📄 আত্মহত্যার প্রবণতা দেখলে করণীয়
আমরা অনেকেই মনে করি, পুরুষের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা কম। আবার বর্তমানে বিপুলসংখ্যক টিনএজারের মধ্যে আত্মহত্যা প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। তাই দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমাদের অবশ্যই জানতে হবে, আমার বা আমার আশপাশের একজন ব্যক্তির মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বা এমন চিন্তা লক্ষ করলে প্রাথমিকভাবে এই কাজগুলো আমরা করতে পারি—
**কাছের কাউকে জানানো**
একজন ব্যক্তির মধ্যে আত্মহত্যার চিন্তা এলে যদি আমরা কেউ তা ধারণা করে থাকি বা জেনে থাকি, তবে মনে রাখতে হবে, এক্ষেত্রে তার কথার গোপনীয়তা রক্ষা করা জরুরি নয়। তার আপনজন বা পরিবারের কাউকে অবশ্যই জানাতে হবে, সেই ব্যক্তির মধ্যে আত্মহত্যা প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সম্ভব হলে এমন কাউকে জানাতে হবে, যাকে ওই ব্যক্তি বিশ্বাস করেন এবং যার কাছে ওই ব্যক্তির মূল্য আছে। একজন সাইকোথেরাপিস্ট বা সাইকোথেরাপিস্ট হিসেবেও আমরা অবশ্যই তার কাছের কাউকে এ বিষয়টি জানাই। কারণ, তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক একজন মানুষ থাকা জরুরি, তা কাছের কেউ হওয়াই সুবিধাজনক।
**সময় দেওয়া**
এদের জন্য আপনার সহমর্মিতা এবং নন-জাজমেন্টাল আচরণ সবচেয়ে মূল্যবান। আপনার আপনজনদের কারও মধ্যে আত্মহত্যায় ইচ্ছা দেখে থাকলে অবশ্যই তাকে কিছুক্ষণ সময় দিন। তার পাশে গিয়ে বসুন। একজন বন্ধু বা কাছের মানুষের মতো তার কষ্টগুলোকে বোঝার চেষ্টা করুন। তাকে কথা বলতে দিন। অনেক সময় কথা বললে মানুষ অনেক হালকা বোধ করে। এতে মনের কষ্ট অনেকটাই কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা আত্মহত্যার মতো সিদ্ধান্ত নেন, তাদের অধিকাংশই মনে করেন তারা অবহেলিত।
**মনোযোগ দিয়ে শোনা**
সব সময় সামনের মানুষটির কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করুন। কথা বলার চাইতে কথা শোনা কিন্তু সব সময়ই কষ্টকর। যখন কেউ আপনাকে তার কষ্টের কথা বলবেন, হতেই পারে আপনার কাছে মনে হচ্ছে ব্যাপারটিতে তেমন কোনো কষ্ট নেই। অথবা আপনার কাছে মনে হচ্ছে এই ঘটনা থেকে তো সহজেই উঠে আসা সম্ভব। তবু তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করুন। তাকে বোঝান, তার প্রতি আপনার পূর্ণ মনোযোগ আছে এবং তার কথাগুলো নিয়ে আপনি ভাবছেন। মনে রাখবেন, প্রত্যক্ষভাবে কারও কথা শোনা কিন্তু একটি শিল্প।
**পেশাদার ব্যক্তির সাহায্য গ্রহণ**
আমরা সব সময়ই খেয়াল রাখব যেন এমন ব্যক্তিদের আমরা হুট করে কোনো উপদেশ না দিই। প্রথমত, আমরা নিজেরা সব সময় সঠিক উপদেশ দিতে পারি না। দ্বিতীয়ত, অনেক সময় আমরা সঠিক উপদেশ দিলেও মানসিক অস্থিরতার কারণে তারা ভুল ভেবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারেন। তাই আমরা সব সময়ই চেষ্টা করব তাকে যেকোনো পেশাদার ব্যক্তির সাহায্য নিতে উৎসাহ প্রদান করার।
**সতর্ক থাকা**
আমরা যদি জেনে থাকি পূর্বে কারও আত্মহত্যার প্রবণতা ছিল অথবা পূর্বে সে কখনো আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে, তবে সব সময়ই তার ব্যবহারের প্রতি সতর্ক থাকতে হবে। এমনকি যখন তার অবস্থা উন্নতির দিকে থাকবে, তখনও মাঝেমধ্যে সে ব্যক্তির খোঁজ নেওয়া কিংবা সে কেমন আছে জিজ্ঞেস করা বা তার উপসর্গগুলো কতটুকু কমেছে তা জানা ও খেয়াল রাখা জরুরি। তবে সতর্ক থাকতে হবে, আপনার সহমর্মিতাকে যেন সে নজরদারি মনে না করে, সেটাকে মানসিক চাপ হিসেবে গণ্য না করে।
**অভিজ্ঞ ব্যক্তির শরণাপন্ন হওয়া**
আত্মহত্যার চিন্তা আসে এমন ব্যক্তির নিঃসন্দেহে প্রফেশনাল সাহায্য প্রয়োজন। তাই এমন কেউ আমাদের আশপাশে থাকলে অবশ্যই তাকে একজন সাইকিয়াট্রিস্টের শরণাপন্ন হতে উৎসাহিত করতে হবে। কারণ, অনেক সময়ই মানুষের জীবনে স্ট্রেস ছাড়াও মানসিক রোগের কারণে আত্মহত্যা প্রবণতা হতে পারে, যা নির্ণয় ও সমাধানে একজন অভিজ্ঞ প্রফেশনাল ব্যক্তি প্রয়োজন। আমাদের সামান্য সতর্কতা এবং বাড়তি সচেতনতা অধিকাংশ ব্যক্তিকেই ফিরিয়ে আনতে পারে আত্মহত্যার মতো ভয়ংকর ফাঁদ থেকে।