّنَ اللَّهِ مِنْ عَاصِمٍ كَأَنَّمَا أُغْشِيَتْ وُجُوهُهُمْ قِطَعًا مِّنَ اللَّيْلِ مُظْلِمًا أَوْلَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ}
"যারা মন্দ কাজ করে, তারা তাদের মন্দ কাজের শাস্তি পাবে ওর অনুরূপ মন্দ। আর লাঞ্ছনা তাদেরকে আচ্ছাদিত ক'রে নেবে। আল্লাহ (এর শাস্তি) হতে তাদের রক্ষাকর্তা কেউই থাকবে না। তাদের মুখমন্ডল যেন অন্ধকার রাত্রির আস্তরণে আচ্ছাদিত। এরা হচ্ছে জাহান্নামের অধিবাসী, তারা ওর মধ্যে অনন্তকাল থাকবে।" (ইউনুসঃ ২৭)
সুতরাং বড় বড় পাপের নিরবচ্ছিন্ন পতন যখন হৃদয়ের উপর হয়, তখন হৃদয় প্রভাবান্বিত হয়। যেমন পানির অবিরাম বিন্দু-পতন পাথরের মাঝেও গর্ত সৃষ্টি করে। অথচ পানি কত নরম এবং পাথর কত শক্ত, তা সত্ত্বেও ধীর পানিতে পাথর কাটে।
মহানবী বলেছেন,
((نَزَلَ الْحَجَرُ الْأَسْوَدُ مِنْ الْجَنَّةِ وَهُوَ أَشَدُّ بَيَاضًا مِنْ اللَّبَنِ فَسَوَّدَتْهُ خَطَايَا بَنِي آدَمَ)).
"হাজারে আসওয়াদ জান্নাত থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। তখন তা দুধের চেয়েও সাদা ছিল। পরবর্তীতে আদম সন্তানের পাপ তাকে কালো ক'রে দিয়েছে।" (তিরমিযী ৮৭৭নং)
লক্ষ্য করুন, সাদা পাথরের উপর পাপের প্রভাব কেমন? অনুরূপই পাপের কদর্যতা হৃদয়কে প্রভাবিত করে এবং সাদা মনকে কালো ক'রে ফেলে। কিন্তু যে পাপ থেকে দূরে থাকে অথবা পাপ থেকে তওবা করে, তার হৃদয় পবিত্র ও সাদা থাকে।
অপরাধীর বিবেক সর্বদাই আতঙ্কের শিকার। তাদের সাহস বলতে কিছুই থাকে না। 'চোরের মন পুলিশ পুলিশ', তাই তার মনে স্থিরতা থাকে না, শান্তি থাকে না।
📄 পারিবারিক জীবনে পাপের প্রভাব
পিতামাতা ও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পরিবার গঠিত হয়। এ পরিবারের সুখ নিশ্চিত করেছে ইসলাম। সংসারের নানা পদক্ষেপে মতভেদ অস্বাভাবিক নয়। তবে তাতে কলহ-বিবাদ করা নিশ্চয় ইসলাম পছন্দ করে না।
সংসারের সকলেই যদি পাপ ও অবাধ্যাচরণ থেকে বিরত থাকতে পারে, তাহলেই সে সংসার সুখী সংসার হয়। নচেৎ তাদের সে ঘরে সুখ-পাখী বাসা বাঁধে না।
পরিবারের সকলেই পাপ বর্জন না করলে শান্তি আসে না। উদাহরণ স্বরূপ ট্রাফিক-রুলসের কথা ভাবতে পারেন। সকল ড্রাইভার যদি সে সব রুল মেনে গাড়ি না চালায়, তাহলে দুর্ঘটনা এড়ানো মোটেই সম্ভব হয় না।
পিতামাতা যদি সন্তানের তরবিয়তে ইসলামের নিয়ম-নীতির অনুসরণ না করে, সন্তান যদি পিতামাতার অবাধ্যাচরণ বর্জন না করে, স্বামী যদি স্ত্রীর ব্যাপারে ইসলামী বিধি-বিধান মান্য না করে, স্ত্রী যদি স্বামীর অবাধ্যাচরণ থেকে বিরত না হয়, তাহলে বলুন, কীভাবে সে পরিবারের বাগানে সুখের ফুল ফুটবে?
পিতা বা মাতার অথবা উভয়ের পাপের ফলে সন্তানরা ছন্নছাড়া হয়।
ছেলে অথবা মেয়ে পাপের আগুন টেনে এনে সুখের সংসারকে ভষ্মীভূত করে।
মহান আল্লাহর মীরাস-বন্টনে পাপময় হস্তক্ষেপ হলে বিদ্বেষ ও কলহের ঝড় আসে।
সাংসারিক কাজকর্ম বা জমি-জায়গা নিয়ে ভাইয়ে-ভাইয়ের দ্বন্দ্ব সংসারকে রণক্ষেত্রে পরিণত করে।
গৃহস্থালি কাজ নিয়ে শাশুড়ী-বউয়ের কলহে সংসার জাহান্নামে পরিণত হয়। কোন সংসারে চলে বধূ-নির্যাতন, কোন সংসারে চলে শ্বশুর-শাশুড়ী-নিগ্রহ। মেনে ও মানিয়ে চলার পদ্ধতি না মানার ফলে সুখের ফুলবাগানে দুঃখের তুফান আসে।
নিশ্চয় তাদের কোন না কোন পাপ থাকে, কোন অবাধ্যাচরণ ও ঔদ্ধত্য থাকে, কোন হঠকারিতা বা হিংসা থাকে।
কোন সংসারে অবৈধ সম্পর্কের জেরে অশান্তির সর্বনাশী তুফান আসে। ব্যাপক ধ্বংস-লীলা চালিয়ে দূর থেকে ভ্রূকুটি হানে। পাপের দাপটে পুণ্যের সংসার কম্পাসহীন জলজাহাজের মতো মাঝ সমুদ্রে ভাসতে থাকে।
তাই তো ইসলামের নির্দেশ এলো পরিবারের প্রধানের কাছে, তাকেই বলা হল,
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ} (৬) سورة التحريم
"হে মু'মিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা কর অগ্নি হতে, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে নির্মম-হৃদয়, কঠোর-স্বভাব ফিরিস্তাগণ, যারা আল্লাহ যা তাদেরকে আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং তারা যা করতে আদিষ্ট হয়, তাই করে। (তাহরীমঃ ৬)
আল্লাহর রসূল বলেন,
((إِنَّ اللَّهَ سَائِلٌ كُلَّ رَاعٍ عَمَّا اسْتَرْعَاهُ ، حَفِظَ ذَلِكَ أَمْ ضَيَّعَ ، حَتَّى يَسْأَلَ الرَّجُلَ عَنْ أَهْلِ بَيْتِهِ)).
"আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক রক্ষককে তার রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে এবং প্রত্যেক তত্ত্বাবধায়ক ও অভিভাবককে তার তত্ত্বাবধান ও অভিভাবকত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন। যথার্থই কি তারা তাদের কর্তব্য পালন করেছে, নাকি অবহেলা হেতু তা বিনষ্ট করেছে?" (নাসাঈ ৯১৭৪, ইবনে হিব্বান ৪৪৯২, সঃ জামে' ১৭৭৪নং)
📄 পরীক্ষাগারে অপরাধের প্রভাব
যাঁরা স্কুল-মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন, তাঁদের পরীক্ষার অভিজ্ঞতা আছে অল্প-বিস্তর। পরীক্ষা দিতে যেন মন চায় না। পরীক্ষাগারে গিয়ে মন আতঙ্কিত থাকে। পাশ-ফেলের টানাপোড়েনে মন দগ্ধিত হয়। যে ছাত্ররা পরীক্ষার আগে মেহনত করে, তারা কিন্তু তত আতঙ্কিত হয় না। বেশি আতঙ্কিত হয় পড়াশোনাতে ফাঁকিবাজরা। তাদের মধ্যে কেমন যেন অস্থিরতা থাকে। প্রশ্নপত্র হাতে আসতে তাদের প্রাণ যেন পানিশূন্য হয়ে যায়, ঠোঁট শুকিয়ে যায়, হাত কাঁপতে লাগে। ফেল হওয়ার ভয়ে পাশ করার ফন্দি আঁটে। তারা অপরাধী। মেহনত না করে তারা চিরকুট করে। পরের দেখে নকল করতে চায়। পরীক্ষককে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করে। ঘুস দিতে চেষ্টা করে। হুমকি দেয়, ধমকি দেয়। গন্ডগোল বাধায়, ভাঙচুর চালায়। পরিশেষে তার খাতাটি ক্যান্সিল হয়। পরীক্ষার হল থেকে সে বহিষ্কৃত হয়। তার ভাগ্যে 'ফেল' থাকে অবধার্য।
এ পৃথিবী আমাদের আসল ঠিকানা নয়। আমাদের আসল ঠিকানা হল জান্নাত। আমাদের আদি পিতামাতা জান্নাতের বাসিন্দা, বেহেশতের নাগরিক। মহান আল্লাহ আবার আমাদেরকে সেই বেহেশতে পুনরায় বাস করার অধিকার দান করবেন। তবে তিনি আমাদের পরীক্ষা নেবেন। সেই পরীক্ষায় যারা পাশ করবে, কেবল তাদেরকেই তাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেবেন। তাঁর পরীক্ষায় ফেল করলে অন্য রাজ্যের নাগরিক বানাবেন।
পৃথিবীর এ পরীক্ষাগারে বহু অপরাধী আছে। বরং অধিকাংশ মানুষই অপরাধী। অনেকে পরীক্ষা মানতে চায় না। অনেকে পরীক্ষাগারে নানা অপরাধ করে এবং জোরপূর্বক পাশ করতে চায়। অনেকে না পড়ে পাশ করতে ও জান্নাতের সার্টিফিকেট নিতে চায়। ধরাকে সরা জ্ঞান করার অপরাধে তাদের ভাগ্যে 'ফেল' ছাড়া কিছুই জোটে না। পরিশেষে তার বেহেশতের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয় এবং তাকে অগ্নিরাজ্যের একজন প্রজা হিসাবে গণ্য করা হয়।
এ জীবন পরীক্ষার জন্য। মৃত্যুর পর তার ফলাফল। পরিক্ষক মহান সৃষ্টি কর্তা।
تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (۱) الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا وَهُوَ الْعَزِيزُ الْغَفُورُ} (۲) سورة الملك
"মহা মহিমান্বিত তিনি সর্বময় কর্তৃত্ব যাঁর হাতে এবং তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন তোমাদেরকে পরীক্ষা করবার জন্য; কে তোমাদের মধ্যে কর্মে সর্বোত্তম? আর তিনি পরাক্রমশালী, বড় ক্ষমাশীল।" (মুল্কঃ ১-২)