📄 ক্ষমাশীলতার দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক
ক. ক্ষমা করার সময় এটি মনে রাখা খুবই জরুরি যে, ক্ষমার অর্থ এই নয়, আপনি সবকিছু ভুলে যাবেন। যে একবার আপনাকে কষ্ট দিয়েছে, হতে পারে সে ভবিষ্যতে আবার কষ্ট দেবে! কষ্ট থেকে সব সময় শিক্ষা গ্রহণ করা জরুরি। যদি আমরা কষ্টের অনুভূতিটা ভুলে যাই, তাহলে তার থেকে গৃহীত শিক্ষাও একসময় ভুলে যাব। কাগজের সব দাগ আপনি শত চেষ্টা করলেও সম্পূর্ণ মুছে ফেলতে পারবেন না, একইভাবে জীবনের সব ক্ষতও আপনি ভুলে যেতে পারবেন না। কিন্তু যেই দাগ সম্পূর্ণ মোছা যায় না, তার ওপরও আমরা নতুন কিছু লিখতে পারি। একইভাবে কোনো ক্ষতই যেন আমাদের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী হয়ে না থেকে যায়, আমরা যেন জীবনে এগিয়ে যেতে পারি আর নতুন কিছু তৈরি করতে পারি, এটাই আমাদের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।
খ. দ্বিতীয় যে বিষয়টি আমাদের মনে রাখতে হবে তা হলো, আপনি যতই ক্ষমাশীল হোন না কেন, এর অর্থ কখনোই এটি নয় যে, আপনি যেকোনো অত্যাচার বা নিপীড়ন মুখ বুজে সহ্য করে যাবেন। সব সময় মনে রাখবেন, নিপীড়নের বিরুদ্ধে আওয়াজ করা জরুরি, হোক তা শারীরিক, যৌন অথবা মানসিক নিপীড়ন। অনেক সময় আমরা এমন অনেক ব্যক্তিকে দেখি, যারা বহুকাল ধরে কর্মক্ষেত্রে, পরিবারে বা একান্ত ব্যক্তিজীবনে অত্যাচার সহ্য করে যাচ্ছেন। সাইকোলজিক্যালি যেকোনো কিছু মুখ বুজে সহ্য করা কখনোই ভবিষ্যতে মানসিক সুস্থতা বয়ে নিয়ে আসে না। এটির বহিঃপ্রকাশ ঘটে মাঝেমধ্যে নিজের ক্ষতির দ্বারা, কখনোবা অন্য কেউ অন্যায়ভাবে অত্যাচারিত হয় আমাদেরই দ্বারা। তাই কখনোই মনে বোঝা রাখা ভালো নয়।
এ কারণেই, শান্তভাবে এবং ধীরে ধীরে অবশ্যই সেই অত্যাচারের প্রতিবাদ করা উচিত। প্রয়োজন হলে অবশ্যই প্রফেশনাল ব্যক্তির সাহায্যের শরণাপন্ন হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।