📘 ওভারকামিং ডিপ্রেশন > 📄 কেস স্টাডি ৩: মনোযোগ ধরে রাখা যাচ্ছে না

📄 কেস স্টাডি ৩: মনোযোগ ধরে রাখা যাচ্ছে না


স্বপ্ন (ছদ্মনাম) আর বেলির (ছদ্মনাম) ভালোবাসার সম্পর্কটা প্রায় ছয় বছরের। যে সম্পর্কটা তাদের জীবনে আনন্দের কারণ হয়েছিল, স্বপন যখন আমার চেম্বারে আসে, তখন তার কষ্টের কারণও এই সম্পর্কটাই। ২৫ বছর বয়সি স্বপন সদ্য পড়াশোনা শেষ করে চাকরি খুঁজছে। কিন্তু এখনো তেমন কোনো চাকরি জোগাড় করতে পারেনি। তার স্বপ্ন বিসিএস। একবার পরীক্ষা দিয়ে পাস করতে পারেনি। বেলির পরিবার থেকে বিয়ের জন্য চাপ আছে সে জানত। কিন্তু তাকে ফেলে বেলি এমন হুট করে আরেকজনকে বিয়ে করে ফেলবে, স্বপন সেটি কখনোই ভাবতে পারেনি।

আর্থিক সংকট, চাকরির জন্য পারিবারিক চাপ, আর সবকিছু মিলিয়ে স্বপন এমনিতেই অনেক মানসিক অশান্তিতে ছিল। তার মধ্যে যখন এত দিনের সম্পর্কটা ভেঙে গেল, ব্যাপারটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না স্বপন। সে ভেবেছিল, ধীরে ধীরে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু দু’মাস পরেও যখন দেখল, তার মানসিক স্বাস্থ্য অবনতির দিকেই যাচ্ছে, তখন আর দেরি না করে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ দেখানোর সিদ্ধান্ত নিল। সম্পর্ক ভাঙনের পর থেকেই স্বপন খেয়াল করছিল, পড়াশোনায় একদমই মন বসছে না তার। জোর করে যতটুকু পড়ছে, ততটুকু মনে রাখতে পারছে না। এক মাস যাবৎ তার পর্নোগ্রাফি দেখার পরিমাণ প্রায় নেশার পর্যায়ে চলে গেছে। গত ১৫ দিন যাবৎ তার কিছুতেই ঘুম হচ্ছে না। মাঝেমধ্যে সে ঘুমের ওষুধ পর্যন্ত সেবন করেছে, তবু যেন যেন সকালবেলা উঠে আগের মতো ফ্রেশ লাগছে না। অল্পতেই সে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে। বন্ধুবান্ধব আগে থেকেই তার কম, তাই কাউকে বলতেও পারেনি। হঠাৎ সেদিন ওজন মেপে দেখল, আগের চেয়ে ওজন প্রায় দুই কেজি কমে গেছে।

স্বপন জানে তার সঙ্গে বেলির আর কখনোই কিছু সম্ভব নয়। কিন্তু কিছুতেই তাকে ভুলতে পারছে না! বেলি কেন এমন করল — এই চিন্তা তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সে নিজেও চায় তার ক্যারিয়ার এগিয়ে নিয়ে যেতে, কিন্তু কোনো কিছুতেই আগের মতো মনোযোগ রাখতে পারছে না। স্বপন তাই আমাদের কাছে এসেছিল এমনই সাহায্যের আশায়, যাতে আমরা অতীতকে ভুলতে এবং জীবনে ফিরতে সাহায্য করতে পারি।

**চিকিৎসা**
‘জীবনের শুভসূমহ’ অধ্যায়ে আমরা পড়েছি যে, জীবনে আমাদের ভালো থাকার জন্য কিছু বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ, যার মধ্যে অন্যতম হলো পেশা, জীবনের লক্ষ্য, আসক্তি দূরীকরণ এবং কিছু কাছের বন্ধু। উল্লিখিত সবগুলো বিষয়ই স্বপনের জীবনে অনুপস্থিত। তাই স্বপনের চিকিৎসা শুরু করার সময় আমাদের এই সবগুলো বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। কিন্তু সম্পর্ক নিঃসন্দেহে আমাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু হেলির সঙ্গে স্বপনের সম্পর্কটা আর সম্ভব নয়, আবার একটি ছয় বছরের সম্পর্কের স্মৃতি মন থেকে মুছে ফেলা যায় না। স্বপনের মূল সেশনে তাই আমরা পরামর্শ দিই — তার জীবনের লক্ষ্য অর্জনের প্রতি অধিক সময় ব্যয় করতে এবং সেই দিকে মনোযোগী হতে। পাশাপাশি অবশ্যই পর্নোগ্রাফি আসক্তি থেকে সরে আসার কৌশলও তাকে দেওয়া হয়। স্বপনের সঙ্গে আমাদের সাইকোথেরাপি সেশনগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল তিনটি—

১. স্বপনের জীবনের ও চরিত্রের ইতিবাচক দিকগুলোকে তার সামনে তুলে ধরা এবং তার দোষগুলোকে ধীরে ধীরে শোধরানোর জন্য উৎসাহিত করা।
২. ‘নির্দিষ্ট একটি জিনিস বা নির্দিষ্ট কোনো চাকরি না হলে জীবন শেষ’ — এই ধারণা থেকে তাকে বের করে নিয়ে আসা।
৩. আসক্তি দূর করে তার জীবনের রুটিন ঠিক করে তাকে স্বাভাবিক জীবনে অভ্যস্ত করা।

বিষয়টা পরিমাপ করে দেখা যায়, স্বপনের বিষণ্ণতা মাঝারি পর্যায়ের। তাই তাকে আমরা শুধু একটি অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট স্বল্প সময়ের জন্য, স্বল্প মাত্রায় প্রয়োগ করি। কিন্তু তার মূল চিকিৎসায়ই সাইকোথেরাপি, তাই পাশাপাশি সেশন চলতে থাকে। চারটি সেশনের পরে স্বপন এখন তার নিজের জীবনের জটগুলো অনেকটাই নিজেই খুলতে পারছে। আমরা ধীরে ধীরে তার ওষুধও বন্ধ করে দিয়েছি।

স্বপন এখন একটি চাকরি করে। সে গত বছর বিসিএস প্রিলিমিনারিতে টিকেছে, চাকরির পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষার জন্য পড়ছে। সেদিন হঠাৎ অনেক দিন পর তাকে চেম্বারে দেখে বেশ অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। একটু লজ্জা পেয়েই বলল, ‘বিয়ের কার্ড দিতে এসেছিলাম, স্যার। অবশ্যই আসবেন।’

📘 ওভারকামিং ডিপ্রেশন > 📄 কেস স্টাডি ৪: সমস্যা হলো সমস্যা নেই

📄 কেস স্টাডি ৪: সমস্যা হলো সমস্যা নেই


চম্পা-পরা নাসিমা আক্তার (ছদ্মনাম) যখন আমার চেম্বারে প্রবেশ করলেন, প্রথম দৃষ্টিতে তাকে দেখে মধ্যবয়স্ক মনে হলো। কিন্তু কেন যেন মনে হচ্ছে, প্রকৃত বয়সের চেয়ে অনেক বেশি বুড়িয়ে গেছেন। দুঃখী চেহারায় কোনো প্রাণের আভা নেই। খুবই ধীরগতিতে হাঁটছেন এবং বসতে বলার পরেও যেন অনেক প্রশ্নগতিতে বসলেন। সমস্যা কী জানতে চাইলে নিচু চোখে বললেন, 'ডাক্তার আমার বড়ো সমস্যা হলো, কোনো সমস্যাই নেই'।

প্রশ্ন করে জানা গেল, তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন না, তার আসলে সমস্যা কোথায়। যখন পঞ্চাশের কোঠায়, দুই সন্তান ভালো ঘরে বিয়ে দিয়েছেন। বড়ো সন্তানের ঘরের নাতির মুখও দেখে ফেলেছেন। স্বামীর বয়স ৫৫ হলেও শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন এবং এখনো চাকরি করছেন। আর্থিক, পারিবারিক, শারীরিক সবদিক মিলিয়ে বাহ্যিকভাবে তিনি খুবই ভালো আছেন। তিনি নিজেও তাই মনে করেন। রোগ বলতে শুধু ডায়াবেটিস আছে, তাও সাত-আট বছর হতে চলল। কিন্তু এত দিন কোনো সমস্যাই হয়নি।

বিগত প্রায় দুই-তিন মাস যাবৎ নাসিমা আক্তারের কিছুই ভালো লাগছে না। সকালে ঘুম থেকে উঠতেই ইচ্ছা করে না; চোখ খোলার সঙ্গে সঙ্গে মনটা এত খারাপ লাগে যে, সেই কথা বলতে গিয়ে চোখে পানি চলে এল।

'স্যার, আগে রান্না করতে এত ভালো লাগত, ইউটিউব দেখে নতুন রান্না শিখতাম, এখন তাও ভালো লাগে না।' চোখের পানি মুছতে মুছতেই আবার চোখ ভিজে গেল।

রাতে ঘুম হয় না, কিছু খেতেও ইচ্ছা করে না। স্বামী কথা বললেও ভালো লাগে না। নাতীটিকে কোলে নিতেও বিরক্ত লাগে। সারাদিন কিছুই করি না, তাও মনে হয়, এত টায়ার্ড!

'স্যার, আমার তো কোনো দুশ্চিন্তা নেই, সবাই আমাকে গুরুত্ব দেয়। আমার তো কোনো কষ্ট নেই। তাহলে আমার এমন কেন লাগে?' চোখের পানিতে নাসিমা আক্তারের কথা আটকে যাচ্ছে, 'এত সুন্দর সংসার আমার! তাও আমার মাঝেমধ্যে মনে হয়, মরেই যাই!'

'আমার কী হয়েছে? আমি কি ভালো হব স্যার?' জিজ্ঞাসু চোখে কষ্ট ছাড়া এই প্রথম অন্য কোনো অনুভূতি লক্ষ করলাম— যার নাম আশা!

**চিকিৎসা**
নাসিমা আক্তারের সমস্যাটির নাম এনডোজেনাস ডিপ্রেশন। ইতোমধ্যেই আমাদের পূর্বে আলোচনার মাধ্যমে আমরা জানি যে, এনডোজেনাস ডিপ্রেশনের কোনো দৃশ্যমান স্ট্রেস থাকে না, শরীরের নিউরোট্রান্সমিটারের ঘাটতি তার অন্যতম কারণ। নাসিমা আক্তারের ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমনই। এ কারণেই তার স্ট্রেস না থাকা সত্ত্বেও বিষণ্ণতার প্রায় সকল উপসর্গ দেখা দিয়েছে। বাকিদের মতো, নাসিমা আক্তারের ক্ষেত্রেও, আমরা তার রোগ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দিয়ে চিকিৎসা শুরু করি। তার রোগের যে চিকিৎসা আছে এবং ওষুধে তা প্রায় সম্পূর্ণ সেরে যাবে, তা শুনে নাসিমা আক্তারের চোখে-মুখে আশার আলো ফুটে ওঠে।

যেহেতু আমরা জানি এনডোজেনাস ডিপ্রেশনের মূল চিকিৎসা ওষুধ, তাই নাসিমা আক্তারকে আমরা গুরুত্ব সহমাত্রার একটি অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট দিয়ে চিকিৎসা আরম্ভ করি। তার সবকিছু মাথায় রেখে আমরা ওষুধ ব্যবহার করি। ধীরে ধীরে আমরা ওষুধের মাত্রা প্রয়োজন অনুসারে সামান্য বাড়াই। এরপর নিয়ম মোতাবেক তাকে আমরা নির্দিষ্ট সময় পরপর পর্যবেক্ষণ করতে থাকি।

যেহেতু দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস থাকলে বিষণ্ণতা হতে পারে এবং তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিষণ্ণতার চিকিৎসাও জরুরি, তাই আমরা তাকে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ পরীক্ষা করতে দিই। দেখা গেল, নাসিমা আক্তারের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই। তাই তাকে একজন হরমোন বিশেষজ্ঞের কাছেও রেফার করা হয়।

নাসিমা আক্তারের জীবনে কোনো স্ট্রেস নেই, তাই আমরা নিয়মিত সাইকোথেরাপির পরামর্শ দিইনি। কিন্তু একটি সেশনের মাধ্যমে তাকে ঘুমের সমস্যা সমাধানের কিছু কৌশল শিখিয়ে দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফেরত যাওয়ার জন্য নিজের শখগুলোকে আবার শুরু করতেও পরামর্শ দেওয়া হয়। ছয় মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর নাসিমা আক্তার এখন সুস্থ আছেন। তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে, মন খারাপ নেই। তার ঘুমও ভালো হচ্ছে। আমরা ধীরে ধীরে এখন তার ওষুধ কমিয়ে আনছি। ওষুধ যেদিন বন্ধ করব, সেদিন আমাদের জন্য অনেক মজার খাবার রান্না করে এনেছিলেন তিনি।

📘 ওভারকামিং ডিপ্রেশন > 📄 কেস স্টাডি ৫: কোনো কাজেই আগ্রহ নেই

📄 কেস স্টাডি ৫: কোনো কাজেই আগ্রহ নেই


আব্বেরা (ছদ্মনাম), বয়স ২৭, অনেক বছর থেকে একটি বেশিই শুঁচীবায়ুগ্রস্ত। লোকে বলে, সে সবকিছুই নিখুঁত পছন্দ করে। অতিরিক্ত পরিপাটি, সবকিছুতেই তার অন্য সবার চেয়ে অনেক বেশি সময় অতিবাহিত হয়। আব্বেরা নিজেও জানে সে বাকি সবার চেয়ে একটু আলাদা। সবকিছুতেই তার যেন মনে হয় ময়লা লেগে আছে! তাকে বারবার জিনিসগুলো পরিষ্কার করতে হয়। যেকোনো কিছু তাকে অন্যদের থেকে বেশি যাচাই-বাছাই করতে হয়। গোসল করার সময়ও ব্যয় হয় সবার চেয়ে বেশি। এসব সমস্যার জন্য আগে সে বহুবার সাইকিয়াট্রিস্টের শরণাপন্ন হয়েছে। সে জানে তার রোগটির নাম অবসেসিভ-কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার। সব সময় যে সে খারাপ থাকে তা কিন্তু নয়, সে মাঝেমধ্যে ভালো থাকে, কখনো স্ট্রেস বাড়লে আবার কিছু সময়ের জন্য খারাপ হয়ে যায়। সে মাঝখানে কয়েক বছর ঔষধ খাচ্ছিল, এখন ঔষধ ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে অন্তরা যে সমস্যাটি নিয়ে আমাদের কাছে এসেছে, সেটি অবসসিভ-কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার নয়। ইদানিং করে গত এক মাস যাবৎ তার পরিবারের লোকজন লক্ষ করছে, অন্তরা অস্বাভাবিক চুপচাপ হয়ে গেছে। প্রশ্ন করলেও জবাব দিচ্ছে না বললেই চলে। সারাদিন সে শুয়ে থাকে, পড়াশোনা করছে না। খাবারের জন্য বারবার তাকে ডাকতে হচ্ছে। অন্তরাকে আগে প্রায়ই ছবি আঁকতে দেখা যেত, যা সে খুবই পছন্দ করত। কিন্তু গত ২০ দিন যাবৎ অন্তরাকে ছবি আঁকতেও দেখা যাচ্ছে না। অন্তরার এই পরিবর্তিত স্বভাব নিয়ে চিন্তিত হয়েই অন্তরার বাবা-মা তাকে সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে নিয়ে এসেছেন।

প্রশ্ন করে জানা গেল, অন্তরা আগের মতো আর কোনো কাজই আগ্রহ পায় না, এমনকি ছবি আঁকতেও! ইদানিং অধিকাংশ সময়ই তার মন খারাপ থাকে। আগের মতো আর সবকিছু পরিষ্কার করার এনার্জিও তার থাকে না। হতাশ কণ্ঠে বলে উঠল অন্তরা, ‘এই ধোয়া-মোছার রোগ তো আমার বহু বছর আগেরই। আগে কখনো এমন লাগেনি। এত মন খারাপ, এত হতাশা! ইদানিং মনে হয়, এই রোগ নিয়ে বেঁচে থাকার চাইতে মরে যাওয়াই ভালো।’

**চিকিৎসা**
আমরা আগেই বলেছি, যেকোনো চিকিৎসার প্রথম ধাপ হলো রোগ নির্ণয় করা। এরপর যদি সম্ভব হয়, আক্রান্ত ব্যক্তিকে, প্রয়োজনে তার পরিবারকেও সমস্যাগুলো বুঝিয়ে বলা। অন্তরা অবসসিভ-কম্পালসিভ ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত হলেও বর্তমানে অন্তরার সমস্যাটি আসলে বিষণ্ণতা। ওসিডি রোগে আক্রান্ত অনেকের মধ্যেই রোগের পাশাপাশি অথবা দীর্ঘদিন রোগ থাকার পরে বিষণ্ণতা দেখা যায়। যেহেতু অন্তরা তার বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে, তার বাবা-মা পরিবর্তিত আচরণ নিয়ে চিন্তিত। তাই আমরা প্রথমেই তাদেরকে অন্তরার রোগের বিষয়টি বুঝিয়ে বললাম। অন্তরাকে আমরা বিষণ্ণতার জন্য এমন ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা শুরু করেছি, যে ঔষধগুলো বিষণ্ণতার পাশাপাশি অবসসিভ-কম্পালসিভ ডিসঅর্ডারের চিকিৎসাতেও কাজ করে। বাকিদের মতো তাকেও একইভাবে স্বল্পমাত্রায় শুরু করে ধীরে ধীরে ঔষধ বাড়ানো হলো। তিন মাস নিয়মিত ঔষধ সেবনের পর সে আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ বোধ করছে।

অন্তরা অবসসিভ-কম্পালসিভ ডিসঅর্ডারের জন্য আগে সাইকিয়াট্রিস্টের শরণাপন্ন হলেও কখনো সাইকোথেরাপি গ্রহণ করেনি। কিন্তু ওসিডি রোগের গুরুত্বূর্ণ অংশ হচ্ছে সাইকোথেরাপি। আমরা অন্তরাকে এক মাস পর থেকেই নিয়মিত সাইকোথেরাপি প্রদান শুরু করি। ধাপে ধাপে তাকে আমরা রিলেক্সেশন ও সিবিটি (CBT)-সহ আরও কিছু থেরাপি প্রদান করে থাকি। আমরা তার স্ট্রেসগুলো থেকে বের হয়ে আসতে সাহায্য করি। যেমন, ওসিসিডির জন্য অন্তরা পড়াশোনা থেকে বেশ পিছিয়ে পড়েছিল, আমরা তাকে আবার পড়াশোনা শুরু করতে সাহায্য করি। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে সাহায্য করি। অন্তরা এখন ৬০% সুস্থ আছে। তবে তার চিকিৎসা এখনো চলছে। সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত ওষুধ সেবন করতে হবে এবং সাইকোথেরাপিও গ্রহণ করতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00