📘 ওভারকামিং ডিপ্রেশন > 📄 কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি

📄 কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি


কগনিশন বলতে বোঝায় মূলত আমাদের চিন্তা ও আচরণ। আমরা বরাবরই মনে করে থাকি যে, আমাদের সঙ্গে কোনো ঘটনা ঘটলে সরাসরি আমাদের আচরণ পরিবর্তন হয়। আসলে কিন্তু ব্যাপারটা এমন নয়। যেকোনো ঘটনার পরে প্রথমে আমাদের চিন্তায় একটি পরিবর্তন দেখা যায় এবং সে চিন্তাই মূলত আমাদের পরবর্তী আচরণের জন্য দায়ী। কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপিতে (Cognitive Behaviour Therapy) মূলত কাজ করা হয় সেই চিন্তাগুলোর ওপর, যে চিন্তাগুলো কোনোভাবেই আমাদের সাহায্য করে না, বরং সমস্যা সৃষ্টি করে। একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। অফিসে দুজন কর্মচারীকে একইভাবে তিরস্কার করলেন বস। কিন্তু দুজনের প্রতিক্রিয়া হলো দুরকম। কেন? কারণ, দুজন বিষয়টাকে চিন্তা করল দুভাবে। হয় একজন নেতিবাচকভাবে অন্যজন ইতিবাচকভাবে, এই কারণে তাদের আচরণও পার্থক্য তৈরি হয়। কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপিতে আমাদের চিন্তাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে এর সুবিধা-অসুবিধা দেখানোর মাধ্যমে এবং আরও কিছু কৌশলের মাধ্যমে চিন্তাগুলোকে ইতিবাচক দিকে আনার চেষ্টা করা হয়।

বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত, ওষুধ (অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টসসমূহ) যেরকম মস্তিষ্কে পরিবর্তন আনে, কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপির ফলেও মস্তিষ্কের বিভিন্ন পরিবর্তন সম্পন্ন হয়, যা বিষণ্নতা চিকিৎসায় সাহায্য করে। সকল প্রকার গবেষণায় ইতোমধ্যে প্রমাণিত, কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি সম্পূর্ণ সাইন্টিফিক এবং বিশ্বস্ততার কার্যকর।

📘 ওভারকামিং ডিপ্রেশন > 📄 নিয়মিত ব্যায়াম করা

📄 নিয়মিত ব্যায়াম করা


* বিষণ্নতা প্রতিরোধে এমনকি চিকিৎসাতেও নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই।
* বিষণ্নতার জন্য সবচেয়ে কার্যকরী হলো স্বল্প থেকে মাঝারি মাত্রার এরোবিক ব্যায়াম। যেমন: হাঁটা, দৌড়ানো, জগিং করা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো ইত্যাদি।
* সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ মিনিট করে শারীরিক ব্যায়াম বিষণ্নতার জন্য কার্যকর।
* এই নিয়মে অন্তত এক মাস ব্যায়াম করলে আমাদের শরীরের সেরোটোনিন নামক নিউরোট্রান্সমিটারের বৃদ্ধি পায়, যা কমে গেলে মূলত বিষণ্নতা দেখা দেয়।
* খুব থেকে মাঝারি মাত্রার বিষণ্নতায় শারীরিক ব্যায়াম সবচেয়ে ভালো কাজ করে।

📘 ওভারকামিং ডিপ্রেশন > 📄 খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা

📄 খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা


* আমরা আহার হিসেবে আসলে যা গ্রহণ করি, অধিকাংশ সময়ই সেগুলোকে খুব একটি ভালো খাবার বলা যায় না। কিন্তু বিষণ্নতার চিকিৎসায় খাদ্যাভ্যাস বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
* দিনে আট ঘণ্টা খাবার খান এবং পরবর্তী ১৬ ঘণ্টা শুধু পানি খেয়ে কাটান।
* খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে রাখুন প্রচুর পরিমাণে ফল, শাক-সবজি ও প্রোটিন জাতীয় খাবার।
* পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট, প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি জাতীয় খাবার এবং ক্যাফেইন পরিহার করুন। পরিহার সম্ভব না হলে যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন।
* বিষণ্নতার চিকিৎসায় আপনার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেতে হলে এ খাদ্যাবিধিগুলো এক মাস মেনে চলুন।

📘 ওভারকামিং ডিপ্রেশন > 📄 ঘুমের রুটিন ঠিক করা

📄 ঘুমের রুটিন ঠিক করা


আমি সব সময় যেটা বলি তা হলো: বিষণ্নতার চিকিৎসায় প্রথমে যদি কোনো কিছু ঠিক করতে হয় তবে তা নিঃসন্দেহে ঘুম। বিষণ্নতা থেকে বেরিয়ে আসতে—
* দৈনিক সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন。
* রাত ১০টার মধ্যে শুয়ে পড়ার অভ্যাস করুন。
* ঘুমের স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলুন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00