📄 নগণ্য পাপ
অনেক এমন পাপ আছে, যাকে পাপী নগণ্য ভাবে, এমন অনেক অপরাধ আছে, যাকে অনেক মানুষই তুচ্ছজ্ঞান করে। হয়তো-বা তা আপতদৃষ্টিতে 'ছোট পাপ'ই। কিন্তু তার পরিণাম আদৌ ছোট নয়। অনেকে তা 'ছোট' জ্ঞান করেই পরোয়া করে না অথবা ভাবে যে, পুণ্যকাজ দ্বারা তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধৌত হয়ে যাবে, তাই কোন গুরুত্ব দেয় না। অথচ তার অজ্ঞাতসারে সেই নগণ্য অপরাধটি তাকে এমন জায়গায় নিয়ে গিয়ে খাড়া করে, যার কথা সে মনেও কল্পনা করেনি।
প্রিয় নবী সে ব্যাপারেও আমাদেরকে সতর্ক করেছেন। একদা তিনি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) কে বলেছেন,
((يَا عَائِشَةُ إِيَّاكِ وَمُحَقِّرَاتِ الذُّنُوبِ فَإِنَّ لَهَا مِنْ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ طَالِبًا)).
"হে আয়েশা! তুমি ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র তুচ্ছ পাপ হতেও সাবধান থেকো। কারণ আল্লাহর তরফ হতে তাও (লিপিবদ্ধ করার জন্য ফিরিশ্তা) নিযুক্ত আছেন।" (আহমাদ ২৪৪১৫, ইবনে মাজাহ ৪২৪৩, ইবনে হিব্বান, সিলসিলাহ সহীহাহ ৫১৩, ২৭৩ ১নং)
অনেক সময় মানুষ 'ছোট' ধারণা ক'রে পাপ করে এবং তার অন্যান্য ইবাদতের ফলে তা মোচন হয়ে যাবে ভেবে বারবার তা করতে থাকে। কিন্তু কাবীরা গোনাহ থেকে বিরত না হওয়ার কারণে তার সে পাপ জমা হতে থাকে এবং পরিশেষে তা তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে নিয়ে যায়। মহানবী বলেন, ((إِيَّاكُمْ وَمُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ ، فَإِنَّمَا مَثَلُ مُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ كَمَثَلِ قَوْمٍ نَزَلُوا بَطْنَ وَادٍ، فَجَاءَ ذَا بِعُودٍ، وَجَاءَ ذَا بِعُودٍ، حَتَّى حَمَلُوا مَا أَنْضَجُوا بِهِ خُبْزَهُمْ، وَإِنَّ مُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ مَتَى يَأْخُذُ بِهَا صَاحِبُهَا تُهْلِكُهُ)).
"তোমরা ছোট ছোট তুচ্ছ পাপ থেকেও দূরে থেকো। কেননা, ছোট ও তুচ্ছ গোনাহসমূহের উপমা হল এরূপ, যেরূপ একদল লোক (সফরে গিয়ে) এক উপত্যকার মাঝে (বিশ্রাম নিতে) নামল। অতঃপর এ একটা কাঠ, ও একটা কাঠ এনে জমা করল। এভাবে অবশেষে তারা এত কাঠ জমা করল, যদ্বারা তারা তাদের রুটি পাকিয়ে নিতে পারল। আর ছোট ছোট তুচ্ছ পাপের পাপীকে যখন পাকড়াও করা হবে, তখন তা তাকে ধ্বংস ক'রে ছাড়বে।" (আহমাদ ২২৮০৮, ত্বাবারানী ৫৭৩৯, বাইহাকীর শুআবুল ইমান, সহীহুল জামে' ২৬৮-৬নং)
ছোট-ছোট পাপকেও সাহাবাগণ ভয় করতেন। আনাস বলেন, إِنَّكُمْ لَتَعْمَلُونَ أَعْمَالًا هِيَ أَدَقُّ فِي أَعْيُنِكُمْ مِنْ الشَّعَرِ إِنْ كُنَّا لَنَعُدُّهَا عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ الْمُوبِقَاتِ.
"তোমরা এমন কতকগুলো কাজ করছ যা তোমাদের দৃষ্টিতে চুল হতেও তুচ্ছ। কিন্তু আল্লাহর রসূল -এর যুগে ঐ কাজগুলোকেই আমরা সর্বনাশী কার্যসমূহের শ্রেণীভুক্ত মনে করতাম।" (বুখারী ৬৪৯২নং)
সুতরাং নগণ্য বিষয়কেও তুচ্ছজ্ঞান করা উচিত নয়। কারণ সেই তুচ্ছজ্ঞান থেকেই সৃষ্টি হতে পারে মহা বিপদ। ছোটকে 'নগণ্য' ভাবার মনোভাবই হয়ে যেতে পারে 'বড়' পাপ।
ইবনুল কাইয়্যেম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এখানে একটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য এই যে, মহাপাপের ব্যাপারে কখনো কখনো লজ্জাশীলতা, ভয় অথবা তা 'মহা' বলে অনুভব তাকে লঘুপাপের শ্রেণীতে মিলিত করতে পারে। আবার কখনো লঘুপাপের ব্যাপারে লজ্জাহীনতা, পরোয়াহীনতা, ভয়শূন্যতা অথবা অবজ্ঞা তাকে মহাপাপের মানে পৌঁছে দিতে পারে। বরং তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে উপনীত করে।' (মাদারিজুস সালেকীন ১/৩২৮)
যেহেতু এখানে শুধু পাপকার্য নয়, কার্যের সাথে জড়িত থাকে মনের অতিরিক্ত কার্য। আর তাই সেই পাপকার্যকে 'মহা' ক'রে তোলে।
ফুযাইল বিন ইয়ায বলেছেন, 'পাপ যে পরিমাণে তোমার নিকট ছোট হবে, সেই পরিমাণে তা আল্লাহর নিকট বড় হবে এবং যে পরিমাণে তোমার নিকট বড় হবে, সেই পরিমাণে তা আল্লাহর নিকট ছোট হবে।'
আবু আইয়ুব আনসারী বলেছেন, 'মানুষ সৎকাজ করে এবং সে তার উপর নির্ভর ক'রে বসে। আর সেই সাথে নগণ্য অপরাধগুলিকে ভুলে যায়। ফলে সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করে, যখন তার সেই নগণ্য পাপসমূহ তাকে পরিবেষ্টন ক'রে রাখে। পক্ষান্তরে আর এক মানুষ পাপকাজ করে। কিন্তু সে তার ব্যাপারে সদা ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে। পরিশেষে সে নিরাপদে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করে।' (ফাতহুল বারী ১৮/৩২৬)
এই শ্রেণীর মানুষের জন্য মহান আল্লাহ বলেছেন, {وَلَوْ أَنَّ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا وَمِثْلَهُ مَعَهُ لَافْتَدَوْا بِهِ مِن سُوءِ الْعَذَابِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَبَدَا لَهُم مِّنَ اللَّهِ مَا لَمْ يَكُونُوا يَحْتَسِبُونَ (٤٧) وَبَدَا لَهُمْ سَيِّئَاتُ مَا كَسَبُوا وَحَاقَ بهِم مَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ} (٤٨) سورة الزمر
"যারা সীমালংঘন করেছে; যদি তাদের পৃথিবীর সমস্ত কিছু এবং তার সাথে সমপরিমাণ আরও কিছু থাকত, তাহলে কিয়ামতের দিন নিকৃষ্ট শাস্তি হতে মুক্তির জন্য পণ স্বরূপ তা প্রদান করত। তাদের সামনে আল্লাহর নিকট হতে এমন কিছু প্রকাশ হবে, যা ওরা কল্পনাও করেনি। ওদের কৃতকর্মের মন্দ ফল ওদের নিকট প্রকাশ হয়ে পড়বে এবং ওরা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত তা ওদেরকে পরিবেষ্টন করবে। (যুমার: ৪৭-৪৮)
পরিষ্কার যে, নগণ্য পাপকে 'নগণ্য' ধারণা করার দুটো দিক রয়েছে:-
এক: নগণ্য ভেবে লাগাতার ক'রে যাওয়া।
দুইঃ বেপরোয়া হয়ে তুচ্ছজ্ঞান করা।
দুটো দিকেই থাকতে পারে ভয়ঙ্কর পরিণতি। আমরা একটা উদাহরণ নিয়ে বিষয়টিকে আরো পরিষ্কার করতে পারি।
অবৈধ রমণীর প্রতি সকাম দৃষ্টিপাত। বাহ্যতঃ তা একটি ছোট পাপ। কিন্তু তার পরিণাম উক্ত দুই পদ্ধতিতে ভয়ানক হতে পারে।
চক্ষু এমন এক অঙ্গ, যার দ্বারা বিপত্তির সূচনা হয়। চোখাচোখি থেকে শুরু হয়, কিন্তু শেষ হয় গলাগলিতে। এই ছোট্ট অঙ্গার টুকরা থেকেই সূত্রপাত হয় সর্বগ্রাসী বড় অগ্নিকান্ডের। আরবী কবি বলেছেন,
كل الحوادث مبدأها من النظر ... ومعظم النار من مستصغر الشرر
كم نظرة فتكت في قلب صاحبها ... فتك السهام بلا قوس ولا وتر
والمرء ما دام ذا عين يقلبها ... في أعين الغيد موقوف على الخطر
يسر مقلته ما ضر مهجته ... لا مرحباً بسرور عاد بالضرر
অর্থাৎ, সমস্ত (যৌন) দুর্ঘটনার সূত্রপাত দৃষ্টি থেকেই হয়। অধিকাংশ অগ্নিকান্ড ঘটে ছোট্ট অঙ্গার থেকেই।
কত দৃষ্টি তার কর্তার হৃদয়কে ধ্বংস করেছে, ধনুক ও তারহীন তীরের মতো।
চোখ-ওয়ালা মানুষ যতক্ষণ কামিনীদের চোখে চোখ রেখে বারবার দৃষ্টিপাত করে, ততক্ষণ সে বিপদের উপর দন্ডায়মান থাকে।
যে জিনিস তার আত্মার জন্য ক্ষতিকর, তাই দিয়ে নিজের চক্ষুকে খোশ করে। অথচ সেই খুশীকে কোন স্বাগতম নয়, যার পরিণাম হল ক্ষতি।
দৃষ্টিতে যে বিপত্তি সৃষ্টি হয়, তার বিভিন্ন পর্যায় বর্ণনা ক'রে আরবী কবি বলেছেন,
نظرة فابتسامة فسلام ... فكلام فموعد فلقاء
অর্থাৎ, প্রথমে দৃষ্টি, তারপর মুচকি হাসি, তারপর সালাম। তারপর বাক্যালাপ, তারপর সাক্ষাতের ওয়াদা, তারপর মিলন (ব্যভিচার)।
ক্ষুদ্র অপরাধকে কখনোই ক্ষুদ্রজ্ঞান করা উচিত নয়। কারণ চুল ক্ষুদ্র হলেও তা চোখে পড়লে পাহাড়তুল্য হয়।
বিছার কামড়ে সাপ মারা যায়! ক্ষুদ্র হুদহুদ বিলকীস রানীর সিংহাসন ধ্বংস করেছে। ছোট্ট ইঁদুর কত শত গ্রাম-শহর ভাসাতে পারে বন্যা এনে। বটের বীজ পাখীর বিষ্ঠার সাথে বের হয়ে বিশাল বৃক্ষ সৃষ্টি করে। ছোট ছোট ইট দিয়ে বিরাট অট্টালিকা তৈরী হয়। একটি ছোট্ট ছিদ্র মস্তবড় জাহাজকে ডুবিয়ে দিতে পারে। 'প্রত্যেক সামান্য ত্রুটি, ক্ষুদ্র অপরাধ, ক্রমে টানে পাপ পথে, ঘটায় প্রমাদ।'
একটুখানি ভুল, পাপ বা অপরাধকেও প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। কারণ, 'একটু খানি ভুলের তরে অনেক বিপদ ঘটে, ভুল করেছে যারা সবাই ভুক্তভোগী বটে। একটু খানি বিষের ছোঁয়া মরণ ডেকে আনে, এই দুনিয়ায় ভুক্তভোগী সকল মানুষ জানে।'
পরিশেষে বলি, পাপ যত নগণ্যই হোক, তবুও তা পাপ। অবাধ্যাচরণ যতই ছোট হোক, তবুও তা অবাধ্যাচরণ, মহান প্রতিপালকের অবাধ্যাচরণ। কেবল অবাধ্যাচরণ 'ছোট' দেখলেই হয় না, যার অবাধ্যাচরণ করা হয়, তার 'বড়ত্ব' দেখা প্রয়োজন।
বিলাল বিন সা'দ বলেছেন, 'তুমি যে পাপ করছ, তার ক্ষুদ্রতা দেখো না। বরং যার অবাধ্যতা করে পাপ করছ, তার বিশালতা দেখ!'
📄 মুত্তাকী ও ফাসেক এর অবাধ্যচারণের মাঝে পার্থক্য
খাঁটি মু'মিন মহান প্রতিপালকের অবাধ্যাচরণ করতে পারে না। অবশ্য তার দ্বারা অবাধ্যাচরণ ঘটে যেতে পারে, অতঃপর সে সাথে সাথে তওবা করে। পক্ষান্তরে ফাসেক তাঁর অবাধ্যাচরণ করে এবং তওবা করতে গয়ংগচ্ছ করে।
পাপ সংঘটন করার ক্ষেত্রে শয়তান কোন ত্রুটি করে না। প্রত্যেক মানুষের পশ্চাতে শয়তান আছে, যে তাকে পাপে লিপ্ত করতে নিরলস প্রচেষ্টা চালায়। কিন্তু তাতে মুত্তাকী ও ফাসেকের মাঝে পার্থক্য আছে। মহান আল্লাহ বলেছেন, {إِنَّ الَّذِينَ اتَّقَوْا إِذَا مَسَّهُمْ طَائِفٌ مِنْ الشَّيْطَانِ تَذَكَّرُوا فَإِذَا هُمْ مُبْصِرُونَ (۲۰۱) وَإِخْوَانُهُمْ يَمُدُّونَهُمْ فِي الغَيِّ ثُمَّ لَا يُقْصِرُونَ} (۲۰۲) الأعراف
"নিশ্চয়ই যারা সাবধান হয়, যখন শয়তান তাদেরকে কুমন্ত্রণা দেয়, তখন তারা আত্মসচেতন হয় এবং তৎক্ষণাৎ তাদের চক্ষু খুলে যায়। আর যারা শয়তানের ভাই শয়তানরা তাদেরকে ভ্রান্তির দিকে টেনে নেয় এবং এ বিষয়ে তারা কোন ত্রুটি করে না। (আ'রাফঃ ২০১-২০২)
মুত্তাকী যখন কোন অপরাধ ক'রে ফেলে, তখন আল্লাহর শরণাপন্ন হয়। নিজের উপরে অপরাধের বোঝাকে খুব ভারী মনে করে এবং বিবেকের দংশনে তার প্রায়শ্চিত্ত করে। মহান আল্লাহ বলেছেন, {وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَن يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ} (١٣٥) سورة آل عمران
"যারা কোন অশ্লীল কাজ ক'রে ফেললে অথবা নিজেদের প্রতি যুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর আল্লাহ ছাড়া অন্য কে পাপ ক্ষমা করতে পারে? এবং তারা যা (অপরাধ) ক'রে ফেলে, তাতে জেনে-শুনে অটল থাকে না।" (আলে ইমরানঃ ১৩৫)
কৃত গোনাহর জন্য চিন্তিত থাকে। ফলে সে অপরাধ আর দ্বিতীয়বার করে না। পক্ষান্তরে ফাসেকের আচরণ হয় এর বিপরীত।
মুত্তাকী পাপ ক'রে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়। পক্ষান্তরে ফাসেক পাপ ক'রে আনন্দিত হয়।
মুত্তাকী পাপ ক'রে নিজেকে গোপন করে। পক্ষান্তরে ফাসেক পাপ ক'রে প্রচার ক'রে বেড়ায়।
মুত্তাকী পাপ ক'রে লাঞ্ছিত ও অনুতপ্ত হয়। পক্ষান্তরে ফাসেক পাপ ক'রে গর্ব ক'রে বেড়ায়।
মুত্তাকী দ্বারা পাপ ঘটে যায় গোপনে। পক্ষান্তরে ফাসেক প্রকাশ্যে লোকালয়ে পাপ ঘটায়। আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ উভয় অপরাধীর অবস্থা বর্ণনা ক'রে বলেছেন, إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَأَنَّهُ قَاعِدٌ تَحْتَ جَبَل يَخَافُ أَنْ يَقَعَ عَلَيْهِ وَإِنَّ الْفَاجِرَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَذُّبَابٍ مَرَّ عَلَى أَنْفِهِ فَقَالَ بِهِ هَكَذَا.
অর্থাৎ, মু'মিন তার পাপসমূহকে এমন দেখে, যেন সে কোন পাহাড়ের নিচে বসে আছে, যা তার উপর ভেঙ্গে পড়বে বলে আশঙ্কা করে। পক্ষান্তরে ফাজের তার পাপসমূহকে নিজ নাকের উপর বসা মাছির মতো দেখে, যাকে সে হাত দিয়ে এইভাবে তাড়িয়ে দেয়। (বুখারী ৬৩০৮-নং)
পাপ করার সময়ে মুত্তাকীর মনে পাপবোধ থাকে। কিন্তু ফাসেক তাকে পাপই মনে করে না। যার ফলে মুত্তাকী তওবার তওফীক লাভ করে। কিন্তু ফাসেক অদম্য মনে পাপ ও অপরাধ করেই চলে।
বহু অপরাধ এমন আছে, লোকে যাকে ছোট ভাবে, নগণ্য ও স্বাভাবিক ভাবে। তার মধ্যে একটি অপরাধ হল মানুষের চরিত্র নিয়ে কথা বলা। সামান্য সন্দেহে অথবা ধারণা বশে অপরের চরিত্রে অপবাদ দিতে অথবা পরচর্চা করতে মানুষ ভয় পায় না। এ যেন সামান্য ব্যাপার। এ যেন পাপাচরণ নয়। তাই যেখানেই দুজন মানুষ থাকে, প্রায় সেখানেই তৃতীয় জনের চর্চা হয়। মাঠে-ঘাটে, ক্লাবে-মজলিসে, চায়ের দোকানে, আড্ডাখানায়, এমনকি মাদ্রাসায়-মসজিদেও এই শ্রেণীর পাপকে লঘুপাক খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
পরের চরিত্রে না জেনে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে কথা বলার ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন, {إِذْ تَلَقَّوْنَهُ بِأَلْسِنَتِكُمْ وَتَقُولُونَ بِأَفْوَاهِكُم مَّا لَيْسَ لَكُم بِهِ عِلْمٌ وَتَحْسَبُونَهُ هَيِّنًا وَهُوَ عِندَ اللَّهِ عَظِيمٌ} (١٥) سورة النور "যখন তোমরা মুখে মুখে এ (কথা) প্রচার করছিলে এবং এমন বিষয় মুখে উচ্চারণ করছিলে, যার কোন জ্ঞান তোমাদের ছিল না এবং তোমরা একে তুচ্ছ গণ্য করেছিলে; যদিও আল্লাহর দৃষ্টিতে এ ছিল গুরুতর বিষয়।" (নূর : ১৫)