📘 ওভারকামিং ডিপ্রেশন 📄 মানসিক সুস্থতার আটটি স্তম্ভ

📄 মানসিক সুস্থতার আটটি স্তম্ভ


একজনের জীবনে একেকটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হলেও সার্বিকভাবে বলা যায়, নিচের আটটি স্তম্ভ আমাদের সবার জীবনেই মানসিকভাব সুস্থ থাকার জন্য প্রয়োজন—

১. পেশা বা চাকরি
চাকরি মূলত আমাদের বাস্তবিক দিক থেকে ঠিক রাখতে সাহায্য করে। একজন মানুষের মানসিকতাকে সুস্থ রাখার জন্য সঠিক সময় ঘুম থেকে ওঠা এবং সঠিক সময় ঘুমিয়ে যাওয়া খুব জরুরি। নির্দিষ্ট একটি রুটিনমাফিক কিন্তু কাজ না করলে একজন মানুষের পক্ষে কখনোই সুব্যবস্থার অধিকারী হওয়া সম্ভব নয়। কারণ, গবেষণায় দেখা যায়, আমাদের রুটিন সরাসরিভাবে আমাদের মুডের ওপর প্রভাব ফেলে। কোনো কাজ ছোটো-বড়ো নয় এবং গুরুত্বই আমি অনেক আর করব— এমন মানসিকতার কোনো প্রয়োজন নেই। অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা আমাদেরকে মানসিকতাকে ভালো রাখে। এখানে আরেকটি মূখ্য বিষয় হলো— আপনি কিছু করছেন, সবার ক্ষেত্রেই বাইরের কাজ করা প্রয়োজন ব্যাপারটি এরকম নয়। ঘরের কাজে ব্যাঘাত থেকেও একটি নির্দিষ্ট রুটিন পালন করা সম্ভব।

২. জীবনের লক্ষ্য
ভালো থাকার জন্য জীবনের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকা আবশ্যক।
প্রথমত, খেয়াল করলে দেখবেন, আমাদের জীবনের লক্ষ্য অর্জনের চেয়েও আমরা বেশি আনন্দিত হই, যখন আমরা ছোটো ছোটো প্রাপ্তিগুলোকে স্বীকার করি। মানুষ হিসেবে আমরা এমনভাবে তৈরি, যাতে আমাদের ইতিবাচক অনুভূতি আর ভালোলাগাগুলো মূল লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে ছোটো ছোটো প্রাপ্তিগুলো ঘিরে তৈরি হয়।
দ্বিতীয়ত, কথায় আছে— 'জীবনের লক্ষ্য ছাড়া মানুষ আর নাবিক ছাড়া জাহাজ একই কথা' উভয়ই দিশাহীন। যখন আমাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থল জানা থাকে, তখন অনেক কটূ কথা, নিন্দা, সমালোচনা, অনেক কষ্টকর পথের কাঁটাও আমরা মুখ বুজে সহ্য করতে পারি। কিন্তু যদি আমাদের গন্তব্যস্থল না থাকে, তখন ছোটোখাটো সব সমস্যা অনেক বড়ো বলে মনে হয়।
তৃতীয়ত, জীবনের লক্ষ্য বলতে শুধু এমন কিছুই বোঝায় না যে, আমাদেরকে অনেক বড়ো কেউ হতে হবে। জীবনের লক্ষ্য হতে পারে, মানব সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া বা নিজের মধ্য থেকে ১০টি দোষকে গুণ রূপান্তরিত করব। আবার এমনও হতে পারে যে, আমি মানুষের মধ্যে যেকোনো পরিবর্তন আনার জন্য কাজ করব।
চতুর্থত, জীবনে চলার পথে এমনও হতে পারে আপনার লক্ষ্য পরিবর্তন হবে, তবু একটি লক্ষ্য নিয়ে বেঁচে থাকা জরুরি।

৫. বন্ধু
জীবনে সব সময় বন্ধু গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বন্ধুদের প্রয়োজন কেন একটু বেশিই বোঝা যায়, যখন বহন ভিন্নদের কোটা ছোঁয় তখন। এই সময়ের পর বন্ধুদের সঙ্গে সামান্য একটু সময় কাটানো, একসাথে বসে কথা বলা, একসাথে কোথাও ঘুরতে যাওয়া, নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, জীবনে অনেকটুকু স্বস্তি এনে দেয়। মানসিকতাকে সুস্থ রাখার জন্য জীবনের অনেক বন্ধুর কোনো প্রয়োজন নেই; বরং একজন বা দুজন ভালো বন্ধুই যথেষ্ট। তাই শত ব্যস্ততার মধ্যেও উচিত নিজের প্রয়োজনে বন্ধুদের কিছুটা সময় দেওয়া।

৪. দাম্পত্য সম্পর্ক
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ বছর ব্যাপী করা এক কোহর্ট গবেষণায় দেখা যায়, জীবনের শেষ বয়সে ভালো থাকার জন্য যে বিষয় সবচেয়ে মূল্যবান তা হলো— একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বিশ্বস্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। মানুষ আসলে একা থাকতে পারে না, একাকিত্ব মানসিক সমস্যা সৃষ্টির অন্যতম প্রধান একটি কারণ। আমাদের জীবনে এমন কাউকে সব সময় প্রয়োজন, যার সঙ্গে সব সময় মনের কথা বলা যায়, যার কাঁধে মাথা রেখে দুঃখ হালকা করা যায়। দাম্পত্যের মধ্যে ঝগড়া হতেই পারে, কিন্তু সম্পর্ক শেষ করার আগে আমাদের অবশ্যই সতর্ক হওয়া উচিত। কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডিভোর্সের পর মানুষ ভালো থাকে না, যদিও অল্প কিছু ক্ষেত্রে ডিভোর্সের প্রয়োজন হতে পারে। একইভাবে, দাম্পত্য শারীরিক সম্পর্ককেও হালকা করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। তাই আমাদের দাম্পত্যে সমস্যা থাকলে সেটা ঠিক করার জন্য আমাদের যথেষ্ট চেষ্টা করা উচিত। আশার কথা হলো, বেশির ভাগ দাম্পত্য সমস্যাই কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সমাধানযোগ্য।

৫. শরীর ও স্বাস্থ্য
কথায় আছে, 'সুস্থ মন বাস করে সুস্থ শরীরে।' তাই কারণও যদি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্টের মতো কোনো দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক রোগ থাকে, তাহলে অবশ্যই সে ব্যাপারে যত্নবান হওয়া উচিত। এই শারীরিক রোগগুলোর তরবারির মতো উভয়দিকে ধার। গবেষণায় দেখা যায়, দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক রোগ সরাসরি বিষণ্নতার কারণ, আর শরীর নিয়ন্ত্রণে না থাকার ফলে ব্যক্তির মনোবলও দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই অবশ্যই নিয়মিত হাঁটা, পরিমিত খাদ্য গ্রহণ ও নিজের শারীরিক রোগগুলো নিয়ন্ত্রণাধীন রাখা পরোক্ষভাবে মানসিক সুস্থাস্থ্য নিশ্চিত করে।

৬. আসক্তি দূরীকরণ
আসক্তি বললেই আমাদের মাথায় প্রথমেই গাঁজা, ইয়াবা— এমন নেশাদ্রব্য সেবনের কথা আসে। আচরণগত আসক্তিগুলো যেন পেছনেই পড়ে রয়। কিন্তু এরকম নেশাদ্রব্য সেবন যেমন মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভয়ংকর তেমনি মারাত্মক আচরণগত আসক্তিগুলোও। বর্তমানের গবেষণাগুলোতে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, পর্নোগ্রাফি অ্যাডিকশনের মতো আচরণ আসক্তিগুলো সরাসরি আমাদের মস্তিষ্কের গঠনগত পরিবর্তন করে। যার ফলে নানা মানসিক রোগ সৃষ্টি হয়।
পর্নোগ্রাফি অ্যাডিকশন ছাড়াও অতিরিক্ত স্মার্টফোন আসক্তি, ভিডিও গেমিং আসক্তি, সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি সবগুলোই আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

৭. দ্বিতীয় জীবন
আমাদের প্রত্যেকের পারিবারিক ও পেশাগত জীবনের বাইরে অবশ্যই একটি দিক থাকা জরুরি, যেখানে আমি শুধু আমার নিজের জন্য কিছু করব। আমার ভালো লাগার কাজটি করব এবং সেখান থেকে নতুন জীবনীশক্তি পাওয়া সম্ভব। এটাকে আমরা বলে থাকি সেকেন্ড লাইফ বা দ্বিতীয় জীবন। কারও ছবি আঁকতে ভালো লাগে, কেউ আরাধনা করে, কেউ খেলাধুলা করতে পছন্দ করেন, কেউ আবার বাগান করার মাধ্যমে জীবনীশক্তি ফিরে পান, শত ব্যস্ততার মধ্যে হলেও নিজের ভালো থাকার জন্য এবং পারিবারিক ও পেশাগত জীবনে উন্নতির জন্য এই দিকগুলোকে লালন করা উচিত।

৮. অভ্যাস সংশোধন
ক. ঘুম: মানবজীবনে ঘুমের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে বলার আর কিছু নেই। একটি গবেষণায় দেখা যায়, পৃথিবীতে সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০ জন রাষ্ট্রপতি, ১০ জন লেখক এবং ১০ জন ব্যবসায়ীর সবাই সকাল পাঁচটা থেকে সাতটার মধ্যে ঘুম থেকে ওঠেন। আমাদের বায়োলজিক্যাল ক্লক পালন করা সুস্থ থাকার জন্য আবশ্যক।
খ. ব্যায়াম করা: সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ মিনিট ব্যায়াম করার পরে একজন মানুষ শুধু শারীরিকভাবে সুস্থ থাকে না, বরং তার মানসিক সুস্থতাও অনেকখানি এগিয়ে যায়। ব্যায়ামের ফলে আমাদের মস্তিষ্কে সেরোটনিন, এনডোরফিন নিঃসরণ হয়, যা বিষণ্ণতা দূরীকরণে সাহায্য করে। তাই যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন, অন্তত আধাঘণ্টা হাঁটা, সাঁতার কাটা, সাইক্লিং বা দৌড়ানোর অভ্যাস করুন।
৬. পরিমিত খাদ্য গ্রহণ: আমাদের জীবনে রুটিনমাফিক উপযুক্ত খাদ্য গ্রহণকে আমরা অবহেলা করে থাকি। অথচ সামান্য ক্যাফেইন গ্রহণ কমিয়ে বা অন্য নানা খাওয়ার অভ্যাস গঠন করলেই দুশ্চিন্তা অনেকখানি কমানো যায়। এভাবে উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয় খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে বিষণ্নতাকে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

একজনের জীবনে একেকটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হলেও সার্বিকভাবে বলা যায়, নিচের আটটি স্তম্ভ আমাদের সবার জীবনেই মানসিকভাব সুস্থ থাকার জন্য প্রয়োজন—

১. পেশা বা চাকরি
চাকরি মূলত আমাদের বাস্তবিক দিক থেকে ঠিক রাখতে সাহায্য করে। একজন মানুষের মানসিকতাকে সুস্থ রাখার জন্য সঠিক সময় ঘুম থেকে ওঠা এবং সঠিক সময় ঘুমিয়ে যাওয়া খুব জরুরি। নির্দিষ্ট একটি রুটিনমাফিক কিন্তু কাজ না করলে একজন মানুষের পক্ষে কখনোই সুব্যবস্থার অধিকারী হওয়া সম্ভব নয়। কারণ, গবেষণায় দেখা যায়, আমাদের রুটিন সরাসরিভাবে আমাদের মুডের ওপর প্রভাব ফেলে। কোনো কাজ ছোটো-বড়ো নয় এবং গুরুত্বই আমি অনেক আর করব— এমন মানসিকতার কোনো প্রয়োজন নেই। অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা আমাদেরকে মানসিকতাকে ভালো রাখে। এখানে আরেকটি মূখ্য বিষয় হলো— আপনি কিছু করছেন, সবার ক্ষেত্রেই বাইরের কাজ করা প্রয়োজন ব্যাপারটি এরকম নয়। ঘরের কাজে ব্যাঘাত থেকেও একটি নির্দিষ্ট রুটিন পালন করা সম্ভব।

২. জীবনের লক্ষ্য
ভালো থাকার জন্য জীবনের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকা আবশ্যক।
প্রথমত, খেয়াল করলে দেখবেন, আমাদের জীবনের লক্ষ্য অর্জনের চেয়েও আমরা বেশি আনন্দিত হই, যখন আমরা ছোটো ছোটো প্রাপ্তিগুলোকে স্বীকার করি। মানুষ হিসেবে আমরা এমনভাবে তৈরি, যাতে আমাদের ইতিবাচক অনুভূতি আর ভালোলাগাগুলো মূল লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে ছোটো ছোটো প্রাপ্তিগুলো ঘিরে তৈরি হয়।
দ্বিতীয়ত, কথায় আছে— 'জীবনের লক্ষ্য ছাড়া মানুষ আর নাবিক ছাড়া জাহাজ একই কথা' উভয়ই দিশাহীন। যখন আমাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থল জানা থাকে, তখন অনেক কটূ কথা, নিন্দা, সমালোচনা, অনেক কষ্টকর পথের কাঁটাও আমরা মুখ বুজে সহ্য করতে পারি। কিন্তু যদি আমাদের গন্তব্যস্থল না থাকে, তখন ছোটোখাটো সব সমস্যা অনেক বড়ো বলে মনে হয়।
তৃতীয়ত, জীবনের লক্ষ্য বলতে শুধু এমন কিছুই বোঝায় না যে, আমাদেরকে অনেক বড়ো কেউ হতে হবে। জীবনের লক্ষ্য হতে পারে, মানব সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া বা নিজের মধ্য থেকে ১০টি দোষকে গুণ রূপান্তরিত করব। আবার এমনও হতে পারে যে, আমি মানুষের মধ্যে যেকোনো পরিবর্তন আনার জন্য কাজ করব।
চতুর্থত, জীবনে চলার পথে এমনও হতে পারে আপনার লক্ষ্য পরিবর্তন হবে, তবু একটি লক্ষ্য নিয়ে বেঁচে থাকা জরুরি।

৫. বন্ধু
জীবনে সব সময় বন্ধু গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বন্ধুদের প্রয়োজন কেন একটু বেশিই বোঝা যায়, যখন বহন ভিন্নদের কোটা ছোঁয় তখন। এই সময়ের পর বন্ধুদের সঙ্গে সামান্য একটু সময় কাটানো, একসাথে বসে কথা বলা, একসাথে কোথাও ঘুরতে যাওয়া, নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, জীবনে অনেকটুকু স্বস্তি এনে দেয়। মানসিকতাকে সুস্থ রাখার জন্য জীবনের অনেক বন্ধুর কোনো প্রয়োজন নেই; বরং একজন বা দুজন ভালো বন্ধুই যথেষ্ট। তাই শত ব্যস্ততার মধ্যেও উচিত নিজের প্রয়োজনে বন্ধুদের কিছুটা সময় দেওয়া।

৪. দাম্পত্য সম্পর্ক
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ বছর ব্যাপী করা এক কোহর্ট গবেষণায় দেখা যায়, জীবনের শেষ বয়সে ভালো থাকার জন্য যে বিষয় সবচেয়ে মূল্যবান তা হলো— একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বিশ্বস্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। মানুষ আসলে একা থাকতে পারে না, একাকিত্ব মানসিক সমস্যা সৃষ্টির অন্যতম প্রধান একটি কারণ। আমাদের জীবনে এমন কাউকে সব সময় প্রয়োজন, যার সঙ্গে সব সময় মনের কথা বলা যায়, যার কাঁধে মাথা রেখে দুঃখ হালকা করা যায়। দাম্পত্যের মধ্যে ঝগড়া হতেই পারে, কিন্তু সম্পর্ক শেষ করার আগে আমাদের অবশ্যই সতর্ক হওয়া উচিত। কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডিভোর্সের পর মানুষ ভালো থাকে না, যদিও অল্প কিছু ক্ষেত্রে ডিভোর্সের প্রয়োজন হতে পারে। একইভাবে, দাম্পত্য শারীরিক সম্পর্ককেও হালকা করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। তাই আমাদের দাম্পত্যে সমস্যা থাকলে সেটা ঠিক করার জন্য আমাদের যথেষ্ট চেষ্টা করা উচিত। আশার কথা হলো, বেশির ভাগ দাম্পত্য সমস্যাই কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সমাধানযোগ্য।

৫. শরীর ও স্বাস্থ্য
কথায় আছে, 'সুস্থ মন বাস করে সুস্থ শরীরে।' তাই কারণও যদি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্টের মতো কোনো দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক রোগ থাকে, তাহলে অবশ্যই সে ব্যাপারে যত্নবান হওয়া উচিত। এই শারীরিক রোগগুলোর তরবারির মতো উভয়দিকে ধার। গবেষণায় দেখা যায়, দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক রোগ সরাসরি বিষণ্নতার কারণ, আর শরীর নিয়ন্ত্রণে না থাকার ফলে ব্যক্তির মনোবলও দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই অবশ্যই নিয়মিত হাঁটা, পরিমিত খাদ্য গ্রহণ ও নিজের শারীরিক রোগগুলো নিয়ন্ত্রণাধীন রাখা পরোক্ষভাবে মানসিক সুস্থাস্থ্য নিশ্চিত করে।

৬. আসক্তি দূরীকরণ
আসক্তি বললেই আমাদের মাথায় প্রথমেই গাঁজা, ইয়াবা— এমন নেশাদ্রব্য সেবনের কথা আসে। আচরণগত আসক্তিগুলো যেন পেছনেই পড়ে রয়। কিন্তু এরকম নেশাদ্রব্য সেবন যেমন মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভয়ংকর তেমনি মারাত্মক আচরণগত আসক্তিগুলোও। বর্তমানের গবেষণাগুলোতে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, পর্নোগ্রাফি অ্যাডিকশনের মতো আচরণ আসক্তিগুলো সরাসরি আমাদের মস্তিষ্কের গঠনগত পরিবর্তন করে। যার ফলে নানা মানসিক রোগ সৃষ্টি হয়।
পর্নোগ্রাফি অ্যাডিকশন ছাড়াও অতিরিক্ত স্মার্টফোন আসক্তি, ভিডিও গেমিং আসক্তি, সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি সবগুলোই আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

৭. দ্বিতীয় জীবন
আমাদের প্রত্যেকের পারিবারিক ও পেশাগত জীবনের বাইরে অবশ্যই একটি দিক থাকা জরুরি, যেখানে আমি শুধু আমার নিজের জন্য কিছু করব। আমার ভালো লাগার কাজটি করব এবং সেখান থেকে নতুন জীবনীশক্তি পাওয়া সম্ভব। এটাকে আমরা বলে থাকি সেকেন্ড লাইফ বা দ্বিতীয় জীবন। কারও ছবি আঁকতে ভালো লাগে, কেউ আরাধনা করে, কেউ খেলাধুলা করতে পছন্দ করেন, কেউ আবার বাগান করার মাধ্যমে জীবনীশক্তি ফিরে পান, শত ব্যস্ততার মধ্যে হলেও নিজের ভালো থাকার জন্য এবং পারিবারিক ও পেশাগত জীবনে উন্নতির জন্য এই দিকগুলোকে লালন করা উচিত।

৮. অভ্যাস সংশোধন
ক. ঘুম: মানবজীবনে ঘুমের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে বলার আর কিছু নেই। একটি গবেষণায় দেখা যায়, পৃথিবীতে সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০ জন রাষ্ট্রপতি, ১০ জন লেখক এবং ১০ জন ব্যবসায়ীর সবাই সকাল পাঁচটা থেকে সাতটার মধ্যে ঘুম থেকে ওঠেন। আমাদের বায়োলজিক্যাল ক্লক পালন করা সুস্থ থাকার জন্য আবশ্যক।
খ. ব্যায়াম করা: সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ মিনিট ব্যায়াম করার পরে একজন মানুষ শুধু শারীরিকভাবে সুস্থ থাকে না, বরং তার মানসিক সুস্থতাও অনেকখানি এগিয়ে যায়। ব্যায়ামের ফলে আমাদের মস্তিষ্কে সেরোটনিন, এনডোরফিন নিঃসরণ হয়, যা বিষণ্ণতা দূরীকরণে সাহায্য করে। তাই যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন, অন্তত আধাঘণ্টা হাঁটা, সাঁতার কাটা, সাইক্লিং বা দৌড়ানোর অভ্যাস করুন।
৬. পরিমিত খাদ্য গ্রহণ: আমাদের জীবনে রুটিনমাফিক উপযুক্ত খাদ্য গ্রহণকে আমরা অবহেলা করে থাকি। অথচ সামান্য ক্যাফেইন গ্রহণ কমিয়ে বা অন্য নানা খাওয়ার অভ্যাস গঠন করলেই দুশ্চিন্তা অনেকখানি কমানো যায়। এভাবে উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয় খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে বিষণ্নতাকে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px