📄 বিষণ্ণতা ও অন্যান্য রোগ দূরীকরণ
আমরা আগের অধ্যায়গুলোতে আলোচনা করেছি, বিষণ্ণতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ হলো ঘুমের সমস্যা। এখন যদি আপনার অনিদ্রার কারণ ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে ডিপ্রেশনের চিকিৎসা না করে শুধু এই কৌশলগুলো মেনে আপনার ঘুমের সমস্যা দূর হবে না। সেক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধের সাহায্যে বিষণ্ণতাকে দূর করতে হবে। তার ফলে তিন থেকে ছয় সপ্তাহ লাগতে পারে, কিন্তু কোনো ঘুমের ওষুধ ছাড়াই আপনার ঘুমের সমস্যা দূর হয়ে যাবে। অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টগুলো কিন্তু ঘুমের ওষুধ নয়। এগুলো ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন ঠিক করার মাধ্যমে আপনার ঘুমের সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
আপনার বিষণ্ণতার পেছনে আপনার জীবনের ছোটো-বড়ো স্ট্রেস থাকতে পারে। যেমন: ব্যবসার বড়ো কোনো ঋণ, পারিবারিক বা অন্যকোনো চাপ ইত্যাদি। এক্ষেত্রে স্ট্রেস হলো আপনার অনিদ্রার কারণ। তাই ঘুমের জন্য সাইকোথেরাপির সাহায্য বা আপনার নিজেকে স্ট্রেস সমাধান করতে হবে।
বিষয়তা ব্যতীত দুশ্চিন্তাজনিত অবসাদগ্রস্ত-কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার, সিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার মুড ডিসঅর্ডারসহ বিভিন্ন মানসিক রোগে ঘুমের সমস্যা হয়ে থাকে। এসব ক্ষেত্রে আপনার রোগের চিকিৎসা না করা পর্যন্ত ঘুমের সমস্যা দূর না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ঘুমের সমস্যা নিয়ে নানা রোগ হয়ে থাকে। এর মধ্যে খুবই সাধারণ কিছু হলো— স্লিপ অ্যাপনিয়া, ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, দুঃস্বপ্নজনিত রোগ স্লিপ ওয়াকিং বা ঘুমের মধ্যে হাঁটা, স্লিপ টেরর ইত্যাদি। এগুলোর কোনো সমস্যা যদি আপনার থেকে থাকে অবশ্যই চিকিৎসা করা জরুরি।
📄 ঘুমের ওষুধসমূহ
বাজারে মুড়ি-মুড়কির মতো বিক্রি হয় ঘুমের ওষুধ। আমরা চিকিৎসকেরা যেগুলোকে বলি ‘বেনজোডায়াজেপিন’ বা ‘বারবিচুরেট’ গ্রুপের ওষুধ। আপনাদের কাছে যা পরিচিত ‘রিওট্রিল’, ‘ডরমিকাম’, ‘সেডিল’, ‘মায়েলাম’, ‘পেস’, ‘ডায়াপাম’, ‘লেক্সিল’, ‘বারবিট’ সব নামে। ওষুধগুলো এতই সাধারণ হয়ে পড়েছে যে, হয়তোবা আপনি নিজে কখনো সেবন করেছেন বা আপনার বাসায় কেউ সেবন করেছে কিংবা আশপাশে কারও হাতে দেখেছেন। যদি প্রশ্ন করি, এসব ওষুধ আপনি কতটুকু জানেন? বিশ্বাস করুন, এই ওষুধগুলো শুধু ভয়ংকর নয়, যেকোনো নেশাদ্রব্যের মতোই আমাদের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘ সময় এসব ঘুমের ওষুধ সেবনের ফলে শারীরিক ও মানসিক উভয় ধরনের সমস্যা তো হয়ই, এমনকি এসব ওষুধ হঠাৎ করে ছেড়ে দেওয়ার ফলে আপনার খিঁচুনি পর্যন্ত হতে পারে। তাই কখনোই এই ওষুধগুলো চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত সেবন করবেন না।
* ওষুধগুলো কখনোই এক মাসের বেশি সেবন করবেন না।
* যদি আপনি দীর্ঘ সময় যাবৎ যেকোনো ঘুমের ওষুধ সেবন করে থাকেন, তবে অবশ্যই একজন সাইকিয়াট্রিস্টের পরামর্শ নিয়ে ধীরে ধীরে বন্ধ তা করার ব্যবস্থা করুন।
বলে রাখা ভালো, অনেক সময় আমরা চিকিৎসকেরা অনেক প্রবীণ (৫০/৬০ বছরের বেশি) ব্যক্তির বেলায় ঘুমের ওষুধগুলো দীর্ঘদিন প্রেসক্রাইব করে থাকি, কিন্তু একজন তরুণের বেলায় এটা কখনোই প্রযোজ্য নয়। আমি সব সময়ই বলি, ঘুম মূল্যবান। আসলে কতটুকু মূল্যবান, সেটি সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারেন নিঃসন্দেহে একজন অনিদ্রায় আক্রান্ত ব্যক্তি।