📄 আমারই কেন বিষণ্ণতা হবে!
থেরাপিস্ট: আপনার কাছে কেন মনে হয়, আপনি বিষণ্ণ হতেই পারেন না?
মি.সা.: অনেকের জীবনেই তো সমস্যা থাকে, কারও তো বিষণ্ণতা হচ্ছে না, আমারই কেন?
থেরাপিস্ট: আচ্ছা, আপনি কি জানেন, পৃথিবীতে কত শতাংশ মানুষ বিষণ্ণতায় ভোগে?
মি.সা.: না, খুবই কম হবে নিশ্চয়ই।
থেরাপিস্ট: মোটেই নয়। প্রতি ১০০ জনে প্রায় ২০ জন মানুষ জীবনে কোনো না কোনো সময় বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হন।
মি.সা.: তাই! তাহলে তো আমি একা নই। তবুও...
থেরাপিস্ট: আপনি কি জানেন, পরিবারে বিষণ্ণতা থাকলে আপনার বিষণ্ণতা হওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
মি.সা.: ওহ্, আমার মায়ের তো বিষণ্ণতা ছিল।
থেরাপিস্ট: জি, এটি আপনার বিষণ্ণতার ঝুঁকি বাড়ায়। আচ্ছা বলুন তো বিগত কিছু দিনের কোনো ঘটনা কি আপনাকে খুব কষ্ট দিচ্ছে?
মি.সা.: আসলে, স্বামী মারা যাবার পর থেকে আমার কিছু ভালো লাগছে না, এরপর আমার চাকরিটা চলে গেছে।
থেরাপিস্ট: তাহলে আপনার জীবনে বিষণ্ণ হবার মতো অনেক ঘটনাই ঘটেছে, কেন বলছেন আপনি বিষণ্ণ হতে পারেন না?
মি.সা.: হুম, তা ঠিক। আমি সব সময়ই অসুস্থ থাকব। (I will always be like this.)
থেরাপিস্ট: আচ্ছা, আপনি যে বলছেন, আপনার অবস্থার কখনোই উন্নতি হবে না। এর পেছনে আপনার যুক্তি কী?
মি.সা.: যুক্তি নেই, আমার মনে হচ্ছে আমি আর সুস্থ হব না।
থেরাপিস্ট: আমাদের কাছে কি কোনো জাদুর বল আছে, যার মাধ্যমে আমরা ভবিষ্যৎ দেখতে পাই, বলুন?
মি.সা.: না, তা ঠিক না, কিন্তু...
থেরাপিস্ট: আপনি কি জানেন, বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী, যেকোনো বিষণ্ণতা তিন থেকে ছয় মাস পর ভালো হয়ে যায়।
মি.সা.: তাই!
থেরাপিস্ট: আপনি তো আগেও বিষণ্ণ হয়েছিলেন, তখন কী হয়েছিল বলুন তো?
মি.সা.: আমি পাঁচ-ছয় মাস পর সুস্থ হয়ে গিয়েছিলাম।
থেরাপিস্ট: আমরাও এটাই বলছিলাম। তাহলে দেখা যাচ্ছে আপনি ভালো হবেন না, এটা সত্যি নয়। আর এই চিন্তা কি আপনাকে কোনোভাবে সাহায্য করছে?
মি.সা.: না, বরং এই চিন্তা আমাকে আরও হতাশ করে ফেলছে।
থেরাপিস্ট: এই জন্যই এই চিন্তা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।
মি.সা.: জি, আপনি ঠিকই বলেছেন।