📘 ওভারকামিং ডিপ্রেশন > 📄 কেস স্টাডি ৫: কোনো কাজেই আগ্রহ নেই

📄 কেস স্টাডি ৫: কোনো কাজেই আগ্রহ নেই


আব্বেরা (ছদ্মনাম), বয়স ২৭, অনেক বছর থেকে একটি বেশিই শুঁচীবায়ুগ্রস্ত। লোকে বলে, সে সবকিছুই নিখুঁত পছন্দ করে। অতিরিক্ত পরিপাটি, সবকিছুতেই তার অন্য সবার চেয়ে অনেক বেশি সময় অতিবাহিত হয়। আব্বেরা নিজেও জানে সে বাকি সবার চেয়ে একটু আলাদা। সবকিছুতেই তার যেন মনে হয় ময়লা লেগে আছে! তাকে বারবার জিনিসগুলো পরিষ্কার করতে হয়। যেকোনো কিছু তাকে অন্যদের থেকে বেশি যাচাই-বাছাই করতে হয়। গোসল করার সময়ও ব্যয় হয় সবার চেয়ে বেশি। এসব সমস্যার জন্য আগে সে বহুবার সাইকিয়াট্রিস্টের শরণাপন্ন হয়েছে। সে জানে তার রোগটির নাম অবসেসিভ-কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার। সব সময় যে সে খারাপ থাকে তা কিন্তু নয়, সে মাঝেমধ্যে ভালো থাকে, কখনো স্ট্রেস বাড়লে আবার কিছু সময়ের জন্য খারাপ হয়ে যায়। সে মাঝখানে কয়েক বছর ঔষধ খাচ্ছিল, এখন ঔষধ ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে অন্তরা যে সমস্যাটি নিয়ে আমাদের কাছে এসেছে, সেটি অবসসিভ-কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার নয়। ইদানিং করে গত এক মাস যাবৎ তার পরিবারের লোকজন লক্ষ করছে, অন্তরা অস্বাভাবিক চুপচাপ হয়ে গেছে। প্রশ্ন করলেও জবাব দিচ্ছে না বললেই চলে। সারাদিন সে শুয়ে থাকে, পড়াশোনা করছে না। খাবারের জন্য বারবার তাকে ডাকতে হচ্ছে। অন্তরাকে আগে প্রায়ই ছবি আঁকতে দেখা যেত, যা সে খুবই পছন্দ করত। কিন্তু গত ২০ দিন যাবৎ অন্তরাকে ছবি আঁকতেও দেখা যাচ্ছে না। অন্তরার এই পরিবর্তিত স্বভাব নিয়ে চিন্তিত হয়েই অন্তরার বাবা-মা তাকে সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে নিয়ে এসেছেন।

প্রশ্ন করে জানা গেল, অন্তরা আগের মতো আর কোনো কাজই আগ্রহ পায় না, এমনকি ছবি আঁকতেও! ইদানিং অধিকাংশ সময়ই তার মন খারাপ থাকে। আগের মতো আর সবকিছু পরিষ্কার করার এনার্জিও তার থাকে না। হতাশ কণ্ঠে বলে উঠল অন্তরা, ‘এই ধোয়া-মোছার রোগ তো আমার বহু বছর আগেরই। আগে কখনো এমন লাগেনি। এত মন খারাপ, এত হতাশা! ইদানিং মনে হয়, এই রোগ নিয়ে বেঁচে থাকার চাইতে মরে যাওয়াই ভালো।’

**চিকিৎসা**
আমরা আগেই বলেছি, যেকোনো চিকিৎসার প্রথম ধাপ হলো রোগ নির্ণয় করা। এরপর যদি সম্ভব হয়, আক্রান্ত ব্যক্তিকে, প্রয়োজনে তার পরিবারকেও সমস্যাগুলো বুঝিয়ে বলা। অন্তরা অবসসিভ-কম্পালসিভ ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত হলেও বর্তমানে অন্তরার সমস্যাটি আসলে বিষণ্ণতা। ওসিডি রোগে আক্রান্ত অনেকের মধ্যেই রোগের পাশাপাশি অথবা দীর্ঘদিন রোগ থাকার পরে বিষণ্ণতা দেখা যায়। যেহেতু অন্তরা তার বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে, তার বাবা-মা পরিবর্তিত আচরণ নিয়ে চিন্তিত। তাই আমরা প্রথমেই তাদেরকে অন্তরার রোগের বিষয়টি বুঝিয়ে বললাম। অন্তরাকে আমরা বিষণ্ণতার জন্য এমন ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা শুরু করেছি, যে ঔষধগুলো বিষণ্ণতার পাশাপাশি অবসসিভ-কম্পালসিভ ডিসঅর্ডারের চিকিৎসাতেও কাজ করে। বাকিদের মতো তাকেও একইভাবে স্বল্পমাত্রায় শুরু করে ধীরে ধীরে ঔষধ বাড়ানো হলো। তিন মাস নিয়মিত ঔষধ সেবনের পর সে আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ বোধ করছে।

অন্তরা অবসসিভ-কম্পালসিভ ডিসঅর্ডারের জন্য আগে সাইকিয়াট্রিস্টের শরণাপন্ন হলেও কখনো সাইকোথেরাপি গ্রহণ করেনি। কিন্তু ওসিডি রোগের গুরুত্বূর্ণ অংশ হচ্ছে সাইকোথেরাপি। আমরা অন্তরাকে এক মাস পর থেকেই নিয়মিত সাইকোথেরাপি প্রদান শুরু করি। ধাপে ধাপে তাকে আমরা রিলেক্সেশন ও সিবিটি (CBT)-সহ আরও কিছু থেরাপি প্রদান করে থাকি। আমরা তার স্ট্রেসগুলো থেকে বের হয়ে আসতে সাহায্য করি। যেমন, ওসিসিডির জন্য অন্তরা পড়াশোনা থেকে বেশ পিছিয়ে পড়েছিল, আমরা তাকে আবার পড়াশোনা শুরু করতে সাহায্য করি। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে সাহায্য করি। অন্তরা এখন ৬০% সুস্থ আছে। তবে তার চিকিৎসা এখনো চলছে। সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত ওষুধ সেবন করতে হবে এবং সাইকোথেরাপিও গ্রহণ করতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00