📘 পাপ তার শাস্তি ও মুক্তির উপায় > 📄 মুত্তাকী ও ফাসেক এর অবাধ্যচারণের মাঝে পার্থক্য

📄 মুত্তাকী ও ফাসেক এর অবাধ্যচারণের মাঝে পার্থক্য


খাঁটি মু'মিন মহান প্রতিপালকের অবাধ্যাচরণ করতে পারে না। অবশ্য তার দ্বারা অবাধ্যাচরণ ঘটে যেতে পারে, অতঃপর সে সাথে সাথে তওবা করে। পক্ষান্তরে ফাসেক তাঁর অবাধ্যাচরণ করে এবং তওবা করতে গয়ংগচ্ছ করে।
পাপ সংঘটন করার ক্ষেত্রে শয়তান কোন ত্রুটি করে না। প্রত্যেক মানুষের পশ্চাতে শয়তান আছে, যে তাকে পাপে লিপ্ত করতে নিরলস প্রচেষ্টা চালায়। কিন্তু তাতে মুত্তাকী ও ফাসেকের মাঝে পার্থক্য আছে। মহান আল্লাহ বলেছেন, {إِنَّ الَّذِينَ اتَّقَوْا إِذَا مَسَّهُمْ طَائِفٌ مِنْ الشَّيْطَانِ تَذَكَّرُوا فَإِذَا هُمْ مُبْصِرُونَ (۲۰۱) وَإِخْوَانُهُمْ يَمُدُّونَهُمْ فِي الغَيِّ ثُمَّ لَا يُقْصِرُونَ} (۲۰۲) الأعراف
"নিশ্চয়ই যারা সাবধান হয়, যখন শয়তান তাদেরকে কুমন্ত্রণা দেয়, তখন তারা আত্মসচেতন হয় এবং তৎক্ষণাৎ তাদের চক্ষু খুলে যায়। আর যারা শয়তানের ভাই শয়তানরা তাদেরকে ভ্রান্তির দিকে টেনে নেয় এবং এ বিষয়ে তারা কোন ত্রুটি করে না। (আ'রাফঃ ২০১-২০২)

মুত্তাকী যখন কোন অপরাধ ক'রে ফেলে, তখন আল্লাহর শরণাপন্ন হয়। নিজের উপরে অপরাধের বোঝাকে খুব ভারী মনে করে এবং বিবেকের দংশনে তার প্রায়শ্চিত্ত করে। মহান আল্লাহ বলেছেন, {وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَن يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ} (١٣٥) سورة آل عمران
"যারা কোন অশ্লীল কাজ ক'রে ফেললে অথবা নিজেদের প্রতি যুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর আল্লাহ ছাড়া অন্য কে পাপ ক্ষমা করতে পারে? এবং তারা যা (অপরাধ) ক'রে ফেলে, তাতে জেনে-শুনে অটল থাকে না।" (আলে ইমরানঃ ১৩৫)

কৃত গোনাহর জন্য চিন্তিত থাকে। ফলে সে অপরাধ আর দ্বিতীয়বার করে না। পক্ষান্তরে ফাসেকের আচরণ হয় এর বিপরীত।
মুত্তাকী পাপ ক'রে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়। পক্ষান্তরে ফাসেক পাপ ক'রে আনন্দিত হয়।
মুত্তাকী পাপ ক'রে নিজেকে গোপন করে। পক্ষান্তরে ফাসেক পাপ ক'রে প্রচার ক'রে বেড়ায়।
মুত্তাকী পাপ ক'রে লাঞ্ছিত ও অনুতপ্ত হয়। পক্ষান্তরে ফাসেক পাপ ক'রে গর্ব ক'রে বেড়ায়।
মুত্তাকী দ্বারা পাপ ঘটে যায় গোপনে। পক্ষান্তরে ফাসেক প্রকাশ্যে লোকালয়ে পাপ ঘটায়। আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ উভয় অপরাধীর অবস্থা বর্ণনা ক'রে বলেছেন, إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَأَنَّهُ قَاعِدٌ تَحْتَ جَبَل يَخَافُ أَنْ يَقَعَ عَلَيْهِ وَإِنَّ الْفَاجِرَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَذُّبَابٍ مَرَّ عَلَى أَنْفِهِ فَقَالَ بِهِ هَكَذَا.
অর্থাৎ, মু'মিন তার পাপসমূহকে এমন দেখে, যেন সে কোন পাহাড়ের নিচে বসে আছে, যা তার উপর ভেঙ্গে পড়বে বলে আশঙ্কা করে। পক্ষান্তরে ফাজের তার পাপসমূহকে নিজ নাকের উপর বসা মাছির মতো দেখে, যাকে সে হাত দিয়ে এইভাবে তাড়িয়ে দেয়। (বুখারী ৬৩০৮-নং)

পাপ করার সময়ে মুত্তাকীর মনে পাপবোধ থাকে। কিন্তু ফাসেক তাকে পাপই মনে করে না। যার ফলে মুত্তাকী তওবার তওফীক লাভ করে। কিন্তু ফাসেক অদম্য মনে পাপ ও অপরাধ করেই চলে।
বহু অপরাধ এমন আছে, লোকে যাকে ছোট ভাবে, নগণ্য ও স্বাভাবিক ভাবে। তার মধ্যে একটি অপরাধ হল মানুষের চরিত্র নিয়ে কথা বলা। সামান্য সন্দেহে অথবা ধারণা বশে অপরের চরিত্রে অপবাদ দিতে অথবা পরচর্চা করতে মানুষ ভয় পায় না। এ যেন সামান্য ব্যাপার। এ যেন পাপাচরণ নয়। তাই যেখানেই দুজন মানুষ থাকে, প্রায় সেখানেই তৃতীয় জনের চর্চা হয়। মাঠে-ঘাটে, ক্লাবে-মজলিসে, চায়ের দোকানে, আড্ডাখানায়, এমনকি মাদ্রাসায়-মসজিদেও এই শ্রেণীর পাপকে লঘুপাক খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
পরের চরিত্রে না জেনে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে কথা বলার ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন, {إِذْ تَلَقَّوْنَهُ بِأَلْسِنَتِكُمْ وَتَقُولُونَ بِأَفْوَاهِكُم مَّا لَيْسَ لَكُم بِهِ عِلْمٌ وَتَحْسَبُونَهُ هَيِّنًا وَهُوَ عِندَ اللَّهِ عَظِيمٌ} (١٥) سورة النور "যখন তোমরা মুখে মুখে এ (কথা) প্রচার করছিলে এবং এমন বিষয় মুখে উচ্চারণ করছিলে, যার কোন জ্ঞান তোমাদের ছিল না এবং তোমরা একে তুচ্ছ গণ্য করেছিলে; যদিও আল্লাহর দৃষ্টিতে এ ছিল গুরুতর বিষয়।" (নূর : ১৫)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00