📘 ওভারকামিং ডিপ্রেশন > 📄 ক্লায়েন্ট ফ্যাক্টরস (Client Factors)

📄 ক্লায়েন্ট ফ্যাক্টরস (Client Factors)


বিষয়টার চিকিৎসায় যে সব সময় চিকিৎসকের পক্ষ থেকেই ত্রুটি থাকবে, এমনটি কিন্তু কখনোই নয়। বরং প্রায়শই দেখা যায়, আমাদের সেবা গ্রহীতা বা ক্লায়েন্টের দিক থেকে এমন কিছু আচরণ, মানসিকতা কিংবা ব্যবহার লক্ষ করা যায়। যার কারণে, মূলত ভুক্তভোগী হয় আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেই। মূল যে বিষয়গুলো ক্লায়েন্টের ক্ষেত্রে দেখা যায়—

১. ডায়াগনোসিসের গুরুত্ব অনুধাবন করতে না পারা
প্রতিটি রোগের চিকিৎসা বিষয়ে একজন সাইকিয়াট্রিস্টের চিকিৎসা পরিকল্পনা থাকে। আপনি হয়তোবা মনে করবেন, একবার ডাক্তারের কাছে গেলেই রোগ ভালো হয়ে যাবে। কিংবা ডাক্তার আপনার সম্পূর্ণ কথা শুনতে পারবেন। কিন্তু বাস্তবিকভাবে আসলে সম্ভব নয়। বরং এর চেয়ে প্রথম দিনে আপনার রোগ নির্ণয়ের চেষ্টা করা, আপনার চিকিৎসা পদ্ধতি সম্বন্ধে একটি পরিকল্পনা করা বেশি জরুরি। একজন ক্লায়েন্টকেও সাইকিয়াট্রিস্টের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে বিষয়টি বুঝতে হবে।

২. ঔষধনীতি, অজ্ঞতা ও অনিয়মিত সেবন
আমরা অনেকেই প্রয়োজন হলেও ঔষধ খেতে চাই না কিংবা ভয় পাই, আবার ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জানা না থাকার কারণে একটা অনিশ্চয়তায় ভুগি যে, আমার কোনো ক্ষতি হচ্ছে কি না। এসব কারণে অনেকেই বিশ্বস্ততার ঔষধগুলো সঠিক সময়ে, সঠিক নিয়মে বা নিয়মিত সেবন করেন না। যার ফলে আপনি মাঝেমাঝে ঔষধ খাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু আপনার বিশ্বস্ততার তেমন কোনো উন্নতি হচ্ছে না।

৩. মানসিকতা
অনেক ক্লায়েন্টের মানসিকতা এমন থাকে যে, সবকিছুর দ্রুত সমাধান চান। আসলে বিশ্বস্ততা এমন কোনো রোগ নয়, যা আপনি দ্রুত কয়েক দিনের মধ্যেই সমাধান করে ফেলতে পারবেন। এর জন্য আপনার ধৈর্যধারণ করতে হবে। ত্বরিত সমাধানের মানও বেশির ভাগ সময় ভালো হয় না। মানুষের মধ্যে আরেকটি মানসিকতা আমি দেখেছি। মানসিক স্বাস্থ্যের পেছনে তারা ব্যয় করতে চান না। তারা দামি জামা-কাপড় পরবেন, অনেক দামি স্মার্টফোন ব্যবহার করবেন; যখনই খরচটা মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্য হবে, তখন তারা পিছিয়ে যেতে থাকবেন; যদিও কোনো অর্থই মানসিক স্বাস্থ্যের তুলনায় মূল্যবান না। এ কারণে অনেক সময় বিশ্বস্ততা ভালো হতে চায় না। আবার আপনার যদি এমন মানসিকতা থেকে থাকে যে, একজন সাইকিয়াট্রিস্টের সেবার মান বা পদ্ধতি আপনার ভালো লাগেনি বলে সব সাইকিয়াট্রিস্ট বা কারও ঔষধ খেয়েই আপনি ভালো হবেন না, তাহলে এমন চিন্তা আপনার সুস্থতার পথে অন্তরায়।

৪. ব্যক্তিত্বের ত্রুটি
অনেকের ব্যক্তিত্বের মধ্যেই অতিরিক্ত রাগ, জেদ, অহংকার এবং অন্যের প্রশংসা পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা দেখা যায়। যদি এরূপ ব্যক্তিত্বের থেকে আপনি বের হয়ে আসতে চান, তাহলে অবশ্যই তা সম্ভব। কিন্তু অনেকেই আছেন যারা মনে করেন, তিনি নিজেই ঠিক। তার ধারণার কিছু নেই। এমন ব্যক্তিত্বের অধিকারীদের বিশ্বস্ততা থেকে বের হয়ে আসা কষ্টকর হয়।

৫. মানসিক চাপের সমাধান না হওয়া
যদি আপনার সার্বক্ষণিক কোনো মানসিক চাপ থাকে, অথবা কোনো অন্তর্দ্বন্দ্ব থাকে, তাহলে যতক্ষণ পর্যন্ত সে অন্তর্দ্বন্দ্ব বা মানসিক চাপের সমাধান না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ওষুধ খেলেও আপনার বিষণ্ণতা থেকে মুক্তি মিলবে না। মানসিক চাপের কারণ যে সব সময় বাইরে থেকে আসতে হবে, তাও কিন্তু নয়। অনেক সময় আমাদের নিজেদের ব্যক্তিত্বই আমাদের স্ট্রেসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই নিজের ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যাগুলোকে নিয়ে অবশ্যই কাজ করতে হবে। আমরা অনেক কিছুতেই জীবনের অনেক মূল্যবান সময় বিনিয়োগ করি। আর নিজের সমস্যার সমাধানে কি এক-দুই মাস সময় বিনিয়োগ করতে পারব না? অবশ্যই পারব। বিষণ্ণতা থেকে মুক্তির জন্য এতটুকু সময় নিজের প্রতি নিজের অধিকার।

৬. চিকিৎসা নিতে বিলম্ব করা
আমাদের মধ্যে অনেকেই এমন আছেন, যারা ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশননে ভুগছেন, কিন্তু সঠিক চিকিৎসা নিচ্ছেন না। আমরা অনেক সময় মনে করি বিভিন্ন মোটিভেশনাল ব্যক্তিত্বের কথা শুনলে বা অনুপ্রেরণার ভিডিও দেখলে আমাদের সমস্যা কেটে যাবে। এটি মৃদু বিষণ্ণতার ক্ষেত্রে কখনো কখনো সত্যি হলেও তীব্র বিষণ্নতা কখনোই এভাবে কাটবে না। এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে একজন সাইকিয়াট্রিস্টের শরণাপন্ন হতে হবে।

৭. অন্যের ওপর দোষ চাপানোর প্রবণতা
প্রত্যেকের জীবনে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে, যা হয়তোবা শুধু দুঃখের নয়, অনেকখানিই সহায়তাহীন। কিন্তু আমি যদি সে ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পড়ে থাকি এবং জীবনের বর্তমান সব পরিস্থিতির জন্য সেই পূর্বের ঘটনাকে দায়ী করি, তবে কখনোই আমি আমার অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারব না। যারা সব সময় ভিকটিম হিসেবে নিজেকে দেখতে পছন্দ করেন, তাদের বিষণ্ণতা কাটানো বেশ কষ্টকর। নিজের জীবনের সমস্যার ভাগ কখনো অন্যের কাঁধে চাপিয়ে মুক্ত থাকা যায় না। যখনই আমি নিজের পরিস্থিতি মেনে নেব এবং সমাধানের চেষ্টা করব, তখনই সমস্যা অর্ধেক কেটে যাবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00