📘 ওভারকামিং ডিপ্রেশন > 📄 কেন কৃতজ্ঞ হবেন

📄 কেন কৃতজ্ঞ হবেন


আব্দার রবার্ট অ্যাশের ঘটনাটি কৃতজ্ঞতাবোধের এক অনবদ্য উদাহরণ। ভালো-খারাপ মিলিয়েই আমাদের জীবন। জীবনে কষ্ট আসেনি, এমন মানুষ দুনিয়াতে খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু কষ্টের মধ্যে আশার আলো ধরে রাখার জন্য আমাদের মনে কৃতজ্ঞতাবোধ খুব জরুরি। যেকোনো কিছু অর্জনের পর কেন জানি আমাদের প্রাপ্তিগুলোর আর সেই চাহিদা থাকে না, যা অর্জনের আগে ছিল। শূন্যতার হাহাকারে কেন জানি আমরা পূর্ণতার অনুভূতিটা ভুলে যাই। অথচ একসময় হয়তো সেই জিনিসটা পাবার জন্যই আমাদের কত হাহাকার ছিল।

হাদিসে বর্ণিত আছে, একবার হজরত মুহাম্মদ (সা.) ক্ষুধায় ঘরের বাইরে পায়চারি করছিলেন। তিনি দেখলেন, আবু বকর (রা.) এবং উমর (রা.) উভয়ই নিজ নিজ ঘরের বাইরে ক্ষুধার্ত অবস্থায় পায়চারি করছেন। তারা একত্রিত হয়ে ঠিক করলেন, তারা আনসারির বাসায় যাবেন। আনসারিরা একজন মেম্বারপাক এবং অপেক্ষাকৃত সচ্ছল...। আনসারি বাড়ি ফিরে তাদের তিনজনকে কিছু আধাপাকা খেজুর, ভেড়ার মাংস এবং পানি দিলেন। ভেড়ার মাংস ভক্ষণে তাদের ক্ষুধা নিবারণের পর, হজরত মুহাম্মদ (সা.) তখন আবু বকর (রা.) এবং উমর (রা.)-কে বলেন, কেয়ামতের দিন আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়ে তোমাদের প্রশ্ন করা হবে। এই বিষয়ে পবিত্র কুরআনের সুরা আত-তাকাস্সুরের অষ্টম আয়াতে আছে, 'নিশ্চয়ই তোমাদেরকে সেদিন (কেয়ামতের দিন) তোমাদের নিয়ামতের বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে।'

ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসীদের জন্য এটি একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ— এই কথাটি বোঝার জন্য যে, সৃষ্টিকর্তা কত ছোটো ছোটো নিয়ামতের বিষয়ে আমাদের প্রশ্ন করবেন। আর পৃথিবীতে আমরা কত বিশাল নিয়ামতের মধ্যে অবস্থান করি। কখনো ভেবে দেখেছেন, মানুষ হিসেবে একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করা সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য কত বড়ো নিয়ামত! আমাদের মধ্যে যাদের বাবা-মা বেঁচে আছেন, আমরা যারা সুস্থ আছি, হাত-পা-চোখ-নাক-কান-মুখ সবকিছু ভালো আছে— এটিও কি অনেক বড়ো নিয়ামত নয়? আমরা শেষ কবে আমাদের এসব নিয়ামতের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি, বলুন তো? আমরা না চাইতেই পৃথিবীতে এত কিছু পেয়ে যাচ্ছি, তাহলে কেন আমরা এমন মনে করি যে, চাইলে কিছু পাব না? অনেক সময় আমরা এমন কিছু আকাঙ্ক্ষা করি, যা ভবিষ্যতে আমাদের জন্য সুখ বয়ে নিয়ে আসবে না। যেহেতু আমরা ভবিষ্যৎ জানি না এবং সৃষ্টিকর্তা ভবিষ্যৎ দেখতেও পান, তাই হয়তোবা তিনি আমাদের চাহিদা মোতাবেক সবকিছু দেন না। জীবনের এমন পরিস্থিতিতে কৃতজ্ঞতাবোধ আমাদের ভালো রাখে।

📘 ওভারকামিং ডিপ্রেশন > 📄 কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে আচরণে পরিবর্তন আনা

📄 কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে আচরণে পরিবর্তন আনা


১. প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ডায়েরিতে এমন একটি জিনিস লিখতে হবে, যার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।
২. টানা এক মাস এভাবে লিখে ৩০টি জিনিস একত্রে পড়তে হবে।
৩. ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী হলে নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করে শুকরিয়া জানাতে হবে।

আজকে যদি আমরা আমাদের অর্জনের জন্য কৃতজ্ঞ না হই, তাহলে আগামী প্রাপ্তিকেও কখনো পর্যন্ত আনন্দ নিয়ে গ্রহণ করতে পারব না। ছোটো ছোটো জিনিস নিয়ে বর্তমানে সন্তুষ্টি প্রকাশ করা উচিত। কারণ, ভবিষ্যতে কোনো একদিন পেছনে ফিরে তাকালে নিঃসন্দেহে এ‍গুলোকে অনেক বড়ো মনে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00