📘 ওভারকামিং ডিপ্রেশন > 📄 ক্ষমা করে দেওয়ার উপকারিতা

📄 ক্ষমা করে দেওয়ার উপকারিতা


প্রথমত, মনে রাখা জরুরি যে, অন্যকে ক্ষমা করে দেওয়া আসলে আমাদের নিজেকে ভালো রাখে, যাকে ক্ষমা করে দিচ্ছি তাকে নয়। বলা হয়ে থাকে, পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী জিনিস হলো অন্যের প্রতি রাগ/ঘৃণা বয়ে বেড়ানো। এই রাগ/ক্রোধ/ঘৃণা/হিংসার ভার এতটাই বেশি যে, তা কখনোই একজন মানুষকে মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে দেয় না।

দ্বিতীয়ত, আমরা যদি শুধু ধর্মে বিশ্বাসী হয়ে থাকি, তাহলে ধর্মে বলা আছে, কেউ যদি আমাদের পেছনে বদনাম করে অথবা আমাদের বিরুদ্ধে কোনো বাজে মন্তব্য করে, তবে তার ভাগের ভালো কাজ বা পুণ্য আমাদের খাতায় চলে আসে। তাই পরোক্ষভাবে আসলে আমাদেরই লাভ হচ্ছে। তাহলে নিঃসন্দেহে আমাদের খুশি হওয়া উচিত এবং খুশি হয়ে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত।

তৃতীয়ত, আরেকজন মানুষ আমার সঙ্গে কেমন আচরণ করবে তা আসলে আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো কি না সেটা আমার নিয়ন্ত্রণে আছে। আমাদের প্রতি আরেকজনের আচরণ বা মন্তব্য আমাদের সংজ্ঞায়িত করে না, বরং আমরা যদি তাকে ক্ষমা করে দিই, তাহলে তা আমাদের সংজ্ঞায়িত করে।

চতুর্থত, প্রতিটি মানুষের জীবন ভিন্ন হতে পারে। আমাদের সঙ্গে একজন মানুষের খারাপ আচরণের কারণ তার যন্ত্রণাদায়ক অতীত, ভিন্ন মূল্যবোধ, শিক্ষার অভাব অথবা কোনো কষ্টদায়ক বর্তমান। তাই একজন মানুষকে না জেনে তার প্রতি আমাদের রাগ-ক্ষোভ ধরে রাখা উচিত নয়।

পঞ্চমত, ভালো থাকার জন্য আমাদের সব সময় উচিত যেকোনো মানুষকে বা পরিস্থিতিকে পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষণ করা, কিন্তু কখনোই কাউকে বিচার করা উচিত নয়। অন্য একজন মানুষকে ‘খারাপ’/‘স্টুপিড’ ইত্যাদি বলে ট্যাগ করা আমাদের নিজেদেরকে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং নিজেকেও সংজ্ঞায়িত করে।

এ ছাড়াও গবেষণায় দেখা যায়, বিষণ্ণতা, দুশ্চিন্তা ও স্ট্রেস কমানোর পাশাপাশি ক্ষমাশীলতা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক রোগের ঝুঁকি কমায়। সার্বিকভাবে দেখা যায়, যারা অপরকে ক্ষমা করতে পারেন, তারা দাম্পত্য জীবনে তুলনামূলক বেশি সুখী ও সফল হন।

📘 ওভারকামিং ডিপ্রেশন > 📄 ক্ষমাশীলতা বাড়ানোর উপায়

📄 ক্ষমাশীলতা বাড়ানোর উপায়


মানুষের মধ্যে ক্ষমাশীলতা বাড়ানোর জন্য আমরা যে বিষয়গুলো অনুশীলনে উৎসাহিত করি—

১. সেই মানুষটির কথা চিন্তা করুন, যার প্রতি আপনার অত্যন্ত রাগ/ক্ষোভ/ হিংসা বা ঘৃণা হচ্ছে, এবং যাকে আপনি ক্ষমা করতে পারছেন না।
২. মনে করুন, আপনি মাত্র খবরটি পেলেন যে, সেই মানুষটির খুব কাছের কেউ মারা গেছেন।
৩. মনে করুন, আপনি মাত্র শুনলেন যে, সেই মানুষটির স্ত্রী/স্বামী/মা/বাবা ভয়ংকর কোনো সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে।
৪. ধরুন, একজন আপনাকে বলল যে, সেই মানুষটির অত্যন্ত আপন কেউ ক্যান্সারের মতো ভয়ংকর কোনো দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত।
৫. তখন আপনি কী করবেন? তাকে একটি ফোন দেবেন? তার আত্মীয়দেরকে দেখতে হাসপাতালে যাবেন? তার সঙ্গে ভালোমতো হেসে একটু কথা বলবেন কি?
৬. এখন ধরুন, আরও খারাপ কিছু। যেই মানুষটার ওপর আপনার এত রাগ, সে মানুষটিই মারা গেলেন।
৭. এখন কী করবেন, তার মৃত্যুর পরে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে যাবেন?
৮. আচ্ছা, আপনার মনে কি তখন সামান্য একটু হলেও আফসোস হবে না? মনে হবে না, হয়তো তিনি বেঁচে থাকলে আপনাদের মধ্যকার সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারতেন। চাইলেই তাকে ক্ষমা করে দিতে পারতেন।
৯. চিন্তা করে দেখুন, তার সঙ্গে আপনার হয়তোবা আখিরাতে আবার দেখা হবে!
১০. এখন নিজেকে প্রশ্ন করুন তো, আসলেই কি একজন মানুষকে শুধু ক্ষমা করার জন্য উপরের কোনো একটি ঘটনা ঘটার দরকার আছে? আপনি কি চাইলেই তাকে এখনই ক্ষমা করে দিতে পারেন না?

📘 ওভারকামিং ডিপ্রেশন > 📄 ক্ষমাশীলতার দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক

📄 ক্ষমাশীলতার দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক


ক. ক্ষমা করার সময় এটি মনে রাখা খুবই জরুরি যে, ক্ষমার অর্থ এই নয়, আপনি সবকিছু ভুলে যাবেন। যে একবার আপনাকে কষ্ট দিয়েছে, হতে পারে সে ভবিষ্যতে আবার কষ্ট দেবে! কষ্ট থেকে সব সময় শিক্ষা গ্রহণ করা জরুরি। যদি আমরা কষ্টের অনুভূতিটা ভুলে যাই, তাহলে তার থেকে গৃহীত শিক্ষাও একসময় ভুলে যাব। কাগজের সব দাগ আপনি শত চেষ্টা করলেও সম্পূর্ণ মুছে ফেলতে পারবেন না, একইভাবে জীবনের সব ক্ষতও আপনি ভুলে যেতে পারবেন না। কিন্তু যেই দাগ সম্পূর্ণ মোছা যায় না, তার ওপরও আমরা নতুন কিছু লিখতে পারি। একইভাবে কোনো ক্ষতই যেন আমাদের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী হয়ে না থেকে যায়, আমরা যেন জীবনে এগিয়ে যেতে পারি আর নতুন কিছু তৈরি করতে পারি, এটাই আমাদের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।
খ. দ্বিতীয় যে বিষয়টি আমাদের মনে রাখতে হবে তা হলো, আপনি যতই ক্ষমাশীল হোন না কেন, এর অর্থ কখনোই এটি নয় যে, আপনি যেকোনো অত্যাচার বা নিপীড়ন মুখ বুজে সহ্য করে যাবেন। সব সময় মনে রাখবেন, নিপীড়নের বিরুদ্ধে আওয়াজ করা জরুরি, হোক তা শারীরিক, যৌন অথবা মানসিক নিপীড়ন। অনেক সময় আমরা এমন অনেক ব্যক্তিকে দেখি, যারা বহুকাল ধরে কর্মক্ষেত্রে, পরিবারে বা একান্ত ব্যক্তিজীবনে অত্যাচার সহ্য করে যাচ্ছেন। সাইকোলজিক্যালি যেকোনো কিছু মুখ বুজে সহ্য করা কখনোই ভবিষ্যতে মানসিক সুস্থতা বয়ে নিয়ে আসে না। এটির বহিঃপ্রকাশ ঘটে মাঝেমধ্যে নিজের ক্ষতির দ্বারা, কখনোবা অন্য কেউ অন্যায়ভাবে অত্যাচারিত হয় আমাদেরই দ্বারা। তাই কখনোই মনে বোঝা রাখা ভালো নয়।

এ কারণেই, শান্তভাবে এবং ধীরে ধীরে অবশ্যই সেই অত্যাচারের প্রতিবাদ করা উচিত। প্রয়োজন হলে অবশ্যই প্রফেশনাল ব্যক্তির সাহায্যের শরণাপন্ন হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00